কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

পরকীয়া: সমাজ বিধ্বংসী এক নীরব ঘাতক

post title will place here

এমন কোনো দিন গত হয় না, যেদিন পরকীয়ার মাধ্যমে যেনা-ব্যভিচার হয় না। বর্তমানে পরকীয়ার ব্যাপকতা হু হু করে বাড়ছে। আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও পেপার-পত্রিকায় যা দেখি, তা সিন্ধু থেকে বিন্দু মাত্র। আমাদের জানার বাইরে কত যে ব্যভিচার হয়, তা আল্লাহ-ই ভালো জানেন। পত্রিকা খুললেই দেখা যায় অমুক স্থানে অমুক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে অমুক পালিয়েছে, অমুক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে কর্মচারী পালিয়েছে, অমুক স্বামী পরকীয়ার জেরে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে, অমুক স্ত্রী পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা করেছে, অমুক স্থানে পরকীয়ার জেরে নিজ সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আরো বহু রকম সংবাদ আমরা দেখতে পাই। পরকীয়ার কারণে প্রতিদিন কত প্রাণ যে ঝরে যায় একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন।

হাদীছে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‎الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ‘মহিলারা হচ্ছে আওরাত (ঢেকে রাখার বস্তু)। সে বাইরে বের হলে শয়তান তাকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করে’।[1] অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সে পুরুষদের দৃষ্টিতে তাকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করে। আপনি রাস্তায় বের হলে শয়তান অসুন্দর মেয়েকে আপনার চোখে রঙিন ও সুন্দরী করে উপস্থাপন করে। এখন আপনি এই মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন, তাকে দেখতে তার বাড়িতে যান, দেখবেন আপনার তাকে পছন্দ হচ্ছে না। এখন পছন্দ হচ্ছে না কেন? অথচ রাস্তায় যে পছন্দ হয়েছিল! ওই যে শয়তান তাকে আপনার দৃষ্টিতে সুন্দর করে উপস্থাপন করেছে। এখন উপস্থাপন করেনি, তাই আপনার পছন্দ হয়নি। 

হারাম কাজের প্রতি মানুষ ধাবিত হয় কেন জানেন? শয়তান হারাম কাজকে মানুষের কাছে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও আকর্ষণীয় করে তোলে, যার ফলে মানুষ হারাম কাজের দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ ‘শয়তান তাদের কাজগুলোকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করে’ (আল-আনকাবূত, ২৯/৩৮)

দেখবেন কোনো ছেলেই বিধবা নারীকে বিয়ে করতে চায় না, নানান অজুহাত দেখায়; অথচ আপনি প্রায়ই দেখবেন অবিবাহিত অনেক ছেলে একজনের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেছে, পরে গোপনে তাকে বিয়ে করে ফেলেছে। এমনকি কয়েকটা বাচ্চা আছে এমন নারীকে নিয়েও পালিয়ে যায়। অথচ কিছুদিন আগে তাকে বিধবা নারী বিয়ে করার জন্য বলা হয়েছিল, কিন্তু সে করেনি। এখন সে আরেকজনের স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে গেছে। কেন পালিয়ে গেছে? ওই যে শয়তান তার কাছে ওই নারীকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করেছে। শয়তান ওই নারীকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তা আসামিতে পরিণত করেছে। পরকীয়া করে যেনা করলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‎لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالْمَارِقُ مِنْ الدِّينِ التَّارِكُ لِلْجَمَاعَةِ ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তাহলে তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়- জানের বদলে জান, বিবাহিত ব্যভিচারী আর নিজের দ্বীন ত্যাগকারী মুসলিম জামাআত থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া ব্যক্তি’।[2]

এখানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সমীচীন মনে করছি। প্রশ্নটি হচ্ছে- বিবাহিত ব্যক্তি যেনা করলে তার শাস্তি এত কঠোর কেন?

