জীবনের মূল্য


[৫ মুহাররম, ১৪৪৩ হি. মোতাবেক ১৩ আগস্ট, ২০২১। মদীনা মসজিদে নববীতে জুমআর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ . আব্দুল আযীয আত-তুওয়াইজিরী (হাফিযাহুল্লাহ) উক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন ‘আল-ইতিছাম গবেষণা পর্ষদ’-এর সম্মানিত গবেষণা সহকারী মো. তরিকুল ইসলাম। খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]

প্রথম খুৎবা

সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য, যিনি অভিভাবক ও প্রশংসিত। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন এবং যা ইচ্ছা তা হুকুম করেন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোনো মা‘বূদ নেই, যিনি আরশের অধিপতি ও সম্মানিত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। ছালাত, সালাম ও বরকত নাযিল হোক মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর ছাহাবীগণ, তাঁর স্ত্রীগণের উপর এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের উপর। অতঃপর, শায়েখ মুছল্লীদের লক্ষ্য করে কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন,

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ﴾

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহকে ভয় করো। আর প্ৰত্যেকের চিন্তা করে দেখা উচিত যে, আগামীকালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করো। তোমরা যা কর, নিশ্চয় মহান আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত’ (আল-হাশর, ৫৯/১৮)

নিশ্চয় আমরা অতিক্রান্ত দিনগুলো নিয়ে আনন্দ করি, অথচ অতিবাহিত প্রতিটি দিন আমাদের মৃত্যুর নির্ধারিত সময়ের নিকতবর্তী করে দিচ্ছে। মৃত্যুর আগেই নিজের কল্যাণের জন্য পরিশ্রমী হয়ে আমল করো। কারণ লাভ ও ক্ষতি তো নির্ভর করছে আমলের ওপরই। বছর দ্রুত চলে যাচ্ছে। আর মৃত্যু অনেক প্রিয়জন, সঙ্গী ও বান্দাদের কেড়ে নিচ্ছে। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সৎ লোকেরা একের পর এক [ক্রমান্বয়ে] মৃত্যুবরণ করবে। আর অবশিষ্ট লোকেরা নিকৃষ্ট মানের যব অথবা খেজুরের মতো পড়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা এদের প্রতি আদৌ ভ্রূক্ষেপ করবেন না’।[1] নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘আ করার সময় বলতেন,

وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

‘প্রত্যেক কল্যাণকর কাজের জন্য আমার হায়াতকে [আয়ুষ্কাল] বাড়িয়ে দিন, আর আমার মৃত্যুকে আমার জন্য প্রত্যেক অকল্যাণ হতে শান্তিস্বরূপ করুন’।[2]

দুনিয়াতে অনেক স্তর বা ধাপ বিদ্যমান। মানুষ একটির পর একটি ধাপ পার করে তার জীবন অতিবাহিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ﴾

‘আল্লাহ, তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন দুর্বলতা থেকে, দুর্বলতার পর তিনি দেন শক্তি; শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বক্ষম’ (আর-রূম, ৩০/৫৪)

নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

خَيْرُكُم مَنْ طَالَ عُمُرُهُ، وَحَسُنَ عَمَلُهُ

‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং তার আমল সুন্দর হয়েছে’।[3] মানুষের মধ্যে এমন কতক মানুষ আছে, প্রতি বছর তাদের ঈমান বৃদ্ধি হয়, তাদের দ্বীনের উপর আরো দৃঢ়তা বাড়ে, আখলাক বা চরিত্রে উন্নতি হয় এবং তাদের প্রচেষ্টা আরও বেড়ে যায়। পক্ষান্তরে কতক মানুষ আছে, যারা কুপ্রবৃত্তি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার পেছনে তাদের যৌবনসহ মূল্যবান জীবনকে নষ্ট করে। তারা পানি ছাড়াই সাতার কাটে এবং ডানা ছাড়াই আকাশে উড়ে। প্রতিটি বছর তাদের মানহাজে দোদুল্যমানতা বাড়ে এবং ঈমানের দুর্বলতা আরও বৃদ্ধি হয়। প্রথম ঝড়েই তাদের পা পিছলে যায়। প্রথম পরীক্ষাতেই তারা হোঁচট খায়। যেকোনো সংশয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তাদের কোনো ইয়াক্বীন বা দৃঢ়বিশ্বাস নেই, যেটি তাদেরকে দৃঢ় রাখবে। তাদের কোনো জ্ঞানও নেই যেটি তাদেরকে হেদায়াত করবে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا

‘প্রত্যেক মানুষ ভোরে উপনীত হয়ে নিজেকে বিক্রয় করে, এতে সে হয় নিজেকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে’।[4] সাম্প্রতিক বিষয়সমূহ এবং পরিবর্তনের কারণে মানুষের পদস্খলন ঘটছে, যাতে ধৈর্যশীলগণও হয়রান বা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈমান সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণতা, সৎ আমল করা এবং উপকারী জ্ঞানার্জন করা।

উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا ‘তোমরা নেতা হওয়ার আগেই জ্ঞানার্জন করে নাও’। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)বলেছেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছাহাবীগণ বৃদ্ধ বয়সেও জ্ঞানার্জন করেছেন। অতএব দুর্ভোগ তাদের, যারা নিজেদের মূল্যবান জীবনকে উপকারবিহীন অনর্থক কাজে নষ্ট করে।[5] ইমাম ত্ববারানী তার ‘আল-মু‘জামুল কাবীর’ কিতাবে ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘আমি এমন ব্যক্তিকে দেখে রাগান্বিত হই, যে ব্যক্তি দুনিয়ারও কোনো কাজ করে না আবার আখেরাতেরও কোনো কাজ করে না; বরং বেকার বসে থাকে’।[6] ইবনু ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীতে আছে, তিনি বলেছেন যে, ‘বেকার ব্যক্তিরা কখনো বিচক্ষণ বা জ্ঞানী হতে পারে না’।[7]

তুচ্ছ মূল্যে মূল্যবান সামগ্রীর আশা করো না। মিথ্যা কথায় সম্মান বা মর্যাদা কেনা যায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি। অর্থসংকট ও দুঃখক্লেশ তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তাঁর সঙ্গী-সাথী ঈমানদারগণ বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে’? জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে’ (আল-বাক্বারা, ২/২১৪)

লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছাড়া চলা মানেই হলো জীবনকে নষ্ট করা। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পরে আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দুই বছর আর কয়েক মাস বেঁচে ছিলেন। তিনি এই সময়ে যেসব কাজ সম্পাদন করেছিলেন, সেগুলো কয়েক শতাব্দী ধরে অনেকগুলো রাষ্ট্রও করতে সক্ষম নয়। তিনি মুরতাদদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, আরব উপদ্বীপকে আবার ইসলামের ছায়ায় ফিরিয়ে এনেছিলেন, পারস্যকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছিলেন, রোমকে অবরুদ্ধ করেছিলেন, কুরআন সংকলন করেছিলেন এবং ইসলামের প্রসার ঘটিয়েছিলেন। এ সমস্ত কাজ তিনি করেছিলেন মাত্র ৩০ মাসে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾

‘মুমিন পুরুষ হোক বা নারী হোক যে কেউ সৎকাজ করবে, অবশ্যই আমরা তাকে পবিত্র জীবন দান করব। আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে তারা যা করত তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেব’ (আন-নাহল, ১৬/৯৭)

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যুবরণ করলেন, তখন আমি আনছারদের এক যুবককে বললাম, হে অমুক! চলুন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছাহাবীগণের নিকট (হাদীছ সম্পর্কে) প্রশ্ন করি। তখন তিনি বললেন, হে ইবনু আব্বাস! তুমি কী আশ্চর্যজনক কথা বলছ! তুমি কি মনে কর, লোকেরা তোমার মুখাপেক্ষী হবে? যেখানে লোকদের মাঝে এখনো নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনেক ছাহাবী বিদ্যমান রয়েছেন, যাদেরকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। এ কথা বলে তিনি ছেড়ে দিলেন। কিন্তু আমি আমার প্রশ্ন নিয়ে এগিয়ে চললাম। আমি যায়েদ ইবনু ছাবেতের সান্নিধ্যে থাকতে লাগলাম। প্রতিদিন সকালে আমি তার কাছে আসতাম। আর সেই যুবকটি থেকেই গেল। এমনকি সে দেখল যে, লোকজন আমার কাছে জড়ো হচ্ছে। তখন সে বলল, এই যুবকটি আমার থেকেও বেশি জ্ঞানী।[8]

আল্লাহ তাআলা আমাকে ও আপনাদেরকে কুরআনুল কারীম ও সাইয়্যেদুল মুরসালীন নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ দিয়ে উপকৃত করুন। আমি আমার জন্য, আপনাদের ও সকল মুসলিমদের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাই। আপনারাও তাঁরই কাছে ক্ষমা চান এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসুন। নিশ্চয় আপনাদের রব মহাক্ষমাশীল, পরম কৃতজ্ঞ।

