ভূমিকা:
এমন মতভেদ থাকার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং সহনশীল পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই আমরা পাঠকদের সামনে সংক্ষিপ্তভাবে বিশুদ্ধ দলীলের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরার প্রয়োজন অনুভব করছি। যেন সবাই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন, সহনশীলতার সাথে মতভেদকে মূল্যায়ন করতে পারেন এবং সঠিক জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতে পারেন।
নারীদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি সংক্রান্ত হাদীছসমূহ:
মহিলাদের মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে গমন করার ব্যাপারে একাধিক ছহীহ হাদীছ বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু হাদীছ নিম্নে পেশ করা হলো—
১. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ ‘তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (মহিলাদের) মসজিদে যেতে নিষেধ করো না’।[1]
২. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ أَنْ يُصَلِّينَ فِي الْمَسَاجِدِ ‘তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (মহিলাদের) মসজিদে ছালাত আদায়ে নিষেধ করো না’।[2]
৩. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لاَ تَمْنَعُوا النِّسَاءَ مِنَ الْخُرُوجِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِاللَّيْلِ ‘তোমরা তোমাদের নারীদের রাতের বেলা মসজিদে যেতে বাধা প্রদান করো না’।[3]
৪. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,إِذَا اسْتَأْذَنَكُمْ نِسَاؤُكُمْ إِلَى الْمَسَاجِدِ فَأْذَنُوا لَهُنَّ ‘তোমাদের নারীরা যখন তোমাদের কাছে মসজিদে যেতে অনুমতি চাইবে, তখন তোমরা মসজিদে যেতে অনুমতি দিয়ো’।[4]
৫. আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ وَلْيَخْرُجْنَ إِذَا خَرَجْنَ تَفِلاَتٍ ‘তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (নারীদের) মসজিদে যাওয়া থেকে বাধা দিয়ো না, তারা যেন সুগন্ধিবিহীন বের হয়’।[5]
৬. আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُصَلِّى الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ ‘নারীরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফজরের ছালাত আদায় করতেন, অতঃপর তারা চাদর মুড়ি দিয়ে বের হয়ে যেতেন, ফলে তাদেরকে অন্ধকারের কারণে চেনা যেত না’।[6]
৭. আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَصَابَتْ بَخُورًا فَلاَ تَشْهَدْ مَعَنَا الْعِشَاءَ الآخِرَةَ ‘যে মহিলা সুগন্ধি জাতীয় বস্তু শরীরে লাগিয়েছে, সে যেন এশার ছালাতে উপস্থিত না হয়’।[7]
৮. উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর স্ত্রী আতিকাহ বিনতু যায়েদ, তিনি উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট অনুমতি চাইলেন মসজিদে ছালাত আদায়ের জন্য। উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু চুপ থাকলেন। অতঃপর তিনি (আতিকাহ) বললেন,وَاللَّهِ لَأَخْرُجَنَّ إِلَّا أَنْ تَمْنَعَنِي فَلَا يَمْنَعُهَا ‘আল্লাহর কসম! আমাকে তুমি নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করার জন্য বের হব। অতঃপর উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে নিষেধ করেননি’।[8]
৯. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর স্ত্রী যায়নাব আছ-ছাকাফিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا شَهِدَتْ إِحْدَاكُنَّ الْعِشَاءَ فَلاَ تَطَيَّبْ تِلْكَ اللَّيْلَةَ ‘যখন তোমাদের কেউ এশার জামাআতে আসবে, তখন যেন সে সুগন্ধি স্পর্শ না করে’।[9]
১০. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,وَلَا تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ ‘তোমরা তোমাদের নারীদের মসজিদে যাওয়াতে বাধা দিয়ো না। তবে তাদের জন্য তাদের বাড়িই উত্তম’।[10]
এছাড়াও এ সংক্রান্ত আরও হাদীছ হাদীছের অন্যান্য কিতাবে বিদ্যমান।
ফিক্বহী অবস্থান:
মসজিদে গিয়ে নারীদের ছালাত আদায় শরীআতে স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। এটা ওয়াজিব নয়, বরং জায়েয। তবে তার হুকুম নিয়ে ইমামদের মধ্যে বেশ কিছু অভিমত পাওয়া যায়।
নারীরা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে কি-না এই ব্যাপারে বিশেষ করে চার ইমামের মধ্যে মতানৈক্য বিদ্যমান।
১. ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ রাহিমাহুমুল্লাহ-এর মত হলো, মহিলারা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে। কেননা এ ব্যাপারে হাদীছ বিদ্যমান।[11]
২. ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ এই মতের বিপরীতে অবস্থান করেছেন। তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দুই দলে বিভক্ত হয়েছে। একদলের মতে মসজিদে ছালাত আদায় করতে পারবে, আরেক দলের মতে মহিলারা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে না।[12]
তবে উলামায়ে কেরামের মধ্যে যারা নারীদের মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, তারা খুব শক্ত করে মত প্রদান করেছেন, বিশেষ করে যুবতি ও বৃদ্ধা নারীর ক্ষেত্রে। কেননা তাদের উপর মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করা আবশ্যক নয়।
যারা মহিলাদের মসজিদে ছালাত আদায়ের বিপক্ষে তাদের দলীল ও তার প্রত্যুত্তর:
আমরা একাধিক বিশুদ্ধ হাদীছ দ্বারা প্রমাণ করেছি যে, নারীরা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে। যে সকল হাদীছ উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে দু’টি দিক স্পষ্ট, তা হলো যদি কোনো মহিলা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে চায়, তাহলে তার স্বামীর অনুমতি লাগবে, আর অন্যটি হলো সুগন্ধি ব্যবহার করে যাওয়া যাবে না। এই দুইটি বিষয় ব্যতিরেকে মহিলাদের মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে নিঃসন্দেহে ইসলামী শরীআত বৈধতা প্রদান করেছে। এই সকল দলীল প্রমাণ থাকার পরও যারা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করার বিপক্ষে তারা দলীল হিসেবে পেশ করেন মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর একটি বক্তব্য, যেখানে তারা নিষেধের পক্ষে অবস্থান করে সেই হাদীছ পেশ করেন। দলীলটি হলো—
মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ ‘যদি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজকের দিনে নারীদের পেতেন, তাহলে তাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন, যেভাবে বনূ ইসরাঈলের নারীদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল’।[13]
এই হাদীছের আলোকে হানাফী মাযহাবের কতিপয় আলেম মহিলাদের মসজিদে ছালাত আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকেন। অথচ এই হাদীছ নিষেধকে নাকচ করে, বরং মসজিদে যাওয়ার বিষয়টিকেই সাব্যস্ত করে। কারণ এখানে লক্ষ করুন! যদি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতেন আজকের যুগে নারীদের, তাহলে তিনি তাদের মসজিদে যেতে বাধা প্রদান করতেন।
এখানে লক্ষণীয় যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে শরীআতের আদেশ-নিষেধ জারি করা হবে। তিনি একাধিক হাদীছে মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার বিষয়কে বৈধতার অনুমোদন দিয়েছেন। এখন কেউ যদি নিষেধাজ্ঞার দলীল দেয় যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যাওয়াকে নিষেধ করেছেন, সেক্ষেত্রে তাকে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ দলীল পেশ করতে হবে। তবুও আমরা মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীছটির আলোকে বলি, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি দেখতেন; তাহলে তিনি আজকের যুগের মহিলাদের মসজিদে ছালাত আদায়ের জন্য বের হতে নিষেধ করতেন। এখানে ‘যদি দেখতেন’ বলা হয়েছে। যেহেতু তিনি দেখেননি, সেহেতু নিষেধের হুকুম থেকে এটা বৈধতার হুকুমে চলে আসে।
দ্বিতীয়ত, তারা উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীছ দিয়ে বলেন যে, তিনি নাকি মহিলাদের মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে গমন করাকে নিষেধ করেছেন। অথচ এমন কোনো সুস্পষ্ট হাদীছ নেই, যেখানে তার পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য পাওয়া যায়, বরং এই বক্তব্যের বিপরীতে তার অসংখ্য বক্তব্য বিদ্যমান। এমনকি এ সংক্রান্ত সবচেয়ে বেশি হাদীছ উমার ও তার পুত্র ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বিভিন্ন হাদীছের কিতাবে বিদ্যমান।
তৃতীয়ত, মসজিদ আল্লাহর ঘর। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও নিরাপদ স্থান। যেখানে মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য সবাই উপস্থিত হয়। যদি নারী-পুরুষ সব জায়গায় নিজ প্রয়োজনে শরীআতের নির্দেশ মোতাবেক চলাফেরা করতে পারে, তাহলে মহান আল্লাহর ঘর ও পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম স্থান মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ায় এত যুক্তি-তর্ক পেশ ও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে কেন?
