কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

সরকার ও জনগণ: পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য

ভূমিকা :

প্রতিটা বিবেকবান ও কল্যাণকামী নাগরিকের ঐকান্তিক প্রত্যাশা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ- যেখানে থাকবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং শান্তি শৃঙ্খলা। থাকবে সব মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা। সেখানে থাকবে না কোন প্রকার হয়রানি ও অপরাধ প্রবণতা।

আর এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের পাশাপাশি শাসক ও জনগণের সুসম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি, উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তায় শাসক এবং জনগণের সুসম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উভয় পক্ষের মাঝে সুসম্পর্ক এমনি এমনি অর্জন হবার নয়; বরং তা হবে পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে হবে।

তাই আমরা আলোচ্য প্রবন্ধটিতে শাসক ও জনগণের পারস্পরিক কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শাসকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ :

শাসকশ্রেণী রাষ্ট্র যন্ত্রের সঞ্চালক অংশ এবং প্রধান পার্ট। তাদের পরিচালনায় দেশ পরিচালিত হয়। তাদের শাসনে দেশ শাসিত হয়। দেশ পরিচালনায় ও শাসনে তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথ পালন না করেন, তাহলে দেশ সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে না এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না।

তাই প্রথমে আমরা শাসক শ্রেণীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ তুলে ধরতে প্রবৃত্ত হচ্ছি :

আল্লামা আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাবীব আল-বাছরী, আল-মাওয়ারদী, আশ-শাফেঈ (জন্ম: ৩৬৪ হি., মৃত্যু: ৪৫০ হি.) সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,

مهام الخليفة ومسئولياته : وَاَلَّذِيْ يَلْزَمُهُ مِنَ الْأُمُوْرِ الْعَامَّةِ عَشَرَةُ أَشْيَاءَ : أَحَدُهَا : حِفْظُ الدِّيْنِ عَلَى أُصُوْلِهِ الْمُسْتَقِرَّةِ وَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ سَلَفُ الْأُمَّةِ فَإِنْ نَجَمَ مُبْتَدِعٌ أَوْ زَاغَ ذُوْ شُبْهَةٍ عَنْهُ أَوْضَحَ لَهُ الْحُجَّةَ وَبَيَّنَ لَهُ الصَّوَابَ وَأَخَذَهُ بِمَا يَلْزَمُهُ مِنَ الْحُقُوْقِ وَالْحُدُوْدِ لِيَكُوْنَ الدِّيْنُ مَحْرُوْسًا مِنْ خَلَلٍ وَالْأُمَّةُ مَمْنُوْعَةً مِنْ زَلَلٍ.

মুসলিম শাসকের দায়িত্ব ও কর্তব্য : প্রধান প্রধান বা মৌলিক দশটি বিষয় সম্পাদন করা একজন খলীফা বা মুসলিম শাসকের উপর অবশ্য কর্তব্য:

(১) ধর্মকে তার সুপ্রতিষ্ঠিত মূল ভিত্তির উপর এবং উম্মতের সালাফদের ঐকমত্যের উপর সংরিক্ষত রাখা। অতএব যদি কোন বিদ‘আতীর উদ্ভব হয় অথবা ধর্ম থেকে যদি কোন সংশয়ী বিচ্যুত হয়, তাহলে তিনি (খলীফা) তার সামনে সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরবেন, তাকে সঠিকটা বোঝাবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার উপর শরী‘আত কর্তৃক অবধারিত শাস্তি বা হদ প্রয়োগ করবেন, যাতে ধর্ম ত্রুটি থেকে সুরক্ষিত থাকে এবং উম্মত পদস্খলন হতে বেঁচে যায়।

الثاني : تَنْفِيْذُ الْأَحْكَامِ بَيْنَ الْمُتَشَاجِرِيْنَ وَقَطْعُ الْخِصَامِ بَيْنَ الْمُتَنَازِعِيْنَ حَتَّى تَعُمَّ النَّصَفَةُ فَلَا يَتَعَدَّى ظَالِمٌ وَلَا يَضْعُفُ مَظْلُوْمٌ.

