সমস্ত প্রশংসা মহাবিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য। ছালাত ও সালাম অবতীর্ণ হোক মানবতার সুমহান আদর্শ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর। বিজ্ঞ পাঠক সমীপে আমাদের বর্তমান প্রবন্ধের আরয গীত-বাদ্য সম্পর্কে। সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টির পুনর্মূল্যায়ণ অনস্বীকার্য।
হৃদয়ানুভূতি প্রকাশের যে মাধ্যমগুলো প্রাচীনকাল হতে অদ্যাবধি সদর্পে মানব সমাজের সর্বস্তরে বিদ্যমান, তার মধ্যে গান-বাজনা অন্যতম। যার মাধ্যমে ব্যক্তির আনন্দ, বেদনা, উচ্ছ্বাস, আকর্ষণ, বিকর্ষণ, দেশপ্রেম, হতাশা এবং মনের একান্ত চাওয়াগুলো শৈল্পিক ব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়। ফলে একের অনুভূতি স্বভাষার শ্রোতাম-লীর মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে। তবে এই আবেদন ভাষার বোধগম্যতার সংকীর্ণ গণ্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। গানের তালে তালে সুরের মূর্ছনায় মানব হৃদয় দুলতে থাকে। নিমগ্ন চিত্ত যেন সর্বাঙ্গে শ্রবণ করে এবং বহিরঙ্গে তার ছায়া সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। ব্যক্তি নিমেষেই বাস্তব পারিপার্শিকতা থেকে নিজ সূক্ষ্ম সত্তাকে বিচ্ছিন্ন করে কাল্পনিক তথা ভাবের পরিম-লে প্রবেশ করে। ছন্দবদ্ধ কথা, সুর, তাল, লয় এবং বিচিত্র সব বাদ্য যন্ত্রের একক কিংবা সম্মিলিত রণন হৃদয়ের নিভৃত প্রান্তরকে দোলায়িত করতে প্রচণ্ড পারঙ্গম।
সুরের এই ঊর্মিমালা হতে পারে সৃষ্টিশীল অথবা ধ্বংসশীল। প্রথাগত বিবেচনায় প্রায় সব সংগীতকেই সৃষ্টিশীল, কল্যাণকর এবং সুস্থ সংস্কৃতির প্রকাশ জ্ঞান করা হয়। বলা হয়ে থাকে, মানুষকে রুচিশীল-সংবেদনশীল করতে, মানবিক বোধের উন্মেষ ঘটাতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কথাটি সর্বৈব অসত্য এমনটি বলা যায় না। মদ, জুয়া, লটারীর ইতিবাচকতা থাকলেও এর ধ্বংস্তক ক্রিয়া এতটাই প্রবল যে, তা অবশ্য বর্জনীয়। সংগীতকেও আমরা এর নেতিবাচক ক্রিয়াশীলতার জন্য একই শ্রেণিভুক্ত ভাবতে বাধ্য।
মহান আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র, পরিপূর্ণ ও মনোনীত জীবন বিধান হিসাবে এই বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট। গান-বাজনাসহ সকল অনর্থক অশস্নীল কর্মকে ইসলাম নিষেধ করেছে। যার বাস্তব রূপায়ণ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জীবনে প্রতিফলিত। মুসলিম মাত্রেই বিনা বাক্য ব্যয়ে তা অনুকরণীয়। আল্লাহ তা‘আলার আদেশ এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জীবনাদর্শকে শিরোধার্য মেনে আমরা এই বিষয়ে সমাজবীক্ষণমূলক আলোচনায় অবতীর্ণ হতে চাই।
প্রথমেই দেখে নেয়া যাক বাদ্য সহযোগে সংগীতাকারে কী পরিবেশন করা হয় সে বিষয়টি। সমাজের নানান উৎসব উপলক্ষক্ষ্য, অবসর যাপনের অনুষঙ্গ হিসাবে, পথ চলতে বিপণী-বিতান থেকে অথবা যানবাহনে আরোহণ অবস্থায় আমাদের কর্ণকুহরে গানের কথামালা ও বাদ্যের ঝংকার প্রবিষ্ট হয়। তার থেকে বিশেস্নষণ করলে এর পরিবেশনায় নিমেণাক্ত বিষয়গুলো প্রাধান্যযোগ্য: প্রেম নিবেদন, নারী-পুরুষের দৈহিক স্পর্শকাতর বর্ণনা, প্রিয়জনকে একান্তে পাওয়ার আকাঙক্ষা-আবেদন, সুখ-দুঃখের স্মৃতিচারণ, ব্যর্থ প্রেমের আখ্যান, প্রতিহিংসা অথবা কাম চরিতার্থতার প্রবল বাসনা, দেশের প্রকৃতি ও মাটির প্রতি ভক্তিভাব, স্বদেশকে পৃথক সত্তা কল্পনা করে অর্ঘ্য নিবেদন, যুদ্ধ বা খেলাধুলায় সাফল্য লাভের বাসনা, মহৎ-জনপ্রিয়-শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ, অলীক-অসম্ভব-অবাস্তব বিষয়ের প্রতিশ্রম্নতি প্রদান ইত্যাদি। পাঠকের অনুসন্ধানি দৃষ্টিতে বিস্তর ব্যাপকতা রয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।
