আহলেহাদীছদের উপর মিথ্যা অপবাদ ও তার জবাব
মূল (উর্দূ) : আবু যায়েদ যামীর
অনুবাদ : আখতারুজ্জামান বিন মতিউর রহমান

ভূমিকা :

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে সৃষ্টি করে ইসলামের উপর অটল রেখেছেন। পৃথিবীর হাজারো ভ্রষ্ট, বাতিল আক্বীদা-বিশ্বাস ও দল-মত থেকে হেফাযত করে ছহীহ মানহাজের উপর চলার তাওফীক্ব দান করেছেন। কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর কাফেলার সাথী হিসাবে কবুল করেছেন। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ছা.)-এর প্রতি এবং সকল ছাহাবী, তাবেঈ এবং ইসলামের ঝণ্ডাবাহী সকল মুসলিম নর-নারীর উপর। অতঃপর সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। সর্বোত্তম পথ হচ্ছে মুহাম্মাদ (ছা.)-এর প্রদর্শিত পথ। সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে শরী‘আতের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত বিষয় (বিদ‘আত)। আর প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত বিষয় বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত হচ্ছে ভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার ফলাফল জাহান্নাম।[1]

সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা দলের ব্যাপারে মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে দু’টি নীতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে। এক. সবধরনের পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে শুধু বাস্তবতার নিরীখে মন্তব্য পেশ করা। আর এটাই ঈমান এবং তাক্বওয়ার দাবী। দুই. মন্দ ধারণাকে বাস্তবতায় রূপ দিয়ে নিছক পক্ষপাতিত্বের উপর ভিত্তি করে ফায়ছালা করা। দুঃখজনক ব্যাপার হল, অধিকাংশ মানুষই এই দ্বিতীয় নীতির উপর নিজেকে পরিচালিত করে। অধিকাংশ মানুষ বাস্তবতা না জেনে শুধু ধারণার উপর ভিত্তি করে বিচার করে থাকে। এই মর্মে মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ

‘আর তাদের অধিকাংশই কেবল ধারণার অনুসরণ করে। নিশ্চিত সত্যের বিপরীতে ধারণা কোনো কাজে আসে না। তারা যা করছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত’ (ইউনুস, ৩৬)।

দিনের আলোকে অন্ধকার বললে যেমন তা অন্ধকার হয়ে যায় না, তদ্রুপ ব্যক্তিগত প্রাধান্যপ্রাপ্ত অভিমত ও ধারণা বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারে না। ন্যায়-ইনছাফের রাস্তা হতে বিচ্যুত হয়ে গৃহীত ফায়ছালায় সত্য পরিবর্তন করতে পারে না। বরং মানুষের চিন্তা-চেতনা, কাজ-কর্ম এবং শেষ পরিণতিকে ধ্বংস করে দেয়।

মনে করি, একজন মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর একজন চোখ বন্ধ করে যদি তার দৈহিক আকার-আকৃতি এবং পোশাক সম্পর্কে নিজের ধারণা অনুযায়ী বর্ণনা দিতে থাকে, তাহলে কেউই এটাকে জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমানের কাজ হিসাবে সমর্থন করবে না। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, যখন কেউ আহলেহাদীছদের ব্যাপারে মন্তব্য করার সুযোগ পায়, তখন অধিকাংশ মানুষ অন্ধের মতো না জেনে না বুঝে মন্তব্য পেশ করে।

