হায়াতুন্নবী : বিভ্রান্তি নিরসন

-আহমাদুল্লাহ
সৈয়দপুর, নীলফামারী

উপক্রমণিকা :

নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) বারযাখী জীবনে জীবিত রয়েছেন। এ দুনিয়ার সাথে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি এ দুনিয়াতে আগমন করেন মর্মে আক্বীদা রাখা শিরক। কুরআন ও হাদীছের কোথাও তাঁকে হায়াতুন নবী (ইহকালে জীবিত নবী) হিসাবে উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু তিনি যে মারা গিয়েছেন এ সম্পর্কে অসংখ্য দলীল কুরআন ও হাদীছে বিদ্যমান। যেমন-

দলীল-১ : কুরআনে এরশাদ হয়েছে-

(ক) إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ ‘নিশ্চয় আপনি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল’ (যুমার, ৩০)।

(খ) আল্লাহ বলেছেন, كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’ (আলে ইমরান, ১৮৫; আম্বিয়া, ৩৫)।

(গ) قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, আমার ছালাত, আমার হজ্জ, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য। যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক’ (আন‘আম, ১৬২)।

দলীল-২ : আবুবকর (রাঃ) বলেছেন, فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ ‘নিশ্চয় মুহাম্মাদ মারা গিয়েছেন’।[1]

দলীল-৩ : আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘নবী (ছাঃ) মারা গিয়েছেন’।[2]

দলীল-৪ : أَنَّ فَاطِمَةَ – عَلَيْهَا السَّلاَمُ – ابْنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَأَلَتْ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنْ يَقْسِمَ لَهَا مِيرَاثَهَا، مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ، ‘রাসূল (ছাঃ)-এর এই দুনিয়া হতে চলে যাওয়ার পর তার পরিত্যক্ত সম্পদের মীরাছ বণ্টনের জন্য তার আদরের কন্যা ফাতিমা (রাঃ) আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ)-কে বলেছিলেন’।[3]

যদি নবী হায়াতুন্নবী হতেন, তবে ফাতিমা (রাঃ) তার পিতাকে না বলে আবুবকর (রাঃ)-কে বললেন কেন? আর মীরাছের প্রসঙ্গই বা আসল কীভাবে?

জ্ঞাতব্য : পিতা কিংবা মাতা মারা যাওয়ার পরই কেবল মীরাছের প্রসঙ্গ আসবে, তার আগে নয়। মা-বাবার জীবদ্দশায় যদি জমি দিতে চায়, তাহলে তাকে ‘হেবা’ বলা হয়। একে মীরাছ কিংবা ‘তারিকা’ বলা যাবে না।

এর পরের হাদীছটিতে আছে যে, আবুবকর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে সম্পদ বণ্টন করে দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। ফলে ফাতিমা রেগে যান ও তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর আবুবকর (রাঃ)-এর সাথে কথা বলেননি।[4]

এতকিছু হওয়ার পরও তিনি কেন তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা, সাইয়েদুল মুরসালীন-কে (ব্রেলভীদের ভাষায়- হায়াতুন্নবী) এই সমস্যা সমাধানের জন্য বললেন না?

দলীল-৬ : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, أَنَّهُ مَرَّ بِقَوْمٍ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ شَاةٌ مَصْلِيَّةٌ، فَدَعَوْهُ، فَأَبَى أَنْ يَأْكُلَ، وَقَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الدُّنْيَا وَلَمْ يَشْبَعْ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ ‘তিনি একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। যাদের সামনে ছিল একটি ভুনা বকরী। তারা তাকে (খেতে) ডাকলেন। তিনি খেতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দুনিয়া হতে চলে গিয়েছেন। অথচ তিনি যবের রুটিও তৃপ্তি সহকারে খাননি’।[5]

যদি তিনি মারা না যেতেন, তাহলে ‘দুনিয়া হতে চলে গিয়েছেন’ বলা হলো কেন?

আর এটাই হলো ছাহাবীগণের ভালোবাসার নমুনা। আজকে যারা আমরা ‘নবীর প্রেম’ ‘নবীর প্রেম’ বলে অহরহ চিৎকার করতে থাকি, তারা কি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর ন্যায় আচরণ করতে পারবেন কি?