স্পষ্ট করে বললে এর সিংহভাগই যৌনতা কেন্দ্রিক। জৈবিকতা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। এর অপূর্ণতা বা অভাববোধ মানুষকে প্রবলভাবে তাড়িত করে। এই চাহিদা পূরণের জন্যও তাই রয়েছে সুষ্ঠু, সুন্দর, সর্বজন স্বীকৃত ব্যবস্থা। গান আমাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই সৌন্দর্যমণ্ডীত কল্যাণকর বন্দোবস্ত থেকে সরিয়ে যথেচ্ছাচারিতার পথে ধাবিত হতে উৎসাহিত করে। যাতে রয়েছে কেবল কদর্যতা, দুর্গন্ধ, নোংরামি আর অবশ্যম্ভাবী বিনাশ। পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক বন্ধন, ধর্মীয় মূল্যবোধ পায়ে দলে অনাচার অনুষ্ঠানের নামই যেন সাহসিকতা। বলা বাহুল্য, অবাধ যৌনাচার, পরকীয়া, পিতা-মাতার অসম্মতিতে বিবাহ, বিপরীত লিঙ্গের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বেশভূষা-ক্রিয়াকলাপ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় এ বিষয়ে এখানেই থামতে হচ্ছে। ইসলামী শরী‘আহ সম্মত বিবাহ বহির্ভূত যেকোন ধরনের যৌনাচার ও ইচ্ছা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ইহকাল-পরকাল বিনষ্টকারী কর্ম একথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াই আমরা আপাতত যথেষ্ট মনে করছি।
মানুষ পৃথিবীর যে ভূখণ্ড জন্মগ্রহণ করে তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা অত্যন্ত স্বাভাবিক। এই আকর্ষণের মূলে স্থানিক ঐশ্বর্য, অনুকূল আবহাওয়া, বসবাসের উপযোগিতা, অভিযোজিত সভ্যতা-সংস্কৃতি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। জন্মভূমির প্রতি এই টান মনের অবচেতনে ক্রিয়াশীল। তাই উৎকর্ষ অপকর্ষতার বিবেচনা ছাড়াই বা পৃথিবীর অপরাপর ভূখণ্ডর সাথে তুলনা না করেই মানুষ নিজ জন্মভূমিকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্থান মনে করে। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু দেশের ভূমি, পানি, বায়ু, আকাশ, বৃক্ষরাজি, ফসল, নদীকে যখন স্রষ্টা, দাতা, পরিত্রাণকারী হিসাবে কল্পনা করা হয়, তখন তা সন্দেহাতীত শিরক। সমস্যা এখানেই। স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে সৃষ্টিকে স্রষ্টার আসনে বসিয়ে পূজা করতে শেখায় যে গান তা তথাকথিত দেশপ্রেমমূলক হোক আর যাই হোক অবশ্যই পরিত্যাজ্য। মনে রাখা দরকার, গান গেয়ে, গানের আসর বসিয়ে বা কনসার্টের আয়োজন করে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা নিতান্তই বোকামীর পরিচয়। এ ধরনের উদ্যোগ কেবল সময় ও অর্থের অপচয় এবং নানাবিধ বিশৃঙ্খলার সূচনা ক্ষেত্র।
