বর্তমানে প্রচলিত প্রযুক্তির ব্যবহারে একটি শিশু জন্মের আগে তার লিঙ্গ বা শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, মায়ের গর্ভে থাকাকালীনই কীভাবে শিশুদের মস্তিষ্কের সণায়ু সংযোগ প্রক্রিয়ার প্রসার ঘটে, সেটা তারা জানতে পেরেছেন। ছয় বছরের গবেষণা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। আর এই প্রক্রিয়ায় জন্মের পর একটি শিশু কীভাবে চিন্তা করছে বা পৃথিবীকে কীভাবে দেখছে, সেটা জানা সম্ভব হবে। তারা বলছেন, গবেষণাটির প্রায়োগিক ব্যবহার সম্ভব হলে শিশুদের অটিজমের মতো মানসিক সমস্যার আগাম সঙ্কেত জানা যাবে এবং উপযুক্ত সময় ব্যবস্থা নিতে পারবেন চিকিৎসকরা। কিছুদিন আগেও শিশুর জন্মের পূর্বে শিশুর মস্তিষ্কের জটিল সণায়ুবিক সম্পর্ক চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল না। আর সেটা জানতেই এই গবেষণা।
গাইস অ্যান্ড সেন্ট থমাস হাসপাতাল, কিংস কলেজ লন্ডন, ইম্পেরিয়াল কলেজ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পর্কিত একটি বহুমাত্রিক রেখাচিত্র তৈরির উদ্দেশ্যে এই গবেষণাকর্মটি পরিচালনা করেন। তারা আশা করছেন, শিশুর জন্মের তিন মাস আগে তার মস্তিষ্কের স্নায়ুর গতিপথের চিত্রায়নের মাধ্যমে ডাক্তাররা যে কোন শিশুর সণায়ুর গঠনে কোন ভুল থাকলে, সেটা ধরতে পারবেন।
‘সেন্টার ফর দ্য ডেভেলপিং ব্রেইন’-এর পরিচালক ও প্রধান গবেষক ডেভিড এডওয়ার্ড বলেন, আমাদের সমাজে এমন অনেক শিশু রয়েছে, যারা জন্মগত ত্রুটি নিয়ে বেড়ে ওঠে। জন্মের আগে বা পরে যে কোন সময় তারা সণায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই সমস্যা চিহ্নিত করতে শিশুর জন্মের আগে স্ক্যান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে সে সময় ঘটে যাওয়া কোন অযাচিত পরিবর্তন আমরা দেখতে পারি।
গবেষণায় এক হাযার ৫০০ শিশুর সণায়ুবিক বিকাশের বিভিনণ দিক নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। নতুন প্রক্রিয়ায় গর্ভে থাকাকালীন শিশুর মস্তিষ্ক পরীক্ষার মাধ্যমে জন্মের সময় কী কী জটিলতা হতে পারে, সেটা নির্দেশ করা সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে, উন্নত এমআরআই স্ক্যান প্রযুক্তি, যেটা বিকাশমান মস্তিষ্কের বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করতে সক্ষম। প্রথম নিঃশ্বাস নেয়ার সময়ের মধ্যেই শিশুর প্রধান প্রধান সণায়ু সংযুক্ত হয়। গর্ভাবস্থায় শিশু ভ্রূণের মুক্তভাবে ধারাবাহিক অবস্থান পরিবর্তনের জন্য মস্তিষ্কের বিকাশের পরিষ্কার ছবি দেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু এই গবেষকরা এমন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন, যাতে করে ভ্রূণের নড়াচড়ার মধ্যেও ত্রি-মাত্রিক ছবি তৈরি করা যায়। এভাবে হাসপাতালে এমআরআই মেশিনের ব্যবহারের মাধ্যমে অসুস্থ মস্তিষ্কের শিশুদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
