হঠাৎ হিরো বনে যাওয়া এমন কিছু লোক আজ এলজিবিটি (LGBT)-কে সমতন্ত্র, বন্ধু ওয়েলফেয়ার, ট্রান্সজেন্ডার, ইনক্লুসিভ ইত্যাদি বিভিন্ন মোড়কে বাজারজাতকরণে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এরাই মূলত মানবতার মোড়কে মানববিধ্বংসী ব্যক্তিত্ব। এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এরা মানুষ সৃষ্টির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করে। অথচ মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا﴾ ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১৩)।
এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এরা নারী-পুরুষের স্বাভাবিক জৈবিক কাঠামোতে পরিবর্তনকারী, যা একটা সমাজকে ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ ‘নারীর সাদৃশ্য ধারণকারী পুরুষ ও পুরুষের সাদৃশ্য ধারণকারিণী নারীর উপর আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন’।[1] ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বর্ণনায় আরও এসেছে, তিনি বলেন, ‘নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষ ও পুরুষের বেশ ধারণকারিণী নারীর উপর আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ করেছেন আর বলেছেন, “তোমাদের ঘর থেকে তাদেরকে বের করে দাও”। অতঃপর আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক লোককে বের করে দিয়েছিলেন এবং উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুও এক ব্যক্তিকে বের করে দিয়েছিলেন’।[2]
এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এরা পৃথিবীর বুকে নারী-পুরুষকে ট্রান্সজেন্ডার, লৈঙ্গিক বৈচিত্র্য, নারী অধিকার, আমার পোশাক আমার অধিকার ইত্যাদি নানাবিধ চটকদার স্লোগানে অতীব ঘৃণ্য আচরণ ও জঘন্যতম অশ্লীলতার প্রসার ঘটাতে চায়। মহান আল্লাহ বলেন,إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ‘নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের ভিতরে অশ্লীলতার প্রসার ঘটাতে চায়, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ৷ আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না’ (আন-নূর, ২৪/১৯)।
এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এদের শিকড় গেঁথে রয়েছে ক্বওমে লূতের সাথে, যাদেরকে মহান আল্লাহ সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি লূতকেও পাঠিয়েছিলাম। তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, “তোমরা কি এমন খারাপ কাজ করে যাচ্ছ, যা তোমাদের আগে সৃষ্টিকুলের কেউ করেনি? তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে যাও, বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়”। উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বলল, এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বহিষ্কার কর, এরা তো এমন লোক, যারা অতি পবিত্র হতে চায়। অতঃপর আমরা তাকে ও তার পরিজনদের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম, তার স্ত্রী ছাড়া, সে ছিল পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমরা তাদের উপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। কাজেই দেখুন, অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল’ (আল-আ‘রাফ, ৭/৮০-৮৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন,فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ - مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ ‘অতঃপর যখন আমাদের ফয়সালা আসল, তখন আমরা সেটার উপরিভাগকে নিম্নভাগে পরিণত করে দিলাম এবং তাদের উপর ক্রমাগত বর্ষণ করলাম পোড়ামাটির পাথর, যা আপনার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল। আর এটা যালেমদের থেকে দূরে নয়’ (হূদ, ১১/৮২-৮৩)। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর একটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ ثَلاَثاً ‘আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক তার উপর, যে ক্বওমে লূতের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক তার উপর, যে ক্বওমে লূতের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়’। একথা তিনি তিনবার বললেন।[3] ইবনুল হাজ্জ আল-মালেকী রাহিমাহুল্লাহ সমকামিতার আলোচনা করতে গিয়ে এর তিনটি পর্যায় উল্লেখ করেছেন।[4]
১ম পর্যায়:
طَائِفَةٌ تَتَمَتَّعُ بِالنَّظَرِ وَهُوَ مُحَرَّمٌ لِأَنَّ النَّظْرَةَ إلَى الْأَمْرَدِ بِشَهْوَةٍ حَرَامٌ إجْمَاعًا. بَلْ صَحَّحَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ أَنَّهُ مُحَرَّمٌ وَإِنْ كَانَ بِغَيْرِ شَهْوَةٍ.
