কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৬) : দুই বছর পূর্বে আমার বোনের বিবাহ হয়েছে। বাবা-মা উভয়েই জীবিত আছেন। এমতাবস্থায় বোনের প্রাপ্য অংশ কি তাকে লিখে বা বণ্টন করে দেওয়া যাবে?

উত্তর : জীবিত অবস্থায় সম্পদ বণ্টন না করাই উত্তম। কারণ সম্পদ বণ্টন হয় মালিকের মৃত্যুর পরে। তবে বোনের প্রাপ্য অংশ যদি তাকে লিখে বা বণ্টন করে দিতে চায় তাহলে তা সকল সন্তানকেও ইনছাফের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অংশ হারে বণ্টন করে দিতে হবে। নু‘মান ইবনু বশীর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তার বাবা তাকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, আমার এই সন্তানকে আমি একটি গোলাম দান করেছি। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তুমি তা ফেরত নাও। অপর বর্ণনায় আছে, তুমি কি চাও যে, তারা সকলে তোমার সাথে সমানভাবে সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে এরূপ জায়েয হবে না। অপর বর্ণনায় আছে, নু‘মান রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমার বাবা আমাকে কিছু দান করলেন। তখন আমার মা আমরাহ বিনতে রাওয়াহা বললেন, আমি এটাতে রাযী না, যতক্ষণ না আপনি এটাতে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাক্ষী না রাখেন। সুতরাং আমার বাবা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, আমি আমরাহ বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার এই সন্তানকে একটি উপহার প্রদান করেছি, কিন্তু আমরাহ আমাকে বলেছে, আপনাকে যেন সাক্ষী রাখি। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সকল সন্তানের মধ্যে সমানভাবে সদ্ব্যবহার করো। নু‘মান রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সুতরাং তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন এবং স্বীয় দান ফিরিয়ে নিলেন। অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি অন্যায়ের উপর সাক্ষী হই না (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৮৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২৩; মিশকাত হা/৩০১৯)।

-সাঈদুল ইসলাম

রশিদপুর, জামালপুর।


Magazine