‘মূর্তি বিড়ম্বনার ইসলামি আঙ্গিক’ শীর্ষক প্রবন্ধের পর্যালোচনা

-আহমাদুল্লাহ*


ভূমিকা : সম্প্রতি ভাস্কর্য নিয়ে আবারও বিতর্ক উঠেছে। কিছু মানুষ দাবী করছেন যে, ভাস্কর্য তৈরি করা যাবে। এমনকি দরবারী কিছু আলেম (?)ও বলছেন যে, ভাস্কর্য রাখা যাবে। ইতোপূর্বে লিলিয় সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনে লিলি ফোয়ারায় স্থাপিত ভাস্কর্য রাখা ইসলামে জায়েয বলে এক ভদ্রলোক দাবী করে একটি প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। যেটি তৎকালীন সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করায় আমরা সেটির জবাব লিখতে অগ্রসর হই। বর্তমানে আবারও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে বিধায় সেটি পত্রস্থ করা হলো।-

‘হাসান মাহমুদ’ নামের ভদ্রলোকটির বক্তব্যের মর্ম হলো, সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনে লিলি ফোয়ারায় স্থাপিত ভাস্কর্যটি রাখা ইসলামসম্মত। সুতরাং এটা নিয়ে প্রতিবাদ করার কিছু নেই’

জবাব : বিনীতভাবে জানাতে চাই, হাসান সাহেবের উক্ত দাবী সঠিকের নিকটবর্তীও নয়। তার বক্তব্যসমূহের পর্যালোচনা নিম্নরূপ-

১. তিনি বলেছেন, দেশে এখন মূর্তি ও ভাস্কর্য নিয়ে উত্তেজনা চলছে’

জবাব : উত্তেজনা আর প্রতিবাদ করা এক নয়। তার কথানুপাতে, উত্তেজনা (?) হবার কারণ দুটি-

(ক) এটা ইসলাম বিরোধী কাজ। তাই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলামপন্থি জনসাধারণ একে মেনে নিতে না পারায় কিছুটা উত্তেজনা (?) হতেই পারে। যদিও তারা শান্তিপূর্ণভাবেই এর প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন।

(খ) এটা সংবিধান বিরোধী। কারণ সংবিধানে আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম…’।[1]

যেহেতু ইসলামে এভাবে ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম, সেহেতু বাংলাদেশের ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ মোতাবেক এভাবে কোনো মূর্তি-ভাস্কর্য রাখা বৈধ নয়।

২. হাসান মাহমুদ সাহেব লিখেছেন, বিষয়টির সঙ্গে হেফাজতিরা ইসলামকে জড়িয়ে ফেলেছে’

জবাব : ইসলামকে জড়িয়ে ফেলেছে। কারণ এটা ইসলামের বিধি-বিধানের সাথে সম্পৃক্ত। তাছাড়াও শুধু হেফাজতে ইসলাম নয়; বরং দেশের সর্বস্তরের আলেম, ধর্মপ্রাণ মুসলিম একে বর্জন করেছেন।

৩. হাসান মাহমুদ সাহেব লিখেছেন, তাই চলুন আমরা সূত্র ধরে দেখি এ ব্যাপারে কোরান, হাদিস, সিরাত (ইবনে হিশাম ইবনে ইবনে ইসহাক), তারিখ আল তারারি ও অন্যান্য দলিল কী বলে’

জবাব : বাস্তবে তিনি কোনো আয়াত, হাদীছের আরবী পাঠ প্রদান করতে সক্ষম হননি। স্রেফ কিছু অনুবাদ পেশ করেছেন। হয়তো তিনি আরবী ভাষায় অজ্ঞ হবার কারণেই এমনটা হয়েছে। আর আরবী ভাষায় অজ্ঞ হলে ইসলামের কোনো বিষয়ে মতামত প্রদান করা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তার পরবর্তী লেখনীই এর প্রমাণ। তিনি বলেছেন, তারিখ আল-তারারি’। বাস্তবে এ নামে কোনো গ্রন্থ বিশ্বের বুকে নেই। সঠিক হলো ‘তারীখুত তবারী’ (তারীখে তবারী)। যেটি ইমাম ইবনে জারীর আত-তবারী (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃ. ৩১০ হি.) আরবী ভাষায় রচনা করেছেন। যিনি গ্রন্থের নাম লিখতেই ভুল করেন, তিনি কেন এ বিষয়ে লিখতে মনস্থ করলেন তা বোধগম্য নয়।