কত মানুষ এমন আছে, যারা নিছক কুধারণার ভিত্তিতে  আহলেহাদীছদের অপছন্দ করে। এমন ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা উচিত যে, বাস্তবে আপনি কি এই বিষয়টি নিজে গবেষণা করেছেন? যে আক্বীদা ও ঊছূল (বিশ্বাস ও মূলনীতি) আহলেহাদীছদের সাথে জড়ানো হচ্ছে, সেগুলো কি আপনি নিজে কোনো আহলেহাদীছের মুখ থেকে শুনেছেন কিংবা পড়েছেন? তখন তার কাছ থেকে এর কোন হ্যাঁ-বোধক উত্তর পাওয়া যায় না। বরং তার উত্তর থেকে বুঝা যায়, তিনি অন্য কারও নিকট থেকে শুনেছেন যে, ‘আহলেহাদীছরা এটা বলে, এটা করে’। বাস্তবে যদি তিনি কোনো আহলেহাদীছের কাছে জিজ্ঞেস করে নিতেন, তাহলে বাস্তব সত্য বের হয়ে আসত এবং সকল কুধারণা ও অসন্তুষ্টি নিঃশেষ হয়ে যেত। কিন্তু আফসোস! মানুষ এর প্রতি গুরুত্ব দেয় না এবং আলো ছেড়ে অন্ধকারে জীবন-যাপন করাকেই বেছে নেয়। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন,

أَلَا سَأَلُوا إِذْا لَمْ يَعْلَمُوا

‘যখন তারা জানেই না, তাহলে তারা জিজ্ঞেস করে না কেন? [2]   

আহলেহাদীছদের সম্পর্কে জনমনে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে, যা তাদের অন্তরে আহলেহাদীছদের প্রতি ঘৃণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসকল ভুল ধারণার বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য তারা কোনো আহলেহাদীছ আলেমের নিকটে নিজে এসে জিজ্ঞেস করে না। কেননা তাদেরকে ভয় দেখানো হয়েছে যে, যদি তোমরা আহলেহাদীছ আলেমদের কাছে যাও, তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। এই সংক্ষিপ্ত লেখাটির উদ্দেশ্য হল, যারা আহলেহাদীছদের মানহাজ এবং দাওয়াত সম্পর্কে জানতে চায়, তারা যেন সংক্ষিপ্ত আকারে মৌলিক বিষয়গুলো জানতে পারে। যাতে তাদের পূর্বের ধারণার উপর নতুন করে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করে বাস্তব সত্যকে গ্রহণ করা সহজ হয়।

আহলেহাদীছদের সম্পর্কে ভুল ধারণা ও মিথ্যা অপবাদের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ। সংক্ষিপ্ত করার লক্ষ্যে এই পুস্তকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশয়ের খণ্ডন করা হবে। বিস্তারিত আলোচনা ও গবেষণামূলক জ্ঞান লাভ করতে চাইলে আহলেহাদীছ আলেমদের লিখিত গ্রন্থাবলী অথবা সরাসরি আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।  

আসুন! আমরা দেখি আহলেহাদীছদের উপর সাধারণ ভুল ধারণাগুলো কী কী এবং সেগুলোর ব্যাপারে আহলেহাদীছদের অবস্থান কী?

ভুল ধারণা-১ :

আহলেহাদীছ ইংরেজদের আবিষ্কৃত একটি নতুন ফেরক্বা।

আহলেহাদীছদের ব্যাপারে প্রথম ভুল ধারণা হলো, এটি একটি নতুন আবিষ্কৃত দল। অতীতে এই দলটির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। হিন্দুস্তানে ইংরেজরা সর্বপ্রথম এই দলটির ভিত্তি স্থাপন করে।

এটা মূলপত ঐতিহাসিক বাস্তবতা না জানার ফল। আহলেহাদীছ কি আসলেই অতীতে ছিল না? আহলেহাদীছ কি ইংরেজদের ধর্ম? আহলেহাদীছদের ইতিহাস কি একশ বা দুইশ বৎসরের বেশি পুরাতন নয়? আসুন! দেখি আসল বাস্তবতা কী।

১. আহলেহাদীছদের ইমাম হলেন মুহাম্মাদ (ছা.) : [3]

 আল্লাহর বাণী,

يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ

‘স্মরণ করো, যেদিন আমি প্রত্যেকটি মানুষকে তার নেতাসহ ডাকবো’ (ইসরা, ৭১)-এর তাফসীরে ইবনে কাছীর (রাহি.) বলেন,

وَ قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ : هَذَا أَكْبَرُ شَرَفٍ لِأَصْحَابِ الْحَدِيْثِ؛ لِأَنَّ إِمَامَهُمْ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

