কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

একের পর এক আলেমের উপর হামলা : কোন দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি?

আলাপন :*আলেমদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ইসলাম। ইসলামের ভালোবাসা তাঁদের হৃদয়ের গভীরে প্রথিত। তাঁরা ইসলামের অতন্দ্র প্রহরী। তাঁরা হলেন দ্বীন রক্ষার ঢাল ও সুদৃঢ় প্রাচীর। ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় তাঁরা সদা প্রস্তুত থাকেন। যেকোন বাতিল মতবাদকে প্রতিহত করতে তাঁরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। হক্ব কথা বলতে গিয়ে যেকোন হুমকি বা আশঙ্কার সম্মুখীন হতে তারা মোটেও পিছপা হন না। হক্ব প্রতিষ্ঠায় জান-মাল ব্যয় করতে পারাকে তাঁরা গৌরবের বিষয় মনে করেন। বাতিলের মুখোশ উন্মোচন করতে তাঁরা মোটেও কালক্ষেপণ করেন না। বিদআতের কলুষ থেকে মুক্ত হয়ে সুন্নাত তাঁদের হাতেই হয়ে ওঠে জীবন্ত। যেকোনো শারঈ সমস্যা সমাধানে তাঁদের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ‘যদি ‍তোমরা না জেনে থাকো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো (আন-নাহল, ১৬/৪৩)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নক্ষত্ররাজির উপর পূর্ণিমার চাঁদের যেমন প্রাধান্য, ঠিক তেমনি (মূর্খ) আবেদগণের উপর আলেমগণের প্রাধান্য। তাঁরা নবীগণের উত্তরাধিকারী’[1] হওয়ায় তাঁদের বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুগে যুগে প্রত্যেক হক্বপন্থী আলেমকে নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। হতে হয়েছে বিপদ ও সমস্যার মুখোমুখী। সম্প্রতি একের পর এক তাঁদের উপর হামলা সেই বাস্তবতাকেই যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফের উপর হামলা : গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ রোজ রবিবার দুপুরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মল্লিকপুরে ইসলামবাজার আল-ফুরকান মসজিদে যোহরের ছালাত আদায় করে সিলেটে ফেরার পথে শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ হামলার শিকার হন। স্থানীয় সূত্র হতে জানা যায়, রবিবার বাদ যোহর মল্লিকপুর গ্রামের আল-ফুরকান মসজিদের পরিচালনা কমিটি একটি দ্বীনী আলোচনার আয়োজন করে। আল-জামি‘আহ্ আস-সালাফিয়্যাহ্, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জের পরিচালক শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ উক্ত সভার আলোচক হিসেবে আমন্ত্রিত হন। তিনি মসজিদে যোহরের ছালাত শেষে গাড়িতে করে মধ্যাহ্নভোজের দাওয়াতে স্থানীয় একজন দ্বীনী ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার পথে কতিপয় দুর্বৃত্ত কর্তৃক হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফের গাড়ি রাস্তায় আসা মাত্রই ১০-১২ জন যুবক ইট-পাটকেল ও লাঠি-সোঁটা দিয়ে তাঁর গাড়ীতে হামলা চালায়। ফলে তাঁর গাড়ির প্রায় সব গ্লাস ভেঙে যায়। গাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আক্রমণকারীদের হামলায় শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, আয়োজক আতিকুর রহমান মিঠু ও তাঁর সফরসঙ্গী হুমায়ুন কবীর রিপনসহ আরো দুইজন আহত হন।[2] গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ রাত নয়টায় জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল 'Face The People' লাইভ টকশোতে সেই দিনের ভয়াবহ ও অতর্কিত হামলার বিবরণ শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ নিজেই তুলে ধরেন এবং তাঁর উপর আরোপিত মিথ্যা অভিযোগের দাঁত ভাঙা জবাব দেন। উল্লেখ্য, শায়খের উপর ঐ হামলার ঘটনায় দল-মত নির্বিশেষে সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সেই সাথে আল-জামি‘আহ্ আস-সালাফিয়্যাহ্, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী কর্তৃক আয়োজিত গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষকগণ অগ্নিঝরা প্রতিবাদী বক্তব্য পেশ করেন।

