২০২০-২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট : কোন গন্তব্যে যাত্রা শুরু?

জুয়েল রানা

উপস্থাপনা :

পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে কোভিড-১৯ এর মধ্যেই গত ১১ জুন ২০২০ তারিখে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সংসদের বিশেষ বাজেট অধিবেশনে অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রম শীর্ষক স্লোগান সম্বলিত ১১০ পৃষ্ঠার দেশের ৪৯তম জাতীয় বাজেট বিক্তৃতা শুরু করেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এমনি এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেট পেশ করা সত্যিই এক কঠিন কাজ। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, তিনি বিদ্যমান সব ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই বাজেট ঘোষণা দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ও অর্থনীতিবিদদের মন্তব্য :

গত ১৫ জুন ২০২০ সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় সর্বশেষ অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এবারের ২০২০-২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট ব্যয়ের দৃষ্টিকোণথেকে দেওয়া হয়েছে তিনি আরও বলেন, অন্যবার রাজস্ব আহরণ করা হয় এবং তা খরচ করা হয়। এবার রাজস্ব খরচ করা হবে। তারপর রাজস্ব অর্জন করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেছেন, ‘সরকার কৃষক ও তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য কিছু প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, কিন্তু চলমান করোনা মহামারীর কারণে যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে, তাদের জন্য কোনো পদক্ষেপের উল্লেখ বর্তমান বাজেটে নেই’।

কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, কর বহির্ভূত আয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে মানুষ কিছুটা উপকৃত হলেও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে যারা আয়ের পথ হারিয়েছে, তাদের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেই এবারের বাজেটে। এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, এই বাজেট জনগণের ওপর বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই ধরনের অভিমত রেখেছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত।

বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী একটা মূল্যবান কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সমাজে সমতা আনতে কর আরোপ করা হয়। ধনী আরও ধনী হয়ে গেল। গরীব না খেয়ে থাকল। এটা সরকার চায় না’। কিন্তু এই সদিচ্ছাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং বাজেটে তা কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তেমন ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

বাজেটে ঘাটতি ও জিডিপি বৃদ্ধির দুঃস্বপ্ন :

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তার প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির যে অবাস্তব ও আকাশচুম্বী লক্ষ্য ধরা হয়েছে (৮ দশমিক ২ শতাংশ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসের সঙ্গে তার মিল নেই।  বর্তমান বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকাআয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকাএই হিসাবে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা আর এ বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হারের একটি উচ্চাকাক্সক্ষী জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হয়তো সম্ভব হতে পারে, যদি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আর জোরদার না হয় এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যে তা আমাদের দেশ থেকে বিদায় নেয়। তখন অন্যান্য সূচকেরও উন্নতি ঘটতে পারে। আমাদের প্রশ্ন হলো, আয়ের অঙ্ক না বাড়িয়ে কেন ব্যয়ের একটি বিশাল অঙ্ক বাড়ানো হচ্ছে? এই ঘাটতি বাজেটের যে টাকা বাজেটে দেখানো হয়, সেটি সরকার পরিকল্পিত উপায়ে সঞ্চয়পত্রে গরীব মানুষের জমাকৃত অর্থ এবং বাকি টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে থাকে। প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংক খাত থেকে ৮৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নেওয়া হবে, যা বাংলাদেশ ব্যাংককে আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে এত বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যাংক খাত থেকে নিয়ে গেলে ব্যাংক খাত সঙ্কটে পড়তে পারে। ব্যাংক খাতে ঋণদানের ক্ষমতা তখন সঙ্কুচিত হবে।

প্রকৃতপক্ষে এবারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে ২০২০ রাজস্ব বছরের বাকি ছয় মাসে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে ৮৭.৬ শতাংশ, যা অসম্ভব ব্যাপার। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব সরকারের রাজস্ব আয়ে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই প্রভাব ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট দিয়ে কাটিয়ে ওঠা খুবই কঠিন এক কাজ।

স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা :

স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন ব্যয় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ স্থিতিশীল রয়ে গেছে যদিও পরিচালনা ব্যয় গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। এবারও জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও এবারই যরূরী ছিল অন্তত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশমতো জিডিপির ৪ শতাংশ বা তার ওপরে বরাদ্দ রাখা। স্বাস্থ্য খাতের এই বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য খাতে এতদিন কতটা কম মনোযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কত বড় ধরনের সংস্কার এক্ষেত্রে দরকার। তাই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে অনেকেরই ধারণা ছিল এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাত অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে। কিন্তু বাজেটে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনায় তেমনটা দেখা যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেছেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তেমন কোনো চমক রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

