সওয়াল-জওয়াব



রামাযান ও ছিয়ামের গুরুত্ব ও ফযীলত


প্রশ্ন (১) : রামাযান মাসের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় ১০ দিন নাজাতের। কথাটি কি ঠিক?

হাসানুযযামন
ফরিদপুর সদর।

উত্তর : কথাটি ঠিক নয়। কারণ রামাযান মাসের প্রথম ১০ দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত, মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ এবং একাধিক ছহীহ হাদীছ বিরোধী।  যেমন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘রামাযান মাস আসলে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯)। অন্য আরেকটি হাদীছে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘রামাযানের প্রথম রাত থেকেই একজন আহ্বানকারী বলতে থাকেন, কল্যাণকামী অগ্রসর হও, অকল্যাণকামী পিছু হটো। আর এভাবে রামাযানের প্রতি রাতেই আল্লাহ তাআলা কিছু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন (ইবনু মাজাহ, হা/১৬৪২; তিরমিযী, হা/৬৮২; মিশকাত, হা/১৯৬০)। উক্ত হাদীছদ্বয় ছাড়া অন্যান্য ফযীলত সংক্রান্ত হাদীছেও রামাযান মাসকে এভাবে ভাগ করা হয়নি। সুতরাং পুরো রামাযানই রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস।


প্রশ্ন (২) : ছিয়াম অবস্থায় কেউ মারা গেলে কিয়ামত পর্যন্ত তার আমলনামায় ছিয়ামের নেকী লেখা হবে’-এমন কথার কোনো শারঈ ভিত্তি আছে কি?

-শাহরিয়ার শাকীর
বিরামপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : ‘ছিয়াম অবস্থায় কেউ মারা গেলে কিয়ামত পর্যন্ত ছিয়ামের ছওয়াব পাবে’ মর্মে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। বরং তা মানব রচিত ও ভিত্তিহীন কথা মাত্র।


প্রশ্ন () : অনেকেই বলেন, রামাযান মাসে জাহান্নামের শাস্তি বন্ধ থাকে। একথা কি ঠিক?

-শফিকুল ইসলাম
চাঁদমারী, পাবনা।

উত্তর : ‘রামাযান মাসে জাহান্নামের শাস্তি বন্ধ থাকে’ কথাটি ঠিক নয়। কেননা এখনো পাপীদেরকে জাহান্নামে দেওয়া হয়নি। সেটা হবে বিচারের মাঠে। বরং জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে। আর এটা বলে মহান আল্লাহর এক বিশেষ দয়ার কথা বুঝানো হয়েছে। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মাহে রামাযান শুরু হলে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। অন্য বর্ণনায় আছে, ‘রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৯৯, ৩২৭৭;  ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯; মিশকাত, হা/১৯৫৬)। এর অর্থ হলো- যে সমস্ত গুনাহ মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, তা থেকে তাদের ইচ্ছাকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেওয়া (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৩/২৯২)।


সাহারী প্রসঙ্গ



প্রশ্ন () : মানুষকে সাহারীর সময় জাগানোর জন্য মাইকে গযল গাওয়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, বক্তব্য দেওয়া ও সাইরেন বাজানো যাবে কি?

-কামরুল হাসান
 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : সাহারীর সময় মানুষকে জাগানোর নামে মাইকে গযল গাওয়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, বক্তব্য দেওয়া ও সাইরেন বাজানো ইত্যাদির শারঈ কোনো ভিত্তি নেই। এগুলো সবই বিদআতী কার্যক্রম (ফাতহুল বারী, হা/৬২২-৬২৩-এর ব্যাখ্যা দ্র., ২/১২৩)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে সাহরী ও তাহাজ্জুদের জন্য আযান দেওয়া হতো। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘নিশ্চয় বেলাল গভীর রাতে আযান দেয় অতএব তোমরা খাও ও পান করো যতক্ষণ না উম্মে মাকতূম আযান দেয় (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৪৮)। আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘বেলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহারী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয় যেন তোমাদের মধ্যে তাহাজ্জুদ আদায়কারীগণ ফিরে যায় এবং ঘুমন্তদের জাগিয়ে দেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬২১)। অতএব বিদআতী পন্থা পরিত্যাগ করে সুন্নাতের উপর আমল করতে হবে।


 

ছিয়াম ভঙ্গের কারণ



প্রশ্ন (৫) : ছিয়াম অবস্থায় দিনের বেলা উত্তেজনাবসত মযী নির্গত হলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর : ছিয়াম অবস্থায় দিনের বেলা উত্তেজনাবসত মযী বের হলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে না। কেননা যে সকল কারণে ছিয়াম ভঙ্গ হয় মযী নির্গত হওয়া তার অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং সকল ক্ষেত্রে মযীকে পেশাবের ন্যায় বিধান দেওয়া হয়েছে। সুতরাং পেশাব করলে যেমন ছিয়াম ভঙ্গ হয় না ঠিক তেমনি মযী বের হলেও ছিয়াম ভঙ্গ হবে না (আশ-শারহুল মুমতে’ লি ইবনে উছায়মীন, ৬/৩৭৬; আল-মাজমু লিন-নাবাবী, ৬/৩২৩)। তবে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন সে উত্তেজনা স্বেচ্চায় বা মিলনজনিত কারণে না হয়। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রীর সাথে একত্রে অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করেন। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এসে অনুরূপ জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে নিষেধ করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি যাকে অনুমতি দিয়েছেন সে ছিল বৃদ্ধ এবং যাকে নিষেধ করেছেন সে ছিল যুবক (আবূ দাঊদ, হা/২৩৮৭, সনদ হাসান ছহীহ)। এই হাদীছ প্রমণ করে মযী বের হবে এমন কাজ যুবকদের করা যাবে না।


প্রশ্ন () : ছিয়াম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?

-আবূ বকর ছিদ্দীক
চিচিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : ছিয়াম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে না। কেননা যে সকল কারণে ছিয়াম ভঙ্গ হয় স্বপ্নদোষ তার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাছাড়া এটি মানুষের সাধ্যের বাইরে অনিচ্ছায় হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না’ (আল-বাক্বারা, ২/২৮৬)।


প্রশ্ন () : ছিয়াম অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়া যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : যেসব ইনজেকশন খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় না, সেগুলো ছিয়াম অবস্থায় রোগমুক্তির জন্য গ্রহণ করা যাবে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিয়াম অবস্থায় (রোগমুক্তির জন্য) শিঙ্গা লাগাতেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৩৮; ইরওয়াউল গালীল, হা/৯৩২)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে ছিয়াম অবস্থায় শিঙ্গা লাগাতে নিষেধ করতেন। কিন্তু পরে আবার অনুমতি প্রদান করেছেন (দারাকুত্বনী, হা/৭; বায়হাক্বী-সুনানুল কুবরা, হা/৮০৮৬, সনদ ছহীহ)। তবে যেসব ইনজেকশন খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় বা শরীরে শক্তি জোগায় তা গ্রহণ করলে ছিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।


প্রশ্ন () : ছিয়াম অবস্থায় কাঁচা ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা কিংবা পেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা যাবে কি?

-আক্বীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ছিয়াম অবস্থায় কাঁচা ডাল কিংবা পেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার ছহীহ বুখারীতে অধ্যায় রচনা করে বলেন, ‌‌بَابُ سِوَاكِ الرَّطْبِ وَاليَابِسِ لِلصَّائِمِ ‘ছিয়াম পালনকারীর কাঁচা কিংবা শুকনো ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা সম্পর্কে’। অতঃপর এর স্বপক্ষে তিনি হাদীছ নিয়ে এসেছেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক ওযূর সময় মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম’ (ছহীহ বুখারী, ৩/৩১, ৭২৪০)। এখানে তিনি ছিয়াম পালনকারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি। ইবনু সীরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছিয়াম অবস্থায় কাঁচা ডাল দিয়ে মিসওয়াক করাতে কোনো সমস্যা নেই। তাকে বলা হলো, এর তো স্বাদ আছে? তিনি উত্তরে বললেন, পানিরও তো স্বাদ আছে। আর পানি দিয়ে তুমি কুলি করে থাক (ছহীহ বুখারী, ‘ছিয়াম পালনকারীর গোসল করা’ অনুচ্ছেদ)।


প্রশ্ন (৯) : ছিয়াম অবস্থায় কোনো রোগীকে রক্ত দিলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?

