কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আবারো ক্ষমতায় আসায় ভারতের উত্তরপ্রদেশে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের আধিপত্য চরমে। তাদের নানাবিধ প্রভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন অনেক মুসলিম জনগোষ্ঠী। উত্তর প্রদেশের নয়াবান গ্রামে মোট ৪ হাজার মানুষের মধ্যে ৪০০ জন মুসলিম। গত দুই বছরে তাদের মধ্যে প্রায় এক ডজন ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। আরো অনেকে গ্রাম ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে সামর্থ্যের অভাবে পারছেন না। গত নভেম্বরে নয়াবানে গরু জবাইয়ের অভিযোগে সহিংসতায় জড়ায় হিন্দুরা। পুলিশ গরু জবাই বন্ধ করতে পারেনি, এমন অভিযোগে মহাসড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় তারা। সে সময় সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুইজন নিহত হয়েছিলেন। এরপর ওই ঘটনায় মামলা হয়, বিনা অপরাধে জেল খেটেছেন অনেক মুসলিম। ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। পরের রামাযানে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক একটি মসজিদে আযান দেওয়া বন্ধ করে দেয় কট্টরপন্থি হিন্দুরা। দীর্ঘ সময় ধরে চললেও আযান দেয়া বন্ধ করে দিতে হয় মুসলিমদের। হিন্দুত্ববাদের সেস্নাগান উচ্চকিত করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নরেন্দ্র মোদি। এরপর ২০১৭ সালে রাজ্যের ক্ষমতায় আসেন হিন্দু পুরোহিত যোগী আদিত্যনাথ। আগে সম্প্রীতি থাকলেও এখন তাদের প্রভাবে এলাকার সম্প্রীতি একেবারেই নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন নয়াবানের মুসলিমরা।
