কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

ভ্যালেন্টাইন’স ডে : একটি পর্যালোচন

সারকথা :

ভালোবাসা! কতই না সুন্দর একটি শব্দ! প্রশান্তির একটি স্বচ্ছ নহর। মানবতা টিকে থাকার অনন্য ভিত্তি এ ভালোবাসা। মানুষের আক্বল পর্যবেক্ষণ করে, হৃদয় ভালোবাসে আর শরীর বাহ্যিকভাবে তা সম্পাদন করে। জগতে জীবন আছে তো ভালোবাসা আছে। অন্য জীবে স্বাধীন আক্বল নেই কিন্তু তাদের পরস্পরের আচরণে ভালোবাসা স্পষ্ট। মায়ের ভালোবাসায় সন্তান আছে, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসায় পরিবার আছে, শিক্ষকের ভালোবাসায় তাদের শিক্ষার্থী আছে। ভালোবাসা নেই তো কিছুই নেই। সকল জীবে ভালোবাসা স্ব-মহিমায় থাকলেও মানব ভালোবাসায় আগুন লেগেছে। মানুষের মনের গভীর থেকে উৎসারিত প্রাকৃতিক ও পবিত্র ভালোবাসা আজ কৃত্রিমতা ও প্রবৃত্তি পূজায় পর্যবসিত হয়েছে। ভালোবাসায় লেগেছে বস্ত্তবাদের কালো হাত। ভোগবাদের ছত্রছায়ায় সার্বক্ষণিক অপরিহার্য ভালোবাসা পরিণত হয়েছে আজ অনুষ্ঠান সর্বস্ব চুম্বন পূজার আসরে।

ভোগবাদিতার উপর গড়ে উঠা পাশ্চাত্য জীবনদর্শনের সারকথাই হল স্বার্থপরতা, সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার, বস্ত্তবাদী জীবন, নৈতিকতার ভ্রান্ত সংজ্ঞা, নৈতিকতাকে অস্বীকার, ধর্মহীনতা ও গায়েব বা অদৃশ্যর প্রতি অবিশ্বাস। আর এ দর্শনগুলোর আলোকেই পাশ্চাত্যপন্থীরা তাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আত্মিক ভালোবাসাকে ঝাটিয়ে বিদায় জানিয়ে রূপ দিয়েছে আজকের রং তামাশার ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’তে। সার্বজনীন ভালোবাসাকে তারা সীমাবদ্ধ করেছে তরুণ-তরুণীদের অবৈধ লীলা-খেলায়, হৈচৈ আর উন্মাদনায়। ভালোবাসা মানেই আজ চকোলেট গিফট্, ব্যানার, কার্ড আর র‌্যাপিং পেপারে অাঁকা লাভ। ভালোবাসা মানেই আজ আত্মকেন্দ্রিকতা আর ভোগবাদিতার মহড়া।

ভ্যালেন্টাইন’স ডের সূচনা :

