আক্বীদার উপর ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর কি কোন লেখনী আছে?[1] যেহেতু এই লেখায় ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ আক্বীদা তুলে ধরা হবে, সেহেতু আক্বীদার উপর প্রণীত তার বই-পুস্তকের দিকেও একটু ইঙ্গিত দেয়া প্রয়োজন। উছূলুদ্দীন (أصول الدين) বা আক্বীদার উপর ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর কয়েকটি বই আছে। যদিও সেগুলো তার কিনা তা নিয়ে প্রাচ্য চিন্তাচেতনাপুষ্ট বর্তমান যুগের কতিপয় গবেষক কথা তুলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, সেগুলো সরাসরি তার লিখিত নয়; বরং তার ছাত্ররা তার আক্বীদা লিখিতভাবে তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ কোনো কোনোটাকে তার লিখিত বই বলে মানলেও কোনো কোনোটাকে তার লিখিত বই বলে মানেননি। তবে, ইসলামের বড় বড় অনেক বিদ্বান সেগুলোকে তার বই বলে উল্লেখ করেছেন। এখানে আক্বীদার উপর ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর কয়েকটি বই, সেগুলোর বিষয় এবং সেগুলোকে যারা তার বই বলে উল্লেখ করেছেন, তাদের নাম তুলে ধরা হলো:
(১) আল-ফিক্বহুল আকবার (হাম্মাদ ইবনে আবু হানীফার সূত্রে বর্ণিত): আল্লাহ্র ছিফাত বা গুণাবলি, ঈমান, তাক্বদীর, নবুঅত, পরকাল ইত্যাদি আক্বীদা বিষয়ক আলোচনা বইটিতে স্থান পেয়েছে। এর ভাষা খুব সহজ ও সাবলীল। তবে, এতে বেশীরভাগ জায়গায় বিস্তারিত দলীল উল্লেখ করা হয়নি। এটি ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বই। অনেক বিদ্বান এর ব্যাখ্যা করেছেন। এর প্রায় ১৫টি ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাওয়া যায়, যার অধিকাংশই এখনও পাণ্ডুলিপি আকারেই আছে। ছাপানো ব্যাখ্যাগ্রন্থাবলির মধ্যে মোল্লা আলী ক্বারী রাহিমাহুল্লাহ-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থটি অধিক পরিচিত।
যারা বইটিকে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর বই বলে উল্লেখ করেছেন: ১- আব্দুল ক্বাহের বাগদাদী (মৃত্যু: ৪২৯হি.)[2], ২- ইবনুন নাদীম (মৃত্যু: ৪৩৮হি.)[3], ৩- আবুল মুযাফফর আল-ইসফিরাঈনী (মৃত্যু: ৪৭১হি.)[4], ৪- আলী আল-বাযদাবী (মৃত্যু: ৪৮২হি.)[5], ৫- ইবনু তাইমিয়াহ (মৃত্যু: ৭২৮হি.)[6], ৬- ইবনুল ক্বাইয়িম (মৃত্যু: ৭৫১হি.)[7], ৭- আয-যাহাবী (মৃত্যু: ৭৪৮হি.)[8], ৮- ইবনু আবিল ইযয (মৃত্যু: ৭৯২হি.)[9], ৯- হাজী খলীফা (মৃত্যু: ১০৬৭হি.)[10], ১০- মাহমূদ শুকরী আল-আলূসী (মৃত্যু: ১৩৪২হি.)[11] প্রমুখ।
(২) আল-ফিক্বহুল আকবার (আবু মুত্বী‘ আল-বালখীর সূত্রে বর্ণিত): এটি ‘আল-ফিক্বহুল আবসাত্ব’ নামে ছাপা হয়েছে। ‘আল-ফিক্বহুল আবসাত্ব’ নামটি কেবল পরবর্তী কতিপয় হানাফী আলেম-উলামার লেখনীতে পাওয়া যায়; আগে এটি ‘আল-ফিক্বহুল আকবার’ নামেই পরিচিত ছিল। এটিও আক্বীদার বই হলেও এর বিন্যাস আগেরটার মত নয়; বরং এখানে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর বিখ্যাত ছাত্র আবু মুত্বী‘ আল-বালখী রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদাবিষয়ক নানা প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেয়া হয়েছে। আগের বইটিতে আক্বীদার মৌলিক বিষয়াবলি সহজ, সাবলীল ও সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পক্ষান্তরে, এ বইটিতে তাক্বদীরের মাসআলা-মাসায়েল ও ঈমানের কিছু বিষয় সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে। এই বইটি সরাসরি ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর প্রণীত গ্রন্থ নয়; বরং এটি আবু মুত্বী‘ আল-বালখী রাহিমাহুল্লাহ-এর সংকলিত গ্রন্থ, যেখানে তিনি তার উস্তায ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদাবিষয়ক প্রশ্নের উত্তর ও মন্তব্য সংকলন করেছেন। সেকারণে হাফেয যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ আবু মুত্বী‘ আল-বালখী রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, صَاحب الْفِقْه الْأَكْبَر ‘(তিনি হচ্ছেন) আল-ফিক্বহুল আকবার গ্রন্থপ্রণেতা’।[12] মুহাম্