উত্তর: (ক) অতীতের পাপ স্মরণে এসে যদি হতাশা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশা তৈরি করে অথবা পূর্বের করা পাপের স্বাদ স্মরণ করিয়ে পুনরায় পাপ করতে উৎসাহিত করে, তাহলে বুঝতে হবে এটা শয়তানের পক্ষ থেকে। আর যদি অতীতের পাপ স্মরণে এসে অনুশোচনা, বিনয়, তওবা ও ইস্তিগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করতে উৎসাহিত করে; তাহলে বুঝতে হবে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, إِنَّمَا النَّجْوَى مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيْسَ بِضَارِّهِمْ شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ‘নিশ্চয় এই কানাঘুষা শয়তানের পক্ষ থেকে, যাতে সে মুমিনদেরকে দুঃখ দিতে পারে (এবং হতাশাগ্রস্ত করতে পারে)। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা’ (আল-মুজাদালা, ৫৮/১০)। অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় আর অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে তার ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ’ (আল-বাকারা, ২/২৬৮)। খ. শয়তান গায়েব জানে না (আন-নামল, ২৭/৬৫)। তবে তারই কুমন্ত্রণায় যে পাপ সংঘটিত হয়েছে তা সম্পর্কে অবশ্যই সে অবগত এবং তা দ্বারা সে কুমন্ত্রণা দেয় পুনরায় সেই পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য (আন-নাস, ১১৪/৫-৬)।
প্রশ্নকারী : হাশেম, লালমনিরহাট।
