হাশরের মাঠে সম্মানিত ও অপমানিত হবে যারা

-দেলোয়ার হোসেন
আলিম ১ম বর্ষ, চরবাটা ইসমাঈলিয়া আলিম মাদরাসা,
সুবর্ণচর, নোয়াখালী।

মিক্বদাদ ইবনে আসওয়াদা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ)  বলেছেন, ‘ক্বিয়ামাতের দিন সূর্য মানুষের সন্নিকটে আনা হবে, এমনকি এক মাইল পরিমাণ দূরে হবে। তখন মানুষ তাদের আমল অনুসারে ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাবে। ঘাম কারও গোঁড়ালি পর্যন্ত হবে, কারও হাঁটু পর্যন্ত হবে, কারও কোমর পর্যন্ত হবে, আবার ঘাম কারও মুখের লাগাম পর্যন্ত হবে’।[1]  এই বিভীষিকাময় দিনে কেউ সম্মানিত হবে, কেউ লাঞ্ছিত হবে এবং কেউ অপমানিত হবে। নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো :

(ক) হাশরের মাঠে সম্মানিত হবে যারা :

(১) ঈমানদার ও নেককার ব্যক্তি : ঈমান ও নেক আমল ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রকার ভয়াবহতা থেকে নিষ্কৃতি দিবে। মহান আল্লাহ বলেন مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا وَهُمْ مِنْ فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ ‘যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে সে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে’ (নামল, ৮৯)।

(২) আল্লাহভীরু ব্যক্তি : আল্লাহভীরু ব্যক্তিদেরকে ক্বিয়ামতের দিন অতিথিরূপে সমবেত করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন, يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا ‘সেদিন আমি দয়াময়ের কাছে মুত্তাক্বীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করবো’ (মারইয়াম, ৮৫)।

(৩) উত্তম চরিত্রের অধিকারী : উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি হাশরের মাঠে নবী (ছাঃ)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে। জাবের (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَىَّ وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّى مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنَكُمْ أَخْلاَقًا ‘তোমাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম এবং ক্বিয়ামতের দিন অবস্থানে আমার নিকটতম ব্যক্তিদের কিছু সেই লোক হবে, যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম’।[2]

(৪) ঋণ মওকূফকারী বা ঋণগ্রহীতাকে ঋণ আদায়ে অবকাশ প্রদানকারী : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ ‘যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে অক্ষম কোনো ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দিবে বা তাকে ক্ষমা করে দিবে, সেদিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে তার আরশের নিচে ছায়া দিবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না’।[3]   অন্য হাদীছে এসেছে,  আবু ক্বাতাদা (রাঃ) বলেন, আমি নবী (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘যাকে এ কথা আনন্দ দেয় যে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামতের দিনের অস্থিরতা ও বিপদ থেকে নিষ্কৃতি দেবেন, তাহলে সে যেন পরিশোধে অসমর্থ ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিকে অবকাশ দান করে অথবা তার ঋণ মওকূফ করে দেয়’।[4]

(৫) মুমিনের দোষ-ত্রুটি গোপনকারী ও মুমিনের প্রয়োজন পূরণকারী : এ সম্পর্কে নিম্নক্ত হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً، فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ القِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ»

ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেন, ‘মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না এবং তাকে অত্যাচারীর হাতে ছেড়ে দেবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের এক বিপদ দূর করবে, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তার বহু বিপদের এক বিপদ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন’।[5]

(৬) রাগ দমনকারী : রাগ দমনকারী ব্যক্তিকে হাশরের মাঠে আল্লাহ তা‘আলা হূর বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিবেন। মু‘আয ইবনে আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُنفِّذَه دعاهُ اللَّهُ على رؤوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ فِي أَيِّ الْحُورِ شَاءَ ‘যে ব্যক্তি ত্রেুাধ সংবরণ করে অথচ সে তা বাস্তবায়িত করার ক্ষমতা রাখে

আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্বিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে এখতিয়ার দিবেন যে, সে যে কোনো হূর নিজের জন্য পসন্দ করে নিক’।[6]

(৭) মুআযযিন : ক্বিয়ামতের দিনে মুআযযিনের গর্দান সবচেয়ে লম্বা হবে। হাদীছে এসেছে,

عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْمُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أعناقا يَوْم الْقِيَامَة».

মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘ক্বিয়ামতের দিনে সমস্ত লোকের চাইতে মুআযযিনের গর্দান লম্বা হবে’।[7]

(৮) রাতের অন্ধকারের মসজিদে যাতায়াতকারী : বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাঃ)  বলেছেন,ب بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘রাত্রির অন্ধকারে মসজিদে যাতায়াতকারী লোকদেরকে ক্বিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ জ্যোতির শুভ সংবাদ জানিয়ে দাও’।[8]

(৯) বিপদে সান্ত¡না দানকারী : বিপদে সান্তনা দানকারীকে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা সম্মানের পোশাক পরাবেন। আমর ইবনে হাযম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, مَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُعَزِّى أَخَاهُ بِمُصِيبَةٍ إِلاَّ كَسَاهُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ مِنْ حُلَلِ الْكَرَامَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যে ব্যক্তি তার মুমিন ভাইকে তার বিপদে সান্তনা দিবে, আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন তাকে সম্মানের পোশাক পরাবেন’।[9]

(১০) সুন্দরভাবে ওযূকারী : সুন্দরভাবে ওযূকারীর ওযূর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্বিয়ামতের দিন চমকাতে থাকবে। আবু হুরায়রা (রাঃ)  বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ ‘নিশ্চয় আমার উম্মতকে ক্বিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় ডাকা হবে, যে সময় তাদের ওযূর অঙ্গগুলো চমকাতে থাকবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে তার চমক বাড়াতে চায়, সে যেন তা করে’। [10]

(১১) কুরআন পাঠকারী : হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِى الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি কুরআন পড়তে থাকো ও চড়তে থাকো। আর ঠিক সেইভাবে স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে পড়তে থাকো, যেভাবে দুনিয়াতে পড়তে। কেননা (জান্নাতের ভিতর) তোমার স্থান ঠিক সেখানে হবে, যেখানে তোমার শেষ আয়াতটি খতম হবে’।[11]

(১২) মুমিনের সাদা চুল : মুমিনের সাদা চুল হাশরের মাঠে তার জন্য জ্যোতির কারণ হবে। আমর ইবনে শু‘আইব তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, لَا تَنْتِفُوا الشَّيْبَ فَإِنَّهُ نُورُ الْمُسْلِمِ তোমার সাদা পাকা চুল উপড়ে ফেলো না, কেননা (ক্বিয়ামতের দিন) তা মুসলিমের জন্য জ্যোতি হবে’।[12]

(১৩) আল্লাহর পথে যে লোক বুড়ো হয়েছে : হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِى سَبِيلِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ

আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘আল্লাহর  পথে যে লোক বুড়ো হয়েছে, তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন একটি আলোকবর্তিকা থাকবে’।[13]

(১৪) আল্লাহর পথে জিহাদকারী : হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مَكْلُومٍ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ القِيَامَةِ وَكَلْمُهُ يَدْمَى، اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ، وَالرِّيحُ رِيحُ مِسْكٍ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত মুজাহিদ এমন অবস্থায় আগমন করবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত ঝরবে, রক্তের রং হবে রক্তের মতো কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরির মতো’।[14]

(১৫) ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী : ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ক্বিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠ করতে করতে উঠবে। হাদীছে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ  رضى الله عنهما قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ إِذْ وَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَوَقَصَتْهُ أَوْ قَالَ فَأَوْقَصَتْهُ قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم  اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَكَفِّنُوهُ فِى ثَوْبَيْنِ، وَلاَ تُحَنِّطُوهُ وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ، فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানরত অবস্থায় অকস্মাৎ তার উটনী হতে পড়ে যান। এতে তার ঘাড় মটকে গেল (যাতে তিনি মারা গেলেন), তখন নবী (ছাঃ)  বললেন, ‘তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’কাপড়ে তাকে দাফন করো। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা আবৃত করবে না। কেননা, ক্বিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠবে’।[15]

(১৬) বিনয়ী পোশাক পরিধানকারী : হাদীছে এসেছে,

عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا»

মু‘আয ইবনে আনাস জুহানী (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘যে লোক ক্ষমতা থাকার পরও আল্লাহর  প্রতি নম্রতাবশত দামী জামা পরা ছেড়ে দিবে, তাকে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ সকল সৃষ্টির সামনে ডেকে আনবেন এবং ঈমানদারদের পোশাকের মধ্যে যে কোনো পোশাক পরিধান করার অধিকার দিবেন’।[16]