(২) ঝগড়া-বিবাদকারীদের মাঝে বিচার কার্য সম্পাদন করা এবং দ্বন্দ্ব-কলহকারীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন করা, যাতে সমাজে ইনছাফ ভরে যায়, ফলে কোন যালেম সীমালঙ্ঘন করতে পারবে না এবং কোন মাযলূম দুর্বল হয়ে থাকবে না।

الثالث : حِمَايَةُ الْبَيْضَةِ وَالذَّبُّ عَنِ الْحَرِيْمِ لِيَتَصَرَّفَ النَّاسُ فِي الْمَعَايِشِ وَيَنْتَشِرُوْا فِي الْأَسْفَارِ آمِنِيْنَ مِنْ تَغْرِيْرٍ بِنَفْسٍ أَوْ مَالٍ.

(৩) দেশের কেন্দ্রবিন্দু তথা রাজধানীকে সংরক্ষণ করা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহকে সুরক্ষিত রাখা, যাতে মানুষেরা তাদের জীবনোপকরণ সংগ্রহে এবং সফরসমূহে জান-মালের ঝুঁকিমুক্ত হয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।

الرابع : إقَامَةُ الْحُدُوْدِ لِتُصَانَ مَحَارِمُ اللهِ تَعَالَى عَن الِانْتِهَاكِ وَتُحْفَظَ حُقُوْقُ عِبَادِهِ مِنْ إتْلَافٍ وَاسْتِهْلَاكٍ.

(৪) হুদূদ তথা শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে করে আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ বা হারাম বিষয়গুলোর সংঘটন প্রতিহত করা যায় এবং তাঁর বান্দাদের অধিকারসমূহকে ভোগ-দখল ও বিনষ্ট সাধন হতে হিফাযত করা যায়।

الخامس : تَحْصِيْنُ الثُّغُوْرِ بِالْعُدَّةِ الْمَانِعَةِ وَالْقُوَّةِ الدَّافِعَةِ حَتَّى لَا تَظْفَرَ الْأَعْدَاءُ بِغِرَّةٍ يَنْتَهِكُوْنَ فِيْهَا مُحَرَّمًا أَوْ يَسْفِكُوْنَ فِيْهَا لِمُسْلِمٍ أَوْ مُعَاهَدٍ دَمًا.

(৫) সূদৃঢ় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রবল শক্তি দ্বারা সীমান্ত রক্ষা করা, যাতে শত্রুরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে দেশের মধ্যে কোন নিষিদ্ধ কাজ সংঘটিত করার অথবা কোন মুসলিম বা কোন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের রক্তপাত ঘটানোর সুযোগ না পায়।

السادس : جِهَادُ مَنْ عَانَدَ الْإِسْلَامَ بَعْدَ الدَّعْوَةِ حَتَّى يُسْلِمَ أَوْ يَدْخُلَ فِي الذِّمَّةِ لِيُقَامَ بِحَقِّ اللهِ تَعَالَى فِيْ إظْهَارِهِ عَلَى الدِّيْنِ كُلِّهِ.

(৬) ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর পর ইসলাম গ্রহণে যারা হঠকারিতা প্রদর্শন করবে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করা যে পর্যন্ত না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা যিম্মী চুক্তিতে দাখিল হয়, যাতে করে সকল ধর্মের উপর ইসলাম ধর্মকে বিজিত করার বিষয়ে আল্লাহ্র হক্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

السابع : جِبَايَةُ الْفَيْءِ وَالصَّدَقَاتِ عَلَى مَا أَوْجَبَهُ الشَّرْعُ نَصًّا وَاجْتِهَادًا مِنْ غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا عَسْفٍ.

(৭) সুস্পষ্ট দলীল কিংবা ইজতিহাদের ভিত্তিতে শরী‘আত কর্তৃক অবধারিত ‘ফাই’[1] ও ছাদাক্বাসমূহ নির্ভয়ে এবং কোন প্রকার যুলুম না করে সংগ্রহ করা।

الثامن : تَقْدِيْرُ الْعَطَايَا وَمَا يَسْتَحِقُّ فِيْ بَيْتِ الْمَالِ مِنْ غَيْرِ سَرَفٍ وَلَا تَقْتِيرٍ وَدَفْعُهُ فِيْ وَقْتٍ لَا تَقْدِيمَ فِيْهِ وَلَا تَأْخِيْرَ.