-রুস্তম আলী
রহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : ছিয়াম অবস্থায় রোগীকে রক্ত দেওয়া যায়। এতে ছিয়াম নষ্ট হবে না। কেননা শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া ছিয়াম ভঙ্গের কারণ নয়। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজ্জের ইহরামের অবস্থায় এবং ছিয়াম অবস্থায় শিঙ্গা লাগাতেন (অর্থাৎ শরীরের দূষিত রক্ত ক্ষরণ বিশেষ উপায়ে করাতেন) (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৩৮; মিশকাত, হা/২০০২)। তবে রক্ত দেওয়ার কারণে কারো যদি এতটুকু দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে যে, সে ছিয়াম পূর্ণ করতে পারবে না তাহলে তার জন্য রক্ত দেওয়া উচিত নয়।


প্রশ্ন (১০) : কোনো ব্যক্তি যদি রামাযানের রাত্রিতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে যায় এবং অপবিত্র অবস্থায় সাহারী খেয়ে ছিয়াম রাখে, তাহলে উক্ত ছিয়াম শুদ্ধ হবে কি?

-আব্দুছ ছামাদ
ডাকবাংলা, মেহেরপুর।

উত্তর : হ্যাঁ, উক্ত ছিয়াম শুদ্ধ হবে। কারণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও কখনো কখনো অপবিত্র অবস্থায় ফজর করতেন। অতঃপর ছিয়াম রাখতেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ও উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনুবী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফজর হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং ছিয়াম রাখতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯২৬; তিরমিযী, হা/৭৭৯)।


প্রশ্ন (১১) : ছিয়াম অবস্থায় তরকারির স্বাদ কীভাবে ও কতটুকু নেওয়া যেতে পারে?

-শাহিদা খাতুন
সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : ছিয়াম অবস্থায় তরকারির স্বাদ চাখার সময় যাতে কণ্ঠনালী পর্যন্ত তা না পৌঁছে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে, তাহলে ছিয়াম নষ্ট হবে না। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ঝোল বা কোনো বস্তুর স্বাদ চাখার সময় কণ্ঠনালী পর্যন্ত না পৌঁছলে কোনো ক্ষতি নেই (ইরওয়াউল গালীল, ৪/৮৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঝোল বা কোনো বস্তুর স্বাদ চেখে দেখলে ছিয়াম নষ্ট হবে না (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৯৩৬৯; ইরওয়াউল গালীল, হা/৯৩৭, ৪/৮৫)।


প্রশ্ন (১২) : ওযূ করার সময় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সামান্য পানি গিলে ফেলা হয় তাহলে কি ছিয়াম ভঙ্গ হবে?

-আক্বিমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ছিয়াম অবস্থায় ওযূ বা গোসল করার সময় কুলি করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। লাকীত ইবনু সাবিরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ভালোভাবে ওযূ কর ও আঙুলের ফাঁকা স্থানে খিলাল করো, ছিয়াম পালনকারী না হলে নাকে পূর্ণমাত্রায় পানি প্রবেশ করাও’ (আবূ দাঊদ, হা/১৪২; মিশকাত, হা/৪০২)। তবে কোনো কারণবসত যদি অনিচ্ছায় নাক বা মুখের মাধ্যমে সামান্য পানি চলে যায় তাহলেও তাতে ছিয়াম হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তবে যে কাজ তোমরা ইচ্ছাকৃত করো (ইচ্ছাকৃত হলে গুনাহ এবং শাস্তি হবে)’ (আল-আহযাব, ৩৩/৫)।


প্রশ্ন (১৩) : ছিয়াম পালনকারীর নাকে, কানে ও চোখে ড্রপ দিলে ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?

-আক্বিমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : না, এসব কারণে ছিয়াম ভঙ্গ হবে না (ফিক্বহুস সুন্নাহ, পৃ. ৫৯৩)।


ইফতার



প্রশ্ন (১৪) : কেউ যদি বাংলাদেশে ছিয়াম ধরে এবং অন্য দেশে পৌঁছে দেখে যে তাদের ইফতারীর সময় হয়েছে তাহলে তিনি কি তাদের সময়েই ইফতার করবেন, না-কি বাংলাদেশ সময়ে ইফতার করবেন?

-আকরাম
 শেরপুর, বগুড়া।

উত্তর : যে দেশে ইফতার করবে সে দেশের সময় অনুযায়ী ইফতার করতে হবে এবং তাদের সাথে করতে হবে। কেননা সূর্যাস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই ছিয়াম পালনকারীকে ইফতার করতে হবে। তিনি যেখানেই অবস্থান করুক না কেন। এজন্য নিজ দেশের সময়ের অপেক্ষা করা যাবে না। উমার ইবনু খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যখন ওদিক (পূর্ব) হতে রাতের আগমন ঘটে; আর এদিক (পশ্চিম) দিক হতে দিন প্রস্থান করে এবং সূর্য অস্ত যায়, তখন ছিয়াম পালনকারী ইফতার করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১১০০; মুসনাদে আহমাদ, ৩৩৮; মিশকাত, হা/১৯৮৫)। তবে ঈদ করতে গিয়ে যদি ছিয়াম ২৯টির কম হয় তাহলে পরে কোনো সময় ক্বাযা আদায় করে নিতে হবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ, পৃ. ৫৮৮)।


প্রশ্ন (১৫) : অনেকেই দু‘আ কবুলের আশায় ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে বেশি বেশি দু‘আ করে থাকেন। কেননা মহান আল্লাহ ঐ সময়ে বান্দার দু‘আ কবুল করে থাকেন। উক্ত দাবী কি সঠিক?

-আহমাদ
কাটাখালী, রাজশাহী।

উত্তর : ‘ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে দু‘আ কবুল হয়’ মর্মে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ (যঈফ ইবনু মাজাহ, হা/১৭৫৩)। বরং রামাযান মাসের পুরো সময়টাই দু‘আ কবুলের সময়। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘রামাযান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্ট জিনদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং এর দরজাও তখন আর খোলা হয় না, খুলে দেওয়া হয় জান্নাতের দরজাগুলো এবং এর একটি দরজাও তখন আর বন্ধ করা হয় না। (এ মাসে) একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণ অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। আর বহু লোককে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এ মাসে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে’ (তিরমিযী, হা/৬৮২, ইবনু মাজাহ, হা/১৬৪২; মিশকাত, হা/১৯৬০)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘রামযান মাস উপস্থিত হলে রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৯৯, ৩২৭৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯; মিশকাত, হা/১৯৫৬)। তাই শুধু ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে নয়, বরং রামাযান মাসের যে কোনো সময় দু‘আ করলে আল্লাহ তা কবুল করবেন, ইনশা-আল্লাহ।


প্রশ্ন (১৬) : রামাযান মাসে ইফতারির পূর্বে সম্মিলিতভাবে বা একাকী হাত তুলে দুআ করা যাবে কি?

-সাবিরুল বিন নাজমুল
মিরপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারা দু‘আ করার বিষয়টি প্রমাণিত হলেও ইফতারির পূর্বে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু‘আ করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং তা সুস্পষ্ট বিদআত বা সমাজে প্রচলিত নব আবিষ্কৃত আমল। দ্বিতীয়ত নির্দিষ্টভাবে ইফতারির সময় দু‘আ কবুল হয় মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (যঈফ ইবনু মাজাহ, হা/১৭৫৩; মিশকাত, হা/২২৪৯)। ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে দু‘আ কবুল হয়, এ কথার বিশ্বাস আল্লাহর ক্ষমাকে সংকীর্ণ করে দেয়। কেননা রামাযানের ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তি ছিয়ামরত অবস্থায় যে কোনো মুহূর্তে দু‘আ করলে আল্লাহ তার দু‘আ প্রতিটি মুহূর্তে কবুল করে থাকেন (ছহীহ ইবনু মাজাহ, হা/১৭৫২)। সুতরাং কেবল ইফতারির সময়ই নয়, বরং ছিয়াম অবস্থায় যে কোনো সময় দু‘আ করার বিষয়টিই প্রমাণিত হয়।


প্রশ্ন (১৭) : একটি বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় থাকি, এখন আযানের সাথে সাথে ইফতার করব, না-কি দেরি করে ইফতার করব?