খ্রীস্টীয় ইতিহাস অনুযায়ী এ দিবসের সূত্রপাত হয় ২৬৯ খ্রীস্টাব্দে। সাম্রাজ্যবাদী, রক্তলোলুপ রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের দরকার ছিল এক বিশাল সৈন্যবাহিনীর। এক সময় তার সেনাবাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দেয়। কিন্তু কেউ তার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে রাযী ছিল না। সম্রাট লক্ষ্য করলেন যে, অবিবাহিত যুবকরা যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে অত্যধিক ধৈর্যশীল। ফলে তিনি যুবকদের বিবাহ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। যাতে তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ না করে। তার এ ঘোষণায় দেশের অবিবাহিত তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীরা মেনে নিতে পারে না। ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’ নামের এক ধর্মযাজকও সম্রাটের এ নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারেননি। প্রথমে তিনি ভালোবেসে সেন্ট মারিয়াসকে বিয়ের মাধ্যমে রাজার আদেশকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার গীর্জায় গোপনে বিয়ে পড়ানোর কাজ চালাতে থাকেন। একটি রুমে বর-বধূ বসিয়ে মোমবাতির স্বল্প আলোয় ভ্যালেন্টাইন ফিস ফিস করে বিয়ের মন্ত্র পড়াতেন। এই ব্যাপারটা বেশী দিন গোপন থাকেনি। বিষয়টি এক সময়ে সম্রাট ক্লডিয়াস জেনে যান। ভ্যালেন্টাইন ধরা পড়ে যান এবং কারারুদ্ধ হন। কারাবাসে তিনি এক কারারক্ষীর মেয়ের প্রেমে পড়েন। কিন্তু খ্রীস্টান ধর্মের একটি বিকৃত নীতি ছিল যে, ধর্মযাজকেরা বিয়ে বা নারীদের সাথে কোন সম্পর্কে জড়াতে পারবে না, সেহেতু ভ্যালেন্টাইন শেষমেশ এই প্রেম অস্বীকার করেন। খ্রীস্টধর্মের প্রতি তার এই অনুরাগ দেখে সম্রাট তাকে একটি লোভ দেখান। তিনি প্রস্তাব দেন, তিনি ভ্যালেন্টাইনকে ক্ষমা করবেন ও নিজের মেয়ের সাথে বিয়ে দেবেন এই শর্তে যে, তাকে খ্রীস্টধর্ম ত্যাগ করতে হবে। ভ্যালেন্টাইন অস্বীকৃতি জানালে তাকে ২৭০ খ্রীস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রম্নয়ারি মৃত্যুদ- দেয়া হয়। একসময় গ্রিস খ্রীস্টধর্ম গ্রহণ করল। পৌত্তলিক বসন্ত উৎসবের নতুন নাম হল ভ্যালেন্টাইন দিবস। সাধু ভ্যালেন্টাইনের নতুন নতুন মহিমা শোনা যেতে লাগল যে, তিনি প্রেমের শহীদ, ভালোবাসাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এ ব্যাপারে একাধিক ঘটনা থাকলেও এটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ঘটনা।

বাংলাদেশে ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ :

ভোগবাদীরা পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে কখনই নিজ ঘরে, নিজ দেশে জিইয়ে রাখেনি। মিডিয়া ও বিভিনণ কলাকৌশলের মাধ্যমে তারা ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী। কখনো পাশ্চাত্যে পড়তে যাওয়া কথিত উদারমনা বুদ্ধিজীবীদের মগজ ধোলাই করে তা ছড়ানো হয়েছে, আবার কখনো বা বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষিতরাই স্বপ্রণোদিত হয়ে সেই কুসংস্কৃতি নিজ দেশে আমদানী করেছে। বাংলাদেশে ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ জারী হওয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে দ্বিতীয়টি। ১৯৯০ সালে[1] ‘দৈনিক যায়যায় দিন’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক পাশ্চাত্যপ্রেমী শফিক রেহমান ‘ভালোবাসা দিবস’ চালু করেন তার পত্রিকায় নিউজ ছাপানোর মাধ্যমে। তিনি লন্ডনে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর এ লন্ডনী সংস্কৃতি পকেটে করে দেশে ফিরেন। তখন থেকেই বাংলাদেশে যুবক-যুবতীদের খোরাকে পরিণত হয় এ দিবসটি আর শুরু হয় অবাধ্য উন্মাদনা।

ধোঁয়াশাপূর্ণ ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ :

‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’-র একমাত্র উপলক্ষ্য স্বয়ং ভ্যালেন্টাইনকে নিয়েই রয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। ভ্যালেন্টাইনের পরিচয়ই ধোঁয়াশাপূর্ণ একটি বিষয়। যে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের কথা বলা হয়, সে কি আসলেই ছিল, থাকলে একজন না-কি একাধিক, তার সাথে ভালবাসা দিবসের সম্পর্ক কি, তা কোন শক্ত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করা যায় না। ক্যাথলিক চার্চের মাধ্যমে তিনজন ভিন্ন ভিন্ন ভ্যালেন্টাইনের কথা জানা যায়। খ্রীস্টানদের মতে, তারা প্রত্যেকেই শহীদ হয়েছিল। ভ্যালেন্টাইনকে নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও আস্থাশীল কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না। তাই উপরোলিস্নখিত কাহিনীকে আমরা শুধুমাত্র কল্পকাহিনীই বলতে পারি।

খ্রীস্টবাদের ধর্মীয় উৎসব :

ভ্যালেন্টাইন ছিলেন খ্রীস্টধর্মের একজন সেইন্ট (Saint) বা সাধু। এজন্য তাকে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন বলা হয়। যেমন খ্রীস্টধর্মের বিখ্যাত প্রচারক ও বাইবেলের একাধিক সুসমাচারের লেখক পোল (Paul)-কেও সেইন্ট পোল বলা হয়। এছাড়াও New Testament-এর প্রথমাংশে যে পুস্তকগুলো এসেছে, সেগুলোও যথাক্রমে সাধু মথি (Saint Mathew), সাধু লুক (Saint Luke), সাধু মার্ক (Saint Mark) ও সাধু যোহনের (Saint John) লিখিত।

মোটকথা, খ্রীস্টধর্মের একান্ত প্রচারক ও এর জন্য জীবন উৎসর্গকারীরাই সাধু লক্বব পেয়ে থাকেন। সে হিসাবে ভ্যালেন্টাইনও একজন খ্রীস্টান সাধু। ভ্যালেন্টাইন ডে-র সূচনার উপরিউক্ত ঘটনা থেকেও পরিষ্কার যে, সাধু ভ্যালেন্টাইন খ্রীস্টধর্ম বিরোধী সম্রাট ক্লডিয়াসের ধর্ম ত্যাগের প্রস্তাবকে তিনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি খ্রীস্ট ধর্ম রক্ষা ও প্রচার করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। পরবর্তীতে গ্রিস যখন খ্রীস্টানদের দখলে আসল, তখন তারা ধর্মের জন্য ভ্যালেন্টাইনের এই ত্যাগকে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করল এবং শ্রদ্ধা জানাতে লাগল।

এছাড়াও ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফেব্রম্নয়ারি মাসে প্রাচীন রোমে বসন্ত শুরু হত। তারা এই মাসটিকে পবিত্রতা ও শুদ্ধতার মাস মনে করত। ঐ সময়ে তারা ধর্মীয়ভাবে তাদের বাড়ীঘর পরিষ্কার করত। এই মাসের ১৫ তারিখে তারা ‘লুপারকেলিয়া’ নামে একটি ভোজের আয়োজন করত, যা তাদের কৃষি দেবতা ‘ফাউনাস’ এবং রোমের প্রতিষ্ঠাতা ‘রমিওলাস’ ও ‘রেমাস’ এর নামে উৎসর্গ করা হত। এই ভোজ অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল একটি লটারি। এই লটারির মাধ্যমে পরবর্তী বছরের জন্য রোমান যুবকরা তাদের নারীসঙ্গী পেত।

পরবর্তীতে পোপ গেলাসিয়াস এই লটারি প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং এই দিবসকে খ্রীস্টীয় ফ্লেভার দিতে ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ নামের মোড়ক দিয়ে আবৃত করেন। মজার কথা হল, এই ১৪ শতকের আগেও ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে ভালোবাসার কোন সম্পর্ক ছিল না।[2]

বিখ্যাত ইংরেজ লেখক জেওফ্রে সসার (Geoffery Chaucer) তার কবিতা The Parliament Of Fowls -এ পাখিকে প্রেমিক-প্রেমিকা হিসাবে কল্পনা করেছেন। মধ্যযুগে ফ্রান্সে এবং ইংল্যান্ডে বিশ্বাস করা হত যে, ফেব্রম্নয়ারি মাস হল পাখির প্রজনন কাল। সসার তার কবিতায় লিখেছেন,

‘For this was on St. Valentine’s day, when every fowl cometh there to choose his mate.’