‘সালাফে ছালেহীনের অনেকেই বলেছেন, এটা আহলেহাদীছদের সবচেয়ে বড় গৌরবের বিষয়। কারণ তাদের ইমাম হলেন মুহাম্মাদ (ছা.)’। [4]   

তাফসীর ইবনে কাছীর জ্ঞানের সকল স্তরের একটি গ্রহণযোগ্য তাফসীর। লক্ষণীয় বিষয় হল, ইবনে কাছীর (রাহি.) জন্মগ্রহণ করেন ৭০১ হিজরী সনে এবং মৃত্যুবরণ করেন ৭৭৪ হিজরী সনে। তিনি না কোনো হিন্দুস্তানী ছিলেন আর না সে সময় ইংরেজদের অস্তিত্ব ছিল। আবার তিনি এখানে আহলেহাদীছদের সম্পর্কে নিজের কোনো মন্তব্য পেশ করেননি, বরং তিনি তার পূর্ববর্তী বিদ্বানদের কথা উল্লেখ করেছেন। যার দ্বারা একথা স্পষ্ট হয় যে, সালাফদের মধ্যে আহলেহাদীছ নামের পরিচয় লাভকারী বিদ্বানগণ আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ (ছা.)-কে নিজেদের ইমাম হিসাবে মান্য করতেন।

এই বাতিল দাবির অসারতা প্রমাণের জন্য এতটুকুই কি যথেষ্ট নয় যে, আজ থেকে প্রায় সাতশ বৎসর পূর্বের পুরাতন গ্রন্থে একজন নির্ভরযোগ্য মুফাসসির, মুহাদ্দিছ এবং ইতিহাসবিদ আহলেহাদীছদের ব্যাপারে কুরআনের আয়াত এবং সালাফে ছালেহীনের উক্তি দ্বারা দলীল পেশ করেছেন? বাস্তবতা হলো, আহলেহাদীছদের অস্তিত্ব ইবনে কাছীর (রাহি.)-এরও আগে।

২. ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর যুগে আহলেহাদীছের অস্তিত্ব :

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ দুররে মুখতারের ব্যাখ্যা গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারে ইবনে আবেদীন (রাহি.) লিখেছেন,

حُكِيَ أَنَّ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ أَبِيْ حَنِيْفَةَ خَطَبَ إِلَي رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيْثِ ابْنَتَهُ فِيْ عَهْدِ أَبِيْ بَكْرٍ الْجُوْزَجَانِيِّ فَأَبَي إِلَّا أَنْ يَتْرُكَ مَذْهَبَهُ فَيَقْرَأَ خَلْفَ الْإِمَامِ وَيَرْفَعَ يَدَيْهِ عِنْدَ الْاِنْحِطَاطِ وَ نَحْوَ ذَلِكَ فَأَجَابَهُ فَزَوَّجَهُ…

‘বর্ণিত আছে যে, আবুবকর আল-জূযাজানী (রাহি.)-এর যুগে আবু হানীফা (রাহি.)-এর অনুসারীদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি একজন আহলেহাদীছের মেয়েকে বিবাহ করার প্রস্তাব পাঠায়। তখন সেই আহলেহাদীছ ব্যক্তি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তিনি বলেন, যদি সে তার মাযহাব ছেড়ে দেয়, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহাসহ ক্বিরাআত পাঠ করে এবং রফ‘উল ইয়াদায়েন করে, তাহলে তিনি তার মেয়েকে তার সাথে বিবাহ দিবেন। সে তার এই শর্ত মেনে নেয়। তখন আহলেহাদীছ ব্যক্তি তার প্রস্তাব মেনে নেন এবং তার সাথে তার মেয়ের বিবাহ দেন’।[5]  আবুবকর আল-জূযাজানী (রাহি.) ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানীর ছাত্র আবু সুলায়মান জূযাজানীর ছাত্র ছিলেন। আর ইমাম মুহাম্মাদ নিজে সরাসরি ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর ছাত্র ছিলেন।