উত্তরটা শুনুন, বিবাহিত পুরুষকে আরবিতে مُحْصنْ এবং বিবাহিত নারীকে আরবীতে مُحْصنَة বলা হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

‘আর যারা সচ্চরিত্র নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে না, তবে তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং তোমরা কখনই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর এরাই হলো ফাসিক’ (আন-নূর, ২৪/৪)

مُحْصنْ এই শব্দটি এসেছে حِصْنٌ শব্দ থেকে, যার অর্থ হচ্ছে দুর্গ, কেল্লা। রাজা-বাদশাহরা রাজধানীকে শত্রুবাহিনী থেকে রক্ষা করার জন্য শহরের চারপাশে দুর্গ নির্মাণ করে থাকেন। কেন নির্মাণ করেন? যেন শত্রুবাহিনী রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে। শত্রুবাহিনী যদি দুর্গ ভেঙে শহরে প্রবেশ করে, তাহলে দেশের সবাইকে কচুকাটা করবে বা মেরে ফেলবে। 

কোনো ব্যক্তি বিয়ে করেছে মানে সে দুর্গের ভেতরে আছে। যখন ইচ্ছে তখন সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারে। সে নিজের চরিত্র ঠিক রাখতে পারেন। শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে পারে। যখন সে পরকীয়ায় জড়িত হয়ে যেনা করল, তখন সে সংরক্ষিত দুর্গ থেকে বের হয়ে গেল। আর আমরা সবাই ভালো করেই জানি, কেউ যদি সংরক্ষিত দুর্গ থেকে বের হয়ে যায়; তাহলে অবশ্যই শত্রু বাহিনী তাকে হত্যা করবে। আপনি বিয়ের পর যেনা করে সংরক্ষিত দুর্গ থেকে বের হয়ে গেছেন। তাই আপনার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

পরকীয়া প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ:

(১) চোখ নিম্নগামী রাখা: পরকীয়া রোধে চোখ নিম্নগামী রাখা অতীব জরুরী। কারণ প্রথমে অন্যের স্ত্রীকে চোখ দিয়ে দেখে ভেতরে বাসনা সৃষ্টি হয়। তাই আল্লাহ তাআলা নারী পুরুষকে চোখ নিম্নগামী করার জন্য আদেশ করেছেন,قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ‘মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত’ (আন-নূর, ২৪/৩০)। অন্যত্র আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ ‘আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে’ (আন-নূর, ২৪/৩১)

অনেকেই মাঝেমধ্যে বলে, আমার বউ এখন আর ভালো লাগে না। অমুকের বউ কত সুন্দর! আমার বউ কেমন জানি! এর কারণটা কী জানেন? এর কারণ হচ্ছে আপনি একজন সুন্দরী মেয়েকে দেখেছেন, তার চেহারা কল্পনা করেছেন, তার চেহারার সাথে আপনার স্ত্রীর চেহারা মিলিয়েছেন, তুলনা করেছেন, যার ফলে এখন আপনার স্ত্রীকে ভালো লাগে না। আপনার মধ্যে শান্তি নেই। আমি হলফ করে বলতে পারি, আপনি যদি চোখ নিচু করে হাঁটেন, পরনারীর প্রতি দৃষ্টি না দেন; তাহলে আপনার স্ত্রী আপনার কাছে ভালো লাগবে। আপনার মনে হবে আপনার স্ত্রী সবচেয়ে বেশি সুন্দরী। আপনি মনের মধ্যে শান্তি অনুভব করবেন। আর যদি সারাদিন শুধু সুন্দরী নারী দেখেন, তাহলে কখনোই আপনার স্ত্রী আপনার কাছে ভালো লাগবে না, আপনি অন্তরের মধ্যে প্রশান্তি পাবেন না। কারণ আপনার স্ত্রী তো ওই নির্লজ্জ নারীর মতো সুন্দরী না। সুতরাং বৈবাহিক জীবনে শান্তি পেতে চাইলে চোখ নিম্নগামী রাখুন। চোখ যদি সুন্দরী নারীর প্রতি পড়ে যায়, তাহলে সাথে সাথে অন্য দিকে তাকান। একবার চোখ পড়ে গেলে আর দ্বিতীয় বার তাকাবেন না। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে বলেন,‏يَا عَلِيُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ‏‏ ‘হে আলী! কোনো (নারীর প্রতি) হঠাৎ দৃষ্টি পতিত হলে পুনরায় দৃষ্টি দিবে না। কেননা তোমার জন্য প্রথমটি (আকস্মিক দৃষ্টি) অনুমতি আছে; দ্বিতীয়টি নয়’।[3]