-হাফিজুর রহমান
সিঙ্গাপুর।

উত্তর : আযান যখনই হোক সেটা ধর্তব্য নয়। বরং সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করাই কর্তব্য। সুতরাং সূর্যাস্তের সাথে সাথে যদি আযান হয় তাহলে ইফতার করবে। দেরি করা যাবে না। কারণ দেরি করে ইফতার করা ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানদের কাজ। তাছাড়া সূর্য ডোবার ব্যাপারে মানুষ যখন যেখানে থাকবে, তখন সেখানকার সময়ই তার জন্য প্রযোজ্য হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ আওফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক সফরে আমরা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। আর তিনি ছিলেন ছওমের অবস্থায়। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি দলের কাউকে বললেন, হে অমুক! উঠো। আমাদের জন্য ছাতুগুলো আনো। সে বলল, সন্ধ্যা হলে ভালো হতো। তিনি বললেন, নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতুগুলো প্রস্তুত করো। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সন্ধ্যা হলে ভালো হতো। তিনি বললেন, নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতুগুলো প্রস্তুত করো। সে বলল, দিন তো এখনো রয়ে গেছে। তিনি বললেন, তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতুগুলো প্রস্তুত করো। অতঃপর সে নামল এবং তাদের জন্য ছাতুগুলো আনল। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পান করলেন। অতঃপর বললেন, ‘যখন রাত্রি এইদিক তথা পূর্বদিক হতে আগমন করবে আর দিন এইদিক তথা পশ্চিমদিক হতে প্রস্থান করবে। আর সূর্য অস্ত যাবে, তখনই ছিয়াম পালনকারী ইফতার করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫৫-৫৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১০১)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, একটি বহুতলবিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের যে যে তলাতেই থাকুক তথাকার স্থানীয় সময়ানুযায়ী ইফতার করবে।


প্রশ্ন (১৮) : আমার পিতা-মাতা মারা গেছেন। তাদের নামে ইফতার মাহফিল করা যাবে কি?

-কবীর
বিরামপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : মৃত পিতা-মাতার নামে আমাদের সমাজে যে ইফতার মাহফিল ও ইফতারির ব্যবস্থা করার প্রথা চালু আছে তা শরীআতসম্মত নয়। বিধায় তা করা যাবে না। বরং মৃত পিতা-মাতার নামে টাকা-পয়সা দান করতে হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। আমার ধারণা যে, তিনি কথা বলার সুযোগ পেলে দান করে যেতেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান করি, তবে কি তিনি নেকী পাবেন? নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৪; মিশকাত, হা/১৯৫০)।


ছিয়ামের হুকুম



প্রশ্ন (১৯) : রাতে ঘুম ভাঙেনি এবং ছিয়াম পালনেরও নিয়্যত করতে পারেনি এ অবস্থায় সূর্য উঠে গেছে। এমতাবস্থায় করণীয় কী?

-আসাদুল্লাহ
শার্শা, যশোর।

উত্তর : এমতাবস্থায় ছিয়াম থাকতে হবে। কারণ দিনেও ছিয়ামের নিয়্যত করা যায়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে এসে বললেন, তোমার নিকট (খাবার) কিছু আছে কি? আমি বললাম না, কিছুই নেই। তিনি বললেন, তাহলে আমি (আজ) ছিয়াম রাখলাম (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৪; তিরমিযী, হা/৭৩৩; নাসাঈ, হা/২৩২৭; আবূ দাঊদ, হা/২৪৫৫; মিশকাত, হা/২০৭৬)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, না খেয়েও ছিয়াম রাখা যায়।


প্রশ্ন (২০) : অসুস্থতার কারণে গত বছর সব ছিয়াম রাখতে পারিনি। বর্তমানেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। এখন করণীয় কী?

-মনিরুল ইসলাম
 পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : ছিয়াম রাখা প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির উপর ফরয। কিন্তু রামাযান মাসে কেউ অসুস্থ থাকলে অন্য কোনো সময়ে তা ক্বাযা করে নিতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ কিংবা সফরে রয়েছে, সে যেন অন্য সময়ে তা ক্বাযা করে নেয়’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৪)। কিন্তু রোগ ভালো হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকলে ফক্বীর-মিসকীনদেরকে প্রতিদিন সমান অর্ধ ছা‘ খাবার ফিদইয়াস্বরূপ দিতে হবে (আল-বাক্বারা, ২/১৮৪)।


প্রশ্ন (২১) : সফর অবস্থায় ছিয়াম পালনের বিধান কী? মুসাফির যদি ছিয়াম রাখে তাহলে কি কোনো ক্ষতি আছে?

-আক্বিমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : সফর অবস্থায় ছিয়াম রাখতে পারে। আবার ইচ্ছা করলে ছাড়তেও পারে। হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! সফরের অবস্থায় ছিয়াম পালনের ক্ষমতা আমার রয়েছে। এ সময় ছিয়াম পালন করলে আমার কোনো গুনাহ হবে কি? তিনি বললেন, এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এক বিশেষ অবকাশ, যে তা গ্রহণ করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর যদি কেউ ছিয়াম পালন করতে চায়, তবে তার কোনো গুনাহ হবে না। অপর বর্ণনায় তিনি আরো বলেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে ছওম পালন করো, আর যদি ইচ্ছা হয় তবে ছওম ছেড়ে দাও (ছহীহ মুসলিম, হা/১১২১)।


প্রশ্ন (২২) : গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের ছিয়ামের হুকুম কী?

-সিয়াম
 গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

উত্তর : গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলারা ছিয়াম রাখতে সক্ষম না হলে পরবর্তীতে তাদেরকে তার ক্বাযা আদায় করতে হবে। কেননা মহান আল্লাহ তাদেরকে অন্য সময় আদায় করার জন্য আদেশ করেছেন (আল-বাক্বারা, ২/১৮৫; ফিক্বহুস সুন্নাহ, পৃ. ৫৯০)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা মুসাফিরকে ছিয়াম পালনের ব্যাপারে ছাড় দিয়েছেন এবং ছালাত অর্ধেক করে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও বাচ্চাকে দুধপানকারিণী মহিলাকে ছিয়াম পালন করার ব্যাপারে ছাড় দিয়েছেন’ (নাসাঈ, হা/২২৭৪, ২২৭৫)। তবে ক্বাযা আদায় করতে সক্ষম না হলে ফিদইয়া দিবে এবং প্রতিদিন সমান ফিদইয়াস্বরূপ একজন মিসকীনকে সোয়া কেজি চাল দিবে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, গর্ভবতী ও দুগ্ধ প্রদানকারিণী মহিলার জন্যে ফিদইয়া প্রদানের বিধান বহাল রয়েছে (আবূ দাঊদ, হা/২৩১৭)।


ক্বাযা ছিয়াম



প্রশ্ন (২৩) : বর্তমানে যখন রামাযান মাস হচ্ছে, তখন ধান কাটার পূর্ণ মৌসুম। বিধায় অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ছিয়াম রাখা সম্ভব না হলে পরবর্তীতে তার ক্বাযা আদায় করা যাবে কি?