মাওলানা হাসিবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর : গত ০৭-০২-২০২১ খ্রিষ্টাব্দ, রবিবার কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার গোবিন্দ্রপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে ইসলামিক মাহফিল চলাকালীন সময়ে স্থানীয় গুণ্ডাবাহিনী চলমান ঐ দ্বীনী মাহফিলে বাধা দেয় এবং মাওলানা হাসিবুর রহমানসহ আরো অনেকের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে জনাব মাওলানা হাসিবুর রহমান লাকসাম থানায় যোগাযোগ করলে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।[3]

মাওলানা নূহ বিন হুসাইনের উপর হামলা : গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সিলেট থেকে ফেরার পথে একদল সন্ত্রাসী মৌলভীবাজারের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা নূহ বিন হুসাইনের উপর হামলা করে এবং তার মোবাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।[4]

হাফেয ওমর ফারুকের উপর নির্যাতন :চাঁদপুরের কচুয়ার সাতবাড়িয়ায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই মাদরাসার হিফয বিভাগের ১৩ বছরের ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ছিাল। উক্ত মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পরিস্কার হয়ে যায় যে, অভিযুক্ত উক্ত শিক্ষক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে শত্রুতার জের ধরে মাদরাসা বন্ধের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ঐ শিক্ষককে ফাঁসানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মাদরাসার সেই শিক্ষকের নাম হাফেয ওমর ফারুক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঐ মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষক নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীর বাবা। ক্ষমা চাওয়ার সময় ছেলেটির বাবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কেঁদে ফেলেন। নির্যাতনের শিকার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুরুতে তিনি মামলা করতে রাজি ছিলেন না বলে জানান।[5]

গত ১ জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যায় কচুয়া জামিয়া আহমাদিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফার নেতৃত্বে মাদরাসার এক মিটিং-এ সাংবাদিক, আইনজীবীদের সামনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়। যেখানে ষড়যন্ত্রের শিকার সেই শিক্ষক নির্দোষ প্রমাণিত হন। চাঁদপুরের কচুয়ার সাতবাড়িয়ায় তা‘লীমুল কোরআন মাদরাসার শিক্ষক হাফেয ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ১৩ বছরের ছাত্রকে বলাৎকারের মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। পুলিশ অভিযুক্ত সেই শিক্ষক ওমর ফারুককে (২২) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। একজন আলেমের প্রতি নির্যাতনের এমন ভিডিও (সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হওয়া) দেখে আমি নিজেই কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। মিথ্যা বলাৎকারের অভিযোগে তাঁকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা ভয়াবহ। দুই মাস পর জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল 'Fছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরাযিয়াল্লাহু আনহুআলাইহিস সালাম হাফিযাহুল্লাহরাযিয়াল্লাহু আনহুমাআলাইহিস সালাম রাহিমাহুল্লাহআলাইহিস সালামoরাহিমাহুল্লাহlআলাইহিস সালাম'-এ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ রাত সাড়ে আটটায় হাফেজ ওমর ফারুক সেই দিনের ভয়াবহ হামলা ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বার বার কেঁদে ফেলেন। তাঁর ঐ কান্না দেখে আমরাও কান্না ধরে রাখতে পারিনি। আপনারা যারা ঐ লাইভ টকশোটি দেখেছেন, আপনারা নিশ্চয়ই কেঁদেছেন।

আমরা কচুয়ার ওই ঘটনার বিচার দাবি করছি। একজন অসহায় আলেমের পাশে, একজন নির্যাতিত নায়েবে নবীর ইজ্জত রক্ষায় তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক মুসলিমেরই উচিত। কোনরূপ ধামাচাপা, আপস নয়, যারা এই আলেমের গায়ে হাত তুলেছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে তাদের বিচার দাবি করছি। দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়?