(২) স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ভীষণ ভালোবাসা: স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পরস্পর ভলোবাসা, সহমর্মিতা, সম্মানবোধ, মিল-মহব্বত, বোঝাপড়া না থাকলে সাধারণত পরকীয়া শুরু হয়। প্রথমে আমি স্বামীকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলব, তারপর স্ত্রীকে। 

প্রিয় ভাই! আপনার স্ত্রী তার মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন সবকিছু ছেড়ে একমাত্র আপনার কাছে এসেছে। এখন আপনি যদি তার সাথে ভালো আচরণ না করেন, তার মন না বুঝেন, হৃদয় উজাড় করে তাকে ভালো না বাসেন; তাহলে সে তো অবশ্যই এমন একজনকে খুঁজবে, যে নাকি তাকে ভলোবাসবে, তার মন বুঝবে, তার কেয়ার করবে। সবসময় যদি স্ত্রীর সাথে বদমেজাজ দেখান, রাগারাগি করেন, আদেশের উপর আদেশ দিতে থাকেন; তাহলে অবশ্যই আপনার স্ত্রী আপনার কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে। তাকে সময় দিন, তার সাথে খুনসুটি করুন। তাকে বুঝান যে, আপনি তাকে ভলোবাসেন। সে কষ্ট পায় এমন কাজ করবেন না এবং কষ্ট পায় এমন কথাও বলবেন না। সে অসুস্থ হলে তার সেবা করুন। আলতো করে তার মাথায় হাত দিয়ে চুলগুলো এলিয়ে দিন। তাকে সাংসারিক কাজে সহযোগিতা করুন। একটা কথা মোটা দাগে মনে রাখার চেষ্টা করুন, সব জায়গায় ক্ষমতা দেখাবেন না। যদি স্ত্রীর কাছে ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেন, তাহলে সে আপনাকে অন্তর থেকে ভলোবাসবে না। সব জায়গায় নিজের আমিত্ব ভাব প্রকাশ করতে যাবেন না। মনে রাখবেন! তিনি আপনার জীবনসঙ্গী, তার সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। যদি তাকে মূল্যায়ন না করেন, তাহলে আপনার সাংসারিক জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমিই সব, স্ত্রী কিছুই বুঝে না এমন মনোভাব পরিহার করুন। বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে পরামর্শ করুন। এক কথায় তাকে গুরুত্ব দিন, তাহলে আপনি সাংসারিক জীবনে শান্তি পাবেন।

এবার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা। প্রিয় বোন! আপনার স্বামী সারাদিন পরিশ্রম করে কার জন্য? অবশ্যই আপনাদের জন্য। তিনি সারাদিন কষ্ট করে বাড়িতে আসার পর যদি আপনি তার সাথে খারাপ আচরণ করেন, হাসি মুখে কথা না বলেন; তাহলে তার কাছে কেমন লাগবে? তার খোঁজ-খবর নিন, তার জন্য পরিপাটি হয়ে থাকুন। আপনার স্বামী আপনাদের জন্য কত কষ্ট করে। তার প্রতি যত্নবান হোন। তার মনোরঞ্জনের চেষ্টা করুন। নচেৎ পরে আপনাকে পস্তাতে হবে। আপনার স্বামী অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট হবে। স্ত্রীকে সৃষ্টি করা হয়েছে স্বামীকে শান্তি দেওয়ার জন্য। এখন আপনার স্বামী যদি আপনার কাছে প্রশান্তি না পায়, তাহলে সে প্রশান্তির জায়গা খুঁজে নিবে। মাঝেমধ্যে স্বামীর কাজে সহযোগিতা করুন। তার মাথার চুল আলতো করে এলিয়ে দিন। কিছু সময় তার সাথে রোমান্টিক কথা বলুন। তাকে যে ভালোবাসেন এ কথাটা বুঝান। স্বামীর পরিবার, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। পৃথিবীতে আপনার স্বামীই সব। একটা বিষয় লক্ষ্য করুন! আপনার বাবা-মা আপনাকে জন্ম দিয়েছে, বড় করেছে, লেখাপড়া শিখিয়েছে, তারপর বিয়ে দিয়েছে। তারপরও তারা যদি মারা যায়, তাহলে আপনি তিনদিনের বেশি তাদের জন্য শোক পালন করতে পারবেন না। কিন্তু স্বামী এমন এক পরম আত্মীয় যে মারা গেলে অবশ্যই আপনাকে ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করতে হবে। অথচ আপনার বাবা-মা মারা গেলে মাত্র তিনদিন শোক। আশা করি স্বামী যে কী জিনিস তা বুঝতে পারছেন। স্বামীকে অবহেলা করবেন না, তাহলে একটা সময় সবাই আপনাকে অবহেলা করবে। পরকীয়া রোধে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর ভালোবাসার বিকল্প নেই।