এই ঘটনা থেকে একথা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর ছাত্রদের যুগেও আহলেহাদীছের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল। শুধু তাই নয় বরং আহলেহাদীছগণ সে যুগেও ঐ সকল ফিক্বহী মাসায়েলের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন, যেগুলোকে শাখাগত বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যেমন- ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পাঠ, রফ‘উল ইয়াদায়েন ইত্যাদি। এর মাধ্যমে এটাও জানা যায় যে, আহলেহাদীছ আলেমগণ সে যুগেও দ্বীনের বিষয়ে অনেক সচেতন এবং সুদৃঢ় ছিলেন। তাদের নিকট আত্মীয়তার সম্পর্কের চেয়ে দ্বীন অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা নিজের সন্তানের বিবাহের পূর্বে প্রস্তাবকারী নবী (ছা.)-এর সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখতেন। এই ঘটনা হতে ‘আহলেহাদীছের অস্তিত্ব অনেক আগে থেকে ছিল’ শুধু এটাই প্রমাণিত হয় না। বরং তারা যে ধর্মের বিষয়ে আগে থেকেই আপোসহীন তার প্রমাণ পাওয়া যায়। যা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে সুদৃঢ়তা ও অনড়তার প্রমাণ বহন করে। বরং আমরা যদি এর পূর্বের ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তাহলেও আহলেহাদীছের অস্তিত্ব দেখতে পাব।

৩. ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর ছাত্র আবু ইউসুফ (রাহি.)-এর আহলেহাদীছদের প্রতি টান ছিল :

ইয়াহ্ইয়া ইবনে মাঈন (রাহি.) বলেন,

كان أَبُوْ يُوْسُف الْقَاضِيُّ يُحِبُّ أَصْحَابَ الْحَدِيْثِ وَيَمِيْلُ إِلَيْهِمْ

‘কাযী আবু ইউসুফ (রাহি.) আছহাবুল হাদীছদের ভালোবাসতেন এবং তাদের প্রতি তার টান ছিল’।[6]  দেখুন, আহলেহাদীছের উপস্থিতি ইমাম আবু হানীফার (রাহি.)-এর বিশিষ্ট ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রাহি.)-এর যুগে ছিল। এছাড়া এই ঘটনা হতে এটাও জানা যায় যে, ইমাম আবু ইউসুফ (রাহি.) নিজেই আহলেহাদীছদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, বরং তিনি তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে ধাবিত ছিলেন।

অনেকেই এখানে একটি প্রশ্ন করে থাকেন যে, আহলেহাদীছদের মধ্যকার এমন কোনো ব্যক্তি আছেন কি, যিনি সকল আহলে ইল্ম বা জ্ঞানী ব্যক্তিগণের নিকট গ্রহণযোগ্য এবং সকলের নিকট পরিচিত? আসুন! এই কথার উত্তর আমরা হানাফী মাযহাবের একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হতে জেনে নিই।

৪. ইমাম বুখারী (রাহি.) আহলেহাদীছদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন :

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আইনুল হেদায়া’তে উল্লেখ আছে যে, আমরা ইজমা‘ (সকলে ঐকমত্য) পোষণ করেছি যে, শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলী, বরং সকল আহলেহাদীছ যেমন ইমাম বুখারী প্রমুখ এবং বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ইবনে জারীর ত্ববারী (রাহি.), এমনকি যাহিরী ওলামাগণ- তারা সকলেই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত। সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে এবং সকলের দলীল গ্রহণের স্থান কুরআন ও সুন্নাহ। তারা সকলেই সঠিক আক্বীদার উপর রয়েছে।[7]    

এখানে কয়েকটি জিনিস ভাবা দরকার :

ক. হানাফী আলেমগণের ঐকমত্যে সকল আহলেহাদীছ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত এবং সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

খ. আহলেহাদীছগণ যাহিরী নয়, বরং দু’টি আলাদা।

গ. বিখ্যাত মুফাসসির ইবনে জারীর ত্ববারী এবং ইমাম বুখারী (রাহি.) আহলেহাদীছ ছিলেন।

ইমাম বুখারীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নাম শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলীর স্থানে না উল্লেখ করে পৃথকভাবে আহলেহাদীছদের উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করাটা শুধু আহলেহাদীছদের প্রাচীনতাই প্রমাণ করে না, বরং সাথে সাথে তাদের সম্মান ও মর্যাদার কথাও প্রমাণ করে। আসুন! আমরা এখানে আরও দেখি, আহলেহাদীছদের ব্যাপারে ইমাম শাফেঈ, ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইমাম বুখারীর নিজস্ব মতামত কী ছিল।