দলীল-৭ : ইমাম আবু ইউসুফ (রহিঃ) তার উস্তাদ ইমাম আবু হানীফা (রহিঃ)-এর সূত্রে লিখেছেন, مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خُبْزِ بُرٍّ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مُتَتَابِعَاتٍ حَتَّى مَاتَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم ‘মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মৃত্যু পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যরা টানা তিন দিন গমের রুটি তৃপ্তিভরে খেতে পারেননি’।[6]

দলীল-৮ : নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মারা গিয়েছেন। لَقَدْ مَاتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মারা গিয়েছেন’।[7]

কতিপয় দলীলের পর্যালোচনা :

যারা হায়াতুন নবী আক্বীদা লালন করে, তারা কিছু দলীল পেশ করে থাকে। সেগুলোর পর্যালোচনা নিম্বেরূপ:

দলীল-১ : وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لَا تَشْعُرُونَ ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা অনুধাবন করতে পারো না’ (বাক্বারাহ, ১৫৪)।

জবাব : এখানে মূলত তাদের জন্য কোনো দলীল নেই। বরং নিহত হওয়ার বিষয়টি এখানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। আল্লাহর রাস্তায় যারা জিহাদ করেন, তাদেরকে মুজাহিদ বলা হয়। মারা গেলে শহীদ। ফেরত আসলে গাযী। শহীদ তখনই বলা হবে, যখন তাদের শরীর হতে রূহ বেরিয়ে যাবে। অন্যথা তাদেরকে শহীদ বলা হবে না। জীবিত কোনো ব্যক্তিকে কখনই শহীদ বলা হয় না। আয়াতে তাদেরকে কোনোভাবেই জীবিত বলা হয়নি। বরং তারা মারা যাবার পর (শহীদ হওয়ার পর) পরকালে জীবিত থাকেন। তবে কীভাবে থাকেন, তা দুনিয়া হতে বুঝার উপায় নেই। এখানে এটাই বলা হয়েছে। সুতরাং এই আয়াত দ্বারা নবী (ছাঃ)-কে হায়াতুন নবী বলে দলীল গ্রহণ করা ভুল ও হাস্যকর। নবী (ছাঃ) বলেছেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ ‘যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর কসম! আমার ইচ্ছা হয় আমি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হই। অতঃপর আবার জীবিত হই। তারপর আবার নিহত হই। তারপর আবার জীবিত হই। অতঃপর আবার নিহত হই। এরপর আবার জীবিত হই। তারপর আবার নিহত হই’।[8]

হায়াতুন নবী হলে বার বার মারা যাওয়ার পর পুনরায় জীবিত হওয়ার প্রসঙ্গ আসতো না।

দলীল-২ : وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ ‘আর তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে। বরং তারা জীবিত। তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদের জন্য রিযিক্ব রয়েছে’ (আলে ইমরান, ১৬৯)।

জবাব : এর জবাবও সেটাই, যা উপরে আলোচিত হয়েছে। বাকি রইল রিযিক্বের বিষয়টি। তো এটা সাধারণ মুমিনদের জন্যও বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللَّهُ رِزْقًا حَسَنًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِين ‘যারা আল্লাহর পথে গৃহ ত্যাগ করেছে, অতঃপর নিহত হয়েছে বা মারা গিয়েছে; আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন। আর আল্লাহই হলেন সর্বোৎকৃষ্ট জীবিকাদাতা’ (হজ্জ, ৫৮)।

দলীল-৩ : حَدَّثنا رزق الله بن موسى، حَدَّثنا الحسن بن قتيبة، حَدَّثنا الْمُسْتَلِمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَن الحَجَّاج، يَعْنِي: الصَّوَّافَ، عَنْ ثابتٍ، عَن أَنَس؛ أَن رَسولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيه وَسَلَّم قَالَ: الأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, নবীগণ তাদের কবরে জীবিত। (সেখানে) তারা ছালাত আদায় করেন’।[9]

পর্যালোচনা : হাসান ইবনে কুতায়বা নামক একজন রাবী এখানে রয়েছেন। যিনি দুর্বল। হাফেয যাহাবী (রহিঃ) বলেছেন, قلت: بل هو هالك ‘আমি বলেছি, বরং তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত’।[10]  এর আরেকটি সনদ হলো[11]

