কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

চাকুরী নামের ভাইরাস

আজ আমাদের দেশের মা-বোনেরা আধুনিক অসার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকুরী নামের ভাইরাসে আক্রান্ত। তাদের লেখাপড়া করার উদ্দেশ্যই থাকে ভার্সিটি পাস করে ভালো মানের বড় কোন চাকুরী পাওয়া। এত কষ্ট করে এত টাকা খরচ করে পড়ালেখা করলাম, আর চাকুরী করব না এমনটা হয় নাকি। এতদূর পড়াশুনা করে আমার লাভটাই কী হল, যদি চাকুরী না করি।

চাকুরী করব, অর্থ উপার্জন করব, নিজের পায়ে দাঁড়াব, তাহলে কেউ আমাকে ছোট-বড় কথা বলতে পারবে না, ক্ষতি করতে পারবে না। সেই সাথে এই দূষিত সমাজে তার মান-সম্মান বহুগুণে বেড়ে যাবে, আয়া-দাসী খাটাবে, স্বামীকে হাতের মুঠোয় রাখা যাবে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর সামনে মাথাটা উঁচু হবে, নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক পরা যাবে, মনের খায়েশ মিটিয়ে শপিং করা যাবে। তাছাড়া যে বাবা-মা এত কষ্ট করে পড়াশোনা করাল, ভালো রেজাল্টের জন্য বছর বছর মিষ্টি বিতরণ করল, মাঝে মাঝে তাদেরকেও একটু সাহায্য করা যাবে। আমাদের দূষিত সমাজের দূষিত প্রবীণরা একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করে, মেয়ে এখন কী করে? উত্তরে বলে, আমার মেয়ে অমুক কোম্পানী, ব্যাংকে অথবা বলবে, ব্র্যাক স্কুলে চাকুরী করে, ভাই এত এত টাকা বেতন পায়। যাক মেয়েটা মানুষ করে তুমি ভালোই করেছো আর আমি তো আমার মেয়েটার বিয়ে দিয়ে ওর জীবনটা শেষ করে দিলাম। দু’দিন পর পর মেয়ের বাড়ীতে এই পাঠানো, ওই পাঠানো, আমের সময় আম, লিচু, পিঠা-পুলি, ঈদের সময় সেমাই, চিনি ইত্যাদি পাঠানোর অন্ত নাই। এত কিছু করি তাও মেয়ের আমার সুখ নেই। একজনের মেয়ে মাঠে-ময়দানে পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চাকুরী করছে। এতদূর পৌঁছাতে পৌঁছতে ঐ মেয়ের স্কুলে, কলেজে, কোচিংয়ে, প্রাইভেটে, ভার্সিটিতে অথবা অফিসের হ্যান্ডসাম কলিগদের সাথে কিছু না কিছু প্রেমের সম্পর্ক হয়েই যায়। অথচ ঐ দাইয়ূস পিতার এসব নিয়ে তেমন কোন মাথাব্যথা নেই। আর যুগের হাওয়া একটু গায়ে লাগলে লাগতেই পারে, তাতে কী হল? আমরাও তো যৌবনে কত কী করেছি। সে তুলনায় মেয়ে তো আমার দুধে ধোয়া তুলসি পাতা। আরে ৩০ হাযার টাকা বেতন পায়, কম কথা নাকি?