৫. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বুখারী এবং ইবনুল মুবারাক (রাহি.)-এর নিকট আহলেহাদীছগণ হচ্ছেন, ‘ত্বয়েফায়ে মানছূরা’ বা আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত :

বুখারী-মুসলিমসহ আরও অনেক গ্রন্থে বিভিন্ন সনদে বিভিন্ন শব্দে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তাতে রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন,

لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِى قَائِمَةً بِأَمْرِ اللهِ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ أَوْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِىَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ عَلَى النَّاسِ

‘আমার উম্মাতের একটি দল আল্লাহর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করবে বা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ ক্বিয়ামত চলে আসবে, আর তারা তখনো লোকদের উপর বিজয়ী থাকবে।[8]  এই দলটি কোনটি? আসুন! এর উত্তরে উম্মতের সম্মানিত ইমামগণ কী বলেছেন, তা আমরা দেখি।

১. ফযল ইবনে যিয়াদ (রাহি.) বলেন,

سمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ وَذَكَرَ حَدِيْثَ : لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِيْ ظَاهِرِيْنَ عَلَى الْحَقِّ فَقَالَ : إِنْ لَمْ يَكُوْنُوْا أَصْحَابَ الْحَدِيْثِ فَلَا أَدْرِيْ مَنْ هُمْ؟

আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি এই হাদীছটি বর্ণনা করেন যে, ‘আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর আদেশের উপর (দ্বীনের উপর) প্রতিষ্ঠিত থাকবে’। অতঃপর তিনি বলেন, যদি এই দলটি আহলেহাদীছ না হয়, তাহলে আমি জানি না তারা কারা? [9]   অর্থাৎ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের নিকট সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত দলটি আহলেহাদীছ ব্যতীত আর কোনো দল হতেই পারে না।

২. ইমাম বুখারী (রাহি.) বলেন, يَعْنِيْ أَصْحَابَ الْحَدِيْثِ   অর্থাৎ হাদীছে উল্লেখিত দলটি দ্বারা উদ্দেশ্য ‘আছহাবুল হাদীছ’।[10] 

৩. আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক তাবে তাবেঈনের একজন ছিলেন। তিনি উম্মতের নিকট কতটা গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন, তা ইমাম যাহাবী (রাহি.)-এর মন্তব্য দ্বারা বুঝা যায়। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন, حَدِيْثُهُ حُجَّةٌ بِالإِجْمَاعِ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাহি.)-এর বর্ণিত হাদীছ হুজ্জাত বা গ্রহণযোগ্য হওয়ার উপর সবাই একমত। আহলেহাদীছ জামা‘আতের ব্যাপারে তিনি বলেন, هُمْ عِنْدِيْ أَصْحَابُ الْحَدِيْثِ ‘সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত সাহায্যপ্রাপ্ত জামা‘আতটি হচ্ছে আছহাবুল হাদীছ (আহলেহাদীছ)’। [11]   

এখানে যেন কেউ একথা না বলে যে, ‘এ সকল ব্যাখ্যায় আছহাবুল হাদীছ বলা হয়েছে; আহলেহাদীছ নয়’। জেনে রাখা উচিত, ‘আহলেহাদীছ’ এবং ‘আছহাবুল হাদীছ’ উভয়ের একই অর্থ। মুহাদ্দিছগণ দু’টি বাক্যই ব্যবহার করে থাকেন। যেমন: উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ আলী ইবনুল মাদীনী (রাহি.) বলেন, هُمْ أَهْلُ الْحَدِيْثِ (সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত সাহায্যপ্রাপ্ত জামা‘আতটি) আহলুল হাদীছ।[12]   এখানে উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় আলী ইবনুল মাদীনী (রাহি.) ‘আছহাবুল হাদীছ’-এর স্থানে ‘আহলুল হাদীছ’ শব্দ উল্লেখ করেছেন। কে এই আলী ইবনুল মাদীনী? আলী ইবনুল মাদীনী (রাহি.)-এর মর্যাদা এবং পাণ্ডিত্য বর্ণনা করতে গিয়ে ইমাম বুখারী (রাহি.) বলেন,

