কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

উলামায়ে কেরামের সাথে একজন মুসলিমের আচরণ

post title will place here

ইসলামে উলামায়ে কেরামের মর্যাদা অত্যন্ত মহান। তারা নবীগণ আলাইহিমুস সালাম-এর উত্তরসূরি এবং দ্বীনের জ্ঞান মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে উলামায়ে কেরামের প্রতি একজন মুসলিমের কর্তব্য কেমন হওয়া উচিত— এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উলামায়ে কেরামকে ভালোবাসা। কেননা তাঁরা নবীগণ আলাইহিমুস সালাম-এর উত্তরসূরি। যেমনটি ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।

২. তাদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ঈমান রাখা এবং বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তাআলার নিকট তারা উচ্চ মর্যাদার অধিকারী।

৩. উপস্থিতিতে ও অনুপস্থিতিতে আলেমদের সম্মান করা এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করা।

৪. তাদের থেকে জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে আগ্রহী থাকা।

৫. কোনো আলেম ভুল করলে সে কারণে তার নিন্দা না করা।

৬. আলেমদের গীবত করা বা তাদের নিয়ে উপহাস করা হারাম।

৭. আলেমদের সাক্ষাতে যাওয়া বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য উপযুক্ত সময় নির্বাচন করা।

৮. তাদের নিকট প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখা।

৯. ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তারা যে অবদান রেখেছেন, তার প্রতিদানে তাদের জন্য কল্যাণের দু‘আ করা।

১০. তাদের শিক্ষা ও উপদেশ সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচার করা।

১১. যেসব বিষয়ে তাদের বক্তব্য কুরআন ও সুন্নাহসম্মত, সেসব বিষয়ে তাদের অনুসরণ করা।

১২. এটা মনে রাখা যে, আলেমগণ নিষ্পাপ নন; বরং অন্যান্য মানুষের মতো তারাও ভুল করেন, রাগ করেন এবং ভুলে যান। তবে এটাও জানা উচিত যে, তাদের ভালো কাজ তাদের ভুলের তুলনায় অনেক বেশি।

১৩. মানুষ যখন তাদের কষ্ট দেয় বা আঘাত করে, তখন যথাযথভাবে তাদের পক্ষ সমর্থন করা এবং মর্যাদা রক্ষা করা।

১৪. তাদের থেকে কোনো ফতওয়া বা মতামত শুনলে তা যাচাই-বাছাই করা।

১৫. তারা কোনো ভুল করলে তা শালীন ভাষায় ও সম্মানের সঙ্গে তাদের জানানো।

১৬. তাদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা।

১৭. তারা যদি কোনো কারণে কটুকথা বলেন বা ভর্ৎসনা করেন, তবে তা ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করা।

১৮. তাদের প্রতি আস্থা রাখা এবং শত্রুদের কথায় তাদের সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ না করা।

১৯. তাদের সম্মানসূচক উপাধিতে সম্বোধন করা।

একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো উলামায়ে কেরামের প্রতি সম্মান, আদব ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তাদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং দ্বীনের বিষয়ে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা একজন মুমিনের ঈমানী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তবে সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে তাদের বক্তব্য যাচাই করাও জরুরী। আলেমদের মর্যাদা রক্ষা, তাদের থেকে উপকৃত হওয়া এবং তাদের জন্য দু‘আ করা মুসলিম সমাজে ঐক্য, জ্ঞান ও দ্বীনের সঠিক চর্চা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মূল: সুলতান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উমরী

অনুবাদ: হুসাইন আহমাদ বিন সাইদুর রহমান*

অধ্যয়নরত, কুল্লিয়্যাহ ২য় বর্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

Magazine