নরওয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি; আনুমানিক ৬–১৩ বছর বয়সি শিক্ষার্থী) শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে প্রায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য শিশুদের মৌলিক শেখার দক্ষতা ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা রক্ষা করা।
সরকার জানিয়েছে, ছোট শিক্ষার্থীদের আগে পড়া, লেখা ও গণিতে শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা জরুরী। অতিরিক্ত এআই ব্যবহার তাদের নিজস্ব চিন্তা ও অনুশীলনের পরিবর্তে সরাসরি উত্তরনির্ভর করে তুলতে পারে। পাশাপাশি, এ বয়সের শিশুদের এআইয়ের দেওয়া তথ্য সমালোচনামূলকভাবে যাচাই করার সক্ষমতাও এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের শেখার মান ও পরীক্ষার ফল নিয়ে উদ্বেগের কারণেও এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে নরওয়ে এআইকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেনি। ১৪–১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে এআই ব্যবহার করতে পারবে এবং ১৭–১৯ বছর বয়সীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এর আগে নরওয়ে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ এবং শ্রেণিকক্ষে কাগজের বইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে।