مَا اسْتَصْغَرْتُ نَفْسِيْ بَيْنَ يَدَيْ أَحَدٍ إِلَّا بَيْنَ يَدَيْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِيْنِيِّ

‘আলী ইবনুল মাদীনী (রাহি.) ব্যতীত কারও সামনে আমার নিজেকে তুচ্ছ মনে হতো না, অর্থাৎ জ্ঞানের ক্ষেত্রে ছোট মনে হতো না’।[13]  এ সকল বক্তব্য এবং মতামত হতে জানা যায় যে, সালাফদের মাঝে আহলেহাদীছ পরিভাষাটি প্রসিদ্ধ ছিল এবং এটা ঐ জামা‘আতের ব্যাপারে বলা হতো, যে জামা‘আত ক্বিয়ামত পর্যন্ত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

একটি সংশয়ের নিরসন :

এখানে একটি ভুল ধারণা দূর করাটা যরূরী। তা হচ্ছে, অনেকের ধারণা, এ সকল বক্তব্যে ‘আহলেহাদীছ’ শব্দটি ‘মুহাদ্দিছ’দেরকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে; কোনো দল বা জামা‘আতকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়নি। তাদের বক্তব্য হলো, তাফসীরে পারদর্শীকে যেমন মুফাসসির বা আহলে তাফসীর বলা হয়, তদ্রূপ হাদীছে পারদর্শী ব্যক্তিকে ‘মুহাদ্দিছ বা আহলেহাদীছ’ বলা হয়। কিন্তু তাদের এ বক্তব্য সঠিক নয়। এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, যদি আহলেহাদীছ দ্বারা শুধুমাত্র মুহাদ্দিছগণ উদ্দেশ্য হয়, তাহলে হাদীছের বর্ণনায় ক্বিয়ামত পর্যন্ত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত যে দলটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে দলটি হতে মুফাসসির এবং ফক্বীহগণকে বাদ দিতে হবে।[14]  হাদীছের শব্দের দিকে লক্ষ্য করলে এই ভুল ধারণাটি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। কেননা, হাদীছে আহলেহাদীছদের কথা আহলে বাতিল বা বাতিলপন্থীদের বিপরীতে উল্লেখ করা হয়েছে; ফক্বীহ বা মুফাসসিরদের বিপরীতে নয়। আমাদের এই বক্তব্যকে আরও স্পষ্ট করার জন্য আমরা শায়খ আব্দুল ক্বাদের জীলানী (রাহি.)-এর বক্তব্য পেশ করাকে যথাযথ মনে করছি, যা তার লিখিত কিতাব ‘গুনিয়াতুত ত্বালিবীন’-এ উল্লিখিত হয়েছে।