হেযবুত তাওহীদের হাতে দুজন আলেম আহত : গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ গাংনী মেহেরপুরে থানায় হেযবুত তাওহীদের কুফরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দাবিতে কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচী থেকে বাসায় ফেরার পথে মাওলানা হুমায়ুন কবীর ও তাঁর সহযোগীরা ১০/১৫ জন মটরসাইকেল আরোহী কর্তৃক অবরোধের শিকার হন। তারা এসেই মাওলানা ও তাঁর সহযোগীদের মটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেয় এবং এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করে। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হেলমেট খুলে নিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করে।[6] উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ঈমান বিধ্বংসী নব্য ফিতনা হলো ‘হেযবুত তাওহীদ’। ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ‘হেযবুত তাওহীদ’ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর ঈমান নষ্টকারী ফিতনা।[7]

নিরীহ আলেম-উলামার উপর কাদিয়ানীদের হামলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরীহ আলেম-উলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের উপর কাদিয়ানী অনুসারীরা নির্মমভাবে হামলা করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খতমে নবুওয়াত মাদরাসা দখল করার চেষ্টা চালায়। ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে কাদিয়ানীরা এ সাহস পায় কোত্থেকে? কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মানুষরা মুসলিমদের সঙ্গে সামান্যতম সম্পর্ক রাখতেও চায় না।[8] অথচ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকের মুখে মদীনার সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা শোনা যায়। সেই দেশে, সেই মদীনার নবী, শেষ নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অস্বীকারকারী কাদিয়ানীরা নিরীহ আলেম-উলামার উপর হামলা করার মতো দুঃসাহস দেখায় কীভাবে! আমরা মনে করি, এখনই এদের সমূলে নির্মূল করার সময়। পণ্য বর্জন করে তাদের কোণ্ঠাসা করার সময়।

কিছু কথা, কিছু ব্যথা : ইসলামে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দলভেদ থাকতে পারে না। বস্তুত আমাদের একটিই দল আছে, তার নাম ‘ইসলাম’। সকল মুসলিম আল্লাহর দল এবং সকল কাফের শয়তানের দল। শয়তানের দলকে মুমিন অন্য দল বলে মনে করেন। কোনো মুসলিমকে অন্য মুসলিম অন্য দল বলে মনে করতে পারেন না। পদ্ধতিগত বা মতামতগত পার্থক্যের কারণে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে দলাদলি ও বিভক্তি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনা ও কষ্টের।[9]

আলেম-উলামার উপর হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। যে উলামায়ে কেরাম এ দেশের মানুষের মাঝে নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার জন্য, মানুষকে মনুষ্যত্বের শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই ওলামায়ে কেরামের জীবন যদি এভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে, হুমকির মধ্যে পড়ে, তাহলে সেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর এবং দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি, এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলের দায়িত্ব আছে। বিশেষ করে উলামায়ে কেরাম যারা আছেন, তাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা উচিত। কেন তাদের উপর হামলা হচ্ছে? আমরা কি অসহিষ্ণুতায় পড়েছি? আমাদের অভ্যন্তরীণ যে চিন্তাধারার মতপার্থক্য আছে, সেগুলোর চর্চা করতে গিয়ে আমরা কি সীমালঙ্ঘন করে ফেলেছি? একে অপরকে সহ্য করার যে মানসিকতা থাকার কথা, আমরা কী সে মানসিকতা হারাতে বসেছি? এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সিরিয়াসলি ভাবা উচিত। তা না হলে যদি এভাবে চলতেই থাকে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে এদেশে যারা সেক্যুলার ও নাস্তিক্যবাদি শক্তি আছে, তারা এগুলো দেখে মজা নিবে। আমাদের মধ্যে যেন আরো বেশি হানাহানি হয়, আমরা যেন আরো বেশি বিপদে পড়ি, সেগুলো তারা চাইবে। একটা সময় ছিল এ দেশের প্রায় সবাই (নামধারী ও লেবাসধারী আলেম) ডা. যাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মাহফিল গরম করেছিল। পিস টিভির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল? তারা হয়তো ভেবেছিল পিস টিভি বন্ধ হলে আমরা দিব্যি সারা দেশে দ্বীন প্রচার করতে পারব। কিন্তু হচ্ছেটা কী? আসলে চরম বাস্তবতা হলো, উপরে থুথু ফেললে তা উল্টো নিজের উপরই পড়বে। হায়রে মুসলিম জাতি! হুঁশ কবে ফিরবে? ঘুম কবে ভাঙবে?