বস্ত্তত, সসারের এই কবিতার মাধ্যমেই ভ্যালেন্টাইন ডের মধ্যে ভালোবাসা জিনিসটি ঢুকে যায় এবং আস্তে আস্তে ব্যাপকতা লাভ করে। লেখক Henry Ansgar Kelly তার Chaucer and cult of Saint Valentine বইতে এই ব্যাপারটি ভালভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে অর্থোডক্স খ্রীস্টানদের ‘Purification of Merry’ উৎসবটি পালন করা হয় ১৪ ফেব্রম্নয়ারিতে।

খ্রিস্টীয় প্যাগানিজম :

‘Be my Valentine’ এ দিবসের একটি শেস্নাগান। এ দিনে প্রেমের কবিতা, গান, বই, খাদ্য-দ্রব্য, ফুল, ছবি, শোকে লেখা কার্ড ইত্যাদি বিতরণ করা হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে গ্রীটিং কার্ডে, উৎসব স্থলে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রেমদেবতা কিউপিড (Cupid)-এর মূর্তি সংযুক্ত করা হয়। এটি হল তীর-ধনুক হাতে একটি ডানাওয়ালা শিশু আর সে প্রেমিকার হৃদয়ের প্রতি তীর নিশানা করছে। মধ্য ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ার কাউন্টির তরুণীরা ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’র মধ্য রাতে দল বেঁধে ৩ থেকে ১২ বার চার্চ প্রদক্ষিণ করত এবং এ চরণগুলো সুর দিয়ে আবৃত্তি করত,

I sow hempseed,

Hempseed I sow,

He that love me best,

Come after me now.

সেই সাথে তারা বিশ্বাস রাখত, এভাবে আবৃত্তি করতে থাকলে রাত্রিতে প্রেমিকজন অবশ্যই ধরা দিবে। কথাগুলো আবৃত্তির মধ্য দিয়ে এমন প্রদক্ষণ ও অদ্ভুত প্রেম পূজা প্যাগানিজমের স্পষ্ট ছায়াই প্রমাণ করে।

ভালোবাসায় পিষ্ট মানবতা :

ভালোবাসা দিবসের নামে ১৪ই ফেব্রম্নয়ারির এ দিনে যে পরিমাণ পাপাচার আর অপচয় করা হয়, তা মানবতার সাথে চরম ঠাট্টার শামিল। ভালোবাসা দিবস উদযাপনের নামে ধনিক শ্রেণি ডুবে যায় ভোগবাদিতার অতল গহীনে, অপচয় করা হয় শত শত ট্রিলিয়ন ডলার। ২০০৯ সালের হিসাব মতে, শুধু আমেরিকাতে উপহার সামগ্রী কেনা হয়েছে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের। ২০১৮ সালে এসে তা কততে পৌঁছবে তা সহজেই অনুমেয়। যখন পৃথিবীর একটি বিরাট সংখ্যক মানুষ না খেয়ে থাকে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কা-ারী শিশুরা ক্ষুধায়, অপুষ্টিতে ভুগে মারা যায়, তখন পাশ্চাত্যের দেশগুলো এভাবে অর্থ অপচয়ের রমরমা প্রতিযোগিতায় বিভোর।

২০০৭ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন সারা বিশ্বে ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ খালি পেটে ঘুমায়। যা প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, জনসংখ্যা বাড়ার দরুন। আর প্রতিদিন সারা বিশ্বে ১৮,০০০ শিশু ক্ষুধা এবং অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে।[3] মানবতার এমন প্রয়োজনীয় চাহিদাকে পিষ্ট করে ভালোবাসার নামে গীর্জায় চলে ভোগবাদীদের মদের আসর।[4] পরস্পরকে আহ্লাদিত করতে তরুণ-তরুণীদের চলে নির্বিচার মিথ্যাচার। ধনীর দুলালদের কথিত ভালোবাসা আর প্রেম গিয়ে নিবদ্ধ হয় প্রেমিকার শরীরে। তারা নেচে-গেয়ে, শুয়ে আর মদ গিলে ভালোবাসার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে। 

