بَابُ مَا يُذْكَرُ فِي المُنَاوَلَةِ، وَكِتَابِ أَهْلِ العِلْمِ بِالعِلْمِ إِلَى البُلْدَانِ.
পরিচ্ছেদ: ৩/৭. মুনাওয়ালা সম্পর্কে এবং উলামায়ে কেরাম অন্য শহরের আলেমদের নিকট যা লিখে পাঠাতেন সে সংক্রান্ত:
وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: نَسَخَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ المَصَاحِفَ فَبَعَثَ بِهَا إِلَى الآفَاقِ، وَرَأَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ذَلِكَ جَائِزًا وَاحْتَجَّ بَعْضُ أَهْلِ الحِجَازِ فِي المُنَاوَلَةِ بِحَدِيثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ كَتَبَ لِأَمِيرِ السَّرِيَّةِ كِتَابًا وَقَالَ: «لاَ تَقْرَأْهُ حَتَّى تَبْلُغَ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا». فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ المَكَانَ قَرَأَهُ عَلَى النَّاسِ، وَأَخْبَرَهُمْ بِأَمْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অনুবাদ: আনাস ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উছমান ইবনে আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু কুরআন লিখে বিভিন্ন শহরে পাঠিয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও মালেক ইবনে আনাস- তারা সকলেই মুনাওয়ালাকে জায়েয মনে করতেন। আর কিছু হিজাযবাসী হাদীছের ক্ষেত্রে মুনাওয়ালা থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন। কেননা স্বয়ং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট সেনাবাহিনীর কাছে আদেশ পৌঁছানোর জন্য লিখিত চিঠি দিয়ে বাহক পাঠিয়েছিলেন আর বাহককে বলে দিয়েছিলেন যে, সেই জায়গায় পৌঁছার পূর্বে সে যেন চিঠিটা না পড়ে; বরং সেখানে পৌঁছেই মানুষের সামনে এটি পড়ে শুনাবে এবং তাদেরকে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ সম্পর্কে অবগত করবে।
ব্যাখ্যা:
মুনাওয়ালা ও মুকাতাবা: হাদীছ বর্ণনার একটি বিশেষ পদ্ধতি হচ্ছে মুনাওয়ালা। সাধারণত আমরা জানি, শিক্ষক হাদীছ বলেন আর ছাত্র সেটি শুনেন। অথবা ছাত্র কোনো বই থেকে পড়ে শুনান আর শিক্ষক সেটি শুনেন। এই দুটি পদ্ধতিই হাদীছ বর্ণনার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ পদ্ধতি। অন্যদিকে মুনাওয়ালা হচ্ছে শিক্ষক-ছাত্র কেউ কারো থেকে পরস্পরে সরাসরি শুনবেন না; বরং শিক্ষক তার লিখিত পাণ্ডুলিপি ছাত্রের হাতে তুলে দিয়ে তাকে সেখান থেকে হাদীছ বর্ণনার অনুমতি দিবেন, তাহলে এই পদ্ধতিকে মুনাওয়ালা বলা হয়। আর যদি লেখক নিজে সরাসরি ছাত্রের হাতে লিখিত পাণ্ডুলিপি না দেন; বরং ছাত্র বরাবর চিঠির মাধ্যমে হাদীছ লিখে পাঠান অথবা পাণ্ডুলিপি লিখে পাঠিয়ে দেন, তাহলে তাকে মুকাতাবা বলা হয়। কেউ কেউ এগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা করে ইজাযাত দেওয়ার শর্তারোপ করেছেন তথা শিক্ষক শুধু লিখিত চিঠি পাঠিয়েই বা পাণ্ডুলিপি হাতে দিয়েই ক্ষান্ত হবেন না, বরং আলাদা করে তাকে সেখান থেকে হাদীছ বর্ণনার অনুমতি দিবেন। এই পদ্ধতিতে হাদীছ বর্ণিত হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি-না সে বিষয়েই ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ এই অধ্যায়টি রচনা করেছেন।