৪. হাসান সাহেব লিখেছেন, ‘প্রথমেই তিনটে শব্দ বুঝে নেওয়া যাক: প্রতিমা, ভাস্কর্য ও মূর্তি। প্রতিমা হল মানুষ যার আরাধনা উপাসনা করে, ইহকালে-পরকালে মঙ্গল চায়, ভুলের ক্ষমা চায় ইত্যাদি। ভাস্কর্য্য হল মানুষসহ কোনো প্রাণী বা কোনো কিছুর মূর্তি যাকে মানুষ রাখে সম্মান দেখতে বা সৌন্দর্য্য বর্ধন করতে, যার মানুষ আরাধনা বা উপাসনা করে না’

জবাব : ‘প্রথমেই তিনটে শব্দ বুঝে নেওয়া যাক’– হাসান সাহেব! আপনার বুঝ দয়া করে আপনার কাছেই রাখুন। আপনার বুঝ দিয়ে তো হালাল-হারাম প্রমাণিত হবে না। হালাল বা হারাম প্রমাণিত হবে ইসলাম দিয়ে। সুতরাং আপনার নিজস্ব বুঝ অন্যদের উপর চাপানোর কোনোই দরকার নেই।

আসলে তিনি সংজ্ঞার মারপ্যাঁচে পড়েছেন। সংজ্ঞা হিসেবে যেটাই প্রদান করা হোক না কেন, সবই ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। স্রেফ প্রদর্শনীর জন্য হলেও কোনো মানুষের ভাস্কর্য বানানো হারাম, সম্মান প্রদর্শন করা তো বহু দূরের কথা। এমনকি ঠেস দিয়ে বসার জন্য ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে কুশন বানানোও হারাম। অথচ এতে ছবির সুস্পষ্ট অবমাননা হয়। আমাদের এই প্রবন্ধের আসন্ন আলোচনায় এ বিষয়ে দলীলসহ আলোকপাত করা হবে ইনশা-আল্লাহ।

৫. হাসান সাহেব লিখেছেন, এবারে অন্যান্য দলিলের দিকে তাকানো যাক, সেখানে আমরা দেখব হযরত মুহাম্মদের (সা.) বাড়িতে মূর্তি ছিল তাঁর সম্মতিক্রমেই’

জবাব : ভাইজান! দয়া করে কোথাও তাকানোর দরকার নেই। চারপাশে বেশি নযর দিলে চোখের বারোটা বাজবে। তখন আকাশকে মাটি মনে হবে আর মাটিকে মনে হবে আকাশ। নারীকে পুরুষ দেখবেন আর পুরুষকে নারী। সুতরাং এতো তাকাতে হবে না।

আসলে এখানে তিনি ভ্রান্তিতে পতিত হয়েছেন। না বুঝেই তিনি একে দলীল (?) হিসাবে গ্রহণ করেছেন। দলীল কী জিনিস এবং কীভাবে তার প্রয়োগ করতে হয় তা সম্পর্কে তার ন্যূনতম জ্ঞান নেই, যেটা আমরা সামনে দেখতে পাবো।

তিনি কতিপয় দলীল পেশ করেছেন। যদিও সেগুলোর সঠিক মর্ম বুঝতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। নিম্নে আমরা সেগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করলাম-

দলীল-১ : (ক) সহি বুখারি ৮ম খন্ড হাদিস ১৫১ :

আয়েশা বলিয়াছেন, আমি রাসুলের (সা.) উপস্থিতিতে পুতুলগুলি লইয়া খেলিতাম এবং আমার বান্ধবীরাও আমার সহিত খেলিত। যখন আল্লাহর রাসুল (সা.) আমার খেলাঘরে প্রবেশ করিতেন, তাহারা লুকাইয়া যাইত, কিন্তু রাসুল (সা.) তাহাদিগকে ডাকিয়া আমার সহিত খেলিতে বলিতেন’।