وَاعْلَمْ أَنَّ لِأَهْلِ البِدْعِ عَلَامَاتٍ يُعْرَفُونَ بِهَا فَعَلَامَةُ أَهْلِ البِدْعَةِ الوَقِيْعَةُ فِيْ أَهْلِ الأَثَرِ . وَعَلَامَةُ الزَنَادِقَةِ تَسْمِيَتُهُمْ أَهْلَ الأَثَرِ بِالْحَشَوِيَّةِ. وَيُرِيدُونَ إِبْطَالَ الأَثَرِ . وَعَلَامَةُ القَدَرِيَّةِ تَسْمِيَتُهُمْ أَهْلَ الأَثَرِ مُجْبِرَةً . وَعَلَامَةُ الْجَهْمِيَّةِ تَسْمِيَتُهُمْ أَهْلَ السُنَّةِ مُشَبِّهَةً. وَعَلَامَةُ الرَافِضِيَّةِ تَسْمِيَتُهُمْ أَهْلَ الأَثَرِ نَاصِبَةً . وَكُلُ ذٰلِكَ عَصَبِيَّةٌ وغِيَاظٌ لِأَهْلِ السُنَّةِ . وَلَا اسْمَ لَهُمْ إِلَّا اسْمٌ وَاحِدٌ . وَهُوَ أَصْحَابُ الْحَدِيْثِ . وَلَا يَلْتَصِقُ بِهِمْ مَا لَقَّبَهُمْ بِهِ أَهْلُ الْبِدَعِ كَمَا لَا يَلْتَصِقُ بِالنَبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ تَسْمِيَةُ كُفَّارِ مَكَّةَ سَاحِراً  وَشاعِراً وَمَجْنُوناً وَمَفْتُوحاً وَكَاهِناً . وَلَمْ يَكُنْ اسْمُهُ عِنْدَ اللّٰهِ وَعِنْدَ مَلَائِكَتِهِ وَعِنْدَ إِنْسِهِ وَجِنِّهِ وَسَائِرِ خَلْقِهِ إِلَّا رَسُولاً نَبِيّاً بَرِيْئًا مِنَ الْعَاهَاتِ كُلِّهَا .

জেনে রাখুন! বিদ‘আতীদের কিছু নিদর্শন রয়েছে, যা দ্বারা তারা পরিচিত। তাদের একটি নিদর্শন হলো, আহলেহাদীছদের আঘাত করা। আর যিনদীক্ব (অন্তরে কুফর রেখে ঈমানের দাবিদার, নাস্তিক) সম্প্রদায়ের আলামত হলো, তারা আহলেহাদীছদেরকে ‘হাশাবিয়্যা’ (দলীলের শুধু বাহ্যিক দিকের ভিত্তিতে আমলকারী) বলে এবং এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য থাকে আহলেহাদীছদের প্রতিহত করা। ক্বাদারিয়্যা (তাক্বদীর অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়ের নিদর্শন হলো, তারা আহলেহাদীছদেরকে ‘মুজবিরা’ (ভাগ্যের কাছে নিরূপায়) বলে। জাহমিয়্যা (আল্লাহর গুণাবলীকে অস্বীকারকারী) স¤প্রদায়ের নির্দশন হলো, তারা আহলেহাদীছদেরকে ‘মুশাব্বিহা’ (আল্লাহর গুণাবলীকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দানকারী) বলে। রাফেযীদের (গোঁড়া শী‘আ) নির্দশন হলো, তারা আহলেহাদীছদেরকে ‘নাছেবা’ (আহলুল বায়তের সাথে শত্রুতা পোষণকারী) বলে। বিদ‘আতীদের এ সকল বক্তব্য শুধু আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের প্রতি তাদের গোঁড়ামি ও হিংসার কারণে। আর আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের একটি মাত্র নাম, তা হলো, আছহাবুল হাদীছ (আহলেহাদীছ)। বিদ‘আতীদের পক্ষ হতে আরোপিত এ সকল নামের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন নবী (ছা.)-কে মক্কার কাফেরদের পক্ষ থেকে যাদুকর, কবি, পাগল এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহ, তার ফেরেশতা, মানুষ, জিন এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলের নিকট তিনি ছিলেন একজন নবী ও রাসূল, কাফিরদের পক্ষ থেকে আরোপিত সকল মন্দ বিষয় হতে মুক্ত।[15]    

উপরে উল্লিখিত বক্তব্যে লক্ষণীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় :

ক. শায়খ আব্দুল ক্বাদের জীলানী (রাহি.) সকল ভ্রান্ত দলের বিপরীতে আহলেহাদীছদের কথা উল্লেখ করেছেন।

খ. তার নিকটে আহলেহাদীছদের বিরুদ্ধে দলীলবিহীন কথা বলা, ভ্রান্ত দলসমূহের কাজ।

গ. তার নিকট আহলেহাদীছ এবং আহলে সুন্নাহ একটাই দল।

ঘ. আহলে সুন্নাতের একটিই নাম- আছহাবুল হাদীছ।

এ সকল আলোচনার পর প্রশ্ন হলো, এখনো কি আহলেহাদীছদেরকে একটি নবাবিষ্কৃত দল বলে মানুষকে সন্দিহান করা ঠিক হবে? এর উত্তর সুধী পাঠকদের উপর ছেড়ে দিলাম।