তাহলে কী খ্রীস্টীয় উৎসব পালন! :

এ দিবসটি প্রত্যক্ষভাবে খ্রীস্টধর্মের সাথে সম্পৃক্ত হলেও তা আজ সর্বসাধারণের উপভোগ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আস্তিক-নাস্তিক সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলিম যুবক-যুবতীরাও স্বপ্রণোদিত হয়ে এ দিবসে অংশগ্রহণ করছে; অনেকটা নিজের দ্বীনের মহা আদর্শ বিসর্জন দিয়ে। তারা সুমহান জীবনবিধান ইসলামকে উপেক্ষা করে কাজে-কর্মে ভোগবাদীদের সাথে একাতমতা ঘোষণা করছে। তারা ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের হাতে গড়া অপসংস্কৃতির অনুসরণ করেই তৃপ্তি অনুভব করছে। এদের মধ্যে কেউ আছেন, যারা দ্বীনকে জানার প্রয়োজন অনুভব করেন না। ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণের কোন বাছ-বিচার না করে বেদ্বীনদের সাথে একাকার হয়ে চলতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এরা দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞতাবশত কাফের-মুশরিকদের অনুসরণ করে। আবার এদের মধ্যে কারো দ্বীন মানা জুম‘আর ছালাত অথবা ঈদের ছালাতেই সীমাবদ্ধ। তারা বিষয়টি জেনেও এদিনে প্রেমলীলায় মেতে ওঠেন। এরা নিজের প্রবৃত্তি অনুসরণেই বেদ্বীনদের অনুসরণ করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) শক্তভাবে ধমক দিয়েছেন এই বলে, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে অন্য কোন জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে’।[5]

এ সাদৃশ্য তাদের উপাসনার ক্ষেত্রে হোক, তাদের দিবস পালনের ক্ষেত্রে হোক বা তাদের আচার-আচরণ ও পোশাকের ক্ষেত্রে হোক, সব ক্ষেত্রেই তাদের বাতিল দ্বীনের অনুসরণ বলে গণ্য হবে। তারা তো পবিত্র ইলাহী নির্দেশনাকে পদদলিত করে নিজের কামনা-বাসনার পূজা করে থাকে। তারা জেনেও হক্বকে প্রত্যাখ্যান করে এবং দ্বীনের বিরোধিতা করে শুধুমাত্র হিংসার বশবর্তী হয়ে। তাদের এ স্বভাব মহান আল্লাহ নিজেই প্রকাশ করে দিয়ে বলেন, ‘আর আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, তোমার পালনকর্তা ক্বিয়ামতের দিন তার ফয়ছালা করে দেবেন। এরপর আমি তোমাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরী‘আতের উপর। অতএব, তুমি এর অনুসরণ কর এবং অজ্ঞানদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না’ (জাছিয়া ১৭-১৮)