(৩) স্ত্রীকে একা না রাখা: আপনি যদি দেশে থেকে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে চলতে পারেন, তাহলে স্ত্রীকে রেখে কখনোই বিদেশ যাবেন না। স্ত্রীকে ছাড়া আপনার যেমন কষ্ট হয়, অনুরূপ আপনাকে ছাড়া আপনার স্ত্রীরও একা থাকতে কষ্ট হয়। আপনি বিদেশ চলে গেলে অনেক শকুনের চোখ পড়ে আপনার স্ত্রীর প্রতি। তারা বিভিন্নভাবে আপনার স্ত্রীকে ফুসলাবে আর এদিকে চিরশত্রু শয়তান তো আছেই। টিভি, পেপার-পত্রিকায় প্রতিদিনই সংবাদ আসছে, প্রবাসীর স্ত্রী আরেকজনের সাথে সবকিছু নিয়ে পালিয়েছে। আমার দেখা একজন প্রবাসীর স্ত্রী ১০ ভরি স্বর্ণ ও ১৪ লাখ টাকা নিয়ে অন্য ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। বলুন তো! আপনার ও আপনার স্ত্রীর দিনে কয় কেজি চাল লাগে? সর্বোচ্চ ২ কেজি। আপনি যে টাকা উপার্জন করেন তা দিয়ে মোটামুটি ভালোই চলা যায়। কেন বিলাসিতার জন্য প্রবাসে যাচ্ছেন? আপনি জানেন, কত ছেলে আপনার স্ত্রীকে মেসেঞ্জারে নক করে? কত ছেলে আপনার স্ত্রীর ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে নক করে? আমরা জানি, আপনার স্ত্রী ভালো চরিত্রের অধিকারী। সে ওগুলো পাত্তা দিবে না। একটা কথা মনে রাখবেন! শয়তান কিন্তু আমার আপনার পেছনে সবসময়ের জন্য লেগে আছে। কোন সময় আপনার স্ত্রীকে বিপথগামী করে ফেলবে তা বলা যায় না। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া বা বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতে পারলে কিন্তু শয়তান যারপরনাই পুলকিত হয়। বিশ্বাস হচ্ছে না? তো চলুন হাদীছ থেকে জেনে নেই। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

‎إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ، ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ، فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً، يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا، فَيَقُولُ: مَا صَنَعْتَ شَيْئًا، قَالَ: ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ، قَالَ: فَيُدْنِيهِ مِنْهُ، وَيَقُولُ: نِعْمَ أَنْتَ.

‘ইবলীস পানির উপর তার আরশ স্থাপন করে তার বাহিনী প্রেরণ করে। তন্মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনকারী সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি ফেতনা সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। সে বলে, তুমি কিছুই করনি। অতঃপর অন্যজন এসে বলে, অমুকের সাথে আমি সকল প্রকার ধোঁকার আচরণই করেছি, এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে আলাদা করে দিয়েছি। তারপর শয়তান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে, হ্যাঁ, তুমি খুব ভালো’।[4]

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের কাচের সাথে তুলনা করেছেন। হাদীছটি দেখুন,

‎كَانَ فِي سَفَرٍ، وَكَانَ غُلاَمٌ يَحْدُو بِهِنَّ يُقَالُ لَهُ أَنْجَشَةُ، فَقَالَ لا تَكْسِرِ القَوَارِيرَ. النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏ رُوَيْدَكَ يَا أَنْجَشَةُ.‏

