কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

সহশিক্ষার কুফল

ভূমিকা :

শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষার আলো ব্যতীত কোন জাতি আদর্শবান জাতি হতে পারে না। আর সেই শিক্ষা যদি ইসলামী শিক্ষা না হয়, তাহলে মানুষ আদর্শবান মানুষ হতে পারবে না। যখন মূর্খতার অন্ধকারে গোটা বিশ্ব ছিল নিমজ্জিত। আদর্শ, সভ্যতা বলে কোন কিছুই ছিল না। তখন আল্লাহ তা‘আলা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিশ্বকে আলোকিত করার জন্য প্রেরণ করেন মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এবং তার উপর নাযিল করেন অহির জ্ঞান। সেই জ্ঞানের আলোতেই আজ বিশ্ব আলোকিত। আল্লাহ তা‘আল সেই ঐশী জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষকে সকল কিছু শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা সেই শিক্ষা পদ্ধতি অমান্য করেছি, যার ফলে আজ আমাদের শিক্ষা আমাদের আলোর পথ দেখায় না; আমাদের সমাজের অবক্ষয় ঘটছে। এর অনেক কারণ রযেছে, তন্মধ্যে অন্যতম কারণ হল সহশিক্ষা। নিম্নে সহশিক্ষা নিয়ে কিছু কথা বলবো :

সহশিক্ষা বা কো-এডুকেশন কী? :

সহশিক্ষা বা কো-এডুকেশন এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে পুরুষ ও নারী পড়ালেখার জন্য একই সাথে সহঅবস্থান করে। এই ধরনের শিক্ষা পরিবেশে ছেলে-মেয়ে বা পুরুষ-মহিলার একত্রে মেলামেশা, কথাবার্তা, গল্পগুজব ও খেল-তামাশায় কোনরূপ প্রাতিষ্ঠানিক বাধা থাকে না। যখন আমরা সহশিক্ষার আলোচনা করি, তখন মূলত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে বা পুরুষ-মহিলার একত্রে অবস্থান করে শিক্ষা লাভ করাকেই ধরে নিই। এই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা অধুনা সমাজ ব্যবস্থারই একটি ফসল। ছেলে-মেয়ে সমতা রক্ষার দাবিতে ১৯৭২ সালে আমেরিকার পাবলিক স্কুলগুলোতে সহশিক্ষা (co-education) বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

সহশিক্ষার অপকারিতা :

এ শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের দুই ধরনের মত পাওয়া যায়: (এক) এই ব্যবস্থার পক্ষে। (দুই) এই ব্যবস্থার বিপক্ষে। পক্ষের যুক্তিদাতাদের মযবূত (!) যুক্তি এই যে, সহশিক্ষা বাস্তব জীবনে সফলভাবে কাজ করার ভিত্তি গড়ে দেয়। ছেলে-মেয়ের পারস্পরিক মেলামেশার মধ্যদিয়ে তারা পরস্পরের প্রতি সহনশীল হওয়ার শিক্ষা পায়, যাতে পরবর্তী কর্ম জীবনে তারা বিপরীত লিঙ্গের সহকর্মীর সাথে আচরণে কোন প্রকার সংকোচ বা অসহনশীল না হয়। কারণ একই লিঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে পড়াশুনা করে বড় হলেও কর্মক্ষেত্রে উভয় লিঙ্গের সাথেই কাজ করে যেতে হয়।

বিপক্ষের লোকদের মতে, এর অপকারিতা হল, গরম তেলে পানি ঢালার মত আর আগুনে কেরোসিন ঢালার মত। প্রকৃতিগতভাবেই ছেলে-মেয়ে পরস্পরের প্রতি আর্কষণবোধ করে। আর এই বোধটিকে যখন লাগামহীনভাবে চর্চার সুযোগ করে দেয়া হয়, তখন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়। তাসলিমা নাসরিনের মত সমাজ ঘাতকের জন্ম হয়। প্রথমে নিষ্পাপ বন্ধুত্ব (সুগার কোটেড), তারপর সেখানে নাম পরিচয়হীন শিশু (বিষফল)। এটাই চরম বাস্তবতা। কোন যুবক-যুবতী যুগলকে যদি অবাধ মেলামেশার ও সহবস্থানের সুযোগ করে দিয়ে বলা হয়, ‘তোমরা কেউ কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়ো না, তাহলে এই উপদেশ কখনো ফলপ্রসূ হতে পারে না। সহশিক্ষার কুফল কি হতে পারে, তা আর ব্যাখ্যা করে বলার অবকাশ রাখে না। সহশিক্ষা ব্যবস্থা মানুষের মাঝে অকল্যাণ, অবক্ষয় এবং যে অশান্তি সৃষ্টি করেছে, তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেও মানুষ এ থেকে মুক্তির কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না। কারণ মানব রচিত আইনে এ সমস্যার কোন সমাধান নেই। আছে শুধু সমস্যা বৃদ্ধির অসংখ্য উপায়। সহশিক্ষা ব্যবস্থা মানবজাতির যে ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মানুষের নৈতিক চরিত্রে অবনতি, দাম্পত্য জীবনে চরম অশান্তি, ইভটিজিং, নারী ধর্ষণ, নারী হত্যা, এসিড নিক্ষেপে দগ্ধকরণ, মাদকদ্রব্যের অবাধ ব্যবহার, যৌতুক প্রথা, যোগ্য সন্তানের অভাব, সামাজিক বিশৃঙ্খলাসহ আরো অনেক অনৈতিকতা- যা আজ আমরা বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে বুঝতে পারি।

সহশিক্ষার কারণে নৈতিক চরিত্রের যে অবক্ষয় ও অবনতি হয়েছে, তা মূলত বর্ণনাতীত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়ের অবাধ মেলামেশার সুযোগ পায়। ফলে তারা উচ্ছৃখল হয়ে উঠে। সহশিক্ষাক্ষার উল্লেখযোগ্য কুফল বা বিফল হল, দাম্পত্য জীবনে অশান্তি। এ শিক্ষা ব্যবস্থায় ছেলে-মেয়ে বহু ছেলে-মেয়ের সাথে অবাধে কথা বলা ও মেলামেশার সুযোগ পায়। এ অভ্যাসের কারণে সহপাঠী ও সহপাঠিনী ছাড়াও বাইরের ছেলে-মেয়ের সাথে অবাধ মেলামেশা চলে। এদের মধ্যে যার সাথে তথাকাথিত প্রেম জমে ওঠে, তার সাথে বিয়ে না হলে বিবাহিত জীবনে স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে মেনে নিতে পারে না। সারা জীবন চলে পরস্পরে ভুল বোঝাবুঝি। কেউ কাউকে বরদাশত করতে পারে না। আবার প্রেমের বিয়ে হলে তাদের মাঝে আকর্ষণের চেয়ে বিকর্ষণ বেশি ঘটে। এভাবেই ঘটে গরমিল। আর পরিণামে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা ডিভোর্স (তালাক)। সহশিক্ষার বদৌলতে মেলামেশার কারণে একই সময়ে একজন যুবক কিংবা যুবতী অনেকের সাথে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ পায়। একই নারী বা পুরুষকে নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। কেউবা আবার একজনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের পর তাকে বাদ দিয়ে অপর একজনকে পেতে চায়। এর যেদ ধরে শুরু হয় রেষারেষি; এসিড নিক্ষেপের মত মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে। অতএব গোটা জাতিকে আল্লাহ্র গযব, ধ্বংস এবং বিপর্যয় থেকে সর্বস্তরে পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা জাতীয় কর্তব্য।

ইসলাম কী বলে? :

ইসলাম সর্বদা সত্য ও বাস্তবসম্মত কথা বলে। ইসলাম সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি ভালো জানেন, কীভাবে তারা পৃথিবীতে জীবন পরিচালনা করলে ইহকালীন ও পরকালীন জীবন শান্তিময় হবে। তাই তিনি মানুষর সৃষ্টির সাথে সাথে জীবন পরিচালনার জন্য আইন বা বিধান দিয়েছেন। মানুষ যদি তা পরিপূর্ণভাবে মেনে চলতে পারে, তাহলে কোন প্রকারের সমস্যার সম্মুখীন হবে না; বরং জীবন হবে সুখময়। আর ইসলাম সহশিক্ষাতে সমর্থন করে না। এই মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, وَقَرْنَ فِيْ بُيُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُوْلَى ‘তোমরা তোমাদের ঘরে থাকবে এবং আগের অন্ধকার যুগের মত নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে না’ (আহযাব, ৩৩/৩৩)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلْ لِلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللهَ خَبِيْرٌ بِمَا يَصْنَعُوْنَ - وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوْجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِيْنَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوْبِهِنَّ وَلَا يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ.

‘মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। আর মুমিন নারীদেরকেও বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে, তাদের গুপ্তাঙ্গের হেফাযত করে। যেটুকু প্রকাশিত হয় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে’ (নূর, ২৪/৩০-৩১)। তিনি আরো বলেন,

فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِيْ فِيْ قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوْفًا.

‘তোমরা {(নারীরা) (অন্য লোকের সাথে)} নরম করে কথা বলবে না। তাতে অন্তরে ব্যাধিগ্রস্ত কোন (পুরুষ) লোক প্রলুব্ধ হতে পারে। তবে ভদ্রভাবে কথা বলবে’ (আহযাব, ৩৩/৩২)