আর কাফের-মুশরিকদের বিরোধিতা করা শরী‘আতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। কেননা তারা এমন কিছু নীতিমালা নিজ হাতেই তৈরি করে, যা কল্যাণের বিপরীত, মানবতার বিপরীত, সর্বোপরি দ্বীনের বিপরীত। ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’-ই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ভালোবাসার নামে তারা কতই না বাজে কাজ করে থাকে। তরুণ-তরুণীদের মাঝে অবৈধ প্রেম, এর পরিণামে অবাধ যৌনতা, ভালোবাসার আদান-প্রদান স্বরূপ দীর্ঘ চুম্বনে রত হওয়া আর বিশ্বব্যাপী এসব রীতিনীতি ছড়িয়ে দেয়ায় তাদের জুড়ি নেই। ভোগবাদের মোড়কে এগুলো যুবক-যুবতীদের মাঝে চাকচিক্যময় করে তোলাই যেন তাদের মূল মিশন। মিডিয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোন দিবস নয় এমন একটি দিবসকে তারা বিশ্বব্যাপী কীভাবেই না প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে! তারা কী শয়তানের অনুসঙ্গী হিসাবে তারই এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে! কারণ শয়তানই তো অপকর্মগুলোকে মানুষের কাছে সুসজ্জিত করে তুলে ধরে এবং মানুষকে সঠিক অনুধাবন থেকে দূরে সরিয়ে নেয়।[6]

আর তারাও এমনটাই করছে। তাই রাসূল (ছাঃ) ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের স্বীয় প্রবৃত্তি থেকে আগত এবং মস্তিষ্কপ্রসূত এমন নীতি-নৈতিকতার বিরোধিতা করেছেন। সেই সাথে আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে অবতারিত অহি দিয়ে সেগুলোকে মোক্বাবিলা করেছেন। এজন্য মদীনার ইয়াহূদী-খ্রীস্টানরা তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে না পেরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সম্পর্কে বলত, এই লোকতো আমাদের বিরোধিতা ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। রাসূল (ছাঃ)-এর প্রিয় খাদেম আনাস (রাঃ) বলেন,

أَنَّ الْيَهُوْدَ كَانُوْا إِذَا حَاضَتْ الْمَرْأَةُ فِيْهِمْ لَمْ يُؤَاكِلُوْهَا وَلَمْ يُجَامِعُوْهُنَّ فِي الْبُيُوْتِ فَسَأَلَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى : (وَيَسْأَلُوْنَكَ عَنْ الْمَحِيْضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوْا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيْضِ ).. إِلَى آخِرِ الْآيَةِ ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اصْنَعُوْا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا النِّكَاحَ فَبَلَغَ ذَلِكَ الْيَهُوْدَ فَقَالُوْا مَا يُرِيْدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ مِنْ أَمْرِنَا شَيْئًا إِلَّا خَالَفَنَا فِيْهِ.

‘ইয়াহূদীরা তাদের মহিলাদের হায়েয হলে তাদের সাথে এক সঙ্গে খাবার খেত না এবং এক ঘরে বাস করত না। ছাহাবীগণ এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, ‘তারা তোমার কাছে হায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তুমি বলে দাও যে, তা হল নাপাক। সুতরাং হায়েয অবস্থায় তোমরা মহিলাদের থেকে পৃথক থাক’ (বাক্বারাহ ২/২২২)। এরপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘(তোমরা সে সময় তাদের সাথে) শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ কর। এ খবর ইয়াহূদীদের কাছে পৌছলে তারা বলল, এ লোকটি সব কাজেই কেবল আমাদের বিরোধিতা করতে চায়’।[7]

শরী‘আতের আরো অনেক বিষয়ে ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের বিরোধিতা করতে বলা হয়েছে। কেননা তারা মন যা চায়, তাই নীতি বানিয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একাধিক হাদীছে, পোশাকী ক্ষেত্রেও ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিমেণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কিছু আদেশ-নিষেধ পেশ করা হল,

‘তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করে দাও এবং ইয়াহূদী ও খ্রীস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন কর না’।[8] ‘ইয়াহূদী ও নাছারারা চুল ও দাড়িতে খেযাব লাগায় না। সুতরাং তোমরা খেযাব লাগিয়ে তাদের বিপরীত কর’।[9] ‘তোমরা ইয়াহূদীদের বিপরীত কর। তারা জুতা এবং মোজা পরে ছালাত আদায় করে না’।[10] ‘তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণ কর, গোঁফ কেটে ফেল এবং দাড়ি লম্বা কর’।[11]