দ্বিতীয় খুৎবা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি বিশ্ব জাহানের রব। ছালাত ও সালাম নাযিল হোক সাইয়্যেদুল মুরসালীন মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, ছাহাবা ও তাদের অনুসরণকারীদের উপর। মুসলিম ব্যক্তি তার আমল সর্বোচ্চ স্তরে না পৌঁছা পর্যন্ত পরিতৃপ্ত হয় না। যদি সে কিছু চায়, তবে শ্রেষ্ঠ জিনিসটিই চায়। যদি সে সেটি নাও চায়, তবে কমপক্ষে এটি চায়, যেন তার ছেলে-মেয়েরা কল্যাণকর কাজে আদর্শ হয়। আল্লাহ বলেন, ﴿وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا﴾ ‘আর আপনি আমাদের মুত্তাক্বীদের জন্য অনুসরণযোগ্য করুন’ (আল-ফুরক্বান, ২৫/৭৪)। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উম্মতকে সর্বোত্তম জিনিস চাইতে বলেছেন। তিনি বলেছেন,

إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ أُرَاهُ فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ

‘তোমরা আল্লাহর নিকট চাইলে ফেরদাউস চাইবে। কেননা এটাই হলো সবচেয়ে উত্তম ও সর্বোচ্চ জান্নাত’। (রাবী বলেন) আমার মনে হয়, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটাও বলেছেন, ‘এর উপরে রয়েছে রহমানের আরশ। আর সেখান থেকে জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হয়’।[9]

যখন আল্লাহ তাআলা কোনো মানুষের জীবনে বরকত দান করেন, তখন সে নিজেও উপকৃত হয় এবং তার পরিবার-পরিজন ও অন্যান্য মানুষজনও উপকৃত হয়। মানুষজন ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবন দেখে আশ্চর্য হয়। তিনি অন্যদের শিক্ষা দিতেন, ফতওয়া দিতেন, বিচার করতেন, বক্তৃতা দিতেন এবং বিভিন্ন কাজের ও মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বও দিতেন। এগুলো করার সাথে সাথে তিনি রাতে তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় করতেন এবং কুরআন তেলাওয়াতও করতেন। এক বছর, দুই বছর, এমনকি দশ বছর পার হয়ে গেলেও আমাদের মধ্যে কারো যদি ইবাদতে, জ্ঞানার্জনে, আল্লাহর কিতাব মুখস্থকরণে, দ্বীনের বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জনে এবং অন্যের উপকার করাতে কোনো উন্নতি না হয়, তখনই জীবনের বরকতের কমতি প্রকাশ পায়।

সৎকর্মসমূহকে গনীমত মনে করে তা বেশি বেশি সম্পাদন করুন, যাতে আপনাদের নেকীর পরিমাণ বেড়ে যায়। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ يُكَفِّرَ الله به السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ

‘আশূরার দিনের ছিয়ামের দ্বারা আল্লাহ তাআলা সেই ছিয়াম পালনকারীর আগের বছরের গুণাহের কাফফারা করে দেন’।[10] আনছারগণ তাদের শিশুদেরকেও আশূরার ছিয়াম পালন করাতেন। আর তারা তাদের শিশুদেরকে পশমের খেলনা তৈরি করে দিতেন। সেই শিশুদের কেউ খাবারের জন্য কান্না করলে তারা (আনছারগণ) ঐ খেলনা দিয়ে তাদেরকে (শিশুদেরকে) ভুলিয়ে রাখতেন। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।[11] আশূরার দিনের সাথে নয় তারিখেও ছিয়াম পালন করা মুস্তাহাব। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لأَصُومَنَّ التَّاسِعَ

‘ইনশাআল্লাহ আগামী বছর যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে ৯ তারিখেও ছিয়াম পালন করব’।[12]

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ইলম, আমল, রিযিক্ব ও তাওফীক্ব আরও বাড়িয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জীবন ও আমলসমূহে বরকত দান করুন এবং আমাদের রিযিক্ব ও সন্তানসন্ততিতেও বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাহ ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর ছালাত ও সালাম নাযিল করুন- আমীন!


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৩৪।

[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৭২০।

[3]. তিরমিযী, হা/২৩৩০।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩।

[5]. ছহীহ বুখারী, ১/২৫।

[6]. মু‘জামুল কাবীর, ৯/১০৩।

[7]. হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/৩০।

[8]. দারেমী, হা/৫৯০।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/২৭৯০।

[10]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২।

[11]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯৬০।

[12]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩৪।