বাংলাদেশে ইসকনের সমালোচিত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ:
স্বামীবাগে ইসকনের ইতিহাস:
প্রথমে বলে নেওয়া ভালো যে, ইসকন বাংলাদেশের যে জায়গাগুলোতে তাদের আস্তানা গড়ে তুলেছে, সে জায়গাগুলোতে নিম্ন শ্রেণির হিন্দুরা থাকে। স্বামীবাগে রয়েছে হিন্দুদের মেথরপট্টি। সেই মেথরপট্টির আশেপাশেই বাংলাদেশের ইসকন সমর্থিত মন্দিরের প্রধান মন্দির গড়ে উঠেছে। স্বামীবাগের এই মন্দিরটির সাথে জড়িয়ে আছে সনাতনী হিন্দুদের ইতিহাস। এই মন্দিরটি মূলত ছিল সনাতনী হিন্দুদের আশ্রম, মন্দির ও বসতবাড়ি। ইসকন অতি কৌশলে চক্রান্ত করে সনাতনী হিন্দুদের তাড়িয়ে এ মন্দির দখল করে।[1] স্বামীবাগ মন্দিরের পাশেই রয়েছে সাড়ে তিনশত বছরের ইতিহাস বিজড়িত মসজিদ।[2]
স্বামীবাগের মন্দির নিয়ে সাউথ এশিয়া মনিটরের প্রতিবেদনের চুম্বকাংশ নিচে উল্লেখ করা হলো:
পুরান ঢাকার ৭৯ স্বামীবাগে স্বামী ত্রিপুরলিংগ প্রতিষ্ঠিত মন্দির ও আশ্রমটি অর্পণনামার ভিত্তিতে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে দখলে নেয় ইসকন। বর্তমানে এটি ইসকনের প্রধান কার্যালয়। এর ঠিক উল্টো দিকে ৮২ স্বামীবাগ প্লটের উপর রয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের পুরনো স্বামীবাগ জামে মসজিদ। মসজিদটির পুরনো স্থাপনার স্থানে বর্তমানে পাঁচতলা ভবন রয়েছে, এখানে মুছল্লী ধারণক্ষমতা প্রায় দেড় হাজার। মুছল্লীদের অভিযোগ হলো প্রতিনিয়ত আযান ও ছালাতের সময়েও ইসকন ভক্তরা লাউডস্পিকারে ঢোল-বাদ্যের সঙ্গে কৃষ্ণ কীর্তন করে, যা ছালাতে বিঘ্ন ঘটায়।
গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে টানা কয়েকদিনের অনুষ্ঠান চলে। এরই মধ্যে একদিন গিয়ে দেখা গেল আশ্রম ও মন্দির ঘিরে এলাকাজুড়ে সাজসাজ রব, অসংখ্য মানুষ। গভীর রাত অবধি লাউডস্পিকারে ঢোল-বাদ্যের সঙ্গে চলে আরতি, ভক্তিগীতি, কৃষ্ণ কীর্তন ও নাচ। মাঝখানে আছর, মাগরিব ও এশার আযান হয়; কিন্তু সাময়িক বিরতিটুকুও দেয়নি ইসকন।
এর আগে ২০১৪ সালে রামাযান মাসে তারাবীহ ছালাতের সময় উচ্চ শব্দে ঢোল-বাদ্য বাজানো বন্ধ করতে বলা হলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মুরুব্বী, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।[3]
সিলেটের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রচার করল মিডিয়া:
২০১৬ সালের ঘটনা। সিলেট নগরীর কাজল শাহ এলাকার মধু শহীদ জামে মসজিদের পাশেই ইসকনের মন্দির, সেখানে মুছল্লীদের আর ইসকনের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইসকনের পক্ষ থেকে মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল ছুঁড়া হয়। উক্ত ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন ৭ জন। মুছল্লীদের দাবি ইসকনের এই মন্দির কর্তৃপক্ষকে অনেক বার বলার পরও তারা ছালাতের সময় উচ্চ শব্দে বাদ্যযন্ত্র বাজায়। উল্লেখ্য, সেদিন সিলেটে কী হয়েছিল তা সঠিকভাবে বাংলাদেশের কোনো মিডিয়া প্রচার করেনি। একপাক্ষিক সংবাদ প্রচার করার প্রতিবাদে ‘আওয়ার ইসলাম’ নামের এক মিডিয়াতে বলা হয়, এ ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া নানাভাবে প্রচার করছে। এতে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে মুসলিমকে। প্রায় অধিকাংশ মিডিয়া একপেশে সংবাদ পরিবেশন করছেন। অথচ ঘটনা এর বিপরীত। এ বিষয়ে আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা আখতার আহমদ ‘আওয়ার ইসলাম’-কে জানান, ঘটনার পর থেকে মিডিয়া মুসলিমদের বিপক্ষে লিখছে। অথচ ছালাতের সময় গান না বাজালে হামলার সূত্রপাতই হতো না।[4]
ইসকন যেখানে আস্তানা গেঁড়েছে, সেখানে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা থাকে। সিলেটে চা শ্রমিকদের একটা বড় অংশ নিম্নবর্ণের হিন্দু। সেই নিম্নবর্ণের হিন্দুদের কাছেই ইসকনের আস্তানা। কয়েক বছর আগে সনাতনী হিন্দুদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন নেতা মিন্টু ধর।[5]
ঠাকুরগাঁওয়ে ইসকন:
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঠাকুরগাঁও জেলায় সনাতনী মন্দির দখল করতে গিয়ে একজন হিন্দুকে খুন করে ইসকন।[6] ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে জনকণ্ঠ পত্রিকায় ‘ঠাকুরগাঁও মন্দির দখলমুক্ত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ’ শিরোনামের সংবাদে লেখা হয়েছিল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতি পূজার সময় ঐ মন্দিরের তালা খুলে দিত এবং নিয়মিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল দীর্ঘ ২ বছর ধরে। হঠাৎ গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে ইসকনের শতাধিক লোকজন তালা ভেঙে ওই মন্দির দখলে নেয় এবং বর্তমানে তারা মন্দির এলাকায় অবস্থান করছে। তারা রশিক রায় জিউ মন্দিরের পাশে আরেকটি মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। ঘটনার দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ইসকনের লোকজনকে সরাতে না পারলে সনাতন ধর্মীয় হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত লোকজন বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তারা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ তুলে নেয়। ইসকন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সংঘর্ষ হবার পর ভোলায় পুলিশের গুলিতে ৪ জন নিহত হয়। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। অন্যদিকে দিনাজপুরেও স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে ইসকনের সংঘর্ষ হয়েছে।[7]
ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ইসকন:
যেকোনো মতবাদ কিংবা ধর্মের আলোচনার সাথে সমালোচনা হতেই পারে। তাই বলে কাউকে হত্যা করতে হবে? ইসকন সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে। ২০১৬ সালে সিলেটে ইসকন মন্দির থেকে উস্কানি ছড়ানো নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট করায় আব্দুর রহমান নামে মসজিদের এক ইমামকে হত্যা করে ইসকন।[8] ২০২২ সালে ‘আলোকিত চট্টগ্রাম’ পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে ইসকন নিয়ে লেখার কারণে ৫ জনকে জেলে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি ইসকনের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাজারী গলিতে ইসকনের সন্ত্রাসীরা সহিংসতা ছড়ায়। পরবর্তীতে যৌথবাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তাদের উপর এসিড নিক্ষেপ করে ইসকন।[9]
আবরার হত্যাকাণ্ডে ইসকন:
বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আবরার। আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে লিখতে গিয়ে কান্না চলে আসে। ইতঃপূর্বে আমরা দেখেছি, ইসকন সামান্য ফেসবুককে কেন্দ্র করে কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। আবরারও কিন্তু ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিল। অবশ্য এটাও মোটা দাগে লক্ষ রাখতে হবে যে, সে পোস্ট ছিল ভারতবিরোধী।
আমি যদি বলি ভারতবিরোধী পোস্টের জন্য ইসকন আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছে, তাহলে আপনি সেটা বিশ্বাস নাও করতে পারেন। ১১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দৈনিক নয়াদিগন্তে আবরার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড অমিত সাহাকে ইসকনের সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে অমিত সাহাকে নিয়ে বলা হয়, অমিত সাহা ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যায় অমিত সাহাও ছিলেন। শুধু তাই নয়, এই বর্বর হত্যাকাণ্ডে তিনিই ছিলেন মূল চক্রান্তকারীদের অন্যতম। প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানিয়েছেন, আবরারকে নির্দয়ভাবে মারধরে নেতৃত্ব দেন অমিত সাহা। আবরার নির্যাতন কক্ষে অচেতন হয়ে পড়লে অমিত সাহা ‘সে নাটক করছে’ বলে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিলেন। অমিত-ই আবরারকে ফলো করে তার ফেসবুক আইডি চেক করে এবং ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে তাকে ‘শিবির’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।[10]
উল্লেখ করা আবশ্যক যে, গণমাধ্যম সাউথ এশিয়া মনিটরে বলা হয়েছিল, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় অভিযুক্ত ইসকন সদস্য অমিত সাহাকে প্রথমে মামলার এজাহার থেকে বাদ এবং আটকে বিলম্ব করাকে এ গোষ্ঠীর (ইসকন) প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উক্ত প্রতিবেদনটি অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। অমিত সাহা ছিল এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। অমিত সাহা ছাত্রলীগের কাছে আবরারকে শিবির বলে উপস্থাপন করে। অথচ অমিত সাহাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এ যেন ইসকনের ক্ষমতার জয়!
প্রসাদ বিড়ম্বনায় ইসকন:
১৮ জুলাই ২০১৯ সালের দৈনিক ইত্তেফাকে বলা হয়, স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়াল আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে ১১ জুলাই ২০১৯ থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নযিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রিয় পাঠক! কোমলমতি শিশুদের ইসকন প্রসাদ খাওয়ানো আর হরে কৃষ্ণ পাঠ করিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা এ সকল কার্যক্রম ভিডিও করে ছাড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। তারপর এ বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে ইসকনকে নিন্দা জানানো হয়। এক পর্যায়ে ইসকন ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয়।[11]
পাঠ্যপুস্তকে ইসকন:
স্কুলে হিন্দুদের ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বই রয়েছে। যে বইয়ে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে হিন্দু ছেলেমেয়েরা জানতে পারে। অষ্টম শ্রেণির হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের ৯০ পৃষ্ঠায় ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণ দের জীবনী দেওয়া হয়েছে। এমন মস্তিষ্কবিকৃত মানুষ, উপরন্তু যার সনাতনী হিন্দু নিয়ে বিন্দু পরিমাণ সাধনা নেই, যেই মানুষটা হিন্দুধর্মের সকল গুরুর ব্যাপারে ঘৃণ্য মন্তব্য করেছে। পাঠকদের কেন এ বিষয়টি অবগত করছি? অনুধাবন করুন, ইসকন কতটা ধুরন্ধর। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে ইসকন নেই।
বাংলাদেশে প্রচার-প্রচারণায় ইসকন:
বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের নাটক বা নাটিকাগুলো সাধারণত মহাভারত থেকে নেওয়া হয়। এখন ইসকন মহাভারত নয়, বরং নিজেরা তৈরি করে সামাজিক ও সমসাময়িক নাটক। একজন ব্রহ্মচারী বলেন, নাটিকাগুলোর রচনায়, নির্দেশনায় এবং অভিনয়ে আমরাই থাকি; তবে সবসময় মনে রাখতে হয়, আমরা বিনোদনের জন্য করছি না, কৃষ্ণের দর্শন প্রচারের জন্যই করছি। সেই দিকটিই যাতে ফুটে উঠে।[12] উল্লেখ্য, ইসকনের মাসিক পত্রিকার নাম ‘হরে কৃষ্ণের সমাচার’। সম্ভবত এ পত্রিকাটি ৩৪ বছর ধরে প্রকাশিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে ইসকনের ত্রৈমাসিক পত্রিকার নাম ‘অমৃতের সন্ধানে’। সম্ভবত এ পত্রিকাটি ২৭ বছর ধরে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ সকল পত্রিকা স্বামীবাগ থেকে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে ইসকনের প্রচারণার মূল মাধ্যম হচ্ছে কীর্তন। কীর্তন পরিবেশনার জন্য সারা দেশে ইসকনের বিভিন্ন টিম আছে।[13]
২০২৩ সালে অমর একুশে বইমেলায় বেশ কয়েকটি ইসলামী প্রকাশনীকে বসতে দেওয়া হয়নি। সেই বছর বইমেলায় ইসকন স্টল পায়। ইসকনের স্টল নম্বর ছিল ৪৭৪। জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট রকমারিতে দেখা যায়, ইসকনের প্রায় ১০০টির অধিক বই বিক্রি হচ্ছে।
ইসকনের প্রভাব:
মিডিয়ার এক সাক্ষাৎকারে স্বামীবাগ আশ্রমের ব্রহ্মচারী ঈশ্বর গৌরহরিদাস কোনো রাখঢাক ছাড়াই বললেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকদের ৩/৪ জন করে ইসকনের ভক্ত অনুসারী রয়েছেন। আর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সব ক্ষেত্রেই ২/৩ জন করে থাকছেন। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওখানেও আমাদের একজন নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ, এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা।
আরো জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগেও ইসকনের অনুসারী শিক্ষক আছেন। অভিযোগ আছে যে, ১৯৬৬ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কমপক্ষে তিনজনকে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপ দিয়েছে ইসকন।[14]
‘দুর্দান্ত সৈনিক’ পত্রিকার বরাত দিয়ে জানা যায়, সাবেক ও বর্তমান বিচারপতিসহ পুলিশ ও প্রশাসনের অনেকেই ইসকনের সদস্য।[15] ৪ জুলাই ২০১৪ সালে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু স্বামীবাগে গিয়ে ইসকনকে এ বলে আশ্বাস দেয় যে, তাদের একটি টিভি চ্যানেল খুলে দেওয়া হবে।[16] সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, যিনি চট্টগ্রাম ৯ আসনের এমপি ছিলেন, তিনি ইসকনের সকল প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতেন। এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, তিনি হরে কৃষ্ণ জপে বক্তব্য শুরু করছেন। তিনি বলেন, আমার বাবা হরে কৃষ্ণ শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমাকে ভারত পাঠিয়েছিলেন। লন্ডনে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ইসকনের মন্দির ছিল। আমি সেখানে যেতাম। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, নওফেল লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ল’তে পড়াশোনা করেছেন।
ভারতের টাকায় ইসকন:
সিলেটের যুগলটীলাতে ২৩ নভেম্বর ২০১৮ সালে ইসকনের ছাত্রাবাস উদ্বোধন করতে আসেন ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে ইসকনের প্রধান মন্দিরে ভ্রমণ করেছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও আমি ইসকনের কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলাম। সেখানেও ইসকনের অনেক অনুসারী আছেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশে ইসকনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে আসছে। আমরা বাংলাদেশে দুটি ইসকন সেন্টারে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেছি। পুরো বক্তব্যে উনি বুঝাতে চাইলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশ ইসকনকে সহায়তা করছে। প্রমাণস্বরূপ তিনি বলেন, সিলেটে ভারত ইসকনকে ৭ দশমিক ৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে।[17]
ইসকনের কার্যক্রম:
বাংলাদেশে ইসকনের ভয়াবহ অনেক কার্যক্রম আছে। আমার দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে এমন ২টি কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করলাম—
১. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা: ‘বাংলাদেশে র’ বইয়ের ১৭১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ইসকনের সদরদপ্তর ভারতের নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। এই সম্প্রদায়ের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক হিন্দুদের অনুষ্ঠান পালন করা, উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি। পাঠকের উদ্দেশ্যে বলছি, ইসকন যতগুলো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটিয়েছে সবগুলোর মূল লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।[18]
২. লাভ ট্র্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ক্ষতি করা: Protect Our Sisters নামে একটি সংগঠন, যারা মূলত ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ষড়যন্ত্র লাভ ট্র্যাপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় কাজ করছে। লাভ ট্র্যাপ হলো হিন্দু ছেলেরা মুসলিম মেয়েদের কাছে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে বিয়ে করে পালিয়ে যায় অথবা প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর শারীরিক সম্পর্ক করে তার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে। লাভ ট্র্যাপের ব্ল্যাকমেইল ও কালো জাদুর কারণে অনেক মুসলিম মেয়েকে ভারতে পাচারও করা হয়েছে।
Protect Our Sisters এর দাবি: বাংলাদেশ ইসকনে যুবক সদস্যদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। যে ট্রেনিংয়ে মূলত শেখানো হয় কীভাবে মুসলিম মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলা যায়। ট্রেনিংয়ে শেখানো হয় কীভাবে মুসলিম মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে ভিডিও করতে হয়। Protect Our Sisters থেকে আরো জানানো হয়, আমরা ইসকন সদস্যের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে পেরেছি এবং অনেক তরুণীর সাথে ইসকন সদস্যদের ধরতে সক্ষম হয়েছি।[19]
ইসকন আসলে কার?
অভয়চরণ দে প্রথম ইসকন প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছাপোষণ করলে সনাতন ধর্মের হিন্দুরা বাধা দেয়। কেননা যে আদর্শ সনাতনী হিন্দুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, সে আদর্শ প্রতিষ্ঠা হতে কেন দিবে সনাতনীরা? ঠিক তখন অভয়চরণ দের পাশে এসে দাঁড়ান স্টিলসন জুডা, হারভে কক্স, ল্যারি শিন ও টমাস হপকিন্স-এর মতো ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানদের চিহ্নিত এজেন্টরা।[20]
ইসকন আসলে কার? তা নিয়ে অনেক আলাপ আছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের পর ২০০৩ সালে হঠাৎ জন্ম নেয় আমেরিকা হিন্দু ফাউন্ডেশন। আমেরিকা হিন্দু ফাউন্ডেশনের সদস্যরা গর্ব করে বলে, আমরা ভারতীয় নই; আমরা আমেরিকান হিন্দু। আমেরিকায় প্রতিটি সংগঠনের এমপি তথা প্রতিনিধি পরিষদ রাখার সুযোগ আছে। আমেরিকা হিন্দু ফাউন্ডেশনের একটি এমপি হয় ইসকন। ঠিক তখনই ১৯৬৬ সালের শ্রী কৃষ্ণের ইসকন অন্য রূপে আসে, যে রূপের ফলে বিশ্বময় ইসকন প্রশ্নবিদ্ধ হয়! নতুন ইসকন জন্ম নেয়, যার কাজ ভারত রাষ্ট্রের স্ট্যাটেজিক হাতিয়ার হওয়া।
আমি প্রথমেই বলেছি, ইসকন আসলে কার? এর জবাব হলো, ইসকন মূলত ইয়াহূদীর। দাবি করা হয়, ইসকনের মূল নীতিনির্ধারকের প্রায় অর্ধেক হচ্ছে ইয়াহূদী।[21]
‘বাংলাদেশে র’ বইয়ের ১৭১ পৃষ্ঠায় বলা হয়, ইসকন হচ্ছে একটি ইয়াহূদী সংগঠন। আসলে ইয়াহূদীরাই ইসকনের নাম দিয়ে হিন্দুদের ভিতরে ঢুকে গেছে এবং ভারতবর্ষে তাদের কার্যসিদ্ধি করছে।[22]
অবশ্য ইসকনের গোয়েন্দা সম্পৃক্ততা নিয়ে অনেক বিশ্লেষকরা বলেন, ইসকন মূলত ভারত ও ইসরাঈলের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক। তারা সারা বিশ্বে ইসকনকে ছড়িয়ে রেখে বিশ্বের সব তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।[23]
ইসকনের দুজন ইয়াহূদী নেতার নাম জানা যায়। ইসকনের সমর্থকরা এই দুজন নেতাকে চিনে জয়াদ্বৈত স্বামী এবং রাধানাথ স্বামী নামে। জয়াদ্বৈত স্বামীর আসল নাম জে ইসরায়েল (Jay Israyel) অন্যদিকে রাধানাথ স্বামীর আসল নাম রিচার্ড স্লাভিন (Richard Slavin)।
তারা রাশিয়া, রোমানিয়া, পোলান্ড ও লিথুয়ানিয়া থেকে যেসব ইয়াহূদী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে রিফিউজি হিসেবে এসেছেন, তাদের সন্তান। ভারতে ও বাংলাদেশে স্কুলের বাচ্চাদের দুপুরের খাবার খাওয়ানোর বিষয়টি রিচার্ড স্লাভিনের পরিকল্পনা। মুম্বাই বসে পরিকল্পনার কলকাঠি নড়াচড়া করেন এই রিচার্ড স্লাভিন।[24]