চতুর্থত, তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম যে, মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছে যেখানে বলা হয়েছে যে, যদি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজকের যুগের নারীদের দেখতেন, তাহলে তিনি মসজিদে গমন করতে নিষেধ করতেন। অথচ বর্ণনাকারী তথা মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর জীবনের আমল কী ছিল? তিনি তো সারাজীবন মসজিদে ছালাত আদায় করেছেন, যার দলীল প্রায় সকল হাদীছের কিতাবেই রয়েছে।
عَنْ عَائِشَةَ i قَالَتْ لَوْ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ.
মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজকের দিনে নারীদের দেখতেন; তাহলে তাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন, যেভাবে বনূ ইসরাঈলের নারীদের নিষেধ করা হয়েছিল।[14]
এখানে মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা যে বক্তব্য পেশ করছেন সেটার কারণ হলো সেই সময়ে নারীরা সুগন্ধি, আতর ইত্যাদি বস্তু ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া শুরু করে। ফলত তিনি এভাবে বক্তব্য পেশ করেন।[15]
মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার শর্তসমূহ:
উলামায়ে কেরাম মহিলাদের মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যাওয়া বৈধ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তারা মসজিদে যাওয়ার জন্য কতিপয় শর্তারোপ করেছেন। সেই শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন সাপেক্ষে তারা মসজিদে যেতে পারবে। যেমন—
১. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করে যাবে না।
২. ফেনামুক্ত পথ হতে হবে।
৩. পোশাক-পরিচ্ছদ মার্জিত হতে হবে এবং এমন আর্কষণীয় পোশাক পরিধান করা যাবে না যাতে করে পুরুষ আকর্ষিত হয়।
৪. পুরুষের সংমিশ্রণ থেকে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করতে হবে।
মহিলাদের ছালাত আদায়ের জন্য মসজিদ উত্তম, নাকি বাড়ি উত্তম?
মহিলাদের ছালাত আদায়ের জন্য নিঃসন্দেহে মসজিদের চাইতে বাড়িই উত্তম স্থান। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,خَيْرُ مَسَاجِدِ النِّسَاءِ قَعْرُ بُيُوتِهِنَّ ‘নারীদের সর্বোত্তম মসজিদ হলো তাদের ঘরের কুঠরি’।[16]
উল্লিখিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নারীদের জন্য ছালাতের উত্তম স্থান তার নিজ ঘর। তবে মসজিদে ছালাত আদায় করার বিষয়টি জায়েয।
উপরিউক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা দ্বারা আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী যুগেও মহিলারা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করেছেন, যা একাধিক বিশুদ্ধ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং এই বিষয়ে যে বা যারা যত ধরনের মিথ্যাচার, খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপন করুক না কেন, তা ধর্তব্য নয়। বরং সুন্নাহ প্রমাণিত হওয়ার পর যার ইচ্ছা সে আমল করবে, আর যার ইচ্ছা সে করবে না। নিঃসন্দেহে কল্যাণ রয়েছে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মপন্থায় ও তাঁর একনিষ্ঠ ছাহাবীদের অনুসরণে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন- আমীন!
-মো. মাযহারুল ইসলাম*
শিক্ষক, রাযিয়া হিফযুল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক একাডেমি, দিনাজপুর।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৯০০।
[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৯০০; ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৮; মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/৬৭৪।
[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪২।
[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৫; ছহীহ মুসলিম, ১৩৮/১০১৯।
[5]. দারেমী, হা/১২৭৯; ইবনু খুযায়মা, হা/১৬৭৯।
[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৯১; আবূ দাঊদ, হা/৪২৩; নাসাঈ, হা/৫৪৫।
[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০২৬; আবূ দাঊদ, হা/৪১৭৭।
[8]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/৬৭৬।
[9]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০২৪; নাসাঈ, হা/৫১৩০।
[10]. আবূ দাঊদ, হা/৫৬৭।
[11]. শারহুল মুমতি‘, ৩/৯০।
[12]. আল-মুহাল্লা, ৪/১২৯; আল-বাদায়িউছ ছানায়ি‘, ৩/৮৬।
[13]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৯; ইবনু খুযায়মা, হা/১৬৯৮।
[14]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৯; ইবনু খুযায়মা, হা/১৬৯৮।
[15]. মুসনাদে আহমাদ, ১/১৩৪১; ছহীহ বুখারী, হা/৮৬৯।
[16]. ইবনু খুযায়মা, হা/১৬৮৩; বায়হাক্বী, হা/৫৫৬৬।