(১৭) বিশেষ সাত শ্রেণি : এ প্রসঙ্গে নিম্বোক্ত হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘সাত শ্রেণির লোককে আল্লাহ তার ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। তার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না- (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক। (২) সেই যুবক যে আল্লাহর  ইবাদতে বড় হয়েছে। (৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, সেখান থেকে বের হয়ে আসার পর তথায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত। (৪) এমন দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর  ওয়াস্তে পরস্পরকে ভালোবাসে, আল্লাহর  ওয়াস্তে উভয়ে মিলিত হয় এবং তার জন্যই পৃথক হয়ে যায় । (৫) এমন ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার দুই চক্ষু অশ্রু বিসর্জন দিতে থাকে। (৬) এমন ব্যক্তি, যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী আহবান করে আর সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। (৭) এমন ব্যক্তি, যে গোপনে দান করে এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী দান করেছে’।[17]

(খ) হাশরের মাঠে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে যারা :

(১) কাফের ও অপরাধী : ক্বিয়ামতের দিন কাফেররা মুখে ভর দিয়ে কেউ বোবা অবস্থায় কেউ বধির অবস্থায় উত্থিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন, وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا ‘আমি ক্বিয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মূক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়’ (বনী ইসরাঈল, ৯৭)।

(২) যারা ছালাত আদায় করে না : যারা ছালাত আদায় করে না, হাশরের মাঠে তাদের অবস্থা অতি ভয়াবহ হবে। ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সিজদা করার নির্দেশ দিলে তারা সিজদা করতে অপরাগ হবে। আল্লাহ বলেন, يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ ‘সেদিন আল্লাহ তার পায়ের গোছা উম্মুক্ত করে দিবেন এবং তাদেরকে সিজদা করার আহবান জানানো হবে কিন্তু তারা সিজদা দিতে সক্ষম হবে না’ (কলম, ৪২)।

(৩) বিদআতী : যারা দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত চালু করে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে ক্বিয়ামতের দিন একদল লোক আমার (হাউযে কাউছারের) সামনে হাযির হবে। এরপর তাদেরকে হাউয থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে, তখন আমি বলব, হে আল্লাহ! এরা আমার উম্মত। তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তোমার পরে এরা দ্বীনের মধ্যে কী সব নতুন বিষয় সৃষ্টি করেছে, এ ব্যাপারে নিশ্চয় তোমার জানা নেই’।[18]

(৪) যারা যাকাত দেয় না : যারা যাকাত দেয় না, ক্বিয়ামতের দিন তাদের সম্পদ জাহান্নামের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ)  বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘যেসব ধনী লোক নিজেদের ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে না, ক্বিয়ামতের দিন তাদের এই সম্পদ জাহান্নামের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের উভয় পাশে ও ললাটে দাগ দেওয়া হবে। তার শাস্তি বান্দাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ সময়কার একটি দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান’। [19]

(৫) সূদখোর : হাশরের মাঠে সূদখোরের পরিণাম অতি খারাপ হবে। মহান আল্লাহ বলেন, الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ‘যারা সূদ খায়, তারা ক্বিয়ামতের দিন দণ্ডায়মান হবে যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আঁছর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়’ (বাক্বারাহ, ২৭৫)।

(৬) অহংকারী : অহংকার আল্লাহর  চাদর। যারা অহংকার করে, ক্বিয়ামতের মাঠে তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে। হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِى صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ

আমর ইবনে শু‘আইব (রাঃ) তার পিতা থেকে, তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘অহংকারী ব্যক্তিদেরকে ক্বিয়ামতের দিন ক্ষুদ্র পিঁপড়ার ন্যায় সমবেত করা হবে। তাদেরকে চারদিকে হতে অপমান ও লাঞ্ছনা ছেয়ে ফেলবে’।[20]

(৭) দ্বিমুখী ব্যক্তি : হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ  رضى الله عنه – قَالَ قَالَ النَّبِىُّ  صلى الله عليه وسلم تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ، الَّذِى يَأْتِى هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা ক্বিয়ামতের দিন সর্বাপেক্ষা মন্দ লোক ঐ ব্যক্তিকে পাবে, যে দ্বিমুখী। সে এক মুখ নিয়ে এদের কাছে আসে এবং আরেক মুখ নিয়ে ওদের কাছে যায়’।[21]