আর দ্বিতীয়জন ভাবে বড় চাকুরী, বড় বাড়ী দেখে মেয়ের বিয়ে দিয়ে কী বিপদেই না পড়লাম। বারো মাসে তেরো পাবনের ডালা পাঠাতে পাঠাতে আমি তো নিঃস্বপ্রায়। এর থেকে মেয়েকে যদি শিক্ষিত করে চাকুরী করাতাম, তাই ভালো ছিল। এই হল আমাদের সমাজের বিদঘুটে চিত্র। হ্যাঁ প্রত্যেক মুসলিমের উপর শিক্ষার্জন করা ফরয। কিন্তু বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সত্যিই কি আমরা শিক্ষিত হচ্ছি? এ শিক্ষা আমাদেরকে দ্বীনী শিক্ষা হতে হাযার ক্রোশ দূরে নিয়ে গিয়ে ফেলছে। আমরা যখন বাজার থেকে কোন ইলেকট্রনিক সামগ্রী যেমন, ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি ক্রয় করি, তখন এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে একটি বই পাই যাকে ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল বলে। ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে আমাদের এই ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল (কুরআন ও হাদীছ) দিয়েছেন। জীবনে চলার পথে এই শিক্ষাই হল প্রকৃত শিক্ষা। আপনি ফ্রিজ চালাবেন অথচ ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল অনুসরণ করবেন না, তাহলে আপনার ফ্রিজ খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে। মেকারের কাছে দৌঁড়াবেন সামান্য কারণে, মেকার আপনাকে মোটা বিল ধরিয়ে দিয়ে আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ঠিক তেমনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ জানেন কীসে আমাদের ক্ষতি আর কীসে উপকার, মৃত্যুর পর আমরা কীভাবে ভালো থাকব। সুতরাং আমাদের জীবন পরিচালনার বিধি-বিধান সম্পর্কে জানাই হল আমাদের প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য। কেন সামান্য কারণে আমরা হুজুরদের (মেকার) কাছে দৌঁড়াব? হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের সমাজে মহিলা গাইনি ডাক্তার, নার্স, ডেন্টিস্ট, শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহিলা কর্মকর্তার প্রয়োজন আছে। তবে সেক্ষেত্রে আমাদের নিয়্যত থাকতে হবে পরিশুদ্ধ, পবিত্র। শুধুমাত্র আল্লাহ্র নিমিত্তে এবং মুসলিম উম্মাহকে সাহায্য করাই হতে হবে একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু আজকাল ক্যারিয়ার পাগল মেয়েরা বিয়ে করে অনেক দেরিতে, আবার সন্তান নেয় আরো দেরীতে। আবার দেখা যায় স্বামী চাকুরী করে ঢাকায় আর স্ত্রী চাকুরী করে রাজশাহীতে, একমাত্র ছুটি ছাড়া দু’জনের দেখা সাক্ষাৎ তেমন একটা হয় না। আজব সংসার এদের। আবার একই বাড়ীতে থেকে দু’জন দু’দিকে চাকুরীতে যায়। দিনশেষে ক্লান্ত শরীরে দু’জনে বাসায় ফিরে। ক্লান্ত অবসন্ন মনে সুখগুলো যেন বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। স্ত্রীর বেতনে পরিতুষ্ট স্বামী বুঝতে পারে না যে আরো কিছুটা সুখ তার কপালে জুটলেও জুটতে পারত। এরপর এরা কাজের বুয়া রাখে। তারা ভাবে এই তো টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায়। শিক্ষিত বোকা মেয়ে তুমি যাচ্ছো টাকা ইনকাম করতে আর তোমার স্বামী শরীর খারাপ বলে অথবা ছুটি নিয়ে বাড়ীতে থাকল। তুমি জানো না যখন কোন পুরুষ ও মহিলা একাকী হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। ওহ আচ্ছা! তোমার লাভ ম্যারেজ! তোমার স্বামী তোমাকে ছাড়া আর কিচ্ছু বোঝে না। স্বামীর উপর তোমার অগাধ বিশ্বাস? কাজের বুয়ার সাথে তোমার স্বামী একটা বাড়ীতে আছে, তাও তোমার কোন চিন্তা নেই। ইবলীস শয়তান তার হাযারটা চেলা শয়তান ছেড়ে রেখেছে তোমার স্বামীকে পথভ্রষ্ট করার জন্য। তারা তার অন্তরে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে, চোখে ভাল লাগা জাগাচ্ছে, ঘোর লাগাচ্ছে, শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে কীভাবে বাঁচবে? আবার ওদিকে সুন্দরী কলিগ, বাড়ীতে কাজের মেয়ে, মাঝে মধ্যেই সুন্দরী ক্লাসমেটদের সাথে দেখা, গল্প, কফি খাওয়া। ঠিক তোমার ক্ষেত্রেও অনুরূপ অফিসে হ্যান্ডসাম কলিগ, না চাইতেও চোখ চলে যায়। তার উপরে স্কুলের বন্ধু, কলেজের বন্ধু, ভার্সিটির বন্ধুর সাথে মাঝে মধ্যেই দেখা হয়ে রাস্তাঘাটে কী রোমাঞ্চকর অনুভূতি। কথা হয়, নাম্বার শেয়ার হয়, তুমি ভাবো কথা বললে কী আবার হবে? মন ঠিক থাকলে সবই ঠিক। মনের পর্দাই আসল পর্দা। আরে বোকা মেয়ে! তোমার মনের লাগাম যে শয়তান ধরে বসে আছে, সে খবর তুমি রাখো না।

