ভারতে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে অন্তত ২৩টি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ উচ্ছেদ বা আংশিক ভেঙে ফেলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। উচ্ছেদ অভিযানের বেশিরভাগই পরিচালিত হয়েছে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান ও হরিয়ানার মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে। ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে দিল্লির প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ‘দরগাহ পঞ্চ পীরান’, উত্তর প্রদেশের ১৮৫ বছরের প্রাচীন ‘নূরী জামে মসজিদ’ এবং গুজরাটের কচ্ছ জেলার ‘জুনা কান্দলা মসজিদ’। কচ্ছে আগাম নোটিশ ছাড়াই আরও প্রায় ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার ফলে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বেড়েছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস ফর অল (Justice For All)। সংস্থাটির মতে, ঐতিহাসিক মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাগুলো মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বৈষম্যের ইঙ্গিত বহন করে। একইভাবে, মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (USCIRF) এ প্রবণতাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও পর্যাপ্ত নোটিশ ও পুনর্বাসন ছাড়া এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়, বরং সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জামিয়াত উলামায়ে হিন্দ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (AIMPLB) এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তারা এর প্রতিবাদে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