(৮) অন্যায়ভাবে হত্যাকারী : হাশরের মাঠে নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে তার মাথা ও চুল ধরে নিয়ে এসে আল্লাহর  কাছে অভিযোগ পেশ করবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, يَجِىءُ الْمَقْتُولُ بِالْقَاتِلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاصِيَتُهُ وَرَأْسُهُ بِيَدِهِ وَأَوْدَاجُهُ تَشْخُبُ دَمًا يَقُولُ يَا رَبِّ هَذَا قَتَلَنِى حَتَّى يُدْنِيَهُ مِنَ الْعَرْشِ ‘ক্বিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি নিজ হাতে তার হত্যাকারীকে তার কপালের চুল ও মাথা ধরে নিয়ে আসবে। তার ঘাড়ের কর্তিত রগসমূহে রক্ত বের হতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! এ লোক আমাকে হত্যা করেছে, এমনকি সে তার হত্যাকারীকে নিয়ে আরশের নিকট পৌঁছে যাবে’।[22]

(৯) আত্মহত্যাকারী : আত্মহত্যা মহাপাপ। আত্মহত্যাকারী যে বস্তু দ্বারা নিজেকে হত্যা করেছে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। আবু যায়েদ সাবেত ইবনে যাহহাক আনছারী (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, مَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ عُذِّبَ بِهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ ‘যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা নিজেকে হত্যা করলো, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারাই শাস্তি দেয়া হবে’।[23]

(১০) পেশাদার ভিক্ষুক : ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)  বলেছেন,لاَ لاَ تَزَالُ الْمَسْأَلَةُ بِأَحَدِكُمْ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ فِى وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ ‘তোমাদের কেউ কেউ মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতে চাইতে আল্লাহর  সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, তার মুখম-লে গোশতের কোনো টুকরা অবশিষ্ট থাকবে না’।[24]

(১১) নিজের সন্তানকে অস্বীকারকারী : নিজের সন্তানকে অস্বীকারকারীকে আল্লাহ সমস্ত মানুষের সামনে অপমানিত করবেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ ‘যে পুরুষ তার সন্তানকে চিনতে পেরেও অস্বীকার করল, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার থেকে আঁড়ালে থাকবেন এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে তাকে অপমানিত করবেন’।[25]

(১২) একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে বে-ইনছাফকারী : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ ‘যার দুই স্ত্রী থাকা অবস্থায় একজনের প্রতি ঝুকে পড়ল, ক্বিয়ামতের দিন তাকে পঙ্গু অবস্থায় উপস্থিত করা হবে’।[26]

(১৩) বান্দার প্রতি যুলুমকারী : বান্দার প্রতি যুলুমকারীর হাশর অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যুলুম ক্বিয়ামতের দিন ভীষণ অন্ধকার রূপ ধারণ করবে’।[27]

যারা মানুষের উপর যুলুম করবে, তারা ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে নিঃস্ব হবে। নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র সে, যে ক্বিয়ামতের দিন ছালাত, ছিয়াম, যাকাতসহ বহু আমল নিয়ে উপস্থিত হবে এবং এর সাথে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে হত্যা করেছে, তারাও থাকবে। সে তখন বসবে এবং তার নেক আমল হতে একে একে সবাইকে নেকী নিতে থাকবে। নেকী শেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহসমূহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে’।[28]  অন্য হাদীছে এসেছে, ‘যুলুমকৃত বস্তু তার কাঁধের উপর থাকবে এমন অবস্থায় সে রাসূল (ছাঃ) -এর কাছে সাহায্য চাইবে। রাসূল (ছাঃ)  বলবেন, আমি তোমার কিছুই করতে পারব না। আমি তো তোমাকে আল্লাহর  বিধান পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি’।[29]

(১৪) ছবি-মূর্তি তৈরিকারী, মিথ্যুক, কারও গোপন কথা শ্রবণকারী : ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে দেখেনি, ক্বিয়ামতের দিন তাকে দু’টি যব দানার মাঝে সংযোগ সাধন করতে আদেশ করা হবে কিন্তু সে তা পারবে না। যে ব্যক্তি কোনো জনগোষ্ঠীর কথা শোনার জন্য কান পাতে যা তারা আদৌ পসন্দ করে না, ক্বিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো প্রাণীর ছবি তৈরি করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাতে প্রাণ দেওয়ার আদেশ করা হবে অথচ সে তার করতে পারবে না’।[30]

