১. একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যই ইবাদত করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ইবাদতের কোনো অংশ অন্য কারও উদ্দেশ্যে করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ‘আর তাদেরকে এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই ইবাদত করবে, তাঁরই জন্য দ্বীনকে খাঁটি রাখবে’ (আল-বাইয়িনাহ, ৯৮/৫)। তিনি আরও বলেন,وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ‘আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য’ (আয-যারিয়াত, ৫১/৫৬)।
২. শিরক ও শিরকের সব উপায় ও মাধ্যম থেকে দূরে থাকতে হবে এবং শিরকের নিকটবর্তী নিয়ে যাবে এমন মাধ্যম থেকেও দূরে থাকতে হবে।
৩. মুসলিমদের সঙ্গে গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক রাখতে হবে; কিন্তু কাফেরদের সাথে তেমনটা করা যাবে না; তবে সবকিছুই ইসলামী শরীআতের নির্ধারিত সীমারেখা অনুযায়ী হওয়া চাই।
৪. সবসময় আল্লাহর পর্যবেক্ষণ অনুভূতিতে রাখতে হবে এভাবে যে, তিনি আমাদের প্রতিটি অবস্থাই জানেন ও দেখেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন’ (আল-হাদীদ, ৫৭/৪)।
৫. আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে দূরে থাকতে হবে, কারণ এগুলো আল্লাহর ক্রোধ এবং শাস্তির কারণ তৈরি করে।
৬. দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকতে হবে এবং টিকে থাকতে হবে, ফেতনা বা দুনিয়ার কোনো প্রলোভন এলে সেখান থেকে বিচলিত হওয়া যাবে না। আল্লাহ বলেন,فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ ‘আপনাকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী আপনি দৃঢ় থাকুন’ (হূদ, ১১/১১২)।
৭. আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ‘আর তোমরা যদি মুমিন হও, তবে আল্লাহর উপরই ভরসা রাখো’ (আল-মায়েদা, ৫/২৩)। তবে এর সাথে সাথে উপায়-উপকরণ গ্রহণ করাও আবশ্যক।
৮. আল্লাহর ফয়সালা ও তাক্বদীরের উপর ধৈর্যধারণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ ‘আর যা কিছু আপনার উপর (বিপদ) আপতিত হয়, তার উপর ধৈর্য ধরুন’ (লুকমান, ৩১/১৭)।
৯. আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে ও নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (আন-নূর, ২৪/৩১)।
১০. ফরয ও অবশ্য পালনীয় কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। হাদীছে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন,مَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ أَدَاءِ مَا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ ‘আমার বান্দা আমার কাছে যতটা প্রিয় হয়, তা ফরয আমলের মাধ্যমে হয়, যেটা আমি তার উপর ফরয করেছি’।[1]
১১. নেক আমলের প্রতি দ্রুত ধাবিত হতে হবে। আল্লাহ বলেন, وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও’ (আলে ইমরান, ৩/১৩৩)।
১২. আল্লাহর বাণীকে মানুষের কথার উপর প্রাধান্য দিতে হবে এবং কোনো যুক্তি বা আইনকে আল্লাহর বাণীর উপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। আল্লাহ বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১)।
১৩. নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ বলেন,وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ‘সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমরা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে’ (আল-বাকারা, ২/২৮১)।
১৪. হৃদয়কে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রেম ও শ্রদ্ধা থেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।
১৫. যেসব জিনিসকে আল্লাহ মহিমান্বিত করেছেন, সেগুলোকে সম্মান করতে হবে। যেমন- কুরআন ও হাদীছ; পবিত্র স্থানসমূহ, যেমন- মক্কা, মদীনা, মসজিদসমূহ; যাদের আল্লাহ মর্যাদা দিয়েছেন, যেমন- নবীগণ, আলেমগণ ও পিতামাতা। তবে এই সম্মান হতে হবে শরীআতের সীমার মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি ছাড়াই।
১৬. ছোট ছোট গুনাহকেও হালকা মনে করা যাবে না, কারণ এগুলো বড় গুনাহের দিকে ধাবিত করে। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু তাবেঈদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,إنَّكُمْ لَتَعْمَلُونَ أعْمالًا هي أدَقُّ في أعْيُنِكُمْ مِنَ الشَّعَرِ، إنْ كُنَّا لَنَعُدُّها علَى عَهْدِ النَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ المُوبِقاتِ ‘তোমরা এমন কিছু কাজ কর, যেগুলো তোমাদের চোখে চুলের চাইতেও সূক্ষ্ম মনে হয়। অথচ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমরা সেগুলোকে ধ্বংসাত্মক গুনাহ বলে মনে করতাম’।[2]
যদি মর্যাদাপূর্ণ তাবেঈদের ক্ষেত্রেও এমন মন্তব্য করা হয়, তবে আজকের যুগে আমাদের অবস্থা কেমন হতো?
১৭. মন্দ কাজ ও বিদআতের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা এগুলোকে ঘৃণা করেন।
১৮. আল্লাহ তাআলার সত্তা নিয়ে চিন্তা না করে, বরং তাঁর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। হাদীছে এসেছে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, تفكَّروا في خَلْقِ اللهِ، ولا تفَكَّروا في اللهِ ‘তোমরা আল্লাহর সৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা করো, কিন্তু আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তা করো না’।[3]
মূল: সুলতান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উমরী
অনুবাদ : হুসাইন আহমাদ আল-ইয়াদী
অধ্যয়নরত, কুল্লিয়া ২য় বর্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫০২।
[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৯২।
[3]. ছহীহুল জামে‘, হা/২৯৭৬।