এর পাশাপাশি ব্যক্তি কেন্দ্রিক এক ধরনের গান প্রচলিত রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি কোনো ধর্মীয় সাধু পুরুষ হিসাবে পরিচিত। মুসলিম সমাজে যারা পীর, অলি-আউলিয়া, দরবেশ ইত্যাদি অভিধায় অভিহিত। জীবদ্দশায় তাদের অনেকেই সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু দ্বীনের পথে সর্বাত্মক সচেষ্ট থেকেছেন। কিন্তু আজ তাদের নামে চলছে শিরক, বিদ‘আত, কবর পূজা, মাযার কেন্দ্রিক ধর্ম ব্যবসা। এর অনুকূলে তৈরি করা হয়েছে অজস্র অসংখ্য ভক্তিমূলক গান। গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র শোনা যায় এসব ধর্ম বিরুদ্ধ গান-বাজনা।
আবেগ মানুষের অন্যতম মানবীয় বৈশিষ্ট্য। কর্ম সম্পাদনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে কাজ করে এই অতীন্দ্রিয় প্রেরণা। কিন্তু এই আবেগ যদি হয় বল্গাহীন ঘোড়ার মত, তবে তার অপ্রতিরোধ্য গতিশক্তি ধ্বংসের সীমারেখাকেই কেবল বিসত্মৃত করে। মিথ্যা কথা ও কল্পনার মায়াজালে আটকে শ্বাসরুদ্ধ মৃত্যু ঘটে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনবোধের। কেউ আকাশের চাঁদ-তারার কণ্ঠহার পরিয়ে দেয় প্রিয়ার গলায়, কেউ সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে বাঁধে বাসা। কেউবা এক জনকে কাছে পাওয়ার জন্য গোটা পৃথিবী জ্বালিয়ে দিতে চায়। আর এই ধরনের ধ্বংসাত্মক ও বাস্তবতা বিবর্জিত আবেগ প্রকাশের মাধ্যম গান ছাড়া আর কী হতে পারে! মানুষকে ক্রমোন্নতির ধারাবাহিক পদক্ষেপ থেকে বিচ্যুত করতে শয়তানের এ এক অমোঘ অস্ত্র। বিশ্ব নিয়ন্তা আল্লাহর দাসত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে গান আমাদেরকে এক অনিশ্চিত এবং পতনোন্মুখ ভবিষ্যতের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এভাবে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের আরো অনেক ধাঁচের সংগীত পরিবেশিত হচ্ছে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় আমরা তা শ্রবণ করছি। হয়তো এখানে তার দশমাংশ উল্লেখ করা গেল। যেগুলোকে নির্দোষ মনে করে লালন করা হয়ে থাকে।
এবার এর ফলাফল নিয়ে দু’টি কথা বলা যাক। ‘কানে হেডফোন লাগিয়ে রেল ক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত’ এমন সংবাদ খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে। এলাকা কাঁপিয়ে ট্রেন যায় আসে। গান মানুষকে এতটাই বিভোর করে দেয় যে, সেই আওয়াযও কানে ঢোকে না বা চেতনায় সাড়া জাগায় না। রাস্তায় চলতে এমন দৃশ্য হামেশাই নযরে পড়ে। এ তো গেল নিতান্ত বস্ত্তগত তথা বাহ্যিক দৃষ্টান্ত। মনের জগতে যে কত রকমের ভাঙাগড়া চলতে থাকে, গানের প্রভাবে তার হিসাব কে রাখে। কত মূল্যবান সময় মেধাবী ছাত্রটি গান শুনে নষ্ট করে, কত অযাচিত বিষয় তার হৃদয় রাজ্যকে আন্দোলিত করে, পরিপাটি চিন্তার জগতকে এলোমেলো করে দেয়, তার খবর কে রাখে। দীর্ঘ দিন রোগ ভোগের ফলে রোগী একসময় এটাকেই তার স্বাস্থ্য ভাবতে শুরু করে। জরাগ্রস্ত জীবন তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। আমাদের অবস্থাও অনুরূপ। সংগীত নামের এই ভাইরাসটি যে বিশ্বাসীদের জন্য সাংঘাতিক মরণ ব্যাধির জীবাণু, তা আর কেউ ভাবতে পারছে না।