حَدَّثَنَا أَبُو الْجَهْمِ الْأَزْرَقُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا الْمُسْتَلِمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ

পর্যালোচনা : (১) শায়খ হুসাইন সালীম আসাদ এর সনদকে ছহীহ বলেছেন।[12] (২) শায়খ আলবানী বলেছেন, أخرجه أبو يعلى باسناد جيد ‘এটা আবু ইয়া‘লা ‘জাইয়্যেদ’ সনদে বর্ণনা করেছেন’।[13]  সুতরাং নবীদের ছালাত আদায় করার বিষয়টি সঠিক। কিন্তু এখানে দুনিয়ার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক আছে বলে কোনরূপ ইশারা-ইঙ্গিত করা হয়নি।

দলীল-৪ : من صلى علي عند قبري سمعته، ومن صلى علي نائيا وكل بها ملك يبلغني، وكفي بها أمر دنياه وآخرته، وكنت له شهيدا أو شفيعا ‘যে ব্যক্তি আমার কবরের নিকটে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করে, আমি তা শ্রবণ করি। যে ব্যক্তি আমার প্রতি দূর হতে দরূদ পাঠ করে, একজন ফেরেশতাকে তা আমার নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তা তার দুনিয়া এবং আখিরাতের কর্মের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। আর আমি তার জন্য সাক্ষী বা সুপারিশকারী হয়ে যাই’।[14]

পর্যালোচনা : শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহিঃ) এর জবাবে লিখেছেন, مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ نَائِيًا أُبْلِغْتُهُ ‘যে ব্যক্তি আমার উপর কবরের নিকটে দরূদ পড়ে, তা আমি শ্রবণ করি। আর যে ব্যক্তি আমার উপর দূর হতে দরূদ পাঠ করে, তা আমাকে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়’।[15]   উক্বায়লী বলেছেন, لَا أَصْلَ لَهُ مِنْ حَدِيثِ الْأَعْمَشِ আ‘মাশের হাদীছ হতে এর কোনো ভিত্তি নেই’।[16]  ইবনুল জাওযী বলেছেন,  هَذَا حَدِيثٌ لَا يَصِحُّ ‘এই হাদীছটি ছহীহ নয়’।[17]  এর রাবী আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ ইবনে মারওয়ান আস-সুদ্দী, যার সম্পর্কে ইবনে নুমাইর বলেছেন, তিনি মহামিথ্যুক।[18]  ইমাম বুখারী এবং আবু হাতেম বলেছেন, তার হাদীছ একেবারেই লেখা হয় না।[19]  ইবনে হিব্বান বলেছেন, ইনি ছিক্বাহ রাবীদের হতে মিথ্যা হাদীছসমূহ বর্ণনা করতেন।[20]

প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই সনদটি বানোয়াট। হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম ‘আবুশ শায়খ’-এর দিকে সম্বন্ধিত গ্রন্থ ‘আছ-ছালাতু আলান নাবী (ছাঃ)’ হতে এর অন্য আরেকটি সনদ সংগ্রহ করেছেন।[21]

এই সনদের মধ্যে আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ আ‘রাজ নামক মাজহূলুল হাল রাবী রয়েছেন। সুতরাং এই সনদটি আবু মু‘আবিয়া আয-যারীর পর্যন্তও প্রমাণিত নেই। সুলায়মান ইবনে মিহরান আ‘মাশ প্রসিদ্ধ মুদাল্লিস রাবী ছিলেন। আর আবু ছালেহ হতে হোক বা অন্য কারও হতে, তার ‘আন’ শব্দ যোগে বর্ণনা গায়র ছহীহাইন ব্যতীত যঈফ হয়ে থাকে।[22]  হাফেয যাহাবীর আ‘মাশের আবু ছালেহ ইত্যাদি হতে রেওয়ায়াতকে ইত্তিছালের উপর গণ্য করা ভুল।

গবেষণার সারকথা :

এই বর্ণনাটি দু’টি সনদের সাথে যঈফ অর্থাৎ প্রত্যাখ্যাত।[23]  একটি বর্ণনার মধ্যে এসেছে যে, নবী (ছাঃ)-এর কবরের নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োগ রয়েছেন। যিনি তাকে উম্মতের সালাম পৌঁছে দিয়ে থাকেন।[24]