-রাফিউল ইসলাম
নিতপুর, নওগাঁ।

উত্তর :  যেসব কারণে ছিয়াম ছেড়ে দেওয়া বা ক্বাযা করা যায় তা হচ্ছে, ১. সফর অবস্থায় মুসাফির ব্যক্তি ২. বিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাযুক্ত ব্যক্তি ৩. ঐ গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারিণী নারী যিনি ছিয়াম রাখলে সন্তান বা তার নিজ জীবনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে ৪. হায়েয ও নেফাস হয়েছে এমন নারী (আল-বাক্বারা, ২/১৮৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৬৭)। এই শ্রেণির ব্যক্তিরা ব্যতীত কারো জন্য ছিয়াম ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কুরআন-হাদীছ হতে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে কোনো দুর্ঘটনাজনিত কারণে ক্ষুধায় মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে এমন পরিস্থিতিতে ছিয়াম ছেড়ে দিতে পারে  (আল-মায়েদা, ৫/৩)।


প্রশ্ন (২৪) : স্বামী অসুস্থতার কারণে রামাযান মাসে ছিয়াম রাখতে পারেনি। এমতাবস্থায় মারা গেছে। স্ত্রী কি তার পক্ষ থেকে ছিয়াম আদায় করতে পারে?

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম
পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : না, এমতাবস্থায় স্ত্রীকে ছিয়াম রাখতে হবে না। বরং তার পক্ষ থেকে ছিয়ামের কাফফারা দিবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা সামর্থ্যবান (কিন্তু  ছিয়াম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদইয়া হিসাবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৪)। উল্লেখ্য যে, ছিয়ামের ক্বাযা যিম্মায় রেখে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে ছিয়াম আদায় করবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি নযর তথা মানতের ছিয়ামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (আবূ দাঊদ, হা/২৪০০)।


তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ



প্রশ্ন (২৫) : কথিত আছে যে, উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ২০ রাকআত তারাবীহ চালু করেছিলেন এবং মক্কা ও মদীনায় এখনোও তা চালু আছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন। 

-নাহার
লালপুর, নাটোর।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনে কখনো ২০ রাকআত তারাবীহ পড়েননি এবং কাউকে পড়ার নির্দেশও দেননি। অনুরূপ উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)ও ২০ রাকআত তারাবীহ পড়েননি এবং কাউকে পড়ার নির্দেশও দেননি বরং ১১ রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুওয়াত্ত্বা মালেক; হা/৩৮০; মিশকাত, হা/১৩০২)। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যামানায় ২০ রাকআত তারাবীহ পড়া হতো বলে যে বর্ণনা এসেছে, তা নিতান্তই যঈফ এবং ২০ রাকআত তারাবীহ সম্পর্কে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ‘মারফূ’ সূত্রে যে বর্ণনা এসেছে তা মাওযূ বা জাল (আলবানী, হাশিয়া মিশকাত, হা/১৩০২, ১/৪০৮; ইরওয়া, ২/১৯৩, হা/৪৪৬ ও ৪৪৫-এর ব্যাখ্যা দ্র.)। এতদ্ব্যতীত ২০ রাকআত তারাবীহ সম্পর্কে আরো যে সমস্ত বর্ণনা এসেছে, তার সবগুলোই জাল কিংবা যঈফ (মিরআত, ২/২২৯, ২৩৩, হা/১৩০৮ ও ১৩১২)। উল্লেখ্য যে, সাঊদী আরবের প্রায় সব মসজিদেই ১১ রাকআত তারাবীহ পড়া হয়। মক্কা ও মদীনায় দুই ইমামের মাধ্যমে ২০ রাকআত পড়ানো হয়। এটা সরকারি ব্যাপার হতে পারে। মক্কা ও মদীনার আমল কোনো শারঈ বিধান নয়।


প্রশ্ন (২৬) : তাহাজ্জুদ ছালাত আদায়কারীদের জন্য রামাযান মাসে কোনটি উত্তম, তারাবীহ না-কি তাহাজ্জুদ?

-আব্দুল কাদের
বিরল, দিনাজপুর।

উত্তর : তাহাজ্জুদ ছালাত আদায়কারীদের জন্য রামাযান মাসে তাহাজ্জুদ পড়াই উত্তম। যায়েদ ইবনু ছাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনে, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘হে লোক সকল! তোমার নিজেদের বাড়িতে ছালাত আদায় করো। এজন্য ফরয ছালাত ব্যতীত যে ছালাত ঘরে পড়া হয় তা উত্তম ছালাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৮১)।


প্রশ্ন (২৭) : রামাযান মাসে আট রাকআত তারাবীহ ও এক রাকআত বিতর পড়া যাবে কি?

-তামান্না তাবাসসুম
পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : হ্যাঁ, পড়া যাবে। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘রাতের ছালাত দুই দুই রাকআত করে। অতঃপর যখন তুমি ছালাত শেষ করতে চাইবে, তখন এক রাকআত আদায় করে নিবে। তা তোমার পূর্ববর্তী ছালাতকে বিতর করে দিবে (ছহীহ বুখারী, হা/৯৯৩)। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাতের (নফল) ছালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘রাতের ছালাত দুই দুই রাকআত করে আদায় করবে। তবে ভোর হয়ে আসছে দেখলে এক রাকআত বিতর আদায় করে নিবে  (ছহীহ বুখারী, হা/১১৩৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৪৯)। তবে, আট রাকআত তারাবীহ ও তিন রাকআত বিতর পড়াই বেশি ভালো (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৩৮)।


প্রশ্ন (২৮) : এশার ছালাতের পরপরই তারাবীহর ছালাত শুরু করা যাবে কি?

-আব্দুছ ছাত্তার
মহব্বতপুর, রাজশাহী।

উত্তর : রাতের ছালাত বা তাহাজ্জুদ ছালাতের সময় শুরু হয় এশার ছালাতের পরেই। অতএব কোনো মসজিদে এশার ছালাত আদায় হয়ে গেলে রাতের ছালাত তথা তাহাজ্জুদ বা তারাবীহর ছালাত শুরু করতে পারে। তাতে কোনো বাধা-নিষেধ নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে তিন দিন জামাআতে তারাবীহর ছালাত আদায় করেছিলেন, তার শুরুটা ছিল এশার ছালাতের পর থেকে (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩৫০, ৬/২৬৭, সনদ ছহীহ)। জাবের ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমাদের কেউ যদি শেষ রাতে জাগতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে, তাহলে বিতর ছালাত আদায় করে ঘুমাবে। আর যার শেষ রাতে জাগতে পারার আত্মবিশ্বাস বা নিশ্চয়তা আছে, সে শেষ রাতে বিতর আদায় করবে। কেননা শেষ রাতের কুরআন পাঠে মালায়িকাহ উপস্থিত থাকে। আর এটা সর্বাপেক্ষা উত্তমও বটে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৫)।


 প্রশ্ন (২৯) : তারাবীহর ছালাতের প্রত্যেক শুরুর রাকআতে ছানা পড়তে হবে কি

-আব্দুর রহমান
মনিরামপুর, যশোর।

উত্তর : জানাযার ছালাত ব্যতীত সকল ছালাতে তাকবীরে তাহরীমার পর ছানা পড়া সুন্নাত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ছালাত শুরু করতেন তখন বলতেন, ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা’। অর্থ : আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার প্রশংসা করছি। আপনার নাম বরকতময়। আপনার মর্যাদা সমুন্নত। আপনি ছাড়া কোনো প্রকৃত উপাস্য নাই (আবূ দাঊদ, হা/৭৭৬; নাসাঈ, হা/৮৯৯; মিশকাত, হা/৮১৫)। কাজেই তারাবীহর ছালাতের প্রত্যেক শুরুর রাকআতে ছানা পড়তে হবে (ফাতাওয়া ইসলামীয়্যাহ, ১/৪৪৯)।


প্রশ্ন (৩০) : বাড়িতে মহিলাদের তারাবীহর জামাআতে পুরুষ ব্যক্তি ইমামতি করতে পারবে কি?

