কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২২) : ঋতুবতী মহিলারা কি দৈনন্দিন পঠিতব্য দু‘আ-দরূদ পড়তে ও আযানের জবাব দিতে পারবে?

উত্তর : মূল কুরআনকে স্পর্শ করে তেলাওয়াত করা ও বায়তুল্লাহ ত্বাওয়াফ করা ছাড়া ঋতুবতী অবস্থায় মহিলারা দৈনন্দিন পঠিতব্য প্রয়োজনীয় দু‘আ-দরূদ, আযানের জওয়াব ও দু‘আ এবং সকল প্রকার তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতে পারে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় ঋতুবতী মহিলাগণ ঈদের খুৎবা ও দু‘আয় শরীক হতেন। উম্মু আত্বীয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই ঈদের দিনে ঋতুবতী ও পর্দানশিন মহিলাদেরকে ঈদের মাঠে বের করার জন্য আমাদের আদেশ করা হয়েছে। তবে ঋতুবতী মহিলারা মুছল্লা থেকে পৃথক থাকবে এবং মুসলিমদের জামা‘আতে ও দু‘আতে শরীক হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০; মিশকাত, হা/১৪৩১)। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি ঋতুবতী হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ ত্বাওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকি সব অনুষ্ঠান পালন করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১২১১; মিশকাত, হা/২৫৭২)। উল্লেখ্য যে, ঋতুবতী মহিলারা মূল কুরআন ব্যতীরেকে তাফসীর ও হাদীছের কিতাবগুলো স্পর্শ করে পড়তে পারে। কেননা অপবিত্র অবস্থায় যে কুরআন স্পর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছে তা হলো মূল কুরআন (মুগনী শারহুল কাবীর, ২/৭৫)। আবুবকর ইবনু মুহাম্মাদ, আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানবাসীদের কাছে যে চিঠি লিখেছিলেন তাতে লেখা ছিল যে, ‘অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করবে না’। শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ উক্ত হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন (ইরওয়াউল গালীল, ১/১৫৮)। 

-মাসঊদ

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।


Magazine