ভারতের ইসকনের সদরদপ্তর তথা মায়াপুর মন্দির ভ্রমণ করে একজন লেখক বলেন, ধুতি আর তুলসীর মালা পরে একটা মানুষ বসে আছে। আমাদের দলের একজন ইংরেজিতে তাকে বলল, আপনি কোথা থেকে এসেছেন? সে উত্তর দিল, নো ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ। অর্থাৎ এই লোকটি ফ্রান্সের ছিল। লেখকের মায়াপুরের ভ্রমণকাহিনি পড়ে বলা যায়, লেখক মায়াপুরে সাদা চামড়ার মানুষ বেশি দেখেছেন। অবশ্য আমেরিকানও বেশি ছিল।[25]
রহস্যময় মায়াপুর:
মায়াপুর হলো ইসকনের সদরদপ্তর। ৩০০০ একর জমির উপর ইসকনের স্থাপনা।[26] মায়াপুরে স্থায়ীভাবে ২০০০ এর বেশি সাদা চামড়ার মানুষ বসবাস করে। মায়াপুরের মন্দিরগুলোতে প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার দর্শনার্থী আসে। অবশ্য সকলেই সাদা চামড়ার দর্শনার্থী। সাদা চামড়া বলতে আমেরিকা, ইউরোপসহ নানান দেশ থেকে বিদেশীরা আসে।
ইউরোপ, আমেরিকাসহ বহির্বিশ্বের যেকোনো দেশে একটা উন্নত মডেলের মসজিদ তৈরি করতে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। সে পর্যাপ্ত টাকা মুসলিম বিশ্ব কিংবা মুসলিম বেশ কিছু সংগঠন দিয়ে থাকে। ইউরোপ আমেরিকায় যে ধরনের স্থাপনা তৈরি করছে তা খুব ব্যয়বহুল। যে স্থাপনা তৈরি করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। প্রশ্ন থেকে যায়, এত টাকা তাদের কে দেয় এবং টাকার উৎস কী? ইউরোপ আমেরিকায় মন্দির বানানোর জন্য ভারত সরকার তো এত টাকা দিবে না।[27]
ইসকনের অবশ্য গোবর ও গোমূত্র সংশ্লিষ্ট ব্যবসা আছে। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, ইসকনের আকাশসম বিশাল মন্দির দেখে। মায়াপুরে অবস্থানরত সকল সাদা চামড়ার লোকেরা কেউ ইসকনের সদস্য না। তারা মূলত সেখানে চাকরি করে। অবাক করা তথ্য হলো চাকরিরত সাদা চামড়ার কেউ হিন্দু না। তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন ও বেতনের দাপটে ইসকনের চাকরি করছে।
মায়াপুরে স্থাপিত ইসকনের কয়েকটি জাঁকজমকপূর্ণ বিল্ডিংয়ের নাম হলো পদ্ম ভবন ও গদা ভবন।[28]
মায়াপুর মন্দিরে মাছ-গোশত খাওয়া নিষেধ হলেও আশেপাশে সকল হোটেলে নির্দ্বিধায় মাছ-গোশত পাওয়া যায়। শুধু একটা সাইনবোর্ডে লেখা দেখা যায়, দয়া করে মাছ-মাংস খাবেন না।[29]
প্রশ্ন থেকে যায়, মায়াপুরকে রহস্যময় বলছি কেন? উত্তর হলো, মায়াপুরে একটি গোশালা আছে। সে গোশালায় বাহিরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, গোশালায় প্রবেশ করার জন্য এক লোককে রড আর চেন দিয়ে এমনভাবে মারা হয়, যার ফলে গুরুতরভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়।[30]
ইসকনের গোপন ব্যবসা:
গোপন জিনিসটা সবসময় গোপন থাকে না। সত্য অপ্রকাশিত থাকলেও তা সাময়িক। এক সময় সত্য কিন্তু প্রকাশ পায়। ইসকনের সূচনা থেকে এ পর্যন্ত এত সাদা চামড়ার লোক ইসকনের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা রীতিমতো প্রশ্ন তুলে যে, হরে কৃষ্ণ মতবাদের সংগঠন হলে এরাও কি কৃষ্ণের ভক্ত?