অধ্যায়ের উদ্দেশ্য: অধ্যায়ের মূল হাদীছে যাওয়ার পূর্বেই সালাফদের মন্তব্য ও একটি হাদীছ তা‘লীক্ব হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমে ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এই অধ্যায় রচনার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে তুলেছেন। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুনাওয়ালা পদ্ধতিতে হাদীছ বর্ণনা করা জায়েয এবং এই পদ্ধতির মাধ্যমে বর্ণিত হাদীছ দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এটির পক্ষেই তিনি তিনটি দলীল পেশ করেছেন— উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর কুরআন লিখে পাঠানো, সালাফদের মন্তব্য ও সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠি।
পূর্বের অধ্যায়ের সাথে সম্পর্ক: পূর্বের অধ্যায়গুলোতে হাদীছ বর্ণনার দুটি পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে, যথা- ‘হাদ্দাছানা’র মাধ্যমে এবং শিক্ষকের সামনে ছাত্র পড়বে তার মাধ্যমে। তারই ধারাবাহিকতায় এই অধ্যায়ে হাদীছ গ্রহণ ও বর্ণনার আরেকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
মুনাওয়ালায় বর্ণিত হাদীছ দলীলযোগ্য: মুনাওয়ালাকে দলীলযোগ্য প্রমাণ করতে ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ এখানে তিনটি দলীল পেশ করেছেন নিম্নে সেগুলো ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরা হলো।
১মদলীল—উছমান ইবনে আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর কুরআন লিখে পাঠানো: ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ এখানে আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনায় বিভিন্ন শহরে কুরআন লিখে পাঠানোর তথ্য উল্লেখ করেছেন। উক্ত বর্ণনাটি ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ নিজেই তার কিতাব ছহীহ বুখারীর কিতাবু ফাযায়িলিল কুরআনে পরিপূর্ণ উল্লেখ করেছেন। নিম্নে সেই পূর্ণাঙ্গ বর্ণনাটি তুলে ধরা হলো—
عن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ قَدِمَ عَلَى عُثْمَانَ، وَكَانَ يُغَازِى أَهْلَ الشَّأْمِ فِى فَتْحِ إِرْمِينِيَةَ وَأَذْرَبِيجَانَ مَعَ أَهْلِ الْعِرَاقِ، فَأَفْزَعَ حُذَيْفَةَ اخْتِلاَفُهُمْ فِى الْقِرَاءَةِ، فَقَالَ حُذَيْفَةُ لِعُثْمَانَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ! أَدْرِكْ هَذِهِ الأُمَّةَ قَبْلَ أَنْ يَخْتَلِفُوا فِى الْكِتَابِ اخْتِلاَفَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى. فَأَرْسَلَ عُثْمَانُ إِلَى حَفْصَةَ أَنْ أَرْسِلِى إِلَيْنَا بِالصُّحُفِ نَنْسَخُهَا فِى الْمَصَاحِفِ، ثُمَّ نَرُدُّهَا إِلَيْكِ. فَأَرْسَلَتْ بِهَا حَفْصَةُ إِلَى عُثْمَانَ، فَأَمَرَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَسَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، فَنَسَخُوهَا فِى الْمَصَاحِفِ، وَقَالَ عُثْمَانُ لِلرَّهْطِ الْقُرَشِيِّينَ الثَّلاَثَةِ: إِذَا اخْتَلَفْتُمْ أَنْتُمْ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فِى شَيْءٍ مِنَ القُرْآنِ فَاكْتُبُوهُ بِلِسَانِ قُرَيْشٍ؛ فَإِنَّمَا نَزَلَ القُرْآنُ بِلِسَانِهِمْ، فَفَعَلُوا ذلك حَتَّى إِذَا نَسَخُوا الصُّحُفَ فِى الْمَصَاحِفِ رَدَّ عُثْمَانُ الصُّحُفَ إِلَى حَفْصَةَ، فأَرْسَلَ إِلَى كُلِّ أُفُقٍ بِمُصْحَفٍ مِمَّا نَسَخُوا وَأَمَرَ بِمَا سِوَاهُ مِنَ الْقُرْآنِ فِى كُلِّ صَحِيفَةٍ أَوْ مُصْحَفٍ أَنْ يُحْرَقَ.