অর্থাৎ এই পর্যায়ভুক্ত লোকেরা নিজেদের দৃষ্টি দ্বারা উপভোগ করে, যা মূলত হারাম। কেননা আলেমদের ঐকমত্যে দাড়িবিহীন ব্যক্তির দিকে কামনাসহ দৃষ্টি দেওয়া হারাম কাজ। এমনকি কিছু আলেম কামবাসনা না জাগলেও দৃষ্টি দেওয়া হারাম হওয়ার মতকে সঠিক বলেছেন।
মহান আল্লাহ পুরুষদেরকে বলেছেন,قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ‘মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এটা তাদের জন্য অধিক পবিত্রতার বিষয়, নিশ্চয়ই তারা যা করে, সে বিষয়ে তিনি সবিশেষ অবহিত’ (আন-নূর, ২৪/৩০)।
নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ ‘মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে’ (আন-নূর, ২৪/৩১)। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلَا تَنْظُرُ المَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ المَرْأَةِ، وَلَا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ، وَلَا تُفْضِي المَرْأَةُ إِلَى المَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ». ‘কোনো পুরুষ অন্য কোনো পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে দৃষ্টি দেবে না এবং কোনো নারীও অপর কোনো নারীর গুপ্তাঙ্গে দৃষ্টি দেবে না। কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষের সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান না করে এবং কোনো নারী যেন অপর কোনো নারীর সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান না করে’।[5]
২য় পর্যায়:
وَالطَّائِفَةُ الثَّانِيَةُ يَتَمَتَّعُونَ بِالْمُلَاعَبَةِ وَالْمُبَاسَطَةِ وَالْمُعَانَقَةِ وَغَيْرِ ذَلِكَ عَدَا فِعْلِ الْفَاحِشَةِ الْكُبْرَى.
অর্থাৎ এই ২য় পর্যায়ের লোকেরা বড় অশালীন কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত না হয়ে পরস্পর খেলাধুলা, হাতাহাতি, আলিঙ্গন প্রভৃতি কাজের মাধ্যমে উপভোগ করে। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ‘আর অশালীনতার ধারেকাছেও যাবে না, হোক তা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য’ (আল-আন‘আম, ৬/১৫১)।
৩য় পর্যায়:
فِعْلُ الْفَاحِشَةِ الْكُبْرَى.
অর্থাৎ বড় অশ্লীল কাজ (ব্যভিচার) সম্পাদন। আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,إِذَا اسْتَحَلَّتْ أُمَّتِي سِتًّا فَعَلَيْهِمُ الدَّمَارُ: إِذَا ظَهَرَ فِيهِمُ التَّلَاعُنُ، وَشَرِبُوا الْخُمُورَ، وَلَبِسُوا الْحَرِيرَ، وَاتَّخَذُوا الْقِيَانَ، وَاكْتَفَى الرِّجَالُ بِالرِّجَالِ، وَالنِّسَاءُ بِالنِّسَاءِ ‘যখন আমার উম্মত পাঁচটি বিষয়কে হালাল মনে করবে, তখন তাদের উপর ধ্বংস আপতিত হবে— (১) যখন পরস্পরকে অভিশাপ করার বিষয় প্রকাশ পাবে, (২) মদপান করবে, (৩) রেশমি বস্ত্র পরিধান করবে, (৪) গায়িকাদের গ্রহণ করবে এবং (৫) পুরুষ পুরুষকে এবং নারী নারীকে (জৈবিক চাহিদা পূরণে) যথেষ্ট করে নেবে’।[6]
এছাড়াও আরও একটি কাজ রয়েছে, যাকে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট পর্যায়ের সমকামিতা বলে উল্লেখ করেছেন। আমর ইবনু শুআইব রাহিমাহুল্লাহ তার পিতা ও তার দাদা হতে বর্ণনা করেন,أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا هِيَ اللُّوطِيَّةُ الصُّغْرَى ‘স্ত্রীর পিছন দিকে গমনের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এটা ছোট পর্যায়ের সমকামিতা’।[7] ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই পুরুষের দিকে দৃষ্টি দিবেন না, যে অন্য পুরুষের কাছে (জৈবিক চাহিদা পূরণে) গমন করে কিংবা স্ত্রীর পায়ুপথে গমন করে’।[8]
সমকামিতা থেকে যে তওবা করতে চায়:
