সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়িয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯ সালের বিশাল বাজেট ঘোষণা করেছেন সঊদী আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আযীয। ২৯ হাযার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বাজেটই দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। তবে এই বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে সাড়ে তিন হাযার কোটি মার্কিন ডলার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তেলের দাম কমতে থাকার কারণে এনিয়ে ষষ্ঠ বছরের মতো বাজেটে ঘাটতি রাখল দেশটি। যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের ঘোষিত ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় রিয়াদ।
সঊদীর রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক রাজকীয় আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী এবং সেনা সদস্যরা মাসিক এক হাযার রিয়াল সঊদী মুদ্রা) ভাতা পেতে থাকবেন। অবসরপ্রাপ্ত, সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাভোগী এবং শিক্ষার্থীদের পাওয়া ভাতার পরিমাণ বাড়বে দশ শতাংশ। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া পাঁচ শতাংশ ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশটির বাণিজ্যিক খাতগুলো। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবছর এখন পর্যন্ত ভ্যাট থেকে ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে। যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান জানিয়েছেন তেল বহির্ভূত খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ২০১৪ সালের ৩৪০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে এবছরে ৭৭০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই আয়ের পরিমাণ ৮৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। যা মোট রাজস্ব আয়ের এক-তৃতীয়াংশ। বাজেট ঘাটতি পূরণে রিজার্ভ থেকে শত শত কোটি ডলার উত্তোলন ছাড়াও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে হাযার হাযার কোটি ডলার ঋণ করেছে। অর্থমন্ত্রী মুহাম্মাদ আল-জাদান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সরকারি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে জিডিপির ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
