কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৫) : অনেক যুবক বিভিন্ন ডিজাইনে চুল কাটায়। এভাবে চুল কাটার শারঈ অনুমোদন আছে কি?

উত্তর : খেলোয়াড়, চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা কিংবা অন্যান্যদের অনুকরণে সমাজে যে পদ্ধতিতে চুলের স্টাইল করা হচ্ছে তা ইয়াহূদী-খ্রীস্টান, অগ্নিপূজক ও নির্বোধদের স্টাইলের অন্তর্ভুক্ত। যা সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য। অনুরূপভাবে মাথার সব কেটে ফেলে সামনের দিকে ঝুঁটি বা টিকি রাখাও জায়েয নয়। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের অনুসরণ করল, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (আবুদাঊদ, হা/৪০৩১; মিশকাত, হা/৪৩৪৭)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলকে ‘ক্বাযা’ করতে নিষেধ করেছেন। ‘ক্বাযা’ হল, কপালের উপরে কিছু চুল রেখে মাথার বাকী চুল ফেলে দেয়া। তেমনিভাবে মাথার চুল একপাশে রেখে অপর পাশ থেকে কাটা (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯২০-৫৯২১)। অনুরূপ পিছনের অংশ ছোট করে রাখা ও সামনের অংশ বড় করে রাখা জায়েয নয় (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২৫/৩৬৪)।

উল্লেখ্য যে, চুল রাখার শারঈ পদ্ধতি তিনটি। জুম্মা, লিম্মা ও ওয়াফরা। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথায় এই তিন ধরনের চুল থাকত। যে চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে তাকে ওয়াফরা বলে। যে চুল কান অতিক্রম করে যায়, তাকে লিম্মা বলে। আর সবচেয়ে বড় চুল হল জুম্মা, যা কাঁধের উপর ঝুলে পড়ে (তাফসীরু গরীবি মা ফিছ ছহীহাইন, পৃঃ ৭১ ও ১৫৯)। তবে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল সাধারণত জুম্মার চেয়ে ছোট এবং ওয়াফরার চেয়ে বড় থাকত (আবুদাঊদ, ৪১৮৭; ইবনু মাজাহ, হা/৩৬৩৫)।

-আক্বীমুল ইসলাম

জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।


Magazine