বর্তমান সময়ে মুসলিম যুবক-যুবতীরা ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ সহ অন্য সকল বিজাতীয় সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ছে। পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত আজ কাফেরদের সজ্জায় সজ্জিত। তারা আচার-আচরণে, চলনে-বলনে, আসনে-ফ্যাশনে মুশরিকদের অনুকরণে মত্ত হচ্ছে আর কাফেরদের কোন অংশই যেন বাদ পড়ছে না। এ ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর ভবিষ্যৎ বাণী যেন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। তিনি বলেন,

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا شِبْرًا وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوْا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوْهُمْ قُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ اليَهُوْدُ وَالنَّصَارَى قَالَ فَمَنْ.

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের আচার-আচরণকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে। এমনকি তারা যদি দবেবর (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও এতে তাদের অনুকরণ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এরা কি ইয়াহূদী ও নাছারা? তিনি বললেন, ওরা ছাড়া আর কারা?’।[12]

ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের নীতি অনুসরণের ব্যাপারে আবু ওয়াক্বিদ আল-লায়ছী বর্ণিত হাদীছে তিনি বলেন,

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا خَرَجَ إِلَى غَزْوَةِ حُنَيْنٍ مَرَّ بِشَجَرَةٍ لِلْمُشْرِكِيْنَ كَانُوْا يُعَلِّقُوْنَ عَلَيْهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالُ لَهَا ذَاتُ أَنْوَاطٍ فَقَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبْحَانَ اللهِ هَذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى (اجْعَل لنا إِلَهًا كَمَا لَهُم آلهةٌ) وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ لَتَرْكَبُنَّ سُنَنَ مَنْ كَانَ قبلكُمْ.

‘রাসূল (ছাঃ) খায়বার যাত্রায় মূর্তিপূজকদের একটি গাছ অতিক্রম করলেন। তাদের নিকট যে গাছটির নাম ছিল ‘যাতু আনওয়াত’। এর উপর তীর টানিয়ে রাখা হত। এ দেখে কতক ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-কে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমাদের জন্যও এমন একটি ‘যাতু আনওয়াত’ নির্ধারণ করে দিন। রাসূল (ছাঃ) ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, ‘সুবহানাল্লাহ, এ তো মূসা (আঃ)-এর জাতির মত কথা। আমাদের জন্য একজন প্রভু তৈরি করে দিন, তাদের প্রভুর ন্যায়। আমি নিশ্চিত, আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমরা পূর্ববর্তীদের আচার-অনুষ্ঠানের অন্ধানুকরণ করবে’।[13]

দিবস পালনে ইসলামী মূলনীতি :

ইসলামে দিবস পালনের ক্ষেত্রে আরবী শব্দ ঈদ (عيد) ব্যবহৃত হয়। যেমন ‘ভালোবাসা দিবস’-কে আরবীতে বলা হয় عيد الحب। যেমন অনেক মুসলিম রাসূল (ছাঃ)-এর জন্মদিন পালন করতে গিয়ে একে ‘ঈদে মীলাদুন্নবী’ বলে থাকে। অথচ দিবস পালনের ক্ষেত্রেও ইসলামের বিধি-বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসাবে মুসলিম উম্মাহ বছরে কয়টি দিবস পালন করবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর তা বলে দেয়াটাই স্বাভাবিক। রাসূল (ছাঃ) মদীনায় আগমনের পর দেখলেন তারা দু’টি দিবস (নায়মূক ও মেহরেজান) পালন করছে। এতে তারা খেলাধুলা ও আনন্দ উৎসব করে থাকে। এটা দেখে রাসূল (ছাঃ) বলেন,

مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ قَالُوْا كُنَّا نَلْعَبُ فِيْهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الْأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ.