(৮) অপচয় ও কার্পণ্য পরিহার পূর্বক বায়তুল মাল তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিভিন্ন সরকারি দান-অনুদান ও বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা এবং আগে-পিছে না করে তা যথাসময়ে প্রদান করা।

التَّاسِعُ : اسْتِكْفَاءُ الْأُمَنَاءِ وَتَقْلِيدُ النُّصَحَاءِ فِيْمَا يُفَوَّضُ إلَيْهِمْ مِنَ الْأَعْمَالِ وَيَكِلُهُ إلَيْهِمْ مِنَ الْأَمْوَالِ لِتَكُوْنَ الْأَعْمَالُ بِالْكَفَاءَةِ مَضْبُوْطَةً وَالْأَمْوَالُ بِالْأُمَنَاءِ مَحْفُوْظَةً.

(৯) প্রশাসনিক কাজ ও অর্থ ব্যবস্থার দায়িত্বে যোগ্য আমানতদার ও সুদক্ষ নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদেরকে নিয়োজিত করা, যাতে সুদক্ষ নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং যোগ্য আমানতদার ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।

الْعَاشِرُ : أَنْ يُبَاشِرَ بِنَفْسِهِ مُشَارَفَةَ الْأُمُورِ وَتَصَفُّحَ الْأَحْوَالِ لِيَنْهَضَ بِسِيَاسَةِ الْأُمَّةِ وَحِرَاسَةِ الْمِلَّةِ وَلَا يُعَوِّلُ عَلَى التَّفْوِيْضِ تَشَاغُلًا بِلَذَّةٍ أَوْ عِبَادَةٍ فَقَدْ يَخُوْنُ الْأَمِيْنُ وَيَغُشُّ النَّاصِحُ وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى: {يَا دَاوُوْدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيْفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيْلِ اللهِ} [ص من الآية:২৬]. فَلَمْ يَقْتَصِرْ اللهُ سُبْحَانَهُ عَلَى التَّفْوِيْضِ دُوْنَ الْمُبَاشَرَةِ وَلَا عَذَرَهُ فِي الِاتِّبَاعِ حَتَّى وَصَفَهُ بِالضَّلَالِ وَهَذَا وَإِنْ كَانَ مُسْتَحَقًّا عَلَيْهِ بِحُكْمِ الدِّيْنِ وَمَنْصِبِ الْخِلَافَةِ فَهُوَ مِنْ حُقُوْقِ السِّيَاسَةِ لِكُلِّ مُسْتَرْعٍ قَالَ النَّبِيُّ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَام্ُরكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.

(১০) শাসক নিজে সরাসরি প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় তত্ত্বাবধান বা পরিদর্শন করবেন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন অবস্থার খোঁজ-খবর নিবেন, যাতে সুচারুরূপে প্রজাদেরকে পরিচালনা করতে পারেন এবং ধর্মের পাহারাদারি করতে পারেন। তিনি নিজে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগূল হয়ে কিংবা আরাম আয়েশে ডুব দিয়ে অন্যের কাঁধে দায়ভার ন্যসেত্মর উপর নির্ভরশীল হবেন না। কারণ কখনো কখনো আমানতদার খিয়ানত করে বসে এবং নিষ্ঠাবান প্রতারণা করে থাকে।

মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে দাঊদ! আমরা আপনাকে যমীনে খলীফা বানিয়েছি। অতএব আপনি লোকদের মধ্যে সুবিচার করুন এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না, কেননা এটা আপনাকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিচ্যুত করবে’ (ছোয়াদ, ২৬)। এখানে আল্লাহ তাকে সরাসরি দায়িত্ব পালন বাদ দিয়ে কেবল দায়ভার ন্যস্ত করণের উপর সীমাবদ্ধ রাখেননি এবং প্রবৃত্তির অনুসরণের ক্ষেত্রে তার জন্য কোন ওযরও রাখেননি, এমনকি সেটাকে ভ্রষ্টতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখিত দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো যদিও ধর্মীয় ও শাসনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী তার উপর আবশ্যক, তথাপি সেগুলো প্রতিটি প্রজার রাজনৈতিক অধিকার। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আমানত গ্রহণকারী, আর প্রত্যেককেই পরকালে তার দায়িত্ব ও আমানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭১৩৮)[2] রাষ্ট্রপ্রধান একজন দায়িত্বশীল, আমানত গ্রহণকারী, তাকে পরকালে তার দায়িত্ব ও আমানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।