দলীল-২ : (খ) সহি আবু দাউদ বুক ৪১ হাদিস নং ৪৯১৪ :

বিশ্বাসীদের মাতা আয়েশা (রা.) বলিয়াছেন, যখন আল্লাহর রাসুল (সা.) তাবুক অথবা খাইবার যুদ্ধ হইতে ফিরিলেন তখন বাতাসে তাঁহার কক্ষের সামনের পর্দা সরিয়ে গেলে তাঁহার কিছু পুতুল দেখা গেল। তিনি [(রাসুল (সা.)] বলিলেন, ‘এইগুলি কী?’ তিনি বলিলেন, ‘আমার পুতুল’। ওইগুলির মধ্যে তিনি দেখিলেন একটি ঘোড়া যাহার ডানা কাপড় দিয়া বানানো হইয়াছে এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘ইহা কি যাহা উহার উপর রহিয়াছে?’ তিনি উত্তরে বলিলেন, ‘দুইটি ডানা’। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘ডানাওয়ালা ঘোড়া?’ তিনি উত্তরে বলিলেন, ‘আপনি কি শোনেননি যে সুলেমানের ডানাওয়ালা ঘোড়া ছিল?’ তিনি বলিয়েছেন, ‘ইহাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) এমন অট্টহাসি হাসিলেন যে আমি উনার মাড়ির দাঁত দেখিতে পাইলাম’।

দলীল-৩ : (গ) সহি মুসলিম বুক ০০৮, নং ৩৩১১ :

আয়েশা (রা.) বলিয়াছেন যে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁহাকে সাত বৎসর বয়সে বিবাহ করিয়াছিলেন (যদিও অন্য রেওয়াতে আমরা পাই ছয় বছর : হাসান মাহমুদ) এবং তাঁহাকে নয় বৎসর বয়সে কনে হিসেবে তাঁহার বাসায় লইয়া যাওয়া হয়, এবং তাঁহার পুতুলগুলি তাঁহার সাথে ছিল এবং যখন তিনি দেহত্যাগ করিলেন তখন তাঁহার বয়স ছিল আঠারো।

দলীল-৪ : (ঘ) সহি মুসলিম বুক ০৩১ নং ৫৯৮১ :

আয়েশা (রা.) বলিয়াছেন যে তিনি আল্লাহর রাসুলের (সা.) উপস্থিতিতে পুতুল লইয়া খেলিতেন এবং যখন তাঁহার সঙ্গিনীরা তাঁহার কাছে আসিত তখন তাহারা চলিয়া যাইত। কারণ তাহারা আল্লাহর রাসুলের (সা.) জন্য লজ্জা পাইত। যদিও আল্লাহর রাসুল (সা.) তাহাদিগকে তাঁহার কাছে পাঠাইয়া দিতেন।

জবাব :

প্রথমত: এটা ছিল খুবই সীমিত পরিসরে ছোট বাচ্চার জন্য, বিশেষ করে মেয়ে শিশুর জন্য এবং তা ছিল তুলা বা কাপড়ের তৈরি। পুরোপুরি মানুষের অবয়ব তাতে দৃশ্যমান ছিল না। আজও গ্রামবাংলার শিশুদেরকে কাপড়ের তৈরি পুতুল দিয়ে খেলতে দেখা যায়, যাতে মানুষের মতো মুখ, চোখ, নাক, কান, হাত, পা কোনো কিছুই স্পষ্ট থাকে না। কোথায় বর্তমান যুগের এসব মূর্তি-ভাস্কর্য আর কোথায় ন্যাকড়ার তৈরি সেই পুতুল?!

দ্বিতীয়ত: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে অনুমতি দেওয়ার ঘটনাটি ছবিমূর্তি নিষিদ্ধ হওয়ার এবং এগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার সাধারণ নির্দেশের পূর্বের ঘটনা বলে একদল আলেম মত দিয়েছেন। এ কারণে পরবর্তীতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কোনো নাতী-নাতনীকে এসব খেলতে অনুমতি দিয়েছেন বলেও কোনো প্রমাণ নেই। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নিজেও বড় হয়ে কোনো বাচ্চাকে এভাবে পুতুল বানিয়ে খেলার অনুমতি দিয়েছেন মর্মে প্রমাণ নেই।

