উত্তর: অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে বা কোনো দাবি আদায়ের জন্য নারীদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন বা বিক্ষোভ করা হারাম। কেননা রাস্তাভিত্তিক আন্দোলনে সাধারণত নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশা, পর্দা লঙ্ঘন, শ্লোগান, চিৎকার, বিশৃঙ্খলা, কখনো সহিংসতা, সময়ের অপচয় ও ফিতনার আশঙ্কা থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের প্রদর্শনীর মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না (আল-আহযাব, ৩৩/৩৩)। রাষ্ট্রের উচিত সর্বস্তরে ইনছাফ প্রতিষ্ঠা করা (আন-নাহল, ১৬/৯০; আল-মায়েদা, ৫/৮; আন-নিসা, ৪/৫৮)। কেননা আল্লাহ তাআলা ইনছাফভিত্তিক রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখেন (মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া, ২৮/১৪৬)। বর্তমানে রাষ্ট্র ইনছাফ না করলে করণীয় হচ্ছে আদালত, লিখিত আবেদন, প্রতিনিধিত্বমূলক ডেলিগেশন, গণমাধ্যমে শালীনভাবে বিষয় তুলে ধরা, আলেমদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা ইত্যাদি। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সর্বোত্তম জিহাদ হলো যালিম শাসকের সামনে সত্য কথা বলা’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৩৪৪; তিরমিযী, হা/২১৭৪)। বাড়িতে থেকে ও নিরাপদ পরিসরে নারীরা যেসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তা হলো- (১) দু‘আ করা (গাফির, ৪০/৬০; ছহীহ বুখারী, হা/১৪৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯)। (২) লেখালেখি করা (আবূ দাঊদ, হা/৪৩৪৪; তিরমিযী, হা/২১৭৪)। (৩) শিক্ষামূলক সচেতনতা (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩২)। (৪) স্বামী/পরিবারকে ন্যায়ের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করা (আত-তাহরীম, ৬৬/৬) ইত্যাদি।
প্রশ্নকারী : কাজী শাকিব