এছাড়াও ইসলামে জনগণের প্রতি শাসকদের আরো কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল :

(এক) তারা জনগণের সাথে নরম আচরণ করবেন, তাদের উপর দয়াপরবশ হবেন এবং তাদের উপর কঠোর হবেন না ও তাদেরকে কষ্ট দিবেন না। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোন কিছুর দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে কষ্টে ফেলবে, তুমি তাকে কষ্টে ফেলো। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোন কিছুর দায়িত্ব নিয়ে তাদের সাথে নম্র আচরণ করবে, তুমি তার সাথে নম্র আচরণ করো’।[3] নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, إِنَّ شَرَّ الرِّعَاءِ الْحُطَمَةُ ‘সবচাইতে নিকৃষ্ট শাসক বা দায়িত্বশীল হল, যারা অত্যন্ত কঠোর’।[4]

(দুই) তারা জনগণের কল্যাণ কামনা করবেন। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দ্বীন বা ধর্ম হল নছীহত বা কল্যাণ কামনা করা। ছাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, কার জন্য? তিনি জবাব দিলেন, আল্লাহ্র জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের শাসকদের জন্য এবং মুসলিম জনসাধারণের জন্য’।[5] তিনি আরো বলেছেন,

مَا مِنْ عَبْدٍ اسْتَرْعَاهُ اللهُ رَعِيَّةً فَلَمْ يَحُطْهَا بِنَصِيْحَةٍ إِلَّا لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ.

‘যে কোন বান্দাকে আল্লাহ কোন প্রজার উপর দায়িত্বশীল নিযুক্ত করলে সে যদি কল্যাণ কামনার সহিত তাদের পাহারাদারি না করে, তাহলে সে জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না’।[6] নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,

مَا مِنْ أَمِيْرٍ يَلِي أَمْرَ الْمُسْلِمِيْنَ ثُمَّ لَا يَجْهَدُ لَهُمْ وَيَنْصَحُ إِلَّا لَمْ يَدْخُلْ مَعَهُمُ الْجَنَّةَ.

‘যে কোন শাসকই হোক না কেন, যে মুসলিমদের দায়িত্বশীল নিযুক্ত হয় অতঃপর তাদের জন্য পরিশ্রম করে না, তাদের কল্যাণ কামনা করে না, সে তাদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’।[7]

(তিন) তারা জনগণের সাথে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি করবেন না। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيْهِ اللهُ رَعِيَّةً يَمُوْتُ يَوْمَ يَمُوْتُ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ إِلَّا حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ.

‘যে কোন বান্দাই হোক না কেন, যাকে আল্লাহ কোন প্রজার উপর দায়িত্বশীল নিযুক্ত করেন, অথচ সে তার প্রজাদের সাথে প্রতারণাকারী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাহলে আল্লাহ তার উপর জন্নাত হারাম করে দিবেন’।[8]

(চার) তারা জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করবেন না, জনগণ থেকে বে-খবর থাকবেন না এবং জনগণের প্রয়োজন মেটানো থেকে দূরে থাকবেন না। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ وَلاهُ اللهُ شَيْئًا مِنْ أُمُوْرِ المُسْلِمِيْنَ فَاحْتَجَبَ دُوْنَ حَاجَتِهِمْ وَخَلَّتِهِمْ وَفَقْرِهِمْ احْتَجَبَ اللهُ دُوْنَ حَاجَتِهِ وَخَلَّتِهِ وَفَقْرِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

‘আল্লাহ যাকে মুসলিমদের বিষয়সমূহের কোন কিছুতে নিযুক্ত করেন, অতঃপর সে তাদের প্রয়োজন, অনটন ও অভাব পূরণ করা থেকে আড়ালে থাকে তথা দূরে থাকে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রয়োজন, অনটন ও নিঃস্বতা দূর করা হতে আড়ালে থাকবেন তথা তা পূরণ করবেন না’।[9]

মুসলিম শাসকের প্রতি জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য :

একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের উন্নতি, কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য জনগণের প্রতি শাসকদের যেমন দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, তেমনি শাসকদের প্রতিও রয়েছে জনগণের কতিপয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। নীচে আমরা শাসকদের প্রতি জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য তুলে ধরলাম :

(১) শাসকদের জন্য নছীহত (কল্যাণ কামনা) করা : ছহীহ হাদীছে এসেছে, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দ্বীন বা ধর্ম হল, নছীহত বা কল্যাণ কামনা করা। আমরা প্রশ্ন করলাম, কার জন্য? তিনি জবাব দিলেন, আল্লাহ্র জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রসূলের জন্য, মুসলমিদের শাসকদের জন্য এবং মুসলিম জনসাধারণের জন্য।[10]

ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ নছীহতের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘ন্যায়ের উপর তাদেরকে সহযোগিতা করা, ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে তাদেরকে মান্য করা, তাদেরকে ন্যায়ের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা এবং নরম ও কোমল পন্থায় তাদেরকে সজাগ করা ও সদুপদেশ দান করা। মুসলিমদের যেসব অধিকারের বিষয়ে তারা বে-খেয়াল হয়ে আছেন অথবা তাদের কাছে খবর নাই, সেসব বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করা। তাদের আনুগত্যের প্রতি জনগণের মনে ঐক্য তৈরি করা’।[11]

আল্লামা খাত্ত্বাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘শাসকদের জন্য অন্যতম নছীহত হল, তাদের পেছনে ছালাত আদায় করা, তাদের নেতৃত্বে জিহাদ করা, তাদের নিকটে যাকাতের মাল জমা দেওয়া, তাদের পক্ষ থেকে যুলুম বা মন্দ আচরণ প্রকাশ পেলেও তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ না করা, মিথ্যা প্রশংসা দিয়ে তাদেরকে ধোঁকায় না ফেলা এবং তাদের সততার জন্য দু‘আ করা’।[12]

(২) শাসকের সাথে ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা না করা : মানুষের সাথে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি ইসলামে নিষিদ্ধ সেটা শাসকদের সাথে হোক কিংবা জনগণের সাথে হোক। মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا ‘যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’।[13] তিনি অন্যত্র বলেছেন, مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي ‘যে প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয়’।[14]

নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়ে ধোঁকাবাজি নিষিদ্ধ করেছেন। জনৈক ছাহাবী ব্যবসায়ে বারবার ধোঁকা খেতেন, তিনি নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি জানালে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পরামর্শ দেন যে, ‘যখন তুমি কেনাবেচা করবে, তখন বলবে, কোন ধোঁকাবাজি চলবে না’।[15]

হাদীছটিতে যদিও ব্যবসাতে ধোঁকাবাজি নিষিদ্ধের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে, ইসলামে সব ধরনের মানুষের সাথে সকল প্রকার লেনদেনে ধোঁকাবাজি নিষিদ্ধ। আর সবচেয়ে বড় লেনদেন হল শাসক-জনগণের লেনদেন। অতএব শাসকের সাথে বা সরকারের সাথে জনগণের ধোঁকাবাজি হারাম। তবে একটি ক্ষেত্রে ইসলাম ধোঁকাবাজি বৈধ রেখেছে, আর তা হল কাফেরদের সাথে যুদ্ধে ধোঁকাবাজি করা। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যুদ্ধ হল ধোঁকাবাজি’।[16]

(৩) শাসকদের নামে মিথ্যাচার না করা : ইসলাম মিথ্যাচারকে হারাম করে দিয়েছে। মিথ্যাচার হারাম, সেটা কারো পক্ষে হোক কিংবা বিপক্ষে হোক, কিংবা কোন সংবাদ পরিবেশনে হোক। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِيْ إِلَى الْفُجُوْرِ وَإِنَّ الْفُجُوْرَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَّابًا.

‘তোমরা মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকো। কারণ মিথ্যাচার পাপাচারিতার পথে পরিচালিত করে। আর পাপাচারিতা জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বলতেই থাকে, মিথ্যাচারের প্রচেষ্টায়ই থাকে, পরিশেষে তাকে আল্লাহ্র দরবারে মিথ্যাবাদী হিসাবে লিখে রাখা হয়’।[17]

নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যাচারকে মুনাফিক্বের অন্যতম আলামত হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন, তিনি বলেছেন,

آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ : إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ.

