কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

আল্লাহ্র উপর ভরসা ও নেক আমলের অসীলা

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তি পথ চলছিলেন। হঠাৎ তাদেরকে বৃষ্টিতে পেলে তারা এক পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিলেন। এ সময় হঠাৎ পর্বত থেকে একপ্রিকাণ্ড পাথর এসে গুহার মুখে পতিত হল এবং তাদের বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেল। তাদের মধ্য থেকে একজন অপরজনকে বললেন, তোমরা তোমাদের কোন নেক কাজ দেখো, যা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশেই করেছ। আর সে কাজকে উপলক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলার কাছে এ বিপদ থেকে মুক্তির প্রার্থনা কর। এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তা‘আলা হয়তো এ পাথর দূর করে দেবেন।

তখন তাদের একজন বললেন, হে আল্লাহ! আমার অতি বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিলেন এবং কয়েকটি বাচ্চা ছিল। আমি ছাগল চরাতাম। যখন সন্ধ্যায় তাদের নিকট ফিরে আসতাম, তখন দুধ দোহন করতাম। আমার সন্তানদের পান করানোর আগেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। ঘটনাক্রমে একদিন চারণক্ষেত্র আমাকে দূরে নিয়ে গেল। অর্থাৎ ছাগল চরাতে চরাতে এতো দূরে চলে গেলাম যে, বাড়ীতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। দেখলাম, আমার মা-বাবা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি প্রতিদিনের মতো আজও দুধ দোহন করলাম এবং দুধের পাত্র নিয়ে মা-বাবার কাছে এসে তাদের শিয়রের কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি তাদেরকে ঘুম থেকে জাগানো ভালো মনে করলাম না এবং অপসন্দ করলাম বাচ্চাগুলোকে দুধ পান করাতে তাদের পূর্বে, অথচ বাচ্চাগুলো আমার পায়ের কাছে ক্ষুধায় কাঁদছিল। সকাল হওয়া পর্যন্ত আমার ও তাদের এ অবস্থা ছিল। হে আল্লাহ! যদি তুমি জেনে থাকো যে, আমি এ কাজ একমাত্র তোমার সন্তুষ্টির জন্য করেছি, তবে আমাদের জন্য এতুকু পথ খুলে দাও, যেন আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তা‘আলা পাথরকে এতটুকু সরিয়ে দিলেন যে, আকাশ দেখা যেতে লাগল।

দ্বিতীয় ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল। আমি তাকে অত্যাধিক ভালোবাসতাম, যতটা কোন পুরুষ কোন মহিলাকে ভালোবাসতে পারে। আমি তাকে উপভোগ করতে চাইলাম। সে এটা অস্বীকার করল, যতক্ষণ না আমি তাকে একশ’ দীনার দেই। তখন আমি জোর প্রচেষ্টা চালালাম এবং একশ’ দীনার যোগাড় করে তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম। যখন তার দু’পায়ের মধ্যখানে হাঁটু গেড়ে বসলাম, তখন সে বলল, হে আল্লাহ্র বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর, মোহর অর্থাৎ কুমারিত্ব নষ্ট কর না। তৎক্ষণাৎ আমি উঠে দাঁড়ালাম। হে আল্লাহ! যদি তুমি জেনে থাকো যে, আমি এ কাজ একমাত্র তোমার সন্তুষ্টির জন্য করেছি, তবে আমাদের জন্য পথ খুলে দাও। তখন আল্লাহ তা‘আলা পাথর আরো কিঞ্চিৎ সরিয়ে দিলেন।

তৃতীয় ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহ! আমি এক ব্যক্তিকে এক ‘ফারক’ পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে মজুর নিয়োগ করলাম। যখন সে ব্যক্তি নিজ কাজ সমাধা করে বলল, আমার পাওনা আমাকে দিয়ে দাও। আমি তাকে প্রাপ্য দিলাম। সে তা ফেলে চলে গেল, তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করল না। আমি তার পাওনা দ্বারা চাষাবাদ আরম্ভ করলাম। তার আয় দ্বারা অনেকগুলো গরু ও রাখাল যোগাড় করলাম। তখন একদিন লোকটি আমার কাছে এসে বলল, আল্লাহকে ভয় কর, আমার প্রতি অবিচার কর না। আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি বললাম, এ গরুগুলো এবং তার রাখালসমূহ নিয়ে যাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় কর, আমার সাথে ঠাট্টা কর না। তখন আমি বললাম, তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না। ঐ গরু ও রাখালগুলো নিয়ে যাও। সুতরাং সে ওগুলো নিয়ে চলে গেল। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, এ কাজ আমি শুধু তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশেই করেছি, তবে এখনো যতটুকু বাকি, সে রাস্তা খুলে দাও। তখন আল্লাহ তা‘আলা পাথর সরিয়ে রাস্তা খুলে দিলেন’।[1]

শিক্ষা :

সুসময়ে, বিপদাপদে সর্বদা বান্দা আল্লাহকে ডাকবে, ধৈর্যধারণ করবে এবং প্রয়োজনে সৎআমল দ্বারা অসীলা করবে। সাথে সাথে আল্লাহ্র উপর পরিপূর্ণ ভরসা করবে।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৪৩; মিশকাত হা/৪৯৩৮।

Magazine