আমরাই তো স্কুল-কলেজে যাই, কারণে-অকারণে শপিংয়ে যাই, চাকুরীতে যাই, পার্কে যাই, পিকনিকে যাই, কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে যাই, সাগরে গোসল করি, নদীতীরের মা-বোনেরা নদীতে, পুকুরে গোসল করে ভেজা কাপড়ে বাড়ী পর্যন্ত হেঁটে যাই আর রাস্তার সমস্ত লোলুপ দৃষ্টি আমাদেরকে চোখে এক্স-রে (x-ray) মেশিন লাগিয়ে দেখে। আমাদের মেয়েরা প্রাইভেটে যায়, কলেজে মাথায় কুচি দিয়ে স্কার্ফ পরে যায়, তার নিচে এক বিঘত চুল, ভ্রু প্লাক করে, চোখে আই লাইনার, মাসকারা, কাজল লাগিয়ে হালকা মেক-আপ, কপালে ছোট একটা টিপ, শরীরে পরফিউম-এর সুবাস, ঠোটে লিপস্টিক/চ্যাপস্টিক, নখে নেইলপলিশ, পায়ে নূপুর। পদ্মার ধারে, মহানন্দার ধারে আমরা উচ্চৈঃস্বরে বান্ধবীদের নিয়ে হাসাহাসি করি আর ফুচকা-চটপটি, পেপসি, আইসক্রিম খেতে খেতে আড়চোখে লক্ষ্য করি কে কে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে? হ্যান্ডসাম ছেলেরা তাকালে মনে মনে পুলকিত হই। আল্লাহ্র নবী আমাদের দেখেই তো বলেছেন, আমরা জান্নাত তো দূরের কথা জান্নাতের সুগন্ধিও পাব না, অথচ জান্নাতের সুগন্ধি ৫০০ বছরের দূরত্বে থেকেও পাওয়া যায়। কোন ভদ্র ঘরের মাদরাসা পড়ুয়া দ্বীনদার ছেলেও যদি ঐসব মেয়েদের দিকে তাকায়, তাহলে ১০ মিনিট আগেও যার মন পবিত্র ছিল মুহূর্তেই তার মনের মধ্যে কামনা জেগে ওঠে, চোখে নেশা লেগে যায়, মন ধীরে ধীরে অবাধ্য হয়ে ওঠে, হিংস্রতা সৃষ্টি হয়, এক পর্যায়ে ঐসব মেয়েরা কারো ধর্ষণের শিকার হয়। এভাবেই সমাজ হচ্ছে কলুষিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের নিজ গৃহে অবস্থান কর এবং মূর্খতার যুগের অনুরূপ নিজেদের প্রদর্শন কর না’ (আহযাব, ৩৩)। বখাটে ও লম্পটরা পর্দানশীলা, লজ্জশীলা, সতী-সাধ্বী মেয়েদের পেছনে ঘুর ঘুর করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (আহযাব, ৫৯)। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নারী আবরণ। অতএব যখন সে বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে’।[1] অন্দর মহলে থাকা অবস্থায় সে আল্লাহ্র সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী থাকে।[2]
স্মরণ রাখতে হবে যে, পর্দা মানে অবরোধ নয়। নারী পর্দা করে শরী‘আতের শর্ত মোতাবেক নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। পর্দা নারীর শিক্ষা, প্রগতি ও নৈতিকতার অন্তরায় নয়। পর্দা বেলেল্লাপনা ও নগ্নতার অন্তরায়। অনেক মহিলা আছে, যাদের বাবার ও স্বামীর যথেষ্ট সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মেধার জয়জয়কার ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বা নিছক ঘরে সময় কাটে না বা নিজের পায়ে দাঁড়ানো ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য চাকুরী করে। পর্দার নামে এরা যে স্টাইলিশ বোরখা ও স্কার্ফ পরে, যাতে তাদের রূপ-সৌন্দর্য শতগুণে বৃদ্ধি পায়। শরীরে সেঁটে থাকা চিপা বোরখা আর কুচি কুচি করে মাথায় যে ওড়না পেঁচায়, এতে পুরুষরা আরো বেশি আকর্ষিত হয়, কারণ এতে ঐ মেয়ের রূপ-লাবণ্য আরো বেশি ফুটে ওঠে। শয়তান পর্দার নামে এভাবে আমাদের ধোঁকা দিচ্ছে। যদি কোন ইঁদুর দু’চোখ বন্ধ করে বিড়াল থেকে বাঁচতে চায় বা কোন হরিণ চোখ বন্ধ করে সিংহের পালের মধ্যে ঢুকে যায়, তবে এটা তার বোকামি নয় কি? তেঁতুল দেখলে যেমন মুখে পানি আসা মানুষের প্রকৃতিগত দুর্দমনীয় স্বভাব, তেমনি নারীর সৌন্দর্য দেখে বদখেয়াল বা কুচিন্তা আসাও পুরুষদের প্রকৃতিগত দুর্দমনীয় স্বভাব। মহান আল্লাহ পুরুষদের এতটাই কামনাশক্তি দান করেছেন যে, একজন স্ত্রীতে তার জৈবিক চাহিদা পূরণ না হলে ২/৩/৪ পর্যন্ত আল্লাহ বিয়ের অনুমতি দান করেছেন আর স্ত্রীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا قَالَ وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِيْ فِي السَّمَاءِ ساخطا عَلَيْهَا حَتَّى يرضى عَنْهَا.