চাকুরীজীবী মেয়েদের আরেকটা ভয়াবহ দিক হল এরা সহজেই বাচ্চা নিতে চায় না। আবার অনেক মেয়ে পড়ালেখায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে ভেবে বাচ্চার ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে চায়। আর তারা তাদের এ মিশন সফল করার জন্য এই বিশাল সৃষ্টি জগতের স্বাভাবিক নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে বিভিন্ন মেয়াদের শুক্রাঘাতী বিষাক্ত ইনেজকশন ও পিল (বড়ি) গ্রহণ করে থাকে। অবিরত গুলি করলে মানব শরীর যেমন ঝাঁঝরা হয়ে যায়, ঠিক তেমনি এই বিষাক্ত ইনজেকশন আমাদের শরীরকে ঝাঁঝরা করে দিয়ে আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়। আর আমরা প্রতিরাতে যে পিল রূপী বোমা গ্রহণ করি, সেটা সরাসরি আমাদের জরায়ুতে গিয়ে বস্নাস্ট হয়ে জরায়ুকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। এই ওষুধগুলো জরায়ুতে থাকা শুক্রকীটগুলোকে মেরে ফেলার সাথে সাথে শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে নীরবে নিভৃতে। মাথাব্যাথা, মাথাঘোরা, পেট-পিঠ ব্যাথা, সণায়ুবিক দুর্বলতা, বমিভাব, জরায়ুর ক্যান্সার, টিউমার, অকালে হাই প্রেসার ও ডায়াবেটিস সহ হাযারো সমস্যা সৃষ্টি করে। একজন পুরুষের একবারের স্খলিত বীর্যে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কোটি কোটি শুক্রকীট থাকে। প্রতিটি শুক্রকীট যদি প্রাণলাভ করে তাহলে একটা মহাদেশ মানুষে পূর্ণ হয়ে যাবে। অথচ একটি মেয়ের প্রতিমাসে একটি ডিম উৎপন্ন হয় যা মাত্র ৫/৬ দিন জীবিত থাকে। ডিম্বাণুটি নষ্ট হওয়ার আগেই ঐ ৫/৬ দিনের মধ্যে যদি কোন শুক্রকীট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়, তবেই একটি মানবশিশুর ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিকভাবেই যখন বীর্যের মাধ্যমে কোটি কোটি শুক্রকীট জরায়ুতে প্রবেশ করে, তখন প্রতিটি শুক্রকীটই ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য প্রাণপণে ছুটে চলে কিন্তু জরায়ুর শিরা-উপশিরায় অবস্থিত রক্ষীকোষগুলো এই কীটগুলোকে শক্র ভেবে একটা একটা করে মেরে ফেলতে থাকে। মহান আল্লাহ প্রতিটি মানুষের শরীরে অসংখ্য রক্ষীকোষ বা প্রতিরক্ষা বাহিনী সৃষ্টি করে রেখেছেন। এই রক্ষীকোষগুলো প্রতিনিয়ত পানির মাধ্যমে, বাতাসের মাধ্যমে বা খাবারের মাধ্যমে প্রবেশকৃত জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে আমাদের শরীরকে রোগমুক্ত রাখার চেষ্টা করে। এজন্যই আমাদের হালকা সর্দি-কাশি, কাটা-ছেঁড়া, বিভিন্ন ব্যাথা-বেদনা এমনিতেই বিনা ওষুধেই ভালো হয়। এভাবে কোটি কোটি শুক্রকীট ডিমের কাছে যাওয়ার পথে আমাদের রক্ষীকোষের হাতে মারা পড়ে। এরই মধ্যে মহান আল্লাহ কোটি কোটি শুক্রকীটের মধ্যে যেটাকে প্রাণদান করবেন বলে স্থির করেছেন, সেই শুক্রাণু শ্রেষ্ঠ লড়াকু যোদ্ধারূপে বিজয়ী বেশে ডিম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শুক্রাণুর তুলনায় ডিম্বাণুটি বিশাল আকৃতির হয়ে থাকে। শুক্রাণু ডিমটির মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই ডিমটি ভ্রূণরূপে নিষিক্ত হওয়া শুরু করে। সেই সাথে সমস্ত রক্ষীকোষ একে বন্ধু ভেবে এর সেবা-যত্নে লেগে যায়। মায়ের পরিশোষিত খাদ্য রক্তের মাধ্যমে ভ্রূণের নাভীমূল দিয়ে ভ্রূণে প্রবেশ করে। এভাবে ভ্রূণটি ধীরে ধীরে মানবশিশুর আকৃতিতে পরিবর্তিত হতে থাকে। আমি এই পুরো প্রামাণ্য চিত্রটি ডিসকভারি চ্যানেলে দেখেছিলাম, যখন বাসায় টিভি ছিল। শরীরের সমস্ত কোষের নিবিড় পরিচর্যা ও ভালোবাসায় যখন ভ্রূণটি বড় হতে থাকে আর আপনি টের পেয়ে যান যে কেউ এসেছে, তখন ভ্রূ কুচকিয়ে ভাবেন সামনে পরীক্ষা বা সামনে নতুন ক্যারিয়ার বা প্রমোশনটা হয়ে যাক বা নিজের বাড়ী হোক আগে ইত্যাদি বিভিন্ন দুনিয়াবী চিন্তায় আপনি বা আপনারা সিদ্ধান্ত নেন, এতবড় ঝামেলা ঘাড়ে নিয়ে সামনে কীভাবে এগোবো? জীবনটা আরেকটু উপভোগ করে নিই তারপর এসব ঝামেলা পরে পোহানো যাবে। আবার অনেক স্বামী-স্ত্রী ভাবে, একসাথে সারাজীবন চলতে পারব কিনা আগে বুঝে নিই। একবার বাচ্চা হয়ে গেলেই তো ছাড়াছাড়ি করা কঠিন হয়ে যাবে। সুতরাং পাষণ্ড বাবা-মা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহে পড়ে ভ্রূণটিকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ডাক্তারের কাছে গিয়ে জীবন বিনাশী ওষুধ নিয়ে আসে। বিষাক্ত ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় মায়ের পেটে শিশুটি যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। বিষে কাতর হয়ে শিশুটি আর্তনাদ করে তার ছোট ছোট হাত পা নাড়াতে থাকে বাঁচার আশায়। মা আমাকে মেরো না, মা আমি তোমায় অনেক ভালোবাসব মা! আমাকে বাঁচতে দাও, আমি আর কষ্ট সইতে পারি না, মা। পুরো শরীর অবাক বিষ্ময়ে মায়ের পাষ-তা দেখে আর দেখে অসহায় শিশুটির যন্ত্রণাময় মৃত্যু, যাকে তারা ভালোবেসে লালন করছিল আল্লাহ্র হুকুমে। আরে বোকা শিক্ষিত মেয়ে! তুমি ভাবলে তোমার পথের কাঁটা দূর হল, তুমি হাফ ছেড়ে বাঁচলে? ধিক তোমায়! শত ধিক! ক’দিন পরে তুমি আশা করবে তোমার কোন সন্তান বৃদ্ধ বয়সে তোমার রোগশয্যায় তোমার পাশে বসে তোমার ব্যথায় ব্যথিত হোক। ছি! তোমার জন্যই তো বৃদ্ধাশ্রম। ওটাই তোমার উপযুক্ত স্থান।