‘এই দু’টি দিন কিসের? তারা বলল, জাহেলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধুলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দু’টি উত্তম দিন দান করেছেন আর তা হল, ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর’।[14]

সুতরাং ইসলামে কেবলমাত্র দু’টি দিবস আছে। তা হল, দুই ঈদের দিন। এছাড়া অন্য কোন দিবসকে পালনের জন্য নির্ধারণ করার অর্থ হল রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুনণাহকে অবজ্ঞা করা। সেটা জন্ম দিবস হোক আর শোক বা মৃত্যুদিবস হোক।

আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ইসলামে যদি ইচ্ছামত দিবস পালনের বৈধতা থাকত, তাহলে দিবসের সংখ্যা বছরে ৩৬৫ দিনেরও বহুগুণ বেশি হত। রাসূল (ছাঃ)-এর জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত অসংখ্য স্মরণীয়, বরণীয় ঘটনা একেকটি দিবসে পরিণত হত। তিনিই দিবস পালনের সর্বাধিক হক্বদার হতেন। তাছাড়াও চার খলীফা ও আশারায়ে মুবাশশারাহ সহ অগণিত ছাহাবীগণের জন্ম-মৃত্যু ধরলেও লক্ষাধিক দিবস পালন করতে হত। গোটা জীবন দিবস পালন করেও শেষ করা যেত না। অতএব, দিবস পালনে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাহই একমাত্র মুক্তির পথ।

শেষ কথা :

‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ বিশ্বস্বীকৃত কোন দিবস নয়। জাতিসংঘও এটাকে দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। অথচ এটাকে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ বলা হচ্ছে। ভ্যালেন্টাইনের কল্পিত ইতিহাস যদি সত্যিও হয়, তাহলে তো এটি বিয়ে দিবস বা ক্বাযী দিবস হওয়াই যথার্থ ছিল। কেননা ভ্যালেন্টাইন তো বিয়ে পড়ানোর দায়ে জীবন দিয়েছেন। আরো অদ্ভুত ব্যাপার হল, মা দিবস, বাবা দিবসের মত অন্যান্য অনেক কার্যকরী ও বিশ্বস্বীকৃত দিবস রেখে ভালোবাসা দিবসের মত একটি বিতর্কিত দিবসকে এতটা প্রমোট করার কারণ কী? ... সবই ভোগবাদীদের কারসাজি। তারা যুবক-যুবতীদের মাঝে অবৈধ সম্পর্ক ছড়িয়ে ও অশস্নীলতার বীজ বুনে মানবতার নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বসাতে চায়। সর্বোপরি তারা ওমর খৈয়ামের ‘নগদ যা পাও, হাত পেতে নাও’-এর নীতিতে দুনিয়া ভোগের ষোলকলা পূর্ণ করতে চায়।

 

[1]. https://bn.wikipedia.org/s/2vax

[2]. https:blog.mukto-mona.com/2010/02/15/5121/।

[3]. https:blog.mukto-mona.com/2010/02/15/5121/।

[4]. https://bn.wikipedia.org/s/afr।

[5]. আবুদাঊদ হা/৪০৩১, সনদ ছহীহ।

[6]. সূরা নামলের ২৪ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের নিকট শোভন করেছে এবং তাদেরকে সৎপথ হতে বিরত করেছে, ফলে তারা সৎপথ পায় না’।

[7]. ছহীহ মুসলিম হা/৩০২।

[8]. মুসনাদে আহমাদ হা/৭৪৯২, সনদ ছহীহ, আলবানী (রহঃ) হাদীছটি তাঁর حجاب المرأة المسلمة নামক বইয়ের ১৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

[9]. ছহীহ বুখারী হা/৩৪৬২।

[10]. আবুদাঊদ হা/৬৫২, সনদ ছহীহ।

[11]. ছহীহ মুসলিম হা/২৫৯।

[12]. ছহীহ বুখারী হা/৭৩২০।

[13]. তিরমিযী হা/২১৮০, সনদ ছহীহ।

[14]. আবুদাঊদ হা/১১৩৪, সনদ ছহীহ।

Magazine