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন। তাঁর আনজাশা নামে এক গোলাম ছিল। সে হুদী গান গেয়ে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাকে বললেন, ‘হে আনজাশা! তুমি ধীরে উট হাঁকাও, তুমি কাচের পাত্রদের (নারীদের) ভেঙে ফেলো না’।[5]

কাচে একটু আঘাত লাগলেই ভেঙে যায়। ছেলেদের কোন কথায় আপনার স্ত্রী দুর্বল হয়ে যায় তা বলা মুশকিল। 

আপনি বিদেশ চলে গেলে আপনার বাড়ির আশপাশের অনেক যুবক ছেলেই অনায়াসে আপনার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে আসে, একাকী হয়। শয়তান কিন্তু তখন বসে থাকে না। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,لا يَخْلُوَنَّ رجُلٌ بامرأةٍ لا تَحِلُّ له فإنَّ ثالثَهما الشَّيطانُ ‘কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করলেই তৃতীয়জন হয় শয়তান’।[6]

আপনি প্রবাসে থাকলে আপনার স্ত্রী যে আপনাকে না জানিয়ে কত জায়গায় যায়, তা কি আপনি জানেন? আপনার স্ত্রী একা একা মার্কেট করতে যায়, বাজার করতে যায়, তার বাবার বাড়ি যায়, বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যায়, আরও কত জায়গায় যে যায়! আপনি কতক্ষণ তাকে দেখে রাখবেন? আপনি কতক্ষণ তার সাথে ফোনে কথা বলবেন? আপনার তো কাজ করতে হবে। প্রবাস জীবন, এটা বাবার হোটেল না। কাজ না করলে আপনাকে টাকা দিবে না।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। আপনারা লক্ষ্য করবেন, মানুষ তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া বা যেনা করতে প্রস্তুত থাকে। প্রতিবেশী যদি তার স্ত্রীকে রেখে বিদেশ যায় অথবা দূরে কোথাও চাকরি করতে যায়, তখন শয়তান এখানে একটি ইন্ধন দেয়। এর কারণটা কী জানেন? একটা হাদীছ উল্লেখ করলে বিষয়টি ভালো করে বুঝতে পারবেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হয়, কোন পাপ সবচেয়ে বড়? এর প্রত্যুত্তরে তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‎أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ ‘তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা’।[7]

প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যেনা করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় পাপের মধ্যে একটি। শয়তান চায় বড় পাপ করে মানুষ জাহান্নামী হোক, এজন্যই প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া বা যেনা করার জন্য পার্শ্ববর্তী যুবককে সে উদ্বুদ্ধ করে।

আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করুন! আল্লাহ তাআলা স্ত্রীকে বলেছেন পুরুষের পোশাক। এখন আমার কথা হচ্ছে, পোশাক কি শরীরের সাথে থাকে নাকি এটা আলাদা বাড়িতে পড়ে থাকে? অবশ্যই শরীরের সাথে লেগে থাকে। আপনি যেখানে যাবেন যেখানে থাকবেন, সেখানেই পোশাক নামক এই স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যাবেন। নচেৎ আপনি অন্তরের দিক থেকে উলঙ্গ থাকবেন। আপনি চাকরি করলে পাশে বাসা ভাড়া করে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যাবেন। কখনো তাকে একা রেখে যাবেন না। সুতরাং বেশি সমস্যা না হলে স্ত্রীকে একা রেখে প্রবাসে পাড়ি জমাবেন না।

(৪) পরপুরুষের সাথে নরম সুরে কথা না বলা: আল্লাহ তাআলা বলেন,يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا ‘হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর, তাহলে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে কথাবার্তা বলো না। কারণ এতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হবে। সুতরাং তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে’ (আল-আহযাব, ৩৩/৩২)

নারীরা পরপুরুষের সাথে মধুর সুরে কথা বলবে না। এতে করে দুষ্ট লোকেরা বেশি কথা বলতে চায়। কেউ যদি আপনার মোবাইলে ফোন দেয়, তাহলে বেশি কথা না বাড়িয়ে দ্রুত ফোন রেখে দিবেন। অনেক সময় দেখা যায়, নারীর কণ্ঠস্বর শুনে পুরুষরা তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। নারীদের আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন এক আকর্ষণীয় আকৃতিতে। সুতরাং আপনার স্ত্রী যেন কোনো পরপুরুষের সাথে কোমল সুরে কথা না বলে।

