মুজতাহিদ হিসাবে ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ:
ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ তার মুজতাহিদ[1] হওয়ার দাবী সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার আত্মজীবনীতে। তিনি সাতটি বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের দাবী করেন। বিষয়গুলো হলো তাফসীর, হাদীছ, ফিক্বহ, আরবী ব্যাকরণ, ইলমুল মা‘আনী, ইলমুল বায়ান ও বাদী‘। ফিক্বহ ছাড়া উল্লেখিত সব বিষয়ে তিনি তার শিক্ষকগণের তুলনায় অধিক জানতেন বলে দাবী করতেন।
তবে তিনি একথাও স্বীকার করেন, আল্লামা বুলকীনী রাহিমাহুল্লাহ[2] ফিক্বহ শাস্ত্রে তার চেয়ে অধিক পারদর্শী ছিলেন। এছাড়া তিনি উছূলে ফিক্বহ, ধর্মবিজ্ঞান, বিতর্ক বিদ্যা, অঙ্গ সংস্থান বিদ্যা, ফারায়েয, রচনা এবং পত্র লিখন ইত্যাদি সম্পর্কে তার জ্ঞানের কথা উল্লেখ করেন।
ইজতিহাদের দাবী সম্বলিত সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ-এর বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় তার ‘আর-রদ্দু আলা মান আখলাদা ইলাল আরযি’ নামক গ্রন্থে। সেখানে তিনি তার স্বপক্ষে নিমেণাক্ত দলীলগুলো পেশ করেন:
(ক) ইজতিহাদ হচ্ছে ফরযে কিফায়া। কোনো সমাজে মুজতাহিদ না থাকার অর্থ সমাজের লোকদের একটা ভুলের উপর স্থায়ী থাকা। তাক্বলীদ তথা কোনো ইমামের অনুসরণ করা পণ্ডিতদের জন্য নিষিদ্ধ। পাশাপাশি এটাই ঠিক যে, সমাজের সকলে মুজতাহিদ হলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। পক্ষান্তরে সবাই ‘মুকাল্লিদ’ হলে পবিত্র আইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জ্ঞান ও গবেষণার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। অতএব ইজতিহাদ একটি যরূরী বিষয়, যার পথ সর্বকালেই খোলা থাকবে।
(খ) খলীফা, ক্বাযী এবং মুফতীদের মুজতাহিদ হওয়া বাঞ্ছনীয়। মুজতাহিদদের অনুপস্থিতিতে ‘মুকাল্লিদ’কে নিয়োগ করা যায়। তবে মুফতীকে অবশ্যই মুজতাহিদ হতে হবে।
(গ) মুজতাহিদ হওয়ার জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। যেমন কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে ব্যুৎপত্তি অর্জন করা। অন্তত যে অংশ বিশেষ আইনের সাথে জড়িত, সে অংশ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান থাকা অত্যাবশ্যক। মানসূখ আয়াত ও হাদীছ, হাদীছের প্রকারভেদ, বর্ণনাকারীদের মর্যাদা, আরবী ভাষায় জ্ঞান ও পণ্ডিতদের ঐক্য-অনৈক্য ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। এছাড়া প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, ধর্মানুশীলন মুজতাহিদ হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত।
অনেকে মনে করেন যে, মুজতাহিদ-ই-মুত্বলাক্ব (مجتهد مطلق) ও মুজতাহিদ-ই-মুসতাক্বিল (مجتهد مستقل) সমার্থবোধক। অথচ উভয়টা এক নয়। আর তাই আমি নিজেকে মুজতাহিদ মুত্বলাক্ব মনে করি, মুসতাক্বিল মনে করি না। আমি এ ক্ষেত্রে ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ-এর পদ্ধতি অনুসরণ করি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমার ইজতিহাদকে কীভাবে মুকায়্যাদ (সীমায়িত) মনে করা হয়। অথচ একজন মুজতাহিদ-ই-মুত্বলাক্ব মুজতাহিদ-ই-মুকাইয়্যাদের তুলনায় হাদীছ শাস্ত্র ও আরবী ভাষায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ হওয়া যরূরী। আমি মনে করি পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত এ পৃথিবীর বুকে হাদীছ শাস্ত্র ও আরবী ভাষায় আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ নেই। তবে খিযির আলাইহিস সালাম বা অন্য কোনো কুতুব বা আল্লাহ্র কোনো অলীর কথা আলাদা। এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ তার ব্যাপারে জনসাধারণের একটি ভুল ধারণার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণ মনে করে যে, ইমাম চতুষ্টয় যে ধরনের ইজতিহাদ-ই-মুসতাক্বিল চর্চা করেছেন, তিনি হয়ত সে জাতীয় ইজতিহাদ-ই-মুসতাক্বিলের দাবীদার। তিনি বলেন, আমি মূলত ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ-এর ইজতিহাদে মুসতাক্বিলের অনুসারী। এ জাতীয় অনুসারী এবং এ জাতীয় মুজতাহিদের অনেক উদাহরণ পেশ করে তিনি প্রমাণ করেন যে, তার ইজতিহাদ অস্বীকারকারীরা আদতেই অজ্ঞ।