কৃষিতে ভর্তুকি ও কৃষকের ভোগান্তি :

গত ছয় বছর ধরে কৃষিতে ভর্তুকি নয় হাজার কোটি টাকার মধ্যে আটকে আছে। অর্থ বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর অনুদানের অনুপাত হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া চাষাবাদে বৈচিত্র্য না থাকায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। কৃষি এককেন্দ্রিক শস্য চাষাবাদে আটকে আছে। এ অর্থ বছরে সরকার ভর্তুকিতে ৫০০ কোটি টাকা বাড়িয়েছে, তবে বিশ^ব্যাপী মহামারীর মুখে এই বৃদ্ধি স্থিতিশীল খাদ্য সুরক্ষা তৈরি করতে যথেষ্ট নয়। এভাবে মূলত কৃষকের ভোগান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খেলাপীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক খাত :

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের প্রায় পুরোটাই চলে গেছে ঋণ খেলাপীদের নিয়ন্ত্রণে। ঋণ খেলাপীরা সবসময় কোনো না কোনোভাবে তাদের হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণ পরিশোধ না করেই বুক ফুলিয়ে চলার সুযোগ পেয়ে যান। মাত্র ২ শতাংশ এককালীন কিস্তি দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করে নেওয়ার সুযোগ নিয়ে দেশের বড় বড় ঋণ খেলাপীরা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ অপরিশোধিত রাখছেন। অপরদিকে সরকারও প্রতি বছর অধিকমাত্রায় ঋণ নিচ্ছে ব্যাংক খাত থেকে। এভাবে ব্যাংকগুলোকে ফেলা হচ্ছে তহবিল সঙ্কটে।

বাজেট যায়, বাজেট আসে। নতুন বাজেটে নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আর সেই সাথে হারিয়ে যায় আগের বাজেটে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। যেমন এবার বাজেট বক্তৃতা থেকে হাওয়া হয়ে গেছে ব্যাংক খাতের সংস্কার ও কমিশন গঠনের বিষয়টি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করা অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘ঋণ খেলাপীদের নানা সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের চাপেই নীতিমালার বিভিন্ন আইন শিথিল হয়েছে। করোনার মধ্যেও নিশ্চয়ই তারা সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষা করছে। তাই ব্যাংক খাত সংস্কার ও ঋণ খেলাপীদের  বিরুদ্ধে কঠোর না হওয়ার বিকল্প নেই’।

দুটি কথা :

জাতীয় বাজেটের একটি দিক হলো অ্যাকাউন্টেন্সি বা হিসাব সংক্রান্ত বা গাণিতিক বিষয়। আর একটি দিক হলো রাষ্ট্রের উন্নয়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনার রূপরেখা এবং বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ। প্রথম কাজটি একজন ভালো কেরানি বা অ্যাকাউন্ট্যান্ট করতে পারেন। দ্বিতীয়টি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিকের কাজ। বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে পেশ করা সরকারের সবচেয়ে গুরু দায়িত্ব। তা নিয়ে প্রাসঙ্গিক বিতর্ক ও জনস্বার্থে দাবি উত্থাপন বিরোধী দলের কর্তব্য। এক সময় চল্লিশ-পঞ্চাশ বা একশত বছর আগে বাজেট নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ ও আলোচনা করতেন জননেতারা। এখন যে কেউ তা করে। যে জনগোষ্ঠীর হাতে যথেষ্ট কাজ নেই, তারা যেকোনো বিষয় নিয়ে মেতে উঠতে পারে। আমাদের সংবাদ মাধ্যমও ছাইতে বাতাস দেয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার সঙ্গে সঙ্গে কিছু জিনিসের দাম বাড়ার কারণেই রাস্তার পাশের গাছ তলার চায়ের দোকান তর্ক ও বিতর্কে জমে উঠে। অথচ বাজেট নিয়ে তর্ক ও বিতর্ক জমে ওঠার কথা সংসদ কক্ষে রাজনীতিবিদদের।