‘মুনাফিক্বের চিহ্ন তিনটি : যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে। যখনই সে ওয়াদা করে, তখনই সে ওয়াদা ভঙ্গ করে। তার কাছে যখনই আমানত রাখা হয়, তখনই সে তার খেয়ানত করে’।[18]

মনে রাখতে হবে, কোন কিছু শুনে সেটাকে যাচাই-বাছাই করা ছাড়া প্রচার করলেই তাতে মিথ্যাবাদী হয়ে যেতে হবে। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ ‘ব্যক্তির মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই প্রচার করে’।[19]

অতএব প্রজাদের জন্য কখনই বৈধ নয় শাসকদের নামে মিথ্যাচার করা।

আল্লামা ইবনু উছায়মীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,

كَذَلِكَ أَيْضًا يَجِبُ عَلَى الرَّعِيَّةِ أَنْ يَنْصَحُوا لِوَلِيِّ الأَمْرِ وَلَا يَكْذِبُوا عَلَيْهِ وَلَا يَخْدَعُوهُ وَلَا يَغُشُّوهُ.

‘অনুরূপভাবে জনগণের উপর অবশ্য কর্তব্য হল, তারা শাসকের জন্য নছীহত (কল্যাণ কামনা) করবে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করবে না, তাকে ধোঁকা দিবে না এবং তার সাথে প্রতারণা করবে না’।[20]

(৪) আল্লাহ্ অবাধ্যতা নয় এমন বিষয়ে শাসকের আনুগত্য করা : তবে শাসক যদি আল্লাহ্র অবাধ্যতামুলক কোন আদেশ-নিষেধ প্রদান করেন, তাহলে উক্ত বিষয়ে শাসকের আনুগত্য করা যাবে না। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্র আনুগত্য কর, তোমরা রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের দায়িত্বশীলদের বা শাসকবর্গের...’ (নিসা, ৫৯)

নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির উপর তার পসন্দনীয়-অপসন্দনীয় সকল বিষয়ে শাসকের আদেশ-নিষেধ শ্রবণ করা ও তা মান্য করা আবশ্যক যে পর্যন্ত না তাকে আল্লাহ্র অবাধ্যতার আদেশ করা হয়। যখন তাকে আল্লাহ্র অবাধ্যতার আদেশ করা হবে, তখন তা শোনা যাবে না এবং মানা যাবে না’।[21] নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ্র অবাধ্য হয়ে কোন সৃষ্টির আনুগত্য চলবে না’।[22]

(৫) শাসককে সাহায্য করা : যদি কেউ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অথবা রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তাহলে তাকে প্রতিহত করতে জনগণ সরকারকে সাহায্য করবে। অনুরূপ কেউ যদি শাসকের বিরুদ্ধে শরী‘আহ বিবর্জিত বিদ্রোহ করে কিংবা শাসকের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে আসে, তাহলে সেটা প্রতিরোধ করতে জনগণ সরকারকে সাহায্য করবে।

নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন শাসকের নিকট বায়‘আত করল, তাকে আনুগত্যের অঙ্গীকার করল, তাহলে সে যেন সাধ্যমত তার আনুগত্য করে। এরপর যদি অন্য কোন ব্যক্তি (তোমাদের) শাসকের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে আসে, তাহলে তোমরা ঐ ব্যক্তির গর্দান উড়িয়ে দাও’।[23]

ইমাম মাওয়ারদী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,

وَوَجَبَ لَهُ عَلَيْهِمْ حَقَّانِ الطَّاعَةُ وَالنُّصْرَةُ مَا لَمْ يَتَغَيَّرْ حَالُهُ.

