কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

হাফেযে কুরআন ৪ যমজ বোন

ফিলিস্তীনের জেরুসালেমে একসঙ্গে কুরআনের হাফেয হল যমজ চার বোন। মেধা, স্মৃতিশক্তি ও পড়াশোনায় তারা অনন্য। জেরুসালেমের নিকটস্থ উম্মে তুবা গ্রামে তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ঐ যমজ চার বোনের নাম হচ্ছে- দিনা, দিমা, সুসান ও রাজান। তাদের বয়স এখন আঠারো। একসঙ্গে তাদের পাঠশালায় যাওয়া ও পাশাপাশি মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা কুরআন হিফয সম্পন্ন করেছে। ফিলিস্তীনে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই চার বোন কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের স্কুলের নাম জেরুসালেম সুরবাহার আবুবকর ছিদ্দীক গার্লস স্কুল। সেখান থেকে তারা এই বছর মাধ্যমিক স্কুল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যথাক্রমে ৯৩.৯, ৯২.১, ৯১.৪ এবং ৯১.১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মা নাজাহ আল-শুনাইতি। তিনি জানান, আমার এই চার সন্তান যমজ হওয়ায় তাদের প্রায় সবকিছুতে মিল রয়েছে। তাদের পড়াশোনা ও জ্ঞানভিত্তিক তাড়নায় নিজেই অবাক হন নাজাহ। শৈশব থেকেই তারা একসঙ্গে থাকত, সব কাজ করত, অসুস্থ হতো, সুস্থ হতো, খেলাধুলা করত, একইরকম পোশাক পরতে চাইত। চারজনেরই কালো রং পসন্দ এবং ‘কিববা’ ও ‘লাসগিনা’ তাদের প্রিয় খাবার। ফুটবল, বাস্কেটবল এবং ফিলিস্তীনি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ‘দাবাকা’ও পসন্দ করে চারজন। বিশ্ব ভ্রমণে বের হওয়া চারজনের স্বপ্ন। তাই তাদের গ্রামের মসজিদে পাঠানো হয় কুরআন হিফয করতে। ছালাত পড়ার জন্য একই রকমের পোশাকও কিনে দেয়া হয়। সংবাদ মাধ্যমকে নাজাহ জানান, তারা যখন ছোট ছিল তখন তাদের চারজনকে ভিন্ন ভিন্নভাবে চিনতে কষ্ট হতো। তাই চিনতে সহজ হওয়ার জন্য তিনি তাদের হাতে আলাদা রঙের উলের সুতা পরিয়ে দিতাম। তবে এখন আর তাদের চিনতে কষ্ট হয় না। কণ্ঠস্বর শুনেই আলাদা আলাদাভাবে তাদের চেনা যায়।


Magazine