অতএব ইজতিহাদের অর্থ, বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করা বুঝলে, অবশ্যই ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ-কে মুজতাহিদ মানতে হবে। কারণ নতুন মাযহাব সৃষ্টির দাবী তিনি কখনো করেননি। কিন্তু ফৎওয়া দানের ব্যাপারে তিনি পূর্বাপর শাফেঈ মাযহাবের অনুসরণ করেছেন। তিনি ‘আল-হাবী লিল ফাতাওয়া’ নামক গ্রন্থে তার ফৎওয়া দানের পদ্ধতি আলোচনা করেছেন। প্রথমে সমস্যা, তারপর সমাধানও তিনি দিয়েছেন। এরপর সিদ্ধামেত্মর সমর্থনে কুরআন ও হাদীছ এবং অভিজ্ঞ পণ্ডিতদের উদ্ধৃতিও তিনি উপস্থাপন করেছেন। সাধারণত একটা বিষয় বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা করতেন এবং দুর্বল দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর সমালোচনা করতেন।
সচরাচর তিনি তার সিদ্ধামেত্মর সমর্থনে কুরআন, হাদীছ ও পণ্ডিতদের অভিমতগুলোর উদ্ধৃতি দান করেন। তার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি নতুন মাযহাব প্রতিষ্ঠা পদ্ধতির মতো এত মৌলিক নয় বটে; তবে এটাকে পুরোপুরি তাক্বলীদ বলেও আখ্যায়িত করা যায় না। এটা সাধারণভাবে স্বীকৃত ইজতিহাদের সাথেই সঙ্গতিশীল।
সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ নিজেকে মুজতাহিদ দাবীকরণের সাথে সাথে তার সমসাময়িকদের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের সম্মুখীন হন। সে দিক বিচারে সমালোচনাকারীদের দু-ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ভাগে যারা আছেন, তারা মুজতাহিদ হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। দ্বিতীয় ভাগে যারা রয়েছেন, তারা মুজতাহিদগণের আবির্ভাবের সম্ভাবনাকে স্বীকার করেন। তবে সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ-কে তারা এ ক্ষেত্রে অযোগ্য মনে করেন। সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ-এর প্রতিপক্ষরা তার মুজতাহিদ হওয়ার দাবীকে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ার আরেকটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারে সাখাভীর বর্ণনা মতে, আবু নাজা ইবনু খালক নামক ধর্ম প্রচারক সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ-এর সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেন।
ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ তাকে তার সমসাময়িক কালের সবচেয়ে বড় প--ত এ কথা প্রমাণের জন্য শুধু মুজতাহিদ দাবী করেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি নিজেকে নবম শতাব্দীর প্রত্যাশিত ‘মুজাদ্দিদ’ হিসাবেও দাবী করেছেন। তার যুক্তি হচ্ছে, প্রতি শতাব্দীর সমাপ্তিতে ধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একজন মুজাদ্দিদের আগমন সম্পর্কে হাদীছে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা প্রতি একশ বছর পরপর এই উম্মতের জন্য এমন একজনকে প্রেরণ করেন যিনি তার দ্বীনকে সংস্কার করেন’।[3]
ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ বিভিন্ন উদ্ধৃতি সহকারে এ সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, মুজতাহিদকে অবশ্যই ধর্মীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশেষ পণ্ডিত হতে হবে এবং প্রতিষ্ঠিত মাযহাবের অনুসারী হতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ তার আত্মজীবনীতে নিমেণাক্ত কথাগুলো উল্লেখ করেন, ‘যেমনিভাবে ইমাম গাযালী রাহিমাহুল্লাহ নিজের জন্য আল্লাহর নে‘মত ও অনুগ্রহ কামনা করেছিলেন, তেমনিভাবে আমিও আল্লাহর নে‘মত ও অনুগ্রহ কামনা করেছি। আমি হিজরী ৯ম শতাব্দীর প্রেরিত (মুজাদ্দিদ) ব্যক্তিত্ব। কারণ বিভিন্ন বিষয়ের পাণ্ডিত্য আমি একাই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি’।
