কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

ইসলামে ‘অলা এবং বারা’ (পর্ব-১১)

‘অলা এবং বারা’ দুর্বল হওয়ার কতিপয় কারণ[1] :

‘অলা এবং বারা’র বাস্তব প্রয়োগ আজ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে গেছে। কাকে অলা দিতে হবে, কতটুকু দিতে হবে; কার সাথে বারা হবে, কতটুকু হবে, কার সাথে কেমন আচার-আচরণ ও লেনদেন হবে- এসবকিছুই আজ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। এর পেছনে কতিপয় কারণ রয়েছে, আলোচ্যাংশে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

(এক) কুরআন ও সুন্নাহ থেকে পদস্খলন :

এ যাবৎকাল যত ক্ষেত্রে মুসলিমদের পদস্খলন হয়েছে, সবগুলোর পেছনে রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তাদের পদস্খলন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, تَرَكْتُ فِيْكُمْ أَمْرَيْنِ، لَنْ تَضِلُّوْا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ ‘আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস ছেড়ে গেলাম; যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টিকে তোমরা আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কখনই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাত’।[2]

অলা-বারা দুর্বল হওয়ার সবগুলো কারণ মূলত এই কারণটির দিকেই ফিরে যায়। কুরআন-সুন্নাহ পরিপূর্ণ জীবন বিধানের নাম। এখানে মানুষের উভয় জীবনের সার্বিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। অধিকাংশ মুসলিম যখনই কুরআন-সুন্নাহ বর্জন করেছে, তখনই অপমান, লাঞ্ছনা, দাসত্ব, বিভক্তি, দলাদলি, হানাহানি, পরাজয় তাদের জন্য অবধারিত হয়ে পড়েছে; তখনই তারা কাফের-মুরতাদ-নাস্তিকদের সাথে অলা পোষণ করতে শুরু করেছে। কিতাব ও সুন্নাহ্র দিকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ‘অলা-বারা’র এই দৈন্যদশা দূর হওয়া সম্ভব নয়।

(দুই) ‘অলা-বারা’ সম্পর্কে অজ্ঞতা :

মূর্খতাই যাবতীয় অনিষ্টের মূল। ‘অলা-বারা’ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা এর বারোটা বাজার অন্যতম কারণ। আমাদের বাংলা ভাষাভাষী আলেম-উলামা ঈমানী ভ্রাতৃত্ব নিয়ে কথা বলেছেন; যদিও অনেকেই এ ক্ষেত্রে তীর্যক, সংকীর্ণ ও মনগড়া ব্যাখ্যা করেছেন এবং বিভ্রাশান্তিতে রয়েছেন। তবে ‘অলা এবং বারা’ সম্পর্কে একটা ব্যাপক ধারণা তারা দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই; না বক্তব্যের মাধ্যমে, না লেখনীর মাধ্যমে। অথচ সরাসরি ঈমান ও আক্বীদার সাথে এর রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, যে বিষয়ে অজ্ঞতাকে কখনই কৈফিয়ত হিসাবে পেশ করা যাবে না, করলে তা গ্রহণও করা হবে না। প্রত্যেকটা মুসলিমকে অলা-বারা সম্পর্কে যতটুকু জ্ঞান না রাখলেই নয়, ততটুকু রাখতেই হবে।

এক্ষণে, উলামায়ে কেরামেরও উচিত, প্রথমে নিজেদের এ বিষয়ে ব্যাপক পড়াশুনা ও নিরপেক্ষ গবেষণা করা, তারপর মুসলিমদের মধ্যে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। অন্যথায়, ‘অলা-বারা’র বেহাল দশা কস্মিনকালেও যাবে না; প্রকারান্তরে ঈমানের এই শক্ততম হাতল ছেড়ে থাকাই আমাদের জন্য অবধারিত হয়ে যাবে, পূর্ণ মুমিন আমরা হতে পারব না।

(তিন) শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা-মাসায়েলে মতবিরোধ :

মতভেদ কেন হয়? কিসে মতভেদ চলে আর কিসে চলে না? মতভেদের ধরন ও প্রকারইবা কী?[3] এসব বিষয়ে না জেনেই অযথা মতভেদ, অতঃপর বিভক্তি সৃষ্টি করে ‘অলা-বারা’কে আমরা গলা টিপে হত্যা করছি! প্রত্যেকটা মুসলিমের জানা উচিত যে, শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা-মাসায়েল এবং যেসব মাসআলা-মাসায়েলে ‘ইজতিহাদ’ চলে, সেসবে মতভেদ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এসব মতভেদ যেন তাদেরকে বিভক্তি ও বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে না দেয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,

وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا فَأَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوْا إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِيْنَ - إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوْا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ.