একদিন এই শরীর আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে। আমাদের এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে আল্লাহ্র দরবারে। আবার অনেক ফ্যামিলি আছে, যাদের ২/৩ টা বাচ্চা আছে; সুতরাং ৪ নাম্বার বাচ্চাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পেটে আসায় বাড়তি বোঝা ভেবে তাকে হত্যা করে। আবার অনেক বৃদ্ধ শেষ বয়সে পেটে বাচ্চা আসলে বড় বড় ছেলে-মেয়ের কাছে লজ্জার ভয়ে ও লোকলজ্জায় লজ্জিত হয়ে বাচ্চাটিকে হত্যা করে। মহান আল্লাহ তো জারজ সন্তানকেও হত্যা করতে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। আর আমরা আমাদের স্বামীর বৈধ বাচ্চাকে সামান্য দুনিয়াবী কারণে হত্যা করে চলেছি। না জানি ঐ বাচ্চার মধ্যে আল্লাহ কত কল্যাণ রেখেছিলেন। আমাদের মধ্যে যাদের বাড়ীতে কবুতর আছে, তারা লক্ষ্য করে দেখবেন কিছু কিছু কবুতর জোড়া আছে যারা প্রত্যেকবার আলাদা আলাদা করে রংয়ের বাচ্চা জন্ম দেয়। বাচ্চাগুলোর গায়ে যখন ধীরে ধীরে পালক গজায়, তখন আমরা অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি না জানি এবার কোন রং নিয়ে এরা আসবে?