অর্থাৎ তাফসীর ও উছূলে তাফসীর, হাদীছ ও উছূলে হাদীছ, ফিক্বহ ও উছূলে ফিক্বহ, ভাষা ও ভাষার নীতিমালা, পদবিন্যাস, প্রকরণবিদ্যা, তর্কবিদ্যা এবং ইতিহাসবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে আমি একাই পাণ্ডিত্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এ ছাড়াও উলেস্নখযোগ্য প্রকাশনা আমার রয়েছে। এ জাতীয় প্রকাশনা সৃষ্টি করা আমার আগে আর কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। ভাষার নীতিমালা সম্পর্কিত বিজ্ঞান সর্বপ্রথম আমারই আবিষ্কার। আমার ক্ষুরধার লিখনী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রসার ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।[4]
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, ইজতিহাদ ইসলামী শরী‘আত সমর্থিত একটি অধ্যায় যা পবিত্র কুরআন, হাদীছ ও ইজমা‘র সমন্বয়ে হয়। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অদ্যাবধি ইজতিহাদ অব্যাহত। পর্যায়ক্রমে একই নিয়মে ইজতিহাদ সংঘঠিত হতে পারে। ইসলামী শরী‘আতের ধারাবাহিকতায় মিসরের মামলূক শাসনামলে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক যে ইজতিহাদ সংঘঠিত হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য। এজন্য তৎকালীন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববরেণ্য ওলামায়ে কেরাম তাকে মুজতাহিদ হিসাবে আখ্যায়িত করেন। মূলত, আল-কুরআন হচ্ছে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস এবং তা মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক অনন্য মু‘জিযা। যা যুগ যুগ ধরে মহান আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্নভাবে দ্বীনের মুজতাহিদ ও মুজাদ্দিদগণের মাধ্যমে জনসম্মুখে স্পষ্ট করে তোলেন। এ ক্ষেত্রে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ অন্যতম। তার সমকালীন আলিমগণের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।
অনেকগুলো বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করার সৌভাগ্য তিনি ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীছের বিশুদ্ধতা, খুলাফায়ে রাশেদীন, ছাহাবায়ে কেরামের জীবন বৃত্তান্ত ইত্যাদি বিষয়ে তিনি ছিলেন গভীর জ্ঞানের অধিকারী। তাই তিনি বস্ত্তনিষ্ঠ তথ্য সহকারে উক্ত বিষয়ের উপর একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। যা পরবর্তীদের জন্য প্রামাণ্য হিসাবে সুখ্যাতি লাভ করেছে। একজন সমাজ সচেতন হিসাবে সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ তৎকালীন মিসরের জীবনযাত্রা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, ঐতিহাসিক পটভূমি ইত্যাদি বিষয় নিয়েও গবেষণা, পর্যালোচনা ও পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তার রচিত ‘হুসনুল মুহাযিরাহ ফী আখবারি (মুলূকি) মিছর ওয়াল কাহিরা’ এ বিষয়ে এক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ-এর বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি বিভিন্ন যুক্তি ও দলীল সহকারে তার বক্তব্য উপস্থাপন করতেন। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রয়োজনানুসারে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীছের উদ্ধৃতি, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণের বক্তব্য, বিভিন্ন প্রামাণ্য গ্রন্থের উদ্ধৃতি ও বর্ণনা অনুসরণ করতেন।
বস্তুত, ইমাম সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন একজন প্রখ্যাত তাফসীরকারক, বিশ্বস্ত রাবী, রিজালবিদ, হাদীছ সমালোচক, ফিক্বহবিদ, সুসাহিত্যিক, বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসবেত্তা, নিরপেক্ষ জীবনীকার এবং একজন আদর্শ শিক্ষক। তাকে পরিমাপ করতে হলে তার রচিত গ্রন্থাবলীকে ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। শরী‘আতের জ্ঞানের সাথে তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানেও ছিলেন পারদর্শী।
