কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৯) : আমি একজন প্রবাসী। কিছু দিন পূর্বে স্ত্রীর সাথে ফোনালাপের এক পর্যায়ে ঝগড়া শুরু হলে রেগে গিয়ে তাকে এক সাথে তিন তালাক দিই। উক্ত তালাক কার্যকর হবে কি?

উত্তর : রাগান্বিত অবস্থায় স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেও তালাক গণ্য হবে। তবে তা হবে এক তালাক। কেননা এক বৈঠকে যতবারই তালাকের কথা বলুক তা এক তালাক বলেই গণ্য হবে। ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু রুকানা রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন তখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নাও’। তিনি বললেন, আমি তাকে তিন তালাক দিয়ে দিয়েছি। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি তা জানি, তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও’ (আবুদাঊদ, হা/২১৯৬)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবু রুকানা রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন তাঁর স্ত্রীকে এক সাথে তিন তালাক দেন, তখন তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীকে তাঁর কাছে ফেরৎ দেন এবং বলেন, এটি এক তালাক হিসাবে গণ্য (আহমাদ, হা/২৩৮৭; ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ২১/২৭৪)। অপর এক বর্ণনায় আছে একবার জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক সঙ্গে তিন তালাক দিয়েছে জানতে পেরে রাগে উঠে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করা হচ্ছে? অথচ আমি তোমাদের মাঝে রয়েছি’। তখন একজন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি ওকে হত্যা করব না? (রাওযাতুন নাদিয়াহ, তাহক্বীক্ব আলবানী, ২/৪৭ পৃ.; হেদায়াতুর রুয়াত, হা/৩২২৯, ৩/৩১৩ পৃ.; মুহাল্লা, মাসআলা নং ১৯৪৫)। উক্ত হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণ হয় যে, মানুষ তার স্ত্রীকে এক বৈঠকে তিন তালাক দিলে ইদ্দতের মধ্যে (অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে) ফিরিয়ে নিতে পারে। নতুন করে বিবাহ দিতে হবে না (ইবনু মাজাহ, হা/১৯৩৪, ১৯৩৫, ১৯৩৬)। উল্লেখ্য যে, ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর শাসনামলের শেষ দিকে মানুষের তাড়াহুড়ার কারণে তিনি এক সাথে প্রদত্ত তিন তালাককে ‘তিন তালাক’ হিসাবে গণ্য করেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৭২)। এটা ছিল তাঁর সাময়িক ও প্রশাসনিক ফরমান এবং ইজতিহাদ। অতএব আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহর দিকেই ফিরে যেতে হবে।

-মাহমুদুর রহমান মামুন ও মারুফুর রহমান

 সৌদি আরব।


Magazine