(৫) স্ত্রী সহবাসে অক্ষম হলে স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বলা: স্ত্রী যদি স্বামীর হক্ব তথা সহবাসে অপারগতা প্রকাশ করে, তাহলে স্ত্রীর উচিত নিজে থেকে স্বামীকে বিয়ে করিয়ে দেওয়া। কিন্তু কোনো স্ত্রীই এটা করতে চায় না। কোনো স্বামী যদি তার চাহিদা পূর্ণ করার জন্য বিয়ে করে, তাহলে স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলা করে। কোন স্বামী যদি সঙ্গত কারণে একাধিক বিবাহ করতে চায়, আর স্ত্রী স্বামীকে বিয়ে করতে বাধা দেয়, তাহলে ওই স্ত্রী অবশ্যই গুনাহগার হবে। প্রিয় বোন আমার! আপনি কি আপনার স্বামীকে যেনাকারী বানাতে চান? আপনি কি তাকে জাহান্নামী করতে চান? তাহলে কেন তাকে বিয়ে করতে দিচ্ছেন না? আল্লাহ তাআলা তো তাকে বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন,فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ‘তোমরা বিয়ে করো নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে; দুটি, তিনটি অথবা চারটি’ (আন-নিসা, ৪/৩)

আপনার কি মন চায় না আপনার স্বামীর সাথে জান্নাতে থাকতে? যদি আপনার মন চায়, তাহলে আপনার স্বামীকে পুতপবিত্র রাখুন। তাকে জান্নাতের কাজে সহযোগিতা করুন। এখন আপনি যদি তাকে বিয়ে করতে না দেন অথবা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে আপনার স্বামী কিন্তু ভয়ে বিয়ে করবে না ঠিকই, কিন্তু সে গোপনে পরকীয়ায় লিপ্ত হবে অথবা সরাসরি পতিতালয়ে গিয়ে যেনা করবে। যৌনক্ষুধা এমন এক ক্ষুধার নাম, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এজন্যই দেখেন না রাস্তাঘাটে, বাসে নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়।

কিছুদিন আগে শুনলাম, এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এলাকার সুন্দরী মেয়েদের সাথে পরকীয়া করে বেড়ায়। বিষয়টা এমন নয় যে, তার স্ত্রী জানে না। তার স্ত্রী জানে, কিছু বলে না। কারণ তার স্ত্রীর যৌবন শেষ হয়ে গেছে। তার স্ত্রী তাকে বিয়ে করতে দিচ্ছে না। কিন্তু তার স্ত্রী অন্যান্য সুন্দরী মেয়েদের সাথে তাকে পরকীয়া করতে দিচ্ছে। কিন্তু বৈধ বিয়ে করতে দিচ্ছে না। প্রিয় বোন! আপনার স্বামীকে পরকীয়া থেকে বাঁচাতে হলে তাকে বিয়ে দেন। কারণ আপনার যৌবন ৪০ অথবা ৪৫ এর আগেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আপনার স্বামীর মৃত্যু পর্যন্ত যৌবন থাকে। এজন্যই দেখেন না‘ ৫০ অথবা ৬০ বছরের বৃদ্ধ ২০ বছরের মেয়েকে বিয়ে করলে বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু কোনো ২০ বছরের যুবক ৫০ অথবা ৬০ বছরের নারীকে বিয়ে করলে তার বাচ্চা হয় না। প্রিয় বোন! আপনাকে একটি বাস্তব ও সত্য কথা বলি, পতিতালয়গুলোতে যায় কারা জানেন? অধিকাংশই বয়স্ক পুরুষরা পতিতালয়ে যায়। তাদের টাকা-পয়সা আছে, শারীরিক সক্ষমতা আছে; কিন্তু প্রথম বউ দ্বিতীয় বিয়ে করতে দিচ্ছে না। তাই তারা অপারগ হয়ে পতিতালয়ে যাচ্ছে। আপনি আপনার স্বামীকে যেনাকারী বানাবেন না, পরকীয়া করতে বাধ্য করবেন না। সুতরাং আমার পরামর্শ হচ্ছে, সঙ্গত কারণে স্বামী একাধিক বিবাহ করতে চাইলে আপনার স্বামীকে বিয়ে করিয়ে দিন। আপনার স্বামীকে পরকীয়া ও যেনার পাপ থেকে বাঁচান। আল্লাহ তাআলা আমাদের সুবোধ দান করুন- আমীন!