‘আর যদি মুমিনদের দু’দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর বাড়াবাড়ি করে, তাহলে যে দলটি বাড়াবাড়ি করবে, তার বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না সে দলটি আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। তারপর যদি দলটি ফিরে আসে, তাহলে তাদের মধ্যে ইনছাফের সাথে মীমাংসা কর এবং ন্যায় বিচার কর। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় বিচারকারীদের ভালবাসেন। অবশ্যই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/৯-১০)। এখানে যুদ্ধরত দু’জন মুসলিমের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বকে আল্লাহ নাকচ না করে বরং বজায় রাখলেন, অথচ তাদের একজন অত্যাচারী এবং অপরজন অত্যাচারিত।

(চার) উঠতি বয়সী প্রজন্মের সঠিক লালন-পালন ও দিক-নির্দেশনার অভাব :

সঠিক লালন-পালন ও দিক-নির্দেশনা আদর্শ প্রজন্ম গড়ার মূল ভিত্তি। এক সময় অভিভাবকগণ তাদের কলিজার টুকরা সন্তানদের নববী পদ্ধতিতে লালন-পালন করতে চেষ্টিত হতেন, তাদেরকে দিতেন সঠিক নির্দেশনা। যথাযথভাবে দ্বীন পালন, উত্তম আদর্শ গঠন, শক্তি-সাহস অর্জন ইত্যাদি ছিল সেই লালন-পালন ও দিক-নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে, তাদের মধ্যে অলা-বারার সঠিক প্রয়োগ পরিলক্ষেত হত। কিন্তু ঐ উপাদানগুলো যখনই অভিভাবকগণ হারাতে বসেছেন, তখনই অলা-বারার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

(পাঁচ) ইসলামী শিক্ষার অভাব :

তাওহীদ ও আক্বীদা হচ্ছে ইসলামের মূল উপাদান। এটা যার যত শক্ত, সে দ্বীনের ব্যাপারে তত মযবূত্ব। ইসলামের শত্রুরা যখনই টের পেয়েছে যে, ইসলামী আক্বীদা নামক শক্ত পাথরকে শক্তি ও অস্ত্র দ্বারা ভাঙ্গা সম্ভব নয় এবং আল্লাহর রাস্তায় সত্যিকার মুজাহিদদের সামনে দাঁড়ানো সম্ভব নয়, তখনই তারা ঘৃণ্য ও নিকৃষ্টতম পথ অবলম্বন করেছে। মুসলিম বিশ্বের শিক্ষাক্রম, শিক্ষানীতি এবং পাঠ্যসূচীতে তারা হাত দিয়েছে। সেখানে তারা তাদের বস্তাপচা শিক্ষানীতি, চিন্তাচেতনা ও মতাদর্শ ঢুকিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা দু’টি পথ অবলম্বন করেছে:

(ক) ভেতর থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর কর্তৃত্ব দেখিয়েছে।

(খ) উচ্চ শিক্ষার নামে মেধাবী মুসলিম শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কাফের রাষ্ট্রে নিয়ে মগজ ধোলাই করেছে।

এভাবে তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদেরকে ইসলাম ও ঈমান থেকে দূরে সরিয়ে তাদের ব্রেনে নাস্তিকতা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ফলে, মুসলিম শিক্ষার্থীরা আজ রক্ত-মাংসে মুসলিম হলেও চিন্তাচেতনায় প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের ধ্বজাধারীতে পরিণত হচ্ছে। পোষাক-পরিচ্ছদে, খানা-পিনায়, কথা-বার্তায়, আচার-আচরণে তারা পশ্চিমাদেরকেও হার মানাচ্ছে। এসব শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে অলা এবং বারা একাকার হয়ে যাচ্ছে; অলা বারায় এবং বারা অলায় পরিণত হচ্ছে।