আমাদের কাছে মনে হয়েছে- এবারের বাজেট অঙ্কগুলো নির্ধারিত রয়েছে বরাবরের মতোই। সেই অর্থে এটি একেবারেই প্রচলিত ধাঁচের একটি বাজেট। এখানে উদ্ভাবনী কৌশলের অনুপস্থিতি স্পষ্টতই বিদ্যমান। এখানে করোনা মহামারীর বিশেষ পরিস্থিতির কথাটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে খুবই কম। এই বাজেটে পদক্ষেপ নেই সমাজে বৈষম্য কমিয়ে আনার। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে যে বৈষম্য সৃষ্টি করবে, তা ঠেকানোর কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেই। তাছাড়া বর্তমান বাজেটে কর জালিয়াতি ও কর ফাঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনার অভার রয়েছে। বহুমাত্রিক কোম্পানীগুলোর কর আদায়ে নতুন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। এবারের বাজেটে সুযোগ ছিল গতানুগতিক পরিধির বাইরে এসে একটি নতুন ধরনের বাজেট প্রণয়ন করা, যা করোনা মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জনরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত তৈরি করতদুঃখজনকভাবে এবারেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি সব সময় সব ক্ষেত্রে মালকোঁচা মেরে নামলেই সফল হওয়া যায় না। বরং হাস্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। একটি বছর প্রবৃদ্ধি কম হলে কোনো দেশের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে না। আর বাজেট যারা রচনা করেন এবং বাজেটের যারা সমালোচনা করেন, উভয় পক্ষেরই সংযত হওয়া ভালো। বোকার মতো প্রশংসা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সমালোচনা খুবই ক্ষতিকর। একবার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সময় স্টেনলেস ব্লেডের দাম বাড়ায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। মানুষের জীবনে ব্লেড একটি অপরিহার্য বস্তু, কিন্তু তার দাম যদি কিঞ্চিত বাড়ে, তা কী এমন ক্ষতি! মধু বা ডায়াপার, জর্দা বা গুলের দাম বাড়া নিয়ে মাথা ঘামানো এবং নানা রকম বায়বীয় আলোচনার ফলে জাতির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় চাপা পড়ে যায়। এবারের বাজেটের সঙ্গে আলোচকবৃন্দ অনেক বিশেষণ যোগ করেছেন। বাস্তবতাবর্জিত, বাস্তবায়ন অযোগ্য, কল্পনাবিলাসী আরও কত কী! কোনটা বাস্তব, কোনটা অবাস্তব, কোনটা সত্য, কোনটা অসত্য- এ নিয়ে বোঝা বা না বোঝার বিষয় তেমন ছিল না।

বাজেট চলাকালে অনেক সৃজনশীল প্রস্তাব বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে থাকেন। অর্থ মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই এসব আলাপ-আলোচনা খেয়াল করে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন খুব সহজেই এসব প্রস্তাব এক জায়গায় করে নীতি নির্ধারকদের বিবেচনার জন্য সুবিন্যস্ত করা সম্ভব। গত ৮ জুন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ২০২০-২১ অর্থ বছরের বিকল্প বাজেট উপস্থাপন করেছে। সমিতির সভাপতি বরেণ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত প্রস্তাবিত বাজেটের সারাংশ গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। এটি নতুন কিছু নয়। ২০১৫ সাল থেকে অর্থনীতি সমিতি জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বাজেট আমাদের উপহার দিয়ে আসছে। গেল বছরও ঢাকাসহ দেশের ২৫টি জেলায় একযোগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বিকল্প বাজেট উপস্থাপিত হয়েছিল। এবার করোনা মহামারীর কারণে কেবল ঢাকা থেকে অনলাইনে তা প্রচার করা হয়। এবার অনলাইনে যুক্ত ছিল ৪৪টি জেলা। সব মিলিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য আয়োজনই বলা যায়। প্রস্তাবিত বাজেটের নানা যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন মতের অবতারনা করতেই পারেন; কিন্তু ১৪৪ পৃষ্ঠার প্রস্তাবনাটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় মেধা-শ্রম-যৌক্তিকতার যে উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়- এ কৃতিত্ব অধ্যাপক বারাকাতকে না দিলে অন্যায় হবে। বিশেষ করে করোনায় ক্ষয়ক্ষতির যে সুনিপুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা এ যাবৎকালে বাংলাদেশে কেউ করেননি। উল্লেখ্যচলমান উদ্ভূত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হলো ইসলামী অর্থনীতি কেননা বস্তুগত সম্পদের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় বিচার ও সবার জন্য অসম নীতি তৈরি সম্ভব নয়।

পরিশিষ্ট :

জাতীয় বাজেট বা জন বাজেট স্বাধীন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিচ্ছবি। এটা কোনো ভিশন বা স্বপ্ন নয়; বরং দেশের সব শ্রেণির জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়। প্রত্যেক বছরের মতো এবারেও ২০২০-২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। এই ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে জন আকাক্সক্ষার প্রতিফলন কতটুকু হবে, কোন গন্তব্যের পানে এর যাত্রা শুরু হলো এবং কোথায় গিয়ে এর যাত্রা শেষ হবে… সেটিই এখন দেখার বিষয়।