ইসলাম এমন সর্বাপেক্ষা উত্তম জায়গা মসজিদেও নারী-পুরুষ দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। সেকারণে, পুরুষদের জন্য সবচেয়ে আগের কাতারকে এবং মেয়েদের জন্য সবচেয়ে পেছনের কাতারকে সর্বোত্তম বলা হয়েছে।[1] রাসূল ছালাত শেষ করে একটু অপেক্ষা করতেন, যাতে নারীরা আগে বের হয়ে যায় এবং নারী-পুরুষের মধ্যে কোনরূপ সংযোগ স্থাপিত না হয়।[2] ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমরা যদি এই দরজাটা নারীদের জন্য রেখে দিতাম’। নাফে‘ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা ঐ দরজা দিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত কোন দিন প্রবেশ করেননি।[3] এ যদি হয় সর্বাপেক্ষা উত্তম ও ইবাদতের জায়গা মসজিদে, তাহলে বাইরে কি হতে পারে! আসুন! এবার আমরা একটু বাইরের অবস্থা দেখি। একদা রাসূল মসজিদ থেকে বের হওয়ার রাস্তায় নারী-পুরুষের একাকার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে নারীদেরকে বলেন, اسْتَأْخِرْنَ فَإِنَّهُ لَيْسَ لَكُنَّ أَنْ تَحْقُقْنَ الطَّرِيقَ عَلَيْكُنَّ بِحَافَّاتِ الطَّرِيقِ ‘তোমরা রাস্তার ধার দিয়ে হাঁটো। তোমাদের জন্য রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটা ঠিক নয়। অতএব, তোমাদেরকে রাস্তার ধার দিয়েই চলতে হবে’।[4] আল্লাহু আকবার!

চলুন, আমরা আরো দুয়েকটি হাদীছ দেখি। ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘অবশ্যই অবশ্যই কোন পুরুষ যেন কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত না হয় এবং কোন নারী যেন মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর না করে’।[5] স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিপায় চিপায় ছেলে-মেয়েদের নির্জনতা সহশিক্ষার সুফল (!) নয় কি?! আবু সাইদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দুনিয়া হল চিত্তাকর্ষক সবুজের সমারোহ। আল্লাহ তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমরা কিরূপে আমল কর। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর (দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে) এবং নারীদের ব্যাপারে সাবধান থাক। কেননা, বানী ইসরাঈলদের মধ্যে সর্বপ্রথম নারীদের মাঝেই ফিৎনা সংঘটিত হয়েছিল’।[6]

উসামাহ ইবনু যায়েদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের জন্য স্ত্রীজাতি অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর কোন ফিৎনা আমি রেখে গেলাম না’।

সুধী পাঠক! আপনি এবার চিন্তা করুন, আল্লাহ তা‘আলা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে নারীদের জাহেলী যুগের বর্বর নারীদের মত নিজের সম্ভ্রম, লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে নিজেকে বেহায়ার মত প্রকাশ করে ঘরের বাইরে রাস্তা-ঘাটে বিচরণ করতে নিষেধ করেছেন। যেখানে আল্লাহ তা‘আলা পর পুরুষের সাথে কথা বলতে নিষেধ করে সতর্ক করে দিয়েছেন। যেখানে তিনি পরপুরুষের সাথে বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও সতর্কতামূলক কর্কষ ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। যেখানে তিনি নারী-পুরুষ উভয় লিঙ্গের প্রতি দৃষ্টি নত রাখার আদেশ করেছেন। তিনি এসকল কাজকে মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধি হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

হাদীছে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে ফিৎনা হিসাবে উল্লেক করা হয়েছে। মানবজাতির ধ্বংসের কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরুষের জন্য নারীকে সবচেয়ে বেশি ভয়ের বস্ত্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।

তাহলে বলুন! কী করে ইসলাম বর্তমান প্রচলিত সহশিক্ষাকে সমর্থন করতে পারে? যে সহশিক্ষার ফলশ্রুতিতে, ছাত্রী শিক্ষাকের হাতে ধর্ষিত হবার খবর শোনা যায়। দিন-রাত চলে প্রেম-প্রীতির নোংরা প্রতিযোগিতা ও অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। যে সহশিক্ষা ব্যবস্থা মেয়ের বাবাকে তার মেয়ে পুনরায় বাড়ীতে ফিরে আসার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। যেখানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা চলে। যেই সহশিক্ষার ফলে, বর্তমান শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষাঙ্গন থেকে বের করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়, পার্ক ও হোটেলে নিয়ে যায়, তাদের হাত থেকে পাঠ্য বইকে ছিনিয়ে নেয় এবং তুলে দেয় অশ্লীল ম্যাগাজিন-পত্রিকা। যেই শিক্ষা অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দেই; সেই শিক্ষা ইসলাম সমর্থন করে না। আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফীক্ব দান করুন- আমিন!।

উপসংহার :

যেহেতু সহশিক্ষা ইসলাম সমর্থন করে না। এটা মানুষকে পাপের প্রতি আহবান করে। সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আমাদের উচিত হতে সহশিক্ষাকে ‘না’ বলা এবং বিপরীতমুখী শিক্ষা গ্রহণ করা।


[1]. দ্রষ্টব্য: ছহীহ মুসলিম, হা/৬৬৪।

[2]. দ্রষ্টব্য: ছহীহ বুখারী, হা/৭৯৩।

[3]. সুনানে আবু দাঊদ, হা/৮৭৬।

[4]. সুনানে আবু দাঊদ, হা/৫২৭২, হাসান।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৩০০৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪১।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৪২; তিরমিযী, হা/২১৯১।

৭. ছহীহ বুখারী, হা/৫০৯৬।

Magazine