কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১১) : মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে জুম‘আর দিন মসজিদে ক্ষীর, খুরমা, বাতাসা বিতরণ করা যাবে কি?

উত্তর : কেউ যদি মসজিদের মুছল্লীদের খাওয়ানোর জন্য মানত করে থাকে তাহলে তা বিতরণ করা যাবে এবং সকলেই খেতে পারবে। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যমূলক কোনো কাজের মানত করে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর যে তার অবাধ্যতামূলক কাজের মানত করে সে যেন তা পূর্ণ না করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭০০; মিশকাত হা/৩৪২৭)। আর কোনো কল্যাণের আশায় ছাদাক্বা হিসাবেও তা বিতরণ করা বা দান করা যাবে তবে তা সবাই খেতে পারবে না। বরং তা ফকীর, মিসকীন, দরিদ্র বা অসহায় ব্যক্তিরা খাবে। আর যদি মুসলিম ভাইদের জন্য কেউ হাদিয়া হিসাবে খাওয়ায় তাহলে সবাই খেতে পারবে। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন কোনো খাদ্য আনা হতো তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, ‘এটা হাদিয়া না ছাদাক্বাহ? যখন বলা হতো, এটা ছাদাক্বাহ। তখন তিনি না খেয়ে তাঁর সহচরদেরকে বলতেন, ‘তোমরা খাও’। আর যখন বলা হতো হাদিয়া, তখন তিনি তাতে হাত দিতেন এবং তাদের সাথে খেতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৭৬; মিশকাত, হা/১৮২৪)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘যারা উপার্জন করে খেতে পারে তাদের জন্য ছাদাক্বাহ খাওয়া জায়েয নয়’ (ছহীহ আবুদাঊদ, হা/১৬৩৩; নাসাঈ, হা/২৫৯৮; মিশকাত, হা/১৮৩২)। উল্লেখ্য যে, জুম‘আর পরে খাওয়া ও খাওয়ানোর স্থায়ী প্রচলন ঘটানো নতুন বিদ‘আতের জন্ম দিতে পারে তাই সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।

-সাকিবুল ইসলাম

 পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।


Magazine