(৬) স্বামী সহবাসে অক্ষম হলে অথবা দুজনের মধ্যে মিল না হলে স্ত্রী খোলা করা: স্বামী সহবাসে অক্ষম হলে অথবা স্ত্রীর সাথে অসদাচরণ করলে অথবা স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে স্ত্রীর উচিত স্বামীর কাছ থেকে খোলা নেওয়া। কীভাবে নিবেন? স্বামীকে বলবেন, আপনি আমাকে যে মোহরানা দিয়েছেন, এটা আমি আপনাকে ফেরত দিব, এর বিনিময়ে আপনি আমাকে ছেড়ে দিন। হাদীছ থেকে এর প্রমাণ দেখুন, 

‎أَنَّ امْرَأَةَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ مَا أَعْتِبُ عَلَيْهِ فِي خُلُقٍ وَلاَ دِينٍ وَلٰكِنِّي أَكْرَهُ الْكُفْرَ فِي الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَه“ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْبَلْ الْحَدِيقَةَ وَطَلِّقْهَا تَطْلِيقَةً.

ছাবিত ইবনু কায়েস এর স্ত্রী নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! চরিত্রগত বা দ্বীনী বিষয়ে ছাবিত ইবনু কায়েস-এর উপর আমি দোষারোপ করছি না। তবে আমি ইসলামের ভিতর থেকে কুফরী করা (অর্থাৎ স্বামীর সঙ্গে অমিল) পছন্দ করছি না। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে?’ তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি বাগানটি গ্রহণ করো এবং তাকে এক তালাক দিয়ে দাও’।[8]

এখন আপনার স্বামী যদি আপনাকে না ছাড়তে চায়, তাহলে কী করবেন? আপনার স্বামীর উচিত আপনাকে ছেড়ে দেওয়া। কারণ আপনাদের সাংসারিক জীবনে অশান্তির ঘনঘটা নেমে এসেছে। বিয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সুখ-শান্তি বিরাজ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তার কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পার আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য, যারা চিন্তা করে’ (আর-রূম, ৩০/২১)

আপনার স্বামী আপনাকে না ছাড়তে চাইলে তাকে ছাড়ার জন্য বাধ্য করা হবে। প্রয়োজন হলে আপনি আইনের সহায়তা নিতে পারবেন।

তবে কোনো কারণ ছাড়া অথবা ঠুনকো অজুহাতে আপনি আপনার স্বামীর কাছ থেকে খোলা চাইতে পারবেন না। চাইলে আপনার পরিণতি মন্দ হবে। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ ‘যে কোনো নারী কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়াই তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চায়, তার জন্য জান্নাতের ঘ্রাণও হারাম’।[9]

অনেক সময় দেখা যায়, স্ত্রীর পরপুরুষের সাথে পরকীয়া থাকে। এরপর বলে, এই স্বামী আমার ভালো লাগে না। তারপর স্বামীর কাছে খোলা চায়। এগুলো করে খোলা চাওয়া যাবে না।

আল্লাহ তাআলা পরকীয়া নামক মহামারি থেকে আমাদের মুসলিম উম্মাহকে হেফাযত করুন- আমীন!

সাঈদুর রহমান

শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, বীরহাটাব-হাটাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।


[1]. তিরমিযী, হা/১১৭৩, হাদীছটি ছহীহ।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৭৮।

[3]. আবূ দাঊদ, হা/২১৪৯, হাদীছটি ছহীহ।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬৯৯৯।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৬২১০।

[6]. তিরমিযী, হা/২৭৯৪।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৭৭; বুলূগুল মারাম, হা/১৪৫৯।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/৫২৭৩।

[9]. আবূ দাঊদ, হা/২২২৬, হাদীছটি ছহীহ।

Magazine