(ছয়) আধুনিক মিডিয়া :

সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের উপর আধুনিক নানা মিডিয়ার রয়েছে ভয়ানক প্রভাব। রেডিও, টিভি, ইন্টারনেট সহ দর্শনযোগ্য ও শ্রবণযোগ্য যত মিডিয়া আছে, সবগুলো মানুষের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। সেজন্য, ইসলামের শত্রুরা সমস্ত মিডিয়াকে করায়ত্ত্ব করেছে এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদেরকে ধ্বংস করার যাবতীয় উপাদান প্রচার করে চলেছে। প্রায় প্রত্যেকটা মিডিয়া মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার এবং তাদের পারস্পরিক ‘অলা’ ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমরা যাতে পৃথক কোন বৈশিষ্ট্য নিয়ে না থেকে বরং সবার সাথে মিশে যায় এবং কাফেরদের সাথে তাদের ‘বারা’র ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়- সেজন্য এসব মিডিয়া সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

(সাত) জবর দখল ও মিশনারী কর্ম :

কাফেররা তাদের জীবনাদর্শ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিতে, তাদের হৃদয় থেকে ইসলামী আক্বীদা মুছে ফেলতে এবং ইসলামী আক্বীদাকে তাদের বাস্তব জীবন থেকে সরিয়ে দিতে বহুমুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেননা ইসলামী আক্বীদা একমাত্র আক্বীদা, যা তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। সেকারণে তারা দু’টি পথ অবলম্বন করেছে:

(ক) সরাসরি জবর দখল: এর সাথে রয়েছে রাজনৈতিক, সণায়ূবিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার।

(খ) মিশনারী কর্ম বা ধর্ম প্রচার: খ্রীষ্টানরা ভেতর থেকে ইসলামের ভিত্তি ধ্বংস করার জন্য তাদের মিশনারী কর্মকা- হাতে নিয়েছে।

এই দু’টি পথ সফল করার জন্য তাদের রয়েছে নানামুখী ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা ও কর্মসূচী, যা শুনলে গা শিউরে উঠবে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে-

(১) গোটা মুসলিম বিশ্বে হাযার হাযার খ্রীষ্টান ধর্ম প্রচারক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে; বিশেষ করে যেসব দেশে মূর্খতা, দরিদ্রতা ও রোগ-বালাইয়ের প্রাদূর্ভাব বেশী, সেসব দেশে তাদের অনুপ্রবেশও বেশী। এসব দুর্বল পয়েন্টকে কাজে লাগিয়ে তারা মুসলিমদেরকে তাদের ধর্মে আকর্ষিত করছে।

(২) মুসলিম বিশ্বে তারা প্রচুর পরিমাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানকে বেশী উন্নত হিসাবে দেখানো হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবে খ্রীষ্টান ধর্মপ্রচারকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যারা তাদের স্বার্থ পূরণে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।

(৩) মুসলিম সন্তানদেরকে তারা উচ্চ শিক্ষার নামে পশ্চিমা দেশসমূহে নিয়ে যাচ্ছে, যারা পরবর্তীতে তাদের ক্রীড়ানকে পরিণত হচ্ছে।

(৪) মুসলিম বিশ্বের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পকে তারা বাধাগ্রস্ত করছে, যাতে মুসলিম বিশ্ব সবকিছুতে তাদের মুখাপেক্ষী থাকে এবং তাদের কাছ থেকেই সবকিছু আমদানী করে।

(৫) চারিত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক পদস্খলন বিস্তারের জন্য তারা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভ্রাশান্তিমূলক বই-পুস্তক, রেডিও, টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে তারা তাদের পদস্খলন প্রচার করে যাচ্ছে।

(৬) মাদক দ্রব্য, পতিতালয়, নগ্নতা, অশ্লীলতা, নাচ-গান, নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ ইত্যাদিকে তারা ব্যাপকহারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর এগুলোর কারণে মুসলিমদেহে ঘূণ ধরে তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলছে।

(৭) তারা মুসলিম বিশ্বের ধনভা-ারের উপর কর্তৃত্ব করছে এবং সেগুলো হাতিয়ে নেওয়ার সব ফাঁদ পাতছে।