(১৫) বিশেষ তিন শ্রেণির মানুষ : এছাড়া হাশরের মাঠে অনেকে লাঞ্ছিত হবে, যাদেরকে নবী (ছাঃ)  একত্রে উল্লেখ করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)  বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষের সাথে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না, তাদের দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলো: (১) বৃদ্ধ ব্যভিচারী (২) মিথ্যাবাদী রাজা (৩) অহংকারী গরীব’।[31]   অন্য হাদীছে  এসেছে, সেই তিন শ্রেণি হলো: (১) যে মরুপ্রান্তরে অতিরিক্ত পানির মালিক কিন্তু মুসাফিরকে তা থেকে পান করতে দেয় না (২) যে আছরের পর অন্য লোকের নিকট সামগ্রী বিক্রয় করতে গিয়ে মিথ্যা কসম খায় (৩) যে পার্থিব স্বার্থে রাষ্ট্রনেতার হাতে বায়‘আত করে’।[32]  অন্য হাদীছে এসেছে, তারা হলো: (১) টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলানো ব্যক্তি (২) যে খোটা দেয় (৩) যে মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রয় করে’।[33]  হাদীছে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তিন প্রকার লোক আছে যাদের প্রতিবাদী স্বয়ং আমি (১) সে ব্যক্তি, যে আমার নামে অঙ্গীকারবদ্ধ হলো, পরে তা ভঙ্গ করল (২) সে ব্যক্তি, যে স্বাধীন মানুষকে প্রতারণা দিয়ে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করে (৩) সে ব্যক্তি, যে কোনো দিন মজুরকে খাঁটিয়ে তার নিকট থেকে পুরোপুরি কাজ নিল কিন্তু তার মজুরী দিল না’।[34]

পরিশেষে, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে হাশরের মাঠের ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষা করেন এবং যে সমস্ত আমল করলে পরকালে লাঞ্ছিত হতে হবে তা থেকে দূরে রাখেন- আমীন!

 

[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৬৪।

[2]. তিরমিযী, হা/২০১৮; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/৬৩৬। তিরমিযী, হা/২০১৮; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/৬৩৬।

[3]. তিরমিযী, হা/১৩০৬।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৬৩; মিশকাত, হা/২৯০২।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪২; মুসলিম, হা/২৫৮০; মিশকাত, হা/৪৯৫৯।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৯৩; মিশকাত, হা/৫০৮৮।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/ ৩৮৭ মিশকাত, হা/ ৬৫৪।

[8]. আবুদাঊদ, হা/৫৬১; তিরমিযী, হা/২২৩; মিশকাত, হা/৭২১।

[9]. ইবনু মাজাহ, হা/১৬০১।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬; মুসলিম, হা/২৪৬; মিশকাত, হা/২৯০।

[11]. তিরমিযী, হা/২৯১৪; আবুদাঊদ, হা/১৪৬৪; মিশকাত, হা/২৩১৩।

[12]. আবুদাঊদ, হা/৪২০৪; মিশকাত, হা/৪৪৫৮।

[13]. তিরমিযী, হা/ ১৬৩৪; নাসাই, হা/৩১৪২; মিশকাত, হা/৩৩৮৫।

[14]. ছহীহ বুখারী, হা/ ৫৫৩৩

[15]. ছহীহ বুখারী, হা/১২৬৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১২০৬।

[16]. তিরমিযী, হা/২৪৮১।

[17]. ছহীহ বুখারী, হা/ ৬৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/২২৭০;  তিরমিযী, হা/২৩৯১; নাসাঈ, হা/ ৫৭৮০।

[18]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫৮৫।

[19]. তিরমিযী, হা/২৪৯২; ছহীহ মুসিলম, হা/২১৮১।

[20]. তিরমিযী, হা/২৪৯২; মিশকাত, হা/৫১১২।

[21]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/৬০৫৮।

[22]. তিরমিযী, হা/৩০২৯; নাসাঈ, হা/৪০০৫; মিশকাত, হা/৩৪৬৫।

[23]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/৬১০৫।

[24]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/১৪৭৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৪০।

[25]. আবুদাঊদ, হা/২২৬৩।

[26]. আবুদাঊদ, হা/২১৩৩। ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৯; মিশকাত, হা/৫১২৩।

[27]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৯; মিশকাত, হা/৫১২৩।

[28]. তিরমিযী, হা/২৪১৮।

[29]. মিশকাত, হা/৩৯৯৬।

[30]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/ ২২২৫; তিরমিযী, হা/ ১৭৫৮; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/ ১৫৫২।

[31]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৬; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫৫২।

[32]. ছহীহ বুখারী, হা/২৩৫৮;  ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭;  রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/ ৯৮৪৫।

[33]. তিরমিযী, হা/১২১১; নাসাঈ, হা/ ২৫৫৩; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/৭৯৮।

[34]. ছহীহ বুখারী, হা/২২৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৫৪২; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫৯৫।