কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদে চার দেশের বৈঠক

post title will place here

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে চার মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। পাকিস্তান, সঊদী আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই দুই দিনব্যাপী আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বন্ধে ইসলামাবাদ এখন কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ মার্চ, ২০২৬ ইং শনিবার রাতে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আতি ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসলামাবাদে পৌঁছান। ২৯ মার্চ, রবিবার বিকেলে যোগ দিয়েছেন সঊদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান। মূল সম্মেলনের আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। আলোচনায় গাযা ও লেবানন পরিস্থিতি ছাড়াও হরমুজ প্রণালিসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একদিকে তেহরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক-এই দুইয়ে মিলে পাকিস্তান একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। ইরানী বার্তা সংস্থা তাসনীম নিউজের বরাতে জানা গেছে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় না বসলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাব ইসলামাবাদের মাধ্যমেই পাঠিয়েছে। শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ফোনালাপ করেন। সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ইরানী প্রেসিডেন্ট। আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে ২০টি পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন- ‘আলোচনা, কূটনীতি এবং এ ধরনের আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ’। উল্লেখ্য, ইসহাক দার তার এই বার্তায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ট্যাগ করেছেন, যা এই আলোচনার আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ইসলামাবাদের এই চতুপাক্ষিক বৈঠক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে একটি যৌথ রূপরেখা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরাঈলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়ানোই এখন বিশ্বনেতাদের প্রধান লক্ষ্য।


Magazine