-সাবিরুল বিন নাজমুল
মিরপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : মহিলারা বাড়িতে হোক চাই মসজিদে হোক তারাবীহসহ যেকোনো ছালাত পুরুষ ব্যক্তির ইমামতিতে আদায় করতে পারে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও জনৈক ইয়াতীম আমাদের ঘরে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছালাত আদায় করছিলাম। আর উম্মু সুলাইম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের পেছনে ছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫৯; মিশকাত, হা/১১০৮)। উল্লেখ্য যে, মহিলাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত মসজিদের চেয়ে বাড়িতে আদায় করাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিয়ো না। আর তাদের বাড়ি তাদের জন্য উত্তম’ (আবুদাঊদ, হা/৫৬৭; মিশকাত, হা/১০৬২)।


প্রশ্ন (৩১) : রামাযান মাসে মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম করা যাবে কি?

-নাজমা খাতুন
শেরপুর, বগুড়া।

উত্তর : রামাযান মাসে কিংবা অন্য যেকোনো সময়ে মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযামদের থেকে কোনো প্রমাণ শরীআতে নেই। অতএব মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন তেলাওয়াত করে তার কাছে নেকী পৌঁছানোর বিষয়টি স্পষ্ট বিদআত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)।

তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করা ও দান করা যায়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। আমার ধারণা যে, তিনি কথা বলার সুযোগ পেলে দান করে যেতেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান করি, তবে কি তিনি নেকী পাবেন? নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৪; মিশকাত, হা/১৯৫০)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষ মারা গেলে তার আমল (আমলের ছওয়াব) বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি উৎস থেকে সে ছওয়াব পেতে থাকে। ১. চলমান ছাদাক্বা, ২. উপকারী বিদ্যা, ৩. নেক সন্তানের দু‘আ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৩১; আবূ দাঊদ, হা/২৮৮০; তিরমিযী, হা/১৩৭৬)।


লায়লাতুল ক্বদর



প্রশ্ন (৩২) : নির্ধারিতভাবে ২৭শে রামাযানের রাত্রিতে লায়লাতুল ক্বদর উদযাপন করা যাবে কি?

-মাহমূদ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : প্রথমত, আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্যের মাধ্যমে এবং খানা-পিনার মাধ্যমে লায়লাতুল ক্বদর উদযাপন করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ২৭শে রামাযানের রাত্রিকে নির্ধারণ করে ইবাদত করা যাবে না। কেননা রামাযানের শেষের দশকের ব্যাপারে যেমন হাদীছ এসেছে তেমনি শেষ পাঁচ বিজোড় রাতের ব্যাপারেও হাদীছ এসেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধিক হাদীছে বলেছেন, اِلْتَمِسُوْهَا فِى الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِىْ كُلِّ وِتْرٍ  ‘তোমরা রামাযানের শেষ দশকের প্রত্যেক বেজোড় রাত্রিতে ক্বদর রাত্রি তালাশ করো’ (তিরমিযী, হা/৭৯২, সনদ ছহীহ)। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ছাহাবায়ে কেরাম কোনো রাতকে নির্ধারণ করে লায়লাতুল ক্বদর উদযাপন করেননি। বরং লায়লাতুল ক্বদরকে খাছ করে ইবাদত করা আল্লাহর রহমতকে খাটো করার শামিল। উল্লেখ্য, ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত যে হাদীছে ২৭ রামাযানের কথা এসেছে, তা একজন ছাহাবীর দাবী ও বিশ্লেষণ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৬, ১১৬৯; মিশকাত, হা/২০৮৮)। তাই রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত একাধিক স্পষ্ট হাদীছের প্রতি আমল করা কর্তব্য, যেগুলোতে কেবল বেজোড় রাত্রির কথা এসেছে।


প্রশ্ন (৩৩) : লায়লাতুল ক্বদরে সারা রাত জেগে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-শহিদুল ইসলাম
চকবাজার, ঢাকা।

উত্তর : রাতের ছালাত ১১ রাকআতের বেশি আদায় করা যাবে না (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৭)। এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দীর্ঘ ক্বিরাআতে ছালাত আদায় এবং তেলাওয়াত ও তাসবীহ-তাহলীলের মাধ্যমে সারা রাত (সাহারী পর্যন্ত) ছালাত আদায় করা যায়। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করতাম। তিনি এ মাসের (প্রথম দিকের অধিকাংশ দিনই) আমাদেরকে নিয়ে (তারাবীহ) ছালাত আদায় করেননি। অতঃপর রামাযানের সাত দিন বাকী থাকতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ছালাত আদায় করলেন। তিনি পরবর্তী রাতে আমাদেরকে নিয়ে (মসজিদে) ছালাত আদায় করলেন না। অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে ছালাতে দাঁড়িয়ে অর্ধেক রাত অতিবাহিত করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! যদি আপনি পুরো রাত আমাদেরকে নিয়ে ছালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেন, কোনো ব্যক্তি ইমামের সাথে (এশার) ছালাত আদায় করে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে পুরো রাতের ছালাত আদায়কারী হিসাবে গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, অতঃপর চতুর্থ রাতে তিনি (মসজিদে) ছালাত আদায় করেননি। যখন তৃতীয় রাত এলো তিনি তার পরিবার-পরিজন, স্ত্রী ও অন্য লোকদের একত্রিত করলেন এবং আমাদেরকে নিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ ছালাত আদায় করলেন যে, আমরা ‘ফালাহ’ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করলাম। জুবাইর ইবনু নুফাইর বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘ফালাহ’ কী? তিনি বললেন, সাহারী খাওয়া। অতঃপর তিনি এ মাসের অবশিষ্ট রাতে আমাদেরকে নিয়ে ছালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াননি (আবূ দাঊদ, হা/১৩৭৫)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, রামাযান মাসে সারা রাত ইবাদত করা যায়। কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীছ অনুরূপই প্রমাণ করে। যেখানে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রামাযানের রাতের ছালাত আদায়ের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি রামাযান মাসে এবং রামাযানের বাইরে ১১ রাকআতের বেশি ছালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে (২+২) চার রাকআত পড়তেন। তুমি (আবূ সালামা) তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি (২+২) চার রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি তিন রাকআত (বিতর) পড়তেন (ছহীহ বুখারী হা/২০১৩; ছহীহ মুসলিম হা/৭১৮; ফাতহুল বারী, ৪/৩১৮)।


প্রশ্ন (৩৪) : পশ্চিমের দেশগুলোতে আগে ও পূর্বের দেশগুলোতে পরে এমনভাবে চাঁদ উঠে যে, তাতে উভয় অঞ্চলে রামাযানের মাঝে দু-একদিন আগে-পিছে থাকে। এমতাবস্থায় উভয় অঞ্চলে একই রাত্রিতে কীভাবে লায়লাতুল ক্বদর পাওয়া সম্ভব?

-মুহাম্মাদ আফজাল
চিরির বন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : ক্বদরের রাত্রিটি পৃথিবীর যখন যে স্থান দিয়ে চলে তখন সেখানেই ‘লায়লাতুল ক্বদর’ ঘটে। এটিকে নিজের হিসাবে রাখা ঠিক নয়। কেননা মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির যেমন সীমা রয়েছে তেমনি মানুষের চিন্তাশক্তির সীমা রয়েছে। আর গায়েবের এই বিষয়গুলো মানুষের চিন্তাশক্তির বাইরে। এটি মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই পরিচালনা করেন। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লায়লাতুল ক্বদর রামাযানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিগুলোতে অন্বেষণ করতে বলেছেন। তাছাড়া কোন তারিখে লায়লাতুল ক্বদর হবে সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দিষ্ট করে কিছু বলে যাননি। বরং তিনি একাধিক হাদীছে বলেছেন, ‘তোমরা রামাযানের শেষ দশকের প্রত্যেক বেজোড় রাত্রিতে ক্বদর রাত্রি তালাশ করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০১৭; মিশকাত, হা/২০৮৩)। সুতরাং এই শেষ দশকে অন্বেষণ করলেই আশা করা যায় লায়লাতুল ক্বদর পেয়ে যাবে। আর মহান আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।


তিকাফ



প্রশ্ন (৩৫) : তিকাফকারী যে মসজিদে আছেন তিনি কি অন্য মসজিদে গিয়ে তারাবীহর ছালাত পড়াতে পারেন?