ঠিক তেমনি প্রতিটি মানব শিশুই আলাদা আলাদা রূপ, রং, চেহারা, সৌন্দর্য, আচরণ, বুদ্ধিমত্তা, প্রতিভা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে মায়ের কোলে আসে। কেউ কারো থেকে কম নয়। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি কোন ধনভা-ার হতে হাত দিয়ে কিছু বের করতে চান, ধরুন ঐ বাক্সের মধ্যে অসংখ্য মণিমুক্তা আছে। আপনি প্রতিবার হাত ভরে একমুষ্টি করে মণিমুক্তা বের করছেন। যখন আপনি আপনার মুষ্টি খুলছেন, সেই মণিমুক্তার সৌন্দর্যে আপনি অভিভূত হয়ে যাচ্ছেন। ঠিক তেমনি মানবশিশু ঐ মণিমুক্তার মতই প্রথমটা যতটা সুন্দর শেষেরটি ঠিক ততটাই বা তার চেয়ে বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত। তবে কেন আপনি ১/২ টি বাচ্চা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকছেন? শেষ নাম্বার বাচ্চাটিকে কেন বোঝা/বাড়তি ঝামেলা মনে করছেন? একজন মহিলা তার স্বাভাবিক অবস্থায় পুরো লাইফটাইমে ১২/১৪টি বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। সুতরাং আপনি কেন আল্লাহ প্রদত্ত এই রত্ন ১/২ নিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন?

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে এমন নারী যে সেণহপরায়ণা, ঘন ঘন সন্তান প্রসবকারিণী, সমব্যথী, সহযোগিণী ও সান্তনা প্রদানকারিণী’।[1] তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘তোমরা কুমারীদেরকে বিয়ে কর। কেননা তাদের মুখ বেশি মিষ্টি, তারা অধিক গর্ভধারিণী এবং অল্পে তুষ্ট’।[2]

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ সেই মহিলার দিকে করুণার দৃষ্টি দেন না, যে স্বামীর শুকরিয়া আদায় করে না আর সে স্বামীকে নিজের জন্য পরিপূর্ণ মনে করে না’।[3] রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, الدُّنْيَا كُلَّهَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ ‘গোটা দুনিয়াটাই হচ্ছে সম্পদ আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে সতী-সাধ্বী স্ত্রী’।[4] ছাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ সবচেয়ে উত্তম, তবে তা সঞ্চয় করতাম। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,أَفْضَلُهُ لِسَانٌ ذَاكِرٌ وَقَلْبٌ شَاكِرٌ وَزَوْجَةٌ مُؤْمِنَةٌ تُعِينُهُ عَلَى إِيْمَانِهِ ‘তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে সবসময় আল্লাহকে স্মরণকারী জিহবা, শুকরিয়া আদায়কারী অন্তর এবং এমন ঈমানদার স্ত্রী, যে তার স্বামীকে দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য করে’।[5]

আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ মানুষকে সিজদা করতে পারে না। এটা জায়েয হলে স্ত্রীর উপর স্বামীর বড় হক্ব হওয়ায় আমি স্ত্রীকে আদেশ করতাম স্বামীকে সিজদা করতে’।[6] সুতরাং এ পৃথিবীর মাঠে-ময়দানে, অফিসে-আদালতে চাকুরীরত মা-বোনেরা! আল্লাহ্র নবী আমাদের দেখেই বলেছেন, ‘আমি জাহান্নামে উঁকি মেরে দেখলাম যে, তার অধিকাংশ অধিবাসীই নারী’।[7] 

(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)


[1]. সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৮৪৯, ১৯৫২।

[2]. সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৬২৩, ১৯৫৭।

[3]. ত্বাবারানী, কাবায়ির, পৃঃ ২৯৩।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৬৭; মিশকাত, হা/৩০৮৩।

[5]. তিরমিযী, হা/৩০৯৪; মিশকাত, হা/২২৭৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২১৭০।

[6]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৫১।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫৪৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৩৭; মিশকাত, হা/৫২৩৪।

Magazine