আনাস ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযিয়াল্লাহু আনহু একবার উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তখন শামবাসীদের সাথে আর্মিনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়ের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে ইরাকবাসীরাও অংশগ্রহণ করছিল। সেখানে কুরআন তেলাওয়াতের ভিন্নতা দেখে হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সামনে বিষয়টি তুলে ধরে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এই উম্মাহকে রক্ষা করুন, তারা যেন কিতাবের ব্যাপারে ইয়াহূদী ও নাছারার মতো মতভেদে লিপ্ত না হয়। তখন উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু হাফছা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর নিকট বার্তা পাঠালেন, আপনি আমাদের কাছে সেই ছহীফাগুলো (সংকলিত কুরআনের পাণ্ডুলিপি) পাঠিয়ে দিন। আমরা সেগুলো থেকে কপি করে মুছহাফ প্রস্তুত করব, তারপর তা আপনাকে ফিরিয়ে দেব।
হাফছা রাযিয়াল্লাহু আনহা সেগুলো উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পাঠালেন। এরপর উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু যায়েদ ইবনু ছাবেত, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর, সাঈদ ইবনুল আছ ও আব্দুর রহমান ইবনু হারেছ ইবনু হিশাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম-কে নির্দেশ দিলেন, তারা সেই ছহীফাগুলো থেকে একাধিক মুছহাফ কপি করলেন। উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু কুরাইশ বংশীয় তিনজনকে বললেন, তোমরা এবং যায়েদ ইবনু ছাবেত যদি কুরআনের কোনো শব্দ (বা কোনো আরবী উচ্চারণ) নিয়ে মতভেদে পড়; তবে তা কুরাইশের ভাষায় লিখবে। কারণ কুরআন তাদের ভাষাতেই নাযিল হয়েছে।
তারা সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন। অতঃপর যখন হাফছা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর ছহীফা থেকে মুছহাফ প্রস্তুত সম্পন্ন হলো, তখন উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু মূল ছহীফাগুলো হাফছা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে ফিরিয়ে দিলেন। তিনি প্রত্যেক অঞ্চলে একটি করে মুছহাফ পাঠিয়ে দিলেন এবং আদেশ দিলেন ওই পাঠানো কপির বাইরে কুরআনের যে কোনো পৃথক ছহীফা বা ব্যক্তিগত মুছহাফ থাকলে তা পুড়িয়ে ফেলতে।[1]
দলীল গ্রহণের যৌক্তিকতা: উক্ত ঘটনায় কেউ কারো থেকে কুরআন মুখস্থ শুনেনি বা কেউ কাউকে মুখস্থ শুনায়নি। শুধু লিখিত পাণ্ডুলিপির উপর ভরসা করা হয়েছে। সেটিকে ভিত্তি করেই বিভিন্ন শহরের মানুষ কুরআন মুখস্থ করেছে এবং প্রচার করেছে। সুতরাং কুরআনের ক্ষেত্রে যদি এভাবে লিখে পাঠানো দলীলযোগ্য হতে পারে, তাহলে হাদীছের ক্ষেত্রেও লিখে পাঠানো দলীলযোগ্য হবে।
২য় দলীল— রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লিখিত চিঠি: উক্ত আলোচনায় ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক চিঠি প্রেরণের একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ঘটনাটি তিনি তার বইয়ে অন্য কোথাও পরিপূর্ণরূপে নিয়ে আসেননি। ঘটনাটি বিভিন্ন তাফসীর ও ইতিহাস গ্রন্থে পরিপূর্ণরূপে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে সেই ঘটনাটি উল্লেখ করা হলো—
হিজরতের পর মুসলিমরা মদীনায় স্থিতিশীল হলেও কুরাইশদের সাথে উত্তেজনা চলমান ছিল। কুরাইশরা মক্কায় মুসলিমদের সম্পদ দখল করে রেখেছিল। এই প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোয়েন্দা তৎপরতার জন্য ছোট ছোট অভিযান (সারিয়া) প্রেরণ করতেন। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপই একটি দল প্রেরণ করেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু জাহশ রাযিয়াল্লাহু আনহু। এটি ছিল হিজরতের ২য় বছরের রজব মাসে।
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি সিলমোহরযুক্ত চিঠি দিলেন এবং বললেন, ‘দুই দিন পথ অতিক্রম না করা পর্যন্ত চিঠিটি খুলবে না। তারপর খুলে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা পালন করবে। আর তোমার সঙ্গীদের কাউকে জোর করবে না’।