মহান আল্লাহ বলেন,وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا ‘আর যে কোনো মন্দ কর্মে জড়িয়ে পড়ে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করে ফেলে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াময় হিসেবে পাবে’ (আন-নিসা, ৪/১১০)। আব্দুল আ়যীয ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আপনার উপর এটা আবশ্যক যে, আপনি সমকামিতা ও হস্তমৈথুন থেকে দৃঢ়ভাবে সত্যনিষ্ঠ তওবা করবেন। এই দুটিই হারাম কাজ। সমকামিতা বেশি গুরুতর জঘন্য কাজ, কারণ এটা বড় পাপসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং সবচেয়ে বড় অপরাধসমূহের একটি’।[9]
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাস্তি:
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ ‘তোমরা যাকে ক্বওমে লূতের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অবস্থায় পাবে, তবে সমকামী এবং যার সাথে সমকামিতা করা হয়, উভয়কে হত্যা করবে’।[10] মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, وَقَدْ أَجْمَعَ الصَّحَابَةُ عَلَى قَتْلِ اللُّوطِيِّ لَكِنِ اخْتَلَفُوا فِي طَرِيقَةِ قَتْلِهِ অর্থাৎ ‘ছাহাবায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, সমকামীকে হত্যা করতে হবে। তবে তার পদ্ধতি কী হবে সে বিষয়ে মতপার্থক্য আছে’।[11] যেমন আবূ নাযরাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা সমকামিতার শাস্তি কী হবে, সে ব্যাপারে বলেন, ‘তাকে নগরের সবচেয়ে উঁচু কোনো কিছুর উপর থেকে অধোমুখে ফেলে দিয়ে উপর্যুপরি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে’।[12] ইয়াযীদ ইবনু ক্বায়েস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, أَنَّ عَلِيًّا رَجَمَ لُوطِيًّا অর্থাৎ ‘আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু সমকামীকে রজম করেছেন’।[13]
প্রায় একই কথা অন্যান্য সালাফদের থেকেও এসেছে। যেমন ইবনু শিহাব আয-যুহরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, اللُّوطِيُّ يُرْجَمُ أُحْصِنَ أَوْ لَمْ يُحْصَن؟ অর্থাৎ ‘সমকামীদের রজম করতে হবে সে অবিবাহিত হোক কিংবা বিবাহিত’।[14] ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘যদি কাউকে দুইবার রজম করা সমীচীন হতো, তবে সমকামী ব্যক্তিকে (দুইবার) রজম করা হতো’।[15] হাসান ও মুগীরা q উভয়েই ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ থেকে আরও বর্ণনা করেন, حَدُّ اللُّوطِيِّ حَدُّ الزَّانِي অর্থাৎ ‘সমকামিতার শাস্তি যেনার শাস্তির অনুরূপ’।[16] অর্থাৎ বিবাহিত হলে রজম আর বিবাহিত না হলে ১০০ বেত্রাঘাত।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সমাজবিধ্বংসী, ঘৃণ্য ও অশালীন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
মেরাজুল ইসলাম প্রিয়
ধলপুর লিচুবাগান জামে মসজিদ গেইট, বউ বাজার, সায়েদাবাদ, ঢাকা।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫।
[2]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৮২।
[3]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯১৩।
[4]. ইবনুল হাজ্জ, আল মাদখাল, ২/৮-৯।
[5]. তিরমিযী, হা/২৭৯৩।
[6]. ছহীহ আত-তাগরীব ওয়াত তারহীব, হা/২৯৮৬।
[7]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৯৬৭।
[8]. ছহীহ আত-তাগরীব ওয়াত তারহীব, হা/২৪২৪।
[10]. তিরমিযী, হা/১৪৫৬।
[11]. Islamqa.info
[12]. সুনান আছ-ছগীর লি-বায়হাক্বী, হা/২৫৭২।
[13]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৬।
[14]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৭।
[15]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৮।
[16]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৯।