‘যখন স্বামী স্ত্রীকে (প্রয়োজনে) বিছানায় ডাকে আর স্ত্রী তা অমান্য করে, স্বামী তখন অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে, ফেরেশতাগণ ঐ স্ত্রীর উপর সকাল পর্যন্ত অভিশাপ করে’। অন্য বর্ণনায় আছে, ‘কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে আর স্ত্রী তা অমান্য করে, তাহলে স্বামী স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ ঐ স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত থাকেন’।[3] কোন পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ যদি অবাধ্য স্ত্রীর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ঐ পুরুষ সর্বদা কামচিন্তা মাথায় নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করে। ফলে বাইরে অফিসে বা তার কর্মস্থলে বেপর্দায় থাকা মেয়েদের প্রতি সহজেই সে আকৃষ্ট হয়। এছাড়াও উঠতি বয়সের তরুণ-যুবকেরা স্কুলে, কলেজে, ভার্সিটিতে তাদের সহপাঠী মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। অতিরিক্ত সিনেমা, পর্ণ ছবি, ব্লু-ফিল্ম দেখার কারণে ও আল্লাহভীতি না থাকায় তারাও হিংস্র সিংহের মতই ওঁৎ পেতে থাকে সহজ শিকারের আশায়। সুতরাং হে নারী সমাজ! পর্দজ
(১) পর্দাহীনতা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরম অবাধ্যতা।
(২) এটি কাবীরা গুনাহ, নৈতিকতা ধ্বংসকারী, ইবলীসের আদর্শ।
(৩) এটি অভিশাপ ও আল্লাহ্র রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটি বড় কারণ।
(৪) এটা জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য।
(৫) এটা অমর্যাদা, কলঙ্ক, নগ্নতা, অসভ্যতা ও অপবিত্রতা।
(৬) এটা ধৃষ্টতা, অশ্লীলতা, পশ্চাদপদতা ও অবক্ষয়।
(৭) এটা যৌন উত্তেজনার সহায়ক ও অবাধ মেলামেশার ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে নৈতিক অধঃপতন।
(৮) এটা পারিবারিক অশান্তি, ধর্ষণ, ব্যভিচার বৃদ্ধির সহায়ক।
(৯) এটা নারীকে পণ্যদ্রব্যে পরিণত করার হাতিয়ার।
(১০) পর্দাহীনতা তালাকের হার বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।
আজ রাস্তায় মোড়ে মোড়ে বিউটি পার্লার, সেখানে গিয়ে আমরা ভ্রূ প্লাক করাচ্ছি, শরীরে উল্কি অঙ্কন করছি, দাঁত সুন্দর করার পরামর্শ পাচ্ছি, পারফিউম লাগিয়ে সুবাসিত হচ্ছি, কৃত্রিম কেশ লাগাচ্ছি, উটের কুঁজের মত আকর্ষণীয় করে বড় বড় খোঁপা বাঁধছি। পুরুষদের মত জিন্স প্যান্ট আর গেঞ্জি পরছি। হিন্দুদের মত টিপ পরছি। জর্জেটের বা সিল্কের ফিনফিনে শাড়ী পরে পেট-পিঠ দেখিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে, পিকনিকে ভিড় করছি। টাইটফিট সালোয়ারের সাথে ফিনফিনে পাতলা ওড়না না হলে মানায় না। হায় আফসোস! ৫০ বছর আগেও তো এতটা নগ্নতা ছিল না। সুতরাং হে এই যুগের মেয়েরা! আমাদের দেখেই যেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হাদীছ বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُوْنَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلاَتٌ رُءُوْسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لاَ يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيْحَهَا وَإِنَّ رِيْحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيْرَةِ كَذَا وَكَذَا.