কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

বাবরি’র নিচে মসজিদ থাকতে পারে, মন্দির নয়

ভারতের বিখ্যাত বাবরি মসজিদে ৬ মাস ধরে খোঁড়াখুঁড়ির পর ২০০৩ সালের আগস্টে ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে (এএসআই) এলাহাবাদ হাইকোর্টকে জানায়, মসজিদের নিচে একটি মন্দির থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে সুপ্রিয় ভার্মা ও জয়া মেনন নামে দুই প্রত্মতাত্ত্বিক তখনই এএসআই’র বিরুদ্ধে খোঁড়াখুঁড়ি শুরুর আগেই পূর্বানুমান ধারণ করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালের খোঁড়াখুঁড়িতে যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়, সেগুলো মূলত এএসআই-এর আবিষ্কৃত। সুপ্রিয় ভার্মাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন রামমন্দিরের ওপর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন কোন প্রত্মতাত্বিক প্রমাণ রয়েছে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, কোন ধরনের প্রমাণ নেই। এমনকি আজও কোন প্রতমতাত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, বাবরি মসজিদের নিচে মন্দির রয়েছে।

কিন্তু কী প্রমাণের ভিত্তিতে এএসআই এমন দাবি করেছিল, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খননকার্য থেকে এএসআই মূলত তিন খণ্ড প্রমাণ পেয়েছে। একটি হল পশ্চিমমুখী দেওয়াল। ৫০টি স্তম্ভের গোড়া। আর কিছু স্থাপত্য খণ্ড। পশ্চিমমুখী দেওয়াল মূলত একটি মসজিদের বৈশিষ্ট্য। এই দেওয়ালের সামনে ফিরেই মুসলিমরা ছালাত আদায় করেন। এটি কোন মন্দিরের বৈশিষ্ট্য নয়। মন্দিরের বৈশিষ্ট্য পুরোই আলাদা। অপরদিকে যে ৫০টি স্তম্ভের গোড়ার কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণই ভুয়া। আমরা আদালতের কাছে বহুবার এই অভিযোগ করেছি। আমাদের যুক্তি হল, তারা যে জিনিসকে স্তম্ভের গোড়া বা ভিত্তি বলছে, তা মূলত ভাঙা ইটের খণ্ড। এগুলোর ভেতরে মাটি। এসবের ওপর কোন পিলার দাঁড় করানো একেবারেই অসম্ভব। তৃতীয় প্রমাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আর্কিটেকচারাল কিছু অংশবিশেষ। তারা বলছে যে, ৪০০-৫০০ টুকরো পাওয়া গেছে। এগুলো মূলত যেকোন ভবনেরই অংশ হতে পারে। এগুলো মূলত মসজিদের মেঝের ওপর পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ থেকে নেয়া হয়েছে।


Magazine