-কামালউদ্দীন
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : ই‘তিকাফকারী অন্য মসজিদে গিয়ে কোনো ছালাতের ইমামতি করতে পারবে না। কেননা ই‘তিকাফ অবস্থায় পেশাব-পায়খানা ও জরুরী কাজ ছাড়া মসজিদ হতে বের হওয়া নিষেধ। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ই‘তিকাফকারীর জন্য সুন্নাত হলো, সে কোনো রোগী দেখতে যাবে না, জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না, তার সাথে সহবাস করবে না এবং অধিক প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবে না, ছিয়াম না রেখে ই‘তিকাফ করবে না এবং জামে মসজিদে ই‘তিকাফ করবে (আবূদাঊদ, হা/২৪৭৩, সনদ হাসান ছহীহ; মিশকাত, হা/২১০৬)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফ অবস্থায় পারিবারিক প্রয়োজনে স্ত্রীদের নিকট যেতেন না। বরং স্ত্রীরাই তার নিকট আসতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৮)।


প্রশ্ন (৩৬) : তিকাফ চলাকালীন হায়েয শুরু হলে করণীয় কী?

-উম্মে আব্দুল্লাহ
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : এমতাবস্থায় ই‘তিকাফসহ ছালাত, ছিয়াম সবকিছুই ছেড়ে দিবে এবং পরবর্তীতে শুধু অবশিষ্ট ছিয়ামগুলোর ক্বাযা আদায় করবে। জনৈক মহিলা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা ঋতুবতী হলে নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ছিয়ামের ক্বাযা আদায়ের আদেশ করতেন। কিন্তু ছালাতের ক্বাযা আদায়ের আদেশ করেননি (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩৫; আবূ দাঊদ, হা/২৬৩; ইরওয়াউল গালীল, হা/২০০; মিশকাত, হা/২০৩২)।


প্রশ্ন (৩৭) :তিকাফে বসার সময় কখন? মহিলারা কি বাড়িতে তিকাফ করতে পারে?

-মাহমূদা খাতুন
কুশখালী, সাতক্ষীরা।

উত্তর : ২০ রামাযান অতিবাহিত হওয়ার পর মাগরিবের পর ই‘তিকাফে প্রবেশ করবে। কারণ শেষ দশক আরম্ভ হয় ২০ রামাযানের সূর্য ডুবার পর হতে (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭২; ফাতাওয়া ইবনু উছায়মীন, ২০/১২০)। আর ২১ তারিখ ফজর পর হতে ই‘তিকাফকারী সম্পূর্ণ একাকী ইবাদতে মশগূল থাকবে (ছহীহ মুসলিম, মিশকাত, হা/২১০৪; ফাতাওয়া ইবনু উছায়মীন, ২০/১৭০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)।

মহিলারা বাড়িতে ই‘তিকাফ করতে পারবে না। বরং মহিলা-পুরুষ সবাইকেই মসজিদে ই’তিকাফ করতে হবে (আল-বাক্বারা, ২/১৮৭)। উল্লেখ্য যে, মহিলারা মসজিদে ই’তিকাফ করতে চাইলে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি থাকতে হবে এবং মসজিদে পর্দার ব্যবস্থা ও ফিতনার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করলেন, তারপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭২; মিশকাত, হা/২০৯৭)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, মহিলারা ই‘তিকাফ করতে চাইলে জুমআ মসজিদেই করবে। আর যদি মসজিদে করা সম্ভব না হয় তাহলে ই‘তিকাফ করতে হবে না।


ফিতরা ও যাকাত



প্রশ্ন (৩৮) : আমাদের সমাজে ঈদের পূর্বের দিন সন্ধ্যায় ফিতরার চাল হক্বদারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। এভাবে ফিতরার চাল ঈদের ছালাতের পূর্বে বণ্টন করা যাবে কি?

-রিয়াযুল ইসলাম
মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : ছাদাক্বাতুল ফিতর ঈদের পূর্বে জমা করতে হবে এবং ঈদের ছালাতের পরে তা বণ্টন করতে হবে। এটাই সুন্নাতী ত্বরীক্বা (বিস্তারিত দ্র. ফাৎহুল বারী, হা/১৫১১ ‘যাকাত’ অধ্যায়, ৭৭ অনুচ্ছেদ, ৩/৪৩৯-৪০)। ছহীহ বুখারীতে নাফে‘-এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  হতে ঈদের ছালাতের পূর্বে ছাদাকাতুল ফিতর আদায় করার কথা এসেছে (ছহীহ বুখারী, হা/১৫১১ ‘যাকাত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ৭৭)। কিন্তু পরবর্তী অনুচ্ছেদে নাফে‘ (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  হতে ছাদাক্বাতুল ফিতর সংক্রান্ত আরেকটি হাদীছ বর্ণনার পর বলেন, وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِيْهَا الَّذِيْنَ يَقْبِلُوْنَهَا ‘ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  ছাদাক্বাতুল ফিতর জমাকারীদের নিকট ফিতরা প্রদান করতেন’ (ঐ, হা/১৫১২; ইবনু হাজার আসক্বালানী, ফাতহুল বারী, ৩/৪৭৯)। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, كَانُوْا يُعْطُوْنَ لِلْجَمْعِ لاَ لِلْفُقَرَاءِ ‘তাঁরা জমা করার জন্য দিতেন, ফক্বীরদের জন্য নয়’। ছহীহ ইবনু খুযায়মাতে আব্দুল ওয়ারেছের সূত্রে আইয়ূব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  ছাদাক্বাতুল ফিতর কখন প্রদান করতেন? তিনি বললেন, আদায়কারী বসলে। তিনি আবার বললেন, আদায়কারী কখন বসতেন? তিনি বললেন, ঈদের ছালাতের একদিন বা দু’দিন পূর্বে (ফাতহুল বারী, ৩/৪৮০)। ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) নাফে‘ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, أَنَّ عَبْدَ اللهِ ابْنِ عُمَرَ كَانَ يَبْعَثُ بِزَكَاةِ الْفِطْرِ إِلَى الَّذِيْ تُجْمَعُ عِنْدَهُ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةٍ ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  ঈদুল ফিতরের দু’দিন বা তিন দিন পূর্বে যাদের নিকট ছাদাক্বাতুল ফিতর জমা করা হয় তাদের নিকট ফিতরা প্রেরণ করতেন’ (মুওয়াত্ত্বা মালেক, ১/২৮৫)। ‘যাকাত’ অধ্যায় ‘যাকাতুল ফিতর প্রেরণ’ অনুচ্ছেদ)। তেমনি আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, وَكَّلَنِيْ رَسُوْلُ اللهِ بِحِفْظِ زَكَاةِ رَمَضَانَ ‘রাসূলুল্লাহ আমাকে রামাযানের যাকাত রক্ষার বা হেফাযতের দায়িত্ব প্রদান করেন’ (ফাতহুল বারী, ৩/৪৮০। যা দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি জমাকৃত ছাদাক্বাতুল ফিতর পাহারা দিচ্ছিলেন। সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, ঈদের পূর্বে ছাদাক্বাতুল ফিতর জমা করা সুন্নাত। তাছাড়া ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ঈদের ছালাতের পূর্বে ছাদাক্বাতুল ফিতর বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তা ছালাতের পূর্বে বের করতাম এবং রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছালাত শেষে তা বণ্টন করতেন’ (ইরওয়াউল গালীল, ৩/৩৩২-৩৩)। উল্লেখ্য যে, ঈদের ছালাতের পূর্বে ফিতরা বণ্টনের যে বর্ণনাগুলো এসেছে তা যঈফ (ইরওয়াউল গালীল, হা/৮৪৪-৮৪৫, ৩/৩৩২-৩৩৪)।


প্রশ্ন (৩৯) : আমি বিদেশে থাকি। এমতাবস্থায় দেশে যাকাতুল ফিতর আদায় করলে কী পরিমাণ আদায় করতে হবে?

