উত্তর : এমতাবস্থায় স্ত্রীকে রাখা বা না রাখা স্বামীর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে স্ত্রী যদি খালেছ অন্তরে তওবার মাধ্যমে পূর্বের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পবিত্র হয়, তাহলে তাকে স্ত্রী হিসাবে রাখা-ই ভালো। সাহ্ল ইবনু সা‘দ আস-সায়েদী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন উয়াইমের আজলানী এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অপর ব্যক্তিকে পায়, তবে কি সে তাকে হত্যা করবে? অতঃপর নিহতের আত্মীয়গণ তাকে হত্যা করবে অথবা সে কি করবে? রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার ও তোমার স্ত্রীর (ন্যায় ব্যক্তিদের) ব্যাপারেই (সূরা নূরের লি‘আনের আয়াতটি) নাযিল করা হয়েছে। যাও, তোমার স্ত্রীকে নিয়ে আস। সাহ্ল বলেন, তারা এসে মসজিদে লি‘আন করল আর আমি তখন লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। যখন তারা ‘লি‘আন হতে অবসর গ্রহণ করল, উয়াইমের বলল, এটার পর যদি আমি তাকে রাখি তা হলে ধরতে হবে যে, আমি তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছি। অতঃপর সে তাকে তিন তালাক দিয়ে দিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে কালো এবং কালো কালো পুতলী, বড় বড় নিতম্ব ও মোটা মোটা নালাওয়ালা সন্তান প্রসব করে তবে মনে করব যে, উয়াইমের নিশ্চয় সত্য বলেছে; আর যদি ওহ্রার ন্যায় লাল টুকটুকে সন্তান প্রসব করে তাবে মনে করব যে, উয়াইমের তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উয়াইমের সমর্থনে সন্তানের যেরূপ বর্ণনা দান করেছিলেন, সে সেরূপ সন্তানই প্রসব করল। অতঃপর সন্তানকে তার মাতার নামেই ডাকা হতে লাগল (ছহীহ বুখারী, হা/৫৩০৯; মিশকাত হা/৩৩০৪)।
প্রশ্নকারী : মাহমুদুর রহমান
চাটমোহর, পাবনা।