দেশের ওলামায়ে কেরামকে মাহফিলের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। তাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে সিনিয়র ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, তাদের ভাবতে হবে- কেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে? সেই সাথে সেগুলোর কারণ চিহ্নিত করে তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। আর যাঁরা যাচ্ছেন, তারাও দাওয়াত পেলেই যেন না যান। বরং যেখানে যাচ্ছেন, সেই জায়গার পরিবেশ-পরিস্থিতি সবকিছু দেখে-শুনে-বুঝে তারপর দাওয়াত কনফার্ম করবেন এবং যারা দাওয়াত দিচ্ছেন, তাদের কতটুকু যোগ্যতা আছে আলেমদের নিরাপত্তা দেওয়ার সে বিষয়টিও ভেবে দেখবেন। আলেমের সহযোগী যারা আছেন, বিষয়টি তাদেরই খতিয়ে দেখার দায়িত্ব বেশি। কোনো আলেমকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া মোটেই ঠিক না। আয়োজকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যাকে তাকে যেকোনো জায়গায় দাওয়াত দেওয়া উচিত না। যে আলেমকে যেখানে নিরাপত্তা দিতে পারবে না বা তাঁর দায়-দায়িত্ব নিতে পারবে না, অন্তত তাকে নিরাপদে ফেরত দেওয়ার মতো যতটুকু আয়োজন করা দরকার, ততটুকুতো করা উচিত। ওলামায়ে কেরামকে ডেকে এনে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না। আর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব রয়েছে প্রশাসনের। কারণ, তাদের গাফলতির কারণে যদি ওলামায়ে কেরামের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে, তাহলে সেটা আমাদের কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না। আমরা ওলামায়ে কেরামের সকলের নিরাপত্তা কামনা করি। আল্লাহ তাআলা সবাইকে নিরাপদে ও হেফাযতে রাখুন- আমীন!

* খত্বীব, গছাহার বেগ পাড়া জামে মসজিদ (১২ নং আলোকডিহি ইউনিয়ন), গছাহার, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর; সহকারী শিক্ষক, চম্পাতলী জান্দি পাড়া ইসলামিক একাডেমি, চম্পাতলী বাজার, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

[1]. সুনানে তিরমিযী, হা/২৬৮২।

[2]https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2021/02/15/1005169.

[3]. দেশ সময়, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (অনলাইন সংস্করণ)।

[4]. ফেসবুক পেজ : কওমী সংবাদ qawminews, 17 February at 11:12 (Public).

[5].  https://publicvoice24.com/2021/01/02/allegations-of-rape-and-torture-of-a-teacher-for-closing-a-madrasa-in-chandpur.

[6]https://m.facebook.com/muftishamsuddohaasrafi.

[7]. হেযবুত তাওহীদ (পরিচয়। ভ্রান্ত মতবাদ। অপনোদন), ঢাকা : ফজর পাবলিকেশন্স, প্রথম বাংলা সংস্করণ : সেপ্টেম্বর ২০১৯, পৃ. ১০।

[8]. কে এই কাদিয়ানী, (ঢাকা : আশরাফী বুক ডিপো, তৃতীয় প্রকাশ : জানুয়ারি ২০১৬), পৃ. ৭৭।

[9]. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ, আল্লাহর পথে দাওয়াত (ঝিনাইদহ : আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, পুনর্মুদ্রণ : অক্টোবর ২০১৭), পৃ. ৬৩।

Magazine