কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৯) : আমার পিতা সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনি বাড়ি করার জন্য ও ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করানোর জন্য বিভিন্ন সোর্স থেকে লোন নিয়েছেন। যার সূদ এখনো পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারেননি। এমতাবস্থায় পিতা-মাতাসহ আমাদের কারও ফরয বা নফল কোনো ধরনের ইবাদত কবুল হবে কি?

উত্তর : ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত হলো, হালাল রূযী। সুতরাং রূযী হালাল না হলে মহান আল্লাহ কারও ইবাদত কবুল করবেন না। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণকে যে আদেশ করছেন, মুমিনগণকেও সে আদেশই করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসূলগণ! আপনারা পবিত্র খাদ্য খাবেন এবং সৎ আমল করতে থাকবেন’ (আল-মুমিনূন, ২৩/৫২)। মুমিনগণকে লক্ষ্য করে অনুরূপই বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! আমার দেওয়া পবিত্র রিযিক্ব হতে খাও’ (আল-বাক্বারাহ, ২/১৭২)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ্য করলেন, এক ব্যক্তি দূর-দূরান্তে সফর করছে। তার মাথার চুল এলোমেলো, শরীরে ধুলাবালি। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি উভয় হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে কাতরস্বরে হে প্রভু! হে প্রভু! বলে ডাকছে। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, তার জীবিকা নির্বাহ হারাম, কীভাবে তার দু‘আ কবুল হবে? (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)। তবে সন্তানরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং উপার্জনক্ষম না হলে পিতা-মাতার উপার্জন হতে ভোগ করতে পারে। কেননা তারা শরী‘আতের মুকাল্লাফ নয়। তাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব পিতা-মাতার। সুতরাং এজন্য সন্তান দায়ী হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘কোনো বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না’ (আন-নাজম, ৫৩/৩৮)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোনো প্রাণ অপরের অপরাধের কারণে দণ্ডত হবে না’ (নাসাঈ, হা/৪৮৪৯, ৪৮৫০, ৪৮৫১; ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩০৩)। উল্লেখ্য যে, প্রকাশ্য সূদী ব্যাংকে চাকরি করা হারাম এবং এর বেতনও হারাম (ছহীহ ইবনে হিববান, হা/৪৯৩৮)।

-আব্দুর রহমান

রামনগর, দিনাজপুর।


Magazine