‘শাসকের প্রতি প্রজাদের উপর দু’টি অধিকার পালন আবশ্যক। যথা : আনুগত্য করা ও সাহায্য করা যতক্ষণ না তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটে’।[24]

(৬) শাসকের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করা : কারণ এতে দেশে অরাজকতা তৈরি হয় এবং দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।

(৭) শাসকের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উস্কানি না দেওয়া : কারণ এতে নানা ধরনের ক্ষতি ও ফিৎনা সৃষ্টি হয়।

(৮) শাসকের মন্দ কর্মগুলোকে জনগণের সামনে প্রচার না করে তা গোপন রাখা।

৯. শাসকের ভালো কাজগুলোকে জনগণের মাঝে প্রচার করা : আল্লামা ইবনু উছায়মীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘প্রজাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল, আল্লাহ্র অবাধ্যতা নয় এমন সকল বিষয়ে শাসকদের আদেশ-নিষেধ শোনা ও মানা, শাসকদের জন্য কল্যাণ কামনা করা, তাদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করা, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কানি না দেওয়া, তাদের মন্দ বিষয়গুলোকে ঢেকে রাখা এবং তাদের ভালো বিষয়গুলোকে প্রচার করা। কারণ মন্দ বিষয়গুলো জনগণের সামনে প্রচার করা ছাড়াই গোপনে সে বিষয়ে শাসকদেরকে উপদেশ দেওয়া সম্ভব। তাছাড়া শাসকদের মন্দ বিষয়গুলো জনগণের সামনে প্রচার করে কোন লাভ নেই; বরং এতে কেবল অবস্থা কঠিন রূপ ধারণ করে। এতে জনগণের মনে শাসকদের প্রতি ক্রোধ ও ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

আর জনগণ যখন শাসকদেরকে ঘৃণা করে, তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়, তাদের অবাধ্য হয়, তাদের ভালো বিষয়টিকে খারাপ বিষয় হিসাবে দেখে এবং তাদের মন্দ বিষয়গুলো থেকে চুপ না থাকে, তখন এর মাধ্যমে জনমনে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে এবং নানা অকল্যাণ ও ফাসাদ সৃষ্টি হয়।

প্রজারা যখন দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তাদের ঐক্য যখন ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তাদের মাঝে ফিৎনা তথা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, যেমনটি হয়েছিল ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর শাসনকালে- যখন লোকেরা তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করতঃ তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে জনগণকে লেলিয়ে দিয়েছিল। আর এর পরিণামে যে বড় ধরনের অকল্যাণ, ক্ষতি ও বিপর্যয় হয়েছিল তা আজ অবধি বিদ্যমান।[25]

১০. শাসককে অপমান না করা অর্থাৎ শাসকের আদেশ-নিষেধ নিয়ে বিদ্রূপ না করা এবং শাসকের কাজ নিয়ে ব্যঙ্গ না করা : নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যমীনের বুকে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত শাসককে যে অপমান করবে, আল্লাহ তাকে অপমান করবেন’।[26]

শেষকথা :

পরিশেষে- আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের শাসকশ্রেণীকে এবং আমাদের জনসাধারণকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, শান্তি ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

আব্দুর রঊফ বিন আইয়ূব আল


[1]. যুদ্ধ ছাড়াই কাফেরদের থেকে প্রাপ্ত মালকে ‘ফাই’ বলে।

[2]. আল-আহকামুস সুলতানিয়াহ, পৃঃ ৪০।

[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৮২৮।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩০।

[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৫।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৭১৫০।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৪২।

[8]. প্রগুক্ত।

[9]. আবুদাঊদ, হা/২৯৪৮। আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেছন।

[10]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৫।

[11]. শারহুন নববী আলা ছহীহ মুসিলম, ২/৩৮ পৃঃ।

[12]. প্রাগুক্ত।

[13]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০১।

[14]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০২।

[15]. ছহীহ বুখারী, হা/২১১৭।

[16]. ছহীহ বুখারী, হা/৩০৩০।

[17]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০৭।

[18]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩।

[19]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫০।

[20]. শারহু রিয়াদিছ ছালেহীন, ২/৪২৬ পৃঃ।

[21]. ছহীহ বুখারী, হা/৭১৪৪।

[22]. আহমাদ, হা/১০৯৫, হাদীছটি ছহীহ।

[23]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৪।

[24]. আল-আহকামুস সুলতানিয়াহ, পৃঃ ৪২।

[25]. শারহু রিয়াদিছ ছালেহীন, ৩/৬২৮ পৃঃ ।

[26]. তিরমিযী, হা/২২২৪, আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

Magazine