কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

পিতা-মাতার সাথে একজন মুসলিমের আচরণ

post title will place here

মানুষের জীবনে পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত মহান। তারা সন্তানের জন্ম, লালনপালন ও শিক্ষাদানে অসীম ত্যাগ স্বীকার করেন। ইসলাম পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণকে আল্লাহর ইবাদতের পরেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। একজন মুসলিমের জন্য পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সেবা ও সদ্ব্যবহার করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্তব্য। তাই পিতা-মাতার সাথে একজন মুসলিমের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা জানা ও বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরী

১. তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা এবং তাদের প্রতি ইহসান করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ‘আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি’ (আল-আহক্বাফ, ৪৫/১৫)

২. তাদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলা। আল্লাহ বলেন, وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ‘তাদেরকে সম্মানজনক কথা বলো’ (আল-ইসরা, ১৭/২৩)। আর তাদের সাথে উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলা। আল্লাহ বলেন, فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ ‘তাদেরকে ‘উফ্‌’ পর্যন্ত বলো না’ (আল-ইসরা, ১৭/২৩)

৩. তাদেরকে নাফরমানী ছাড়া সকল বিষয়ে অনুসরণ করা। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ ‘অনুসরণ শুধু ভালো কাজে’।[1]

৪. তাদের প্রয়োজনে খরচ করা, বিশেষ করে যখন তারা বৃদ্ধ হয়ে যায়।

৫. উপযুক্ত সময় ও উপলক্ষ্যে তাদেরকে উপহার দেওয়া।

৬. তাদের নাম ধরে না ডেকে ‘আব্বা’, ‘আম্মা’ ইত্যাদি সম্মানসূচক শব্দে ডাকবে। এমনকি যদি তারা কাফেরও হয় তবুও। যেমন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তার কাফের পিতাকে বলেছিলেন, ‘ইয়া আবাতি’ (হে আমার পিতা!)।

৭. তাদের কোনো আচরণে কষ্ট পেলেও ধৈর্যধারণ করা। হাদীছে এসেছে, فَفِيْهِمَا فَجَاهِدْ ‘তাদের ক্ষেত্রেই জিহাদ করো’।[2]

৮. তাদের জন্য কল্যাণের দু‘আ করা।

৯. তাদের যতটুকু সম্ভব সেবা করা। আল্লাহ বলেন, وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ‘তাদের সঙ্গে দুনিয়ায় সদ্ব্যবহার করো’ (লুক্বমান, ৩১/১৫)

১০. যদি সন্তান তাদের সাথে না থাকে, তবে তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া ও দেখা করা।

১১. তারা মারা গেলে তাদের জন্য রহমতের দু‘আ করা, মাগফিরাত কামনা করা, তাদের পক্ষ থেকে দান-ছাদাক্বা করা, তাদের ইচ্ছাগুলো পূরণ করা এবং তাদের আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।

১২. তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে শোনার মানসিকতা রাখা।

১৩. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেওয়া ও মতামত চাওয়া।

১৪. তাদের অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, বিশেষ করে সফরের ক্ষেত্রে।

১৫. তাদের (পিতা-মাতা) সংশোধনের ব্যাপারে কখনো হতাশ না হওয়া।

১৬. সুন্দর উপায়ে ও কোমলভাবে তাদেরকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করা।

১৭. যখন তুমি তাদের থেকে দূরে থাক, তখন ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।

১৮. স্ত্রী যেন পিতা-মাতার প্রতি অবাধ্যতা বা অবহেলার কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা।

১৯. ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নিশ্চিত হওয়া যে, বাইরে তাদের কোনো প্রয়োজন আছে কি-না।

২০. তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভদ্রতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা।

২১. যদি তাদের থেকে কোনো অন্যায় দেখ, তবে তা সংশোধনের ইচ্ছায় কঠোরতা বা রূঢ় ব্যবহার না করা; বরং প্রজ্ঞা, কোমলতা ও নম্রতার সাথে উপদেশ দেওয়া। আল্লাহ বলেছেন,وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ‘আর তুমি যদি কঠোর ও রূঢ় হৃদয়ের হও, তবে তারা তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে’ (আলে ইমরান, ৩/১৫৯)

২২. মিষ্টভাষী হওয়া এবং তাদেরকে আনন্দিত করা।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করে তাঁর প্রিয়পাত্রে পরিণত হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!


মূল: সুলতান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উমরী

অনুবাদ: হুসাইন আহমাদ বিন সাইদুর রহমান* 

 অধ্যয়নরত, কুল্লিয়্যাহ ২য় বর্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

 

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৭১৪৫।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৩০০৪।

Magazine