কানে আঙ্গুল দিয়ে মুহাম্মাদ (ছাঃ) স্থান ত্যাগ করলেন এবং যতদূর সেই বাদ্যের আওয়ায শোনা যায়, ততদূর কান থেকে আঙ্গুল বের করলেন না। আর আমরা তার উম্মত, অনুসারী, আশেকান পরিচয় দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করি এবং কানের মধ্যে হেডফোন লাগিয়ে চলি ফিরি খাই ঘুমাই। স্ববিরোধিতার কোন্্ স্তরে আমাদের অবস্থান, তা বুঝার ক্ষমতা বোধ করি পুরোপুরি লোপ পেয়েছে। না হলে মুসলিম সমাজের চিত্র এমন হওয়ার কথা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্বরকে রোগ বলে না। দেহাভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কোন রোগের প্রাথমিক উপসর্গ বলা হয়। আমরা বলি গান-বাজনা সকল অপকর্মের উপসর্গ-সঙ্গী এবং স্বয়ং অপকর্ম। মদ, জুয়া, হাউজি, যাত্রাপালা, থিয়েটার, সিনেমা সবখানেই গান-বাজনা অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এই গান মানুষের মনে নিফাক্বের বীজ বপন করে। এরপর নিয়মিত পরিচর্যায় মানুষটাকে তার অজান্তেই ভেতর থেকে মুনাফিক্ব বানিয়ে ফেলে। তখন আযানের ধ্বনি বিরক্তির উদ্রেক করে। কুরআনের সুমধুর তেলাওয়াত একঘেয়ে লাগে। দ্বীন ধর্মের নছীহত মধ্যযুগের কাল্পনিক বিষয় মনে হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কি মানুষের চিত্ত বিনোদনের কোন সুযোগ ইসলাম রাখেনি। তা কী করে হয়? ইসলাম তো পরিপূর্ণ জীবন বিধান। জীবনের সব বিষয়েই সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে ইসলামে। মানুষের কোন চাহিদাকে অস্বীকার করা হয়নি। এমনকি অবজ্ঞা অবহেলাও করা হয়নি। তাহলে বিনোদন সম্পর্কে সমাধান কী?
হ্যাঁ, যে কোন ধরনের নিষ্কলুস ক্রীড়া-কৌতুক ইসলামে বৈধ। যাতে শিরক-বিদ‘আত থাকবে না। সত্য কথন দ্বারা হবে এবং মানুষকে তার স্রষ্টার দিকে ধাবিত হতে সাহায্য করবে। ভোগবাদী বস্ত্তবাদী দুনিয়া পূজারী করবে না। বরং আল্লাহ ও পরকালমুখী হতে উদ্বুদ্ধ করবে। সৎ কাজে উৎসাহ জোগাবে। ঈদের দিনে আনন্দ প্রকাশের জন্য ‘দফ’ বাজিয়ে গান করা যায়। বর্শা চালনা, তীরন্দাযীসহ যুদ্ধাস্ত্রের পারদর্শিতা প্রদর্শন ও প্রতিযোগিতা করা যায়। বিয়ে বাড়ীতে মেয়েরা অভ্যন্তরীণ পরিবেশে গীত পরিবেশন করতে পারে- যা পুরুষ শুনবে না। তাছাড়া কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে লাভবান হওয়াকে ইসলাম সবচেয়ে বড় চিত্ত বিনোদন মনে করে।
ছাহাবায়ে কেরাম নিজেরা না খেয়ে অন্যকে খাওয়াতেন। এর মধ্যে তারা অসীম আনন্দের সন্ধান পেয়েছিলেন। নিজেকে উজাড় করে জিহাদের জন্য দান করেছেন। রাতগুলো ছালাতে অতিবাহিত করেছেন আল্লাহর স্মরণে। দিনের বেলা ঘোড়ার পিঠে জিহাদের ময়দানে অথবা ইসলামের বাণী প্রচারের জন্য ছুটেছেন দিক দিগন্তরে। রাতের শেষাংশে মহান প্রভুর সান্নিধ্যের আশায় ইবাদতে মগ্ন থেকেছেন। কই তাদের মধ্যে তো কোন অতৃপ্তি বিষন্নতা দেখা যায়নি। বস্ত্তত আল্লাহর ইবাদত মানব মনের জন্য সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বিনোদন। বিশ্ব নিয়ন্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে তাঁর আরাধনায় দেহ-মনকে নিবিষ্ট করার মধ্যে যত তৃপ্তি, যত তুষ্টি, যত শাস্তি পাওয়া যায়, তা আর কোন কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। আনন্দ, সাফল্য, বিজয়, সুস্থতা, প্রসন্নতা সব কিছু এখানেই নিহিত রয়েছে। আসুন! আমরা বিনোদনের নামে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে আল্লাহর ইবাদতে রত হই। এগিয়ে যাই চিরস্থায়ী প্রকৃত বিনোদন স্থান জান্নাতের পথে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে কবুল করুন- আমীন!