(চলবে)

[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/২০৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫০২৬; মিশকাত, হা/৯৫৬।

বি.দ্র. : রেফারেন্সের ক্ষেত্রে মূল বইয়ের নাম্বার ব্যবহার করা হয়নি; ‘মাকতাবা শামেলা’-এর নাম্বার ব্যবাহার করা হয়েছে। -অনুবাদক

[2]. আবুদাঊদ, হা/৩৩৬; বায়হাক্বী কুবরা, হা/১০১৬; মিশকাত, হা/৫৩১।

[3].  খত্বীব আল-বাগদাদী (রাহি.) বলেন,

وَكُلُّ فِئَةٍ تَتَحَيَّزُ إِلَى هَوًى تَرْجِعُ إِلَيْهِ، أَوْ تَسْتَحْسِنُ رَأْيًا تَعْكُفُ عَلَيْهِ، سِوَى أَصْحَابِ الْحَدِيْثِ، فَإِنَّ الْكِتَابَ عُدَّتُهُمْ، وَالسُّنَّةَ حُجَّتُهُمْ، وَالرَّسُوْلَ فِئَتُهُمْ، وَإِلَيْهِ نِسْبَتُهُمْ، لَا يَعْرُجُوْنَ عَلَى الْأَهْوَاءِ، وَلَا يَلْتَفِتُوْنَ إِلَى الْآرَاءِ

‘প্রত্যেক দলই মনোপ্রবৃত্তির পক্ষাবলম্বন করে এবং তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। অথবা কোন মতকে পছন্দ করে এবং তার উপর অটল থাকে। কিন্তু আছহাবুল হাদীছগণ (আহলেহাদীছগণ) এর ব্যতিক্রম। কেননা কুরআন হলো তাদের অস্ত্র, হাদীছ তাদের মযবূত দলীল, রাসূল (ছা.) হলেন তাদের আদর্শ এবং তার দিকেই তারা সম্বন্ধিত। তারা মনোপ্রবৃত্তির দিকে প্রত্যাবর্তন করে না এবং কারও কোনো মতের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না’ (শারাফু আছহাবিল হাদীছ, পৃ. ৭ [খত্বীব আল-বাগদাদীর জন্ম ৩৯২ হি., মৃত্যু ৪৬৩ হি.])।

[4]. তাফসীর ইবনে কাছীর, ইসরা, ৭১-এর আয়াতের ব্যাখ্যা।

[5]. রদ্দুল মুহতার : কিতাবুল হুদূদ।

[6]. তারীখে বাগদাদ, ১৪/২৫৫।

[7]. আইনুল হুদা, ১/৫৩৮।

[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৯৫৬; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৯৭১।

[9]. শারাফু আছহাবিল হাদীছ, ১/৫২, ১/৪৫, ১/৫০।

[10]. প্রাগুক্ত, ১/৫৫।

[11]. প্রাগুক্ত, ১/৪১।

[12]. তিরমিযী, হা/২২২৯; শারাফু আছহাবিল হাদীছ, ১/১০।

[13].  সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৪২০।

[14]. অর্থাৎ এর উদ্দেশ্য যদি হয় মুহাদ্দিছীনে কেরাম ক্বিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকা, তাহলে মুফাসসির ও ফক্বীহগণ এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। তাহলে কি মুফাসসির ও ফক্বীহগণ ক্বিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবেন না? এটা সুস্পষ্ট ভ্রান্ত কথা। তাছাড়া বর্তমান যুগে আগের দিনের মতো উঁচু মাপের মুহাদ্দিছ নেই, তাহলে কি পৃথিবীর সকল মানুষই ভ্রান্ত?! যারা এমন দাবি করে তারা যে কত বড় ভ্রান্ত, সম্মানিত পাঠক তা চিন্তা করুন!  

[15]. ¸গুনিয়াতুত ত্বালেবীন, ১/১৬৬।