(৮) প্রাচীন জাহেলী সভ্যতাকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ইসলামের প্রতি মুসলিমদের ভালবাসা হ্রাস পায় এবং ইসলামী সভ্যতার মানহানি ঘটে।

(৯) তারা ইসলামী বিচারালয় উঠিয়ে দিয়ে সেখানে মানব রচিত বিচারালয় প্রতিষ্ঠা করছে। অথবা উভয় বিচারালয় চালু রেখে ইসলামী শরী‘আতের মানহানি ঘটাচ্ছে।

(১০) মুসলিমদের পারিবারিক শক্ত কাঠামো ও ঈমানী ভিত্তি তারা ধ্বংস করছে এবং মুসলিম নারীকে নষ্ট করে ফেলছে, যাতে দিকভ্রান্ত প্রজন্ম গড়ে উঠে।

(১১) তারা তাদের প্রণীত শিক্ষাক্রম ও সিলেবাস চালু করছে, যাতে মুসলিমদের মধ্যে ইসলামের নামটাও না থাকে।

(১২) পুঁজিবাদী, সাম্যবাদী নানা বিভ্রান্ত মতবাদকে তারা মুসলিমদের মধ্যে অকপটে চালিয়ে দিচ্ছে।

(১৩) বিভিন্ন বিভ্রান্ত ও ধ্বংসাত্মক মাযহাব ও দলের বীজ বপন করছে, যাতে মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

(১৪) রাষ্ট্র ও জীবন থেকে দ্বীনকে পৃথক করা এবং কুরআন-সুন্নাহকে সিলেবাস থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে উলামায়ে কেরামের মানহানি করছে এবং নেতৃত্বের স্থান থেকে তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

(১৫) ইসলামের ইতিহাসকে বিকৃত করার সর্বাত্মক চেষ্টা তারা ব্যয় করে যাচ্ছে।

(আট) প্রাচ্যবিদদের (اَلْمُسْتَشْرِقُوْنَ) কূটকৌশল :

পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরে তারা ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং তাদের অতীত ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার আগ্রহ দেখিয়েছে। এর পেছনে তাদের মৌলিক লক্ষ্য হচ্ছে, ইসলামে নানা সংশয়, সন্দেহ, বিভ্রাট, মিথ্যাচার, সমালোচনা, ষড়যন্ত্র ও বিকৃতি ঢুকিয়ে দেওয়া এবং সেগুলো মুসলিম উম্মাহর সামনে তুলে ধরা; যাতে তারা তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দ্বীন সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করে এবং অবশেষে কাফেরদের বন্ধুতে পরিণত হয়।

(নয়) বিভিন্ন মাযহাব, দল, জামা‘আত ও সংগঠনের প্রতি অন্ধভক্তি :

মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্কহীনতা, শত্রুতা, দলাদলি, মারামারি ইত্যাদির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বোধ হয় এটি। এর কারণে তারা তাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, আন্তরিকতা, হৃদ্যতা সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। যতটুকু আছে, তা কেবল নিজের মাযহাব, দল বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বৃহত্তর মুসলিম ভ্রাতৃত্ব আজ সুদূর পরাহত।

সম্মানিত পাঠক! এই ছিল ‘অলা এবং বারা’ দুর্বল হওয়ার বা হারিয়ে যাওয়ার কতিপয় কারণ। মহান আল্লাহ আমাদেরকে ঈমানী বলে বলীয়ান হয়ে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব সম্পন্ন ঈমানী সমাজ বিনির্মাণের তাওফীক্ব দান করুন।

(চলবে)


[1]. এ অংশের অধিকাংশ তথ্য লেখিকা মাহা আল-বুনিয়ান প্রণীত ‘আল-অলা ওয়াল বারা’ এবং ‘আল-মুওয়ালাত ওয়াল মু‘আদাত ফিশ-শারী‘আতিল ইসলামিইয়্যাহ গ্রন্থদ্বয় থেকে গৃহীত।

[2]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/১৮৭৪।

[3]. সম্মানিক পাঠক! মতভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে লেখকের ‘মতভেদপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পন্থা অবলম্বনের উপায়’ বইটি পড়ুন।

Magazine