তৃতীয়ত: বাচ্চাদের হাত দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী পুতুল আর জনগণের রক্ত পানি করা উপার্জনের টাকায় নির্মিত লক্ষ-কোটি টাকা দামের মূর্তি কখনোই এক নয়।

চতুর্থত: ইসলামে অপচয় করা হারাম। আর এভাবে মূর্তি-প্রতিমা বানালে ব্যাপক টাকার অপচয় হয়। সময়ের অপচয় তো হয়ই। অন্যদিকে শিশুরা খেলনার পুতুল বানিয়ে খেললে এর জন্য কোনো টাকার অপচয় হয় না।

পঞ্চমত: স্বয়ং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নিজেই এর বিরোধিতা করে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। যেমন-

হাদীছ-১ : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের বাড়িতে ছবিযুক্ত কোনো বস্তুই রাখতেন না। দেখলেই তা ভেঙে চূর্ণ করে দিতেন।[2]

হাদীছ-২ : আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একবার তিনি একটি কুশন খরীদ করলেন, যাতে প্রাণীর ছবি ছিল। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গৃহে প্রবেশ করতে গিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন। ঘরে প্রবেশ করলেন না। আমি তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টি লক্ষ করলাম। তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট তওবা করছি। হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি গুনাহ করেছি? জবাবে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এই কুশন কেন? আমি বললাম, আপনার বসার জন্য ও বালিশ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য এটি কিনেছি। তখন তিনি বললেন এই সমস্ত ছবি যারা তৈরি করেছে, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে ও তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছ, তাতে জীবন দাও। অতঃপর তিনি বললেন, যে গৃহে (প্রাণীর) ছবিসমূহ থাকে, সে গৃহে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।[3]

হাদীছ-৩ : আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য বালিশ বানালাম, যাতে ছবি ছিল এবং দেখতে কুশনের মতো মনে হচ্ছিল। অতঃপর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে দুই দরজার মাঝে দাঁড়িয়ে গেলেন। এ সময় তাঁর চেহারা (রাগে) পরিবর্তিত হয়ে গেল। আমি বললাম, আমার কী দোষ হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তিনি বললেন, এই বালিশ কেন? আমি বললাম, এই বালিশ আপনার জন্য বানিয়েছি, যাতে আপনি এতে শয়ন করতে পারেন। তিনি বললেন, তুমি কি জানো না যে, ওই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না, যে ঘরে ছবি থাকে? আর যে ব্যক্তি ছবি বানায়, তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেওয়া হবে এবং আল্লাহ বলবেন, তুমি যা সৃষ্টি করেছিলে, তাতে জীবন দাও।[4]

হাদীছ-৪ : আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, একবার তিনি ঘরের জানালায় একটি পর্দা টাঙিয়েছিলেন, যাতে প্রাণীর ছবি ছিল। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্দাটিকে ছিঁড়ে ফেললেন। তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সেই কাপড়ের টুকরা দিয়ে কুশন তৈরি করেন, যা ঘরেই থাকত এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে হেলান দিয়ে বসতেন।[5]

হাদীছ-৫ : রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা এক সফর থেকে ঘরে ফেরেন। ওই সময় আমি দরজায় একটি পশমী কাপড়ের পর্দা টাঙিয়েছিলাম, যাতে ডানাওয়ালা ঘোড়ার ছবি ছিল। অতঃপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন এবং আমি পর্দাটিকে সরিয়ে দিলাম। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত পর্দাটিকে টেনে ছিঁড়ে ফেলেন এবং বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের এই নির্দেশ দেননি যে, আমরা পাথর বা ইটকে কাপড় পরিধান করাই। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, অতঃপর আমি ওটা কেটে দুটি বালিশ বানাই ও তাতে খেজুর গাছের খোসা দিয়ে ভর্তি করে দিই। এতে তিনি আমাকে দোষারোপ করেননি।[6]

(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)


* সৈয়দপুর, নীলফামারী।

[1]. বাংলাদেশের সংবিধান (মেট্রো পাবলিকেশন্স, ঢাকা), পৃ. ৯।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৫২।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৬১।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৩২২৪।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৭৯।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/২১০৭।