উলূমুল কুরআন ও উলূমুল হাদীছে অসংখ্য গ্রন্থ প্রণয়ন করায় তিনি মুহাদ্দিছ ও মুফাসসির হিসাবে অধিক পরিচিত ছিলেন। ইলমুল বদী সহ বিভিন্ন বিষয়ে তার পাঁচ শতাধিক গ্রন্থ রয়েছে। বিভিন্ন দিক পর্যালোচনায় আলোচকবৃন্দ তাকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। যেমন মুফাসসির, মুহাদ্দিছ, মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদ, ঐতিহাসিক, বিশিষ্ট গ্রন্থ প্রণেতা, দার্শনিক। একজন ব্যক্তিকে সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে হলে যা প্রয়োজন সে সবই সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ-এর মধ্যে উপস্থিত।[5]
প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ :
ইমাম আস-সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন তৎকালীন মিসরের বিখ্যাত আলেমে দ্বীন। ইলমে তাফসীর ও ইলমে হাদীছ সহ বিভিন্ন বিষয়ে তার ব্যুৎপত্তি থাকার কারণে মিসর সহ জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিবর্গ তার নিকট শিক্ষাগ্রহণ করার জন্য আগমন করতেন। তার কয়েক হাজার ছাত্র ছিলেন। তার অসংখ্য শিষ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাতজনের নাম নিমেণ তুলে ধরা হলো:
১. যায়নুদ্দীন ওমর ইবনু আহমাদ ইবনে আলী আস-সিমা আল-হামবিঈ আশ-শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ।
২. মুহাম্মাদ ইবনু আলী আদ-দাঊদী আল-মালেকী রাহিমাহুল্লাহ।
৩. মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আর-সামী আস-ছালেহী আল-মিসরী রাহিমাহুল্লাহ।
৪. শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ আল-কামালী আশ-শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত. ৯২৯ হি.)।
৫. শামসুদ্দীন আল-কায়মী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত. ৯১৬ হি.)।
৬. আব্দুল ওয়াহহাব আশ-শিরানী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত. ৯৭৩ হি.)।
৭. শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ (জন্ম: ৮৮২ হি.)।
ইমিত্মকাল :
ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষার ধারক-বাহক মহান কর্মবীর ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ মিসরের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে ৯০৬ হিজরীতে অধ্যাপনা ত্যাগ করে ‘আররোখা’ নামক একটি দ্বীপে একাগ্রভাবে অবস্থান করে গ্রন্থ প্রণয়নে অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করেন এবং সেখানেই ৯১১ হিজরীর ১৯ শে জুমাদাল উলা (১৫০৫ খৃ.) তারিখে ইমিত্মকাল করেছেন।[6]
[1]. ইজতিহাদ: কোনো কিছু হাছিলের উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করা। ইসলামী পরিভাষায় শরী‘আতের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা ও সাধনার নামই ইজতিহাদ। কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ক্বিয়াস করে ইজতিহাদ করা হয়ে থাকে। ইসলামের প্রথম যুগে ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ একই অর্থে ব্যবহৃত হতো। ইজতিহাদকারীকে মুজতাহিদ বলা হয়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি বিচার বিবেচনা ব্যতীত অপরের মত মেনে নেয়, তাকে মুক্বাল্লিদ বলে (সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ১/১১৩।
[2]. Al-Suyuti notes in his autobiography that alam al-din Ibn-al-Humam, his chief guardian, also claimed to be a Muztahid (text, 63)
[3]. মিশকাত, হা/২৪৭, পৃ. ৫৩; আবুদাঊদ, হা/৪২৯৩, পৃ. ১৭৮, শায়খ আলবানী ‘ছহীহ’ বলেছেন।
[4]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহ, পৃ. ৪১-৪৫।
[5]. গবেষকের পর্যালোচনা।
[6]. সপ্ত ইসলামী বিশ্বিকোষ, ১/৩৭৫-৩৯৭ ।