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দুই প্রকার মানুষ, যাদেরকে এখনও আমি দেখেনি, (এক) ঐ জাতি, যাদের সাথে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, তা দিয়ে মানুষকে প্রহার করবে, (দুই) সেই নারীর দল, যারা বস্ত্র পরিহিতা উলঙ্গ, তারা পুরুষদের আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। যাদের মাথা (খোপা বাঁধার কারণে) উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এত এত দূর থেকে পাওয়া যাবে’।[4] রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের বেশধারী নারীদের প্রতি অভিশাপ করেছেন এবং নারীদের বেশধারী পুরুষদেরও।[5] যে নারী সুগন্ধি মেখে সুবাসিত হয়ে বের হয়, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ব্যভিচারিণী নারী বলে আখ্যায়িত করেছেন।[6]
সুতরাং হে নারী সমাজ! আমরা কেন আমাদের মূল্যবান সময় অনর্থক হাটে-বাজারে, চাকুরীতে, শপিংয়ে নষ্ট করছি। আমরা শেষ যামানায় সবচাইতে পাপ-পঙ্কিলতাময় পরিবেশের পাপী নারী। আমাদের গলার উপর জাহান্নামের তলোয়ার ঝুলছে। মৃত্যু আমাদেরকে সোজা জাহান্নামে নিয়ে গিয়ে উপস্থিত করবে। আমাদের হাতে সময় অনেক কম, কাজ বেশি। আমরা কেন যত্রতত্র চাকুরীর নামে আমাদের মহামূল্যবান সময় নষ্ট করব? সাথে স্বামী-সন্তানের হক্ব নষ্ট করব? সদা সর্বদা স্বামী-সন্তান ও সংসারের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখে জান্নাতের পথকে সুগম করাই বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি? আমরা আমাদের মহামূল্যবান সন্তান ও সংসারের দায়ভার একজন অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত কাজের মেয়ের হাতে ফেলে দিয়ে বাইরে বের হই। ১০ ভরি গহনাও তো আমরা টেবিলের উপর ফেলে না রেখে আলমারির সিন্দুকে ভরে তালা দিয়ে সুরক্ষিত রাখি। কিন্তু তার থেকেও দামী সন্তান, স্বামী-সংসার সবকিছু অরক্ষিত করে ফেলে আমরা অন্যের দফতর সামলাতে বের হই। আমাদের ঘরগুলোকে বিরান করে বাইরের জগৎকে আবাদ করতে বের হই।
عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بَعَّدَ اللهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا.
আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র ওয়াস্তে একটি ছিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ বছরের পথ দূরে করে দিবেন’।[7] মেয়েদের জান্নাত কত সহজ! দেখুন, আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
الْمَرْأَةُ إِذَا صَلَّتْ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَأَحْصَنَتْ فَرْجَهَا وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا فَلْتَدْخُلْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ .
‘কোন নারী পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত নিয়মিত আদায় করলে, রামাযান মাসের ফরয ছিয়াম পালন করলে, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাযত করলে ও স্বামীর আনুগত্য করলে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত সে প্রবেশ করতে পারবে’।[8]
উক্ত ৪টি গুণ অর্জন করা কি এতটাই কঠিন? হে জান্নাতের আশাধারী মা-বোনেরা! আসুন এই ৪টি গুণ অর্জনের পাশাপাশি আমরা নিয়মিত ছালাত শেষে মাসনূন দু‘আ-যিকির করি। আইনে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কিতাবুদ দো‘আ, রাহে বেলায়েত ইত্যাদি বই থেকে আমরা ফযীলতপূর্ণ কুরআনের আয়াতসহ অসংখ্য মাসনূন দো‘আ সম্পর্কে জানতে পারব। সেই সাথে প্রতি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ ২ আয়াত, আলে ইমরানের শেষ রুকূ, কাহ্ফের প্রথম ১০ আয়াত, সূরা মূল্ক সহ ‘তিন ক্বুল’ পড়ি। আমরা যদি নিয়মিত কুরআন ও হাদীছ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলি, সন্তানদের সেবা-যত্ন করি, আদব-ক্বায়দা শিখাই, রুচিশীল খাবার তৈরি করি, নিজের পোশাক নিজেরা তৈরি করি, ঘর-বাড়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, বিশেষত স্বামীর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হই, তাহলেই আমরা সফলকাম হব। একবার উম্মে হানী রাযিয়াল্লাহু আনহা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি বৃদ্ধা ও দুর্বল হয়ে গিয়েছি, আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন, যা আমি বসে বসে পালন করতে পারব। তিনি বললেন, ‘তুমি ১০০ বার সুবহানাল্লাহ বলবে, তাহলে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার সমপরিমাণ ছওয়াব পাবে। ১০০ বার আল-হামদুলিল্লাহ বলবে, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ১০০টি সাজানো ঘোড়ায় মুজাহিদ প্রেরণের সমপরিমাণ ছওয়াব পাবে। ১০০ বার আল্লাহু আকবার বলবে, তাহলে ১০০টি উট কুরবানীর সমপরিমাণ ছওয়াব পাবে। ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে, তাহলে তোমার ছওয়াবে আসমান ও যমীন পূর্ণ হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি তোমার এ যিকিরগুলোর সমপরিমাণ যিকির করবে, সে ছাড়া সেদিনে তোমার চেয়ে বেশি বা উত্তম আমল কেউ আল্লাহ্র দরবারে পাঠাতে পারবে না’।[9] বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি সম্পদ ব্যয়ে কৃপণতাবোধ করে, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করতে ভয় পায় এবং রাত জেগে ইবাদত করতে আলসেমি বোধ করে, সে যেন বেশি বেশি বলে সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার।[10] হাদীছে আরো বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘দু’টি বাক্য জিহবায় উচ্চারণে খুবই হালকা এবং ক্বিয়ামতের দিন আমলের পাল্লায় খুবই ভারী আর আল্লাহ্র নিকট অতি প্রিয়, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম’।[11] এছাড়াও কালেমায়ে তাওহীদ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পড়লে ১০টি দাস মুক্ত করার ছওয়াব পাবে, ১০০টি ছওয়াব লেখা হবে, ১০০টি গুনাহ মুছে ফেলা হবে এবং সকালে পড়লে সকাল থেকে সন্ধ্যা ও সন্ধ্যায় পড়লে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত জিন-শয়তানেরা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না’।[12]
সুতরাং হে চাকুরী ভাইরাসে আক্রান্ত মা-বোনেরা! একান্ত প্রয়োজন না থাকলে বা মহৎ কোন উদ্দেশ্য ছাড়া বিচার-বিবেচনা না করে যে কোন চাকুরী করা আপনার জন্য ক্ষতিকর। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ভাবে দ্বীন বোঝার ও মেনে চলার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
[1]. তিরমিযী, হা/১১৭৩।
[2]. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ২/৩৪৪ পৃঃ।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৪১; মিশকাত, হা/৩২৪৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৩১০৮।
[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/২১২৮; মিশকাত, হা/৩৫২৪।
[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫; মিশকাত, হা/৪৪২৯।
[6]. ছহীহুল জামে‘, হা/৪৫৪০।
[7]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৪০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৩; মিশকাত, হা/২০৫৩।
[8]. মিশকাত, হা/৩২৫৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৩১১৫; ফাতাওয়া আশ-শাবাকাতিল ইসলামিয়া, ৫/১৯৫ পৃঃ।
[9]. ইবনে মাজাহ, হা/১২৫২; মুসতাদরাক হাকিম, ১/৬৯৫।
[10]. তাবারানী, আল মু‘জামুল কাবীর, ৯/২০৩ পৃঃ; মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/৯০ পৃঃ; আত-তারগীব, ২/৪২০-৪২১ পৃঃ।
[11]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৪০৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৬৯৪; মিশকাত, হা/২২৯৮।
[12]. ছহীহ বুখারী, হা/৩২৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯১; মিশকাত, হা/২৩০৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২১৯৪।