এই বর্ণনাটি দু’টি সনদের সাথে যঈফ এবং প্রত্যাখ্যাত। প্রথম সনদে বাকর ইবনে খিদাশ মাজহূলুল হাল এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ছালেহ আল-মারওয়াযী মাজহূল রাবী রয়েছেন। অন্য সনদের মধ্যে নু‘আঈম ইবনে যমযম মাজহূল রাবী এবং ইমরান ইবনে হিমইয়ারী মাজহূলুল হাল রাবী রয়েছেন। সুতরাং একে হাসান বলা ভুল।

ছহীহ বর্ণনায় এসেছে যে, যমীনের মধ্যে আল্লাহর ফেরেশতাগণ ভ্রমণ করেন এবং নবী (ছাঃ)-কে তার উম্মতের পক্ষ হতে সালাম পৌঁছিয়ে থাকেন। [25]

উপসংহার :

নবী (ছাঃ)-এর সাথে এখন ইহজগতের কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। তিনি দুনিয়াতে আসেন না। এমনকি দুনিয়া হতে তিনি কোনো কিছু শ্রবণ করতে বা শুনাতেও পারেন না।[26]  অতএব, হায়াতুন নবীর আক্বীদা পোষণ করা যাবে না।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৬৮।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৪৬।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৩০৯২।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৩০৯৩।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৪১৪।

[6]. ইমাম আবু ইউসুফ, আল-আছার, হা/৯৩৬।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৬২, ৪৪৬৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৭৪।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২৭৯৭।

[9]. মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৮৮৮।

[10]. মীযানুল ই‘তিদাল, জীবনী নং ১৯৩৩।

[11]. মুসনাদু আবী ইয়ালা, হা/৩৪২৫।

[12]. প্রাগুক্ত।

[13]. আহকামুল জানায়েয, পৃঃ ২১৩; ছহীহাহ, হা/৬২১।

[14]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/২০৩।

[15].  উক্বায়লী, কিতাবুয যু‘আফা, ৪/১৩৬, ১৩৭; মুছান্নাফাতে আবু জা‘ফর ইবনে আল-বাখতারী, হা/৭৩৫; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/১৫৮৩; ইবনুল জাওযী, কিতাবুল মাওযূ‘আত, হা/৫৬২, ১/৩০৩; ইবনে শামঊন, অন্য শব্দে হা/২৫৫; ইবনে আসাকির, তারীখে দিমাশক্ব, ৫৯/২২০।

[16]. উক্বায়লী, কিতাবুয যু‘আফা, ৪/১৩৭।

[17]. আল-মাওযূ‘আত, ১/৩০৩।

[18]. উক্বায়লী, আয-যু‘আফা, ১/১৩৬, সনদ হাসান; আল-হাদীছ, ২৪, পৃঃ ৫২।

[19]. আয-যু‘আফাউছ ছাগীর, ক্রমিক নং ৩৫০; আল-জারহু ওয়াত-তা‘দীল, ৮/৮৬।

[20]. আল-মাজরূহীন, ২/২৮৬; আল-হাদীছ, ২৪, পৃঃ ৫২।

[21]. জালাউল আফহাম, পৃঃ ৫৪।

[22]. মাসিক আল-হাদীছ, ৩৩, পৃঃ ৩৮-৪৩।

[23]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/২০৩।

[24]. সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৫৩৯, দায়লামী এবং সাখাবীর বরাতে।

[25]. সুনানে নাসাঈ, হা/১২৮৩, ৩/৪৩; ইসমাঈল ইবনে আবু ইসহাক্ব আল-ক্বাযী, ফাযলুছ ছালাত আলান নাবী (ছাঃ), হা/২১, সনদ ছহীহ, সুফিয়ান ছাওরী এখানে সামার স্পষ্টতা উল্লেখ করেছেন। ফাতাওয়া ইলমিইয়া ওরফে তাওযীহুল আহকাম, ১/৮২, ৮৩।

[26]. হায়াতুন নবী (ছাঃ) সম্পর্কে আমার স্বতন্ত্র গ্রন্থে আরও বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আল্লাহ সেটির প্রকাশ সহজ করে দিন। আমীন। -লেখক