কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩২) : অনলাইন থেকে ইনকাম অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং করে বা গ্রাফিক্স ডিজাইন করেইনকাম করা কি জায়েয?

উত্তর : ইনকাম বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে মূল নীতি হচ্ছে, তা বৈধ পন্থায় বৈধ জিনিস হওয়া। আবূ হুরায়রা রযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর খন্ড নিক্ষেপের মাধ্যমে কেনা-বেচা ও প্রতারনামূলক ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫১৩; মিশকাত, হা/২৮৫৪)। সুতরাং যেকোনো বৈধ পন্থার বৈধ উপার্জন ইসলামে বৈধ ও হালাল। কেননা অবৈধ রিযিক্ব খেয়ে কারো ইবাদত আল্লাহ কবুল করবেন না। মহান আল্লাহ হালাল রিযিক্ব ভক্ষণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের যেসব পবিত্র জিনিস রিযিক্ব হিসাবে দিয়েছি তা হতে খাও’ (আল-বাক্বারা, ২/১৭২)। আবূ বারযা আসলামী রযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কোনো বান্দা তার পদদ্বয় এক ধাপ নড়াতে পারবে না। ...তার সম্পদ সম্পর্কে কোথায় থেকে তা উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে (তিরমিযী, হা/২৪১৭; মিশকাত, হা/৫১৯৭)। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক একটি কর্ম ব্যবস্থা। একজন মানুষ যেমন চাকুরী, ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করে তদ্রুপ একজন ব্যক্তি অনলাইনে মুক্তভাবে বিভিন্ন কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারে। সুতরাং ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকুরীর অর্থ হালাল ও বৈধ হওয়ার জন্য যেমন সূদ-ঘুষ, হারাম ও সকল ধরণের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকা জরুরী। তদ্রুপ ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও সূদ-ঘুষ, হারাম, অবৈধ কাজ, থেকে মুক্ত থাকতে হবে। তবেই ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করা বৈধ হবে।

প্রশ্নকারী : আল-আমীন

ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ।


Magazine