দুই দিন পর তিনি চিঠি খুলে পড়লেন। সেখানে লেখা ছিল, إذَا نَظَرْتَ فِي كِتَابِي هَذَا فَامْضِ حَتَّى تَنْزِلَ نَخْلَةَ، بَيْنَ مَكَّةَ وَالطَّائِفِ، فَتَرَصَّدْ بِهَا قُرَيْشًا وَتَعَلَّمْ لَنَا مِنْ أَخْبَارِهِمْ. ‘যখন তুমি আমার এই চিঠি পড়বে, তখন অগ্রসর হও যতক্ষণ না তুমি নাখলা নামক স্থানে পৌঁছাও, যা মক্কা ও তায়েফের মাঝখানে অবস্থিত। সেখানে কুরাইশদের ওপর নযর রাখবে এবং আমাদের উদ্দেশ্যে তাদের সংবাদ সংগ্রহ করবে’।
তিনি বললেন, ‘আমরা শুনলাম ও মানলাম’। তারপর সঙ্গীদের জানালেন, যে শহীদ হতে চায়, সে এগিয়ে আসুক, আর যে ফিরে যেতে চায়, সে ফিরে যেতে পারে।
তবে কেউই ফিরে যায়নি।
দলটি নাখলায় পৌঁছে একটি কুরাইশ বাণিজ্য কাফেলার মুখোমুখি হয়। সেখানে ছিল—
- আমর ইবনুল হাযরামী
- উছমান ইবনু আব্দিল্লাহ
- নওফাল ইবনু আব্দিল্লাহ
- হাকাম ইবনু কায়সান
তখন ছিল রজব মাসের শেষ দিন, যা হারাম মাস। ছাহাবীরা দ্বিধায় পড়লেন, তারা চিন্তা করলেন, যদি এখন আক্রমণ না করেন; তবে তারা মক্কার হারাম অঞ্চলে ঢুকে পড়বে। আর যদি এখন আক্রমণ করেন, তবে হারাম মাসে আক্রমণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত তারা আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
ফলাফল:
- আমর ইবনুল হাযরামী নিহত হয় (প্রথম নিহত মুশরিক)
- দুজন বন্দি হয় ।
- একজন পালিয়ে যায়।
মদীনায় ফিরে এলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি তোমাদের হারাম মাসে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিইনি’। তিনি গনীমতের মাল ও বন্দিদের গ্রহণ না করে অপেক্ষা করলেন। কুরাইশরা প্রচার করতে লাগল, মুহাম্মাদ হারাম মাসকে হালাল করে দিয়েছে।
এরপর আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে আয়াত নাযিল করেন, ‘তারা আপনাকে হারাম মাসে যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, এতে যুদ্ধ করা গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, তাঁর প্রতি কুফরী করা, মাসজিদুল হারাম থেকে মানুষকে বের করে দেওয়া এসব আল্লাহর কাছে আরও বড় অপরাধ’ (আল-বাক্বারা, ২/২১৭)।
এরপর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমত গ্রহণ করেন এবং বন্দিদের মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেন।
গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল:
১. এটি ছিল ইসলামের প্রথম সরাসরি সংঘর্ষ।
২. প্রথম নিহত মুশরিক।
৩. প্রথম গনীমত অর্জন।
৪. মুসলিম-কুরাইশ সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু।[2]
দলীল গ্রহণের যৌক্তিকতা: উক্ত ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করার মাধ্যমে ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তার এই অধ্যায়ে যে দলীলটি গ্রহণ করতে চেয়েছেন, তা হচ্ছে যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই ধরনের লিখিত আদেশ যদি গৃহীত হয়, তাহলে হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রেও লিখিত হাদীছ গৃহীত হবে। কেননা এখানে লিখিত চিঠি দেওয়ার পর তা সামনাসামনি পড়া হয়নি, বরং দুদিন পর পড়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলত, উক্ত আদেশ শুধু লিখিত পাণ্ডুলিপির উপর ভিত্তি করে বাস্তবায়িত হয়েছে। অতএব, এভাবেই চিঠিতে হাদীছ লেখার মাধ্যমে অথবা লিখিত পাণ্ডুলিপি প্রদানের মাধ্যমে হাদীছ বর্ণনা করা যায়।
(ইনশা-আল্লাহ! চলবে)
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক
ফাযেল, দারুল উলূম দেওবান্দ, ভারত; বিএ (অনার্স), মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
এমএসসি, ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ইউনিভার্সিটি অফ ডান্ডি, যুক্তরাজ্য।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২০১৪।
[2]. তাফসীরে ইবনু কাছীর, ১/৫৬৮; তারিখ আত-তাবারী, ২/৪০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৩/২৫০; সীরাত ইবনু হিশাম, ২/২৫২।