-হাফিজুর রহমান
সিঙ্গাপুর প্রবাসী।

উত্তর : প্রবাসী অবস্থায় দেশে ফিতরা আদায় করতে চাইলে এবং নির্ধারিত সময় ফিতরা আদায় করা সম্ভব হলে স্থানীয় খাদ্য-দ্রব্য বা শস্য (চাল, গম, খেজুর ইত্যাদি) এক ছা‘ বা আড়াই কেজি বা এর কাছাকাছি পরিমাণ আদায় করে দিবে। কেননা এটাই রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর আদেশ। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমরা এক ছা‘ শস্য ফিতরা আদায় করবো, যা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে আদায় করতাম (ইবনু মাজাহ, হা/১৮২৯)।


প্রশ্ন (৪০) : টাকা দিয়ে ফিতরা দেওয়া যাবে কি?

আহমাদ
নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে না। বরং খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা আদায় করতে হবে। কেননা (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মুদ্রার প্রচলন ছিল। তবুও তিনি ফিতরা হিসাবে মুদ্রা প্রদানের কথা বলেননি বরং খাদ্যশস্যের কথা বলেছেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমরা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে ঈদুল ফিতরের পূর্বে এক ছা‘ খাদ্য ফিতরা দিতাম। তখন আমাদের খাদ্য ছিল ঘি, কিশমিশ, পনীর ও খেজুর (ছহীহ বুখারী, হা/১৫১০)। সুতরাং খাদ্যশস্য দ্বারাই ফিতরা আদায় করতে হবে। এছাড়াও ছাহাবী, তাবেঈ থেকে টাকা দিয়ে ফিতরা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।


প্রশ্ন (৪১) : অন্য মাসের চেয়ে রামাযান মাসে যাকাত বের করার কোনো গুরুত্ব ও ফযীলত আছে কি

-তানজিম খাতুন
রুপসা, খুলনা।

উত্তর : যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে রামাযান মাসকে প্রাধান্য না দিয়ে নির্ধারিত সময়ে যাকাত দেওয়াই শারঈ বিধান। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমার কাছে ২০০ দিরহাম থাকলে এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে পাঁচ দিরহাম (যাকাত) দিবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে ২০ দীনারের কমে যাকাত নেই। ২০ দীনারে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে অর্ধ দীনার যাকাত দিতে হবে। এরপর যা বাড়বে তাতে উপরিউক্ত হিসাবে যাকাত দিতে হবে’ (আবূ দাঊদ, হা/১৫৭৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৯৯)। সুতরাং প্রত্যেক যাকাত প্রদানকারীর জন্য জরুরী হলো, যখন তার সম্পদের নিছাব পূর্ণ হওয়ার পর এক বছর অতিবাহিত হবে তখনই সে যাকাত আদায় করবে। যদি তার বছর রজব মাসে শেষ হয় তাহলে সে রজব মাসে যাকাত আদায় করবে। অনুরূপভাবে যে মাসে তার বছর পূর্ণ হবে সে মাসেই তাকে যাকাত আদায় করতে হবে। শুধু রামাযান মাসে যাকাত আদায় করব এমন নিয়্যতে বিলম্ব করা মোটেও উচিত নয়। যাকাত যেহেতু গরীবের হক্ব, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার হক্ব তার নিকটে পৌঁছে দেয়া জরুরী। যদি মানুষের উপর যাকাত ফরয হওয়ার সাথে সাথে তারা তা আদায় করে তাহলে পুরা বছর গরীব-মিসকীনদের জীবিকা নির্বাহ সুবিধাজনক হবে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু উছায়মীন, ১৮/১৯১)।


প্রশ্ন (৪২) : যদি কোনো শিশু রামাযান মাসের শেষ দিন অথবা ঈদের দিন সকালে জন্মগ্রহণ করে, তবে কি তার ফিতরা দিতে হবে?

-মাহমূদ হাসান
সাঘাটা, বগুড়া

উত্তর : কোনো শিশু যদি রামাযান মাসের শেষ দিনে অথবা ঈদের দিন সূর্য উঠার পূর্বে অথবা ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তার ফিতরা দিতে হবে। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক মুসলিম দাস ও স্বাধীন ব্যক্তি, নর-নারী ছোট-বড় সকল এর উপর ‘এক ছা‘’ খেজুর বা ‘এক ছা‘ যব’ ফরয করেছেন। তিনি লোকদের ঈদের ছালাতে যাওয়ার পূর্বেই তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৫০৩-৫; মিশকাত, হা/১৮১৫-১৮১৬)। উল্লেখিত হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, কোনো শিশু যদি ঈদের ছালাতের পূর্বে জন্মগ্রহণ করে তার উপরও ফিতরা দেওয়া ফরয, যা তার অভিভাবক আদায় করবে।


ঈদগাহ, ঈদ ও ঈদের ছালাত



প্রশ্ন (৪৩) : ঈদগাহে ত্রিপল বা শামিয়ানা টাঙানো যাবে কি?

-মুহাম্মাদ
চাটমোহর, পাবনা।

উত্তর : ঈদের ছালাত ফাঁকা জায়গায় ও উন্মুক্ত স্থানে আদায় করাই সুন্নাত। কেননা মসজিদে নববীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেখানে ছালাত আদায় করলে অন্য মসজিদের চেয়ে এক হাজার গুণ নেকী বেশি হয়। তারপরেও তিনি সেখানে ছালাত আদায় না করে প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে খোলা ময়দানে উন্মুক্ত স্থানে ছালাত আদায় করেন (ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬)। এসব হাদীছ স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, রোদ-বৃষ্টির কারণে ত্রিপাল বা শামিয়ানা ঈদের মাঠে টাঙানো যাবে না। এটি একটি নব আবিষ্কৃত বিষয় বা বিদআত (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)।


প্রশ্ন (৪৪) : ঈদের ছালাত আদায়ের পূর্বে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে কি?

-আকীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : না, ঈদের ছালাতের পূর্বে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না। এমনকি কোনো ক্বিরাআত, গযল, সঙ্গীত কিছুই বলা যাবে না। বরং প্রথমে ছালাত আদায় করতে হবে। অতঃপর খুৎবা দিতে হবে। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহের দিকে বের হতেন এবং সেখানে প্রথমে যা করতেন তা হলো ছালাত। অতঃপর ফিরে জনতার দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন আর জনতা তখন নিজেদের কাতারে বসা থাকত। তিনি তাদেরকে উপদেশ দিতেন, নছীহত করতেন এবং নির্দেশ দিতেন। আর যদি কোথাও সৈন্য প্রেরণের ইচ্ছা করতেন তাদেরকে বাছাই করতেন অথবা যদি কাউকে কোনো নির্দেশ দেওয়ার থাকত, নির্দেশ দিতেন। অতঃপর বাড়ি ফিরতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯৪; মিশকাত, হা/১৪২৬)। উল্লেখ্য যে, ঈদের ছালাতের পূর্বে খুৎবা দেওয়ার প্রচলন শুরু করেন মারওয়ান ইবনু হাকাম (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯)। অথচ প্রখ্যাত ছাহাবী আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার সেই কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৫৬)। সুতরাং খুৎবার পূর্বেই ঈদায়নের ছালাত আদায় করতে হবে।


প্রশ্ন (৪৫) : মহিলাদের জন্য কি ঈদের মাঠে যাওয়া জরুরী?