একদল গবেষক মনে করেন, ইসকনের সাথে এত সাদা লোক মূলত ইসকনের পতিতা ব্যবসার খদ্দের। পতিতা ব্যবসা বলব না কী বলব, তা নিয়ে একটু দ্বিধায় আছি। তবে বিষয়টা বুঝিয়ে বলি, ইসকন ভারত থেকে সন্ন্যাসী বানিয়ে মেয়েদের আমেরিকা নিয়ে যায়। তারপর আমেরিকার অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিক্রি করে দেয়। অবশ্য আপনি শুনলে অবাক হবেন, এ বিয়েগুলো আসলে চুক্তিমাফিক বিয়ে হয়। ধরা যাক, এক বছর ভোগ করার পর সম্পর্ক শেষ। এই ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এই মেয়েদের নির্দিষ্ট একটা সময় যৌনদাসী বানিয়ে রাখার পর ইসকন মন্দিরে দিয়ে আসে। ঠিক এভাবেই হরে কৃষ্ণ সাধনার নামে নারী বিক্রি করা ইসকনের গোপন ব্যবসা। প্রতি বছর ভারত থেকে ৩০,০০০ মেয়ে আমেরিকা, আফ্রিকাসহ বাইরের দেশে ইসকন নিয়ে যায়।[31]
পরিশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এ প্রবন্ধে ইসকন নিয়ে শুধু তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রবন্ধটা আরও বড় হয়ে যেত। মাঝে মাঝে সিএনজির পিছনে লেখা দেখা যায়, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আদালত হচ্ছে মানুষের বিবেক’। তাই এ প্রবন্ধের মাধ্যমে আপনার আদালতে আমি একজন আইনজীবী হয়ে তথ্যবহুল একটি ফাইল পেশ করলাম। আপনার আদালতে আপনি বিচার করুন, ইসকন নিষিদ্ধ হওয়া উচিত কি-না? সর্বোপরি তথ্য সংগ্রহে সর্বোচ্চ নিখুঁত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বশেষ একটা মিনতি, আপনার প্রার্থনায় আমাকে শামিল রাখবেন!
ইবনু মাসউদ
সহকারী পরিচালক, তামীরুল মিল্লাত সাহিত্য ফোরাম, টঙ্গী, গাজীপুর।
[1]. এস সুমন, ইসকন বিতর্ক, পৃ. ৪৭।
[2]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৭।
[3]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৭।
[4].www.ourislam24.com/2016/09/03/%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%80
[5]. এস সুমন, ইসকন বিতর্ক, পৃ. ৫৮।
[6]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৭।
[7]. প্রাগুক্ত, পৃ. ২১-২২।
[8]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১২১।
[9]. দৈনিক কালের কণ্ঠ, ৬ নভেম্বর, ২০১৯।
[10]. দৈনিক নয়াদিগন্ত, ১১ অক্টোবর, ২০১৯।
[11]. দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ জুলাই, ২০১৯।
[12]. এস সুমন, ইসকন বিতর্ক, পৃ. ১৫১।
[13]. প্রাগুক্ত।
[14]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪৪।
[15]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৫।
[16]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৭৫।
[17]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৬২।
[18]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৫০, ৫২।
[19]. Protect Our Sisters এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেইজটি দেখুন। পেইজ লিংক: https://www.facebook.com/profile.php?id=61568535424376&mibextid=ZbWKwL
[20]. এস সুমন, ইসকন বিতর্ক, পৃ. ৬৯।
[21]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৪।
[22]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৬।
[23]. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৬।
[24]. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৭।
[25]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৭।
[26]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৬।
[27]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৭।
[28]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৪।
[29]. প্রাগুক্ত।
[30]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৭।
[31]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫৯।
