১০০ বছরের চাহিদা মেটাবে বঙ্গোপসাগরে মজুদ গ্যাস



বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ৩ হাজার ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোনাজাইট, জিরকন, রুটাইল, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ফসফরাস, সালফেট ও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টসহ মূল্যবান খনিজ পদার্থের ভান্ডার পাওয়া গেছে। সাগরের তলদেশে পাওয়া গেছে সম্ভাব্য ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত, যা দিয়ে দেশের ১০০ বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব। বর্তমানে দেশে মাত্র ১৪ বছরের গ্যাস মজুত রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে মূলত দুই ধরনের সম্পদ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে প্রাণিজ (লিভিং) ও  অপ্রাণিজ (নন-লিভিং) সম্পদ। অপ্রাণিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল, গ্যাস, চুনাপাথর প্রভৃতি। খনিজের মধ্যে আরো রয়েছে ১৭ ধরনের খনিজ বালু। এর মধ্যে ইলমেনাইট, জিরকন, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট, গ্যানেট, মোনাজাইট, কায়ানাইট, লিকোক্সিন উল্লেখযোগ্য। এ আটটি খনিজ বালু বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এগুলোর দামও বেশি। বঙ্গোপসাগরের অর্জিত সমুদ্রসীমা থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন এসব খনিজ বালু আহরণ করা সম্ভব। এছাড়াও সাগরের তলদেশে ক্লেসার ডেপোজিট, ফসফরাস ডেপোজিট, এভাপোরাইট, পলিমেটালিক সালফাইড, ম্যাঙ্গানিজ নডিউল, ম্যাগনেসিয়াম নডিউল নামক খনিজ পদার্থ আকরিক অবস্থায় পাওয়া যাবে। এদের নিষ্কাশন করে লেড, জিংক, কপার, কোবাল্ট, মলিবডেনামের মতো দুষ্প্রাপ্য ধাতুগুলো আহরণ করা সম্ভব হবে। এসব দুষ্কর ধাতু উড়োজাহাজ নির্মাণ, রাসায়নিক কাজে এবং বিভিন্ন কলকারখানার কাজে ব্যবহার করা যাবে।  অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিও পাওয়া সম্ভব। বঙ্গোপসাগরের সি-বেডে রয়েছে অসংখ্য উদ্ভিদকুল (ফ্লোরা)। এ উদ্ভিদকুলকে ব্যবহার করে ওষুধ শিল্পে অনেক জীবনবিনাশী রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার ওষুধ আবিষ্কার করা যাবে। এছাড়াও অর্জিত সমুদ্রসীমায় গ্রিন এনার্জিও মিলবে। এর মধ্যে উইন্ড এনার্জি, ওয়েভ এনার্জি, টাইডাল এনার্জি, ওশান কারেন্ট উল্লেখযোগ্য। সাগরের বাতাসকে কাজে লাগিয়ে উইন্ড এনার্জি, তরঙ্গকে কাজে লাগিয়ে ওয়েভ এনার্জি, জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগিয়ে টাইডাল এনার্জি তৈরি করা যাবে। এসব এনার্জি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগানো সম্ভব।