-কাওছার
বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : মহিলাদের জন্যও ঈদের মাঠে যাওয়া জরুরী। কেননা তাদেরকে ঈদের মাঠে যাওয়ার জন্য রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি ঈদের দিনে নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছালাতে উপস্থিত ছিলাম। দেখলাম, তিনি খুৎবার পূর্বে ছালাত আরম্ভ করলেন আযান ও ইক্বামত ছাড়া এবং যখন ছালাত শেষ করলেন বেলালের গায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর মহিমা ও তাঁর প্রশন্তি বর্ণনা করলেন। তৎপর লোকদেরকে উপদেশ দিলেন। তাদেরকে (পরকালের কথা) স্মরণ করালেন এবং আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। অতঃপর মহিলাদের দিকে অগ্রসর হলেন আর তখন তাঁর সাথে ছিলেন বেলাল, তাদেরকে তিনি আল্লাহভীতির উপদেশ দিলেন। কিছু নছীহত করলেন এবং (আখেরাতের কথা) স্মরণ করালেন (ছহীহ নাসাঈ, হা/১৫৭৫; ইবনু খুযায়মা, হা/১৪৬০; মিশকাত, হা/১৪৪৬)। উম্মে আতিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো, আমরা যেন ঋতুবতী ও পর্দানশিন মহিলাদেরও দুই ঈদের দিনে (ঈদগাহে) বের করি, যাতে তারা মুসলিমদের জামাআতে এবং তাদের দু‘আয় শামিল হতে পারে; কিন্তু ঋতুবতীগণ যেন  তাদের ছালাতের স্থান হতে একদিকে সরে বসে। তখন এক মহিলা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমাদের কারও (শরীর ঢাকবার) বড় চাদর নেই। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তার সাথী তাকে আপন চাদর পরাবে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০; মিশকাত, হা/১৪৩১)। এই হাদীছদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহিলারা ঈদের মাঠে গিয়েই ঈদের ছালাতে অংশগ্রহণ করবে এবং ঋতুবতী মহিলাগণ ছালাত আদায় করবে না। বরং খুৎবা ও তাকবীরে শরীক হবে। তবে সমস্য থাকলে বাড়িতে একাকী কিংবা একজন পুরুষ ইমামের ইমামতিতে ঈদের ছালাত পড়ে নিবে (ছহীহ বুখারী, ‘কারো ঈদের ছালাত ছুটে গেলে সে দু’রাকআত ছালাত আদায় করবে, অনুরূপ মহিলারাও এবং যারা বাড়িতে কিংবা গ্রামে থাকে’ অনুচ্ছেদ-২৫; ‘ঈদায়েন’ অধ্যায়-১৩)। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদে পুরুষের ইমামতিতে মেয়েদের ঈদের ছালাত পড়ার কোনো বিধান শরীআতে নেই।


প্রশ্ন (৪৬) : মহিলা ইমামের পিছনে মহিলারা ঈদের ছালাত আদায় করতে পারবে কি?

-নাজনীন
আক্কেলপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : না, মহিলার ইমামতিতে ঈদ ও জুমআর ছালাত আদায় করা যাবে না। কারণ ঈদের ছালাতে খুৎবা আছে। আর মহিলাদের জন্য খুৎবা দেওয়া জায়েয নয়। শরীআতে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে কেউ এমন কোন আমল করল, যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।


প্রশ্ন (৪৭) : ঈদের ছালাতের পৃথক কোনো ফযীলত আছে কি?

-নাঈম ইসলাম
দারুশা, পবা, রাজশাহী।

উত্তর : নির্দিষ্টভাবে ঈদের ছালাতের ফযীলত সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে ঈদের ছালাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের ছালাতে সকলকে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাকীদ দিয়েছেন। এমনকি ঋতুবতী মহিলাদেরকেও ঈদের ছালাতের জন্য বের হতে বলা হয়েছে। পরনের চাদর না থাকলে অন্যের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে হলেও যাওয়ার কথা বলা হয়েছে (ছহীহ বুখারী, হা/৯৭৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০)। আর মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ বাস্তবায়নের ফযীলত অপরিসীম।


প্রশ্ন (৪৮) : জুমআর দিন ঈদ হলে স্বেচ্ছায় জুমআর ছালাত আদায় না করলে পাপ হবে কি?

-ছাদিকুল ইসলাম
সাহেব বাজার, রাজশাহী।

উত্তর : না, এতে কোনো পাপ হবে না। কেননা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমআর দিন ঈদ হলে জুমআর ছালাত আদায় করার ব্যাপারে স্বাধীনতা দিয়েছেন। কেউ চাইলে তা আদায় করতে পারে। আবার নাও করতে পারে। আইয়াস ইবনে আবু রামলা আশ-শামী (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যায়েদ ইবনু আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে কিছু জিজ্ঞেস করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি (মুআবিয়া) বলেন, আপনি কি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে তার সাথে ঈদ ও জুমআ একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন? তিনি (যায়েদ ইবনু আরকাম) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা আদায় করেছিলেন? তিনি বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে ঈদের ছালাত আদায় করেন। অতঃপর জুমআর ছালাত আদায়ের ব্যাপারে অবকাশ প্রদান করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি তা আদায় করতে চায়, সে তা আদায় করতে পারে’ (আবূ দাঊদ, হা/১০৭০)। তবে যে ব্যক্তি জুমআ পরিত্যাগ করবে তার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত লক্ষণীয়। (ক) সে যেন ঈদের ছালাত আদায় করে, যদি ঈদের ছালাত আদায় না করে, তাহলে অবশ্যই তাকে জুমআর ছালাত আদায় করতে হবে। (খ) জুমআর ছালাত মাফ হলেও বাসায় যোহরের ছালাত আদায় করতে হবে। (গ) মসজিদগুলোতে জুমআ অনুষ্ঠিত হতে হবে। ইমাম সাহেব খুৎবা দিবেন এবং ছালাত পড়াবেন। মানুষদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা উপস্থিত হবে যাদের ইচ্ছা হবে না। কিন্তু মসজিদে জুমআর খুৎবাই অনুষ্ঠিত হবে না এমনটা যেন না হয়।


প্রশ্ন (৪৯) : করোনা ভাইরাসের কারণে ঈদের ছালাত মাঠে আদায় না করা গেলে করণীয় কী?

-মামুনুর রশীদ
সাভার, ঢাকা।

উত্তর : ‘কোনো সমস্যাকে লক্ষ্য করে ঈদের ছালাত জামাআতবদ্ধভাবে খোলা মাঠে আদায় করা যাবে না’-মর্মে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম ও তাবে-তাবেঈ থেকে কোনো প্রমাণ নেই। অতএব, করোনাকে হিসাব করে এতবড় গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতকে পরিত্যাগ করা যাবে না। বরং  তা জামাআতবদ্ধভাবে মাঠেই আদায় করতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে নববীর মতো স্থানকে ত্যাগ করে প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে খোলা ময়দানে ঈদের ছালাত আদায় করতেন (যাদুল মাআদ, ১/৪২৫; ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬, ‘মিম্বার না নিয়ে ঈদের মাঠে গমন’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৬)। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠে আদায় করা না গেলে নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের ছালাতের মতোই ১২ তাকবীরসহ ঈদের দুই রাকআত ছালাত আদায় করবে (ছহীহ বুখারী, ‘যার ঈদের ছালাত ছুটে গেছে এবং যারা বাড়িতে ও গ্রামে আছে তাদের ঈদের ছালাত’ অধ্যায়)।


প্রশ্ন (৫০) : ঈদের ছালাত শেষে পিতা-মাতার কবরের পাশে গিয়ে হাত তুলে দুআ করা যাবে কি

-ফরিদুল ইসলাম
ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।

উত্তর : পুরুষ ব্যক্তি কোনো দিন-ক্ষণ নির্ধারণ না করে যে কোনো দিনে কবর যিয়ারত করতে পারে এবং কবরস্থানে গিয়ে একাকী হাত তুলেও দু‘আ করতে পারে। কেননা আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘…তোমরা কবর যিয়ারত করো, কেননা তা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৬; আবূ দাঊদ, হা/৩২৩৪; মুসনাদে আহমাদ, ৯৬৮৬)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাক্বীউল গারক্বাদ (গোরস্থানে) অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে দু‘আ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৪; নাসাঈ, হা/২০৩৬-৩৭)। তবে, কবর যিয়ারতের জন্য কোনো দিনকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া এবং দলবদ্ধভাবে দু‘আ করা বিদআত হবে। যেমন : ঈদের দিন, জুমআর দিন ইত্যাদি। কেননা যে সকল স্থানে দলবদ্ধভাবে দু‘আ করার প্রমাণ মিলে কবরস্থান তার অন্তর্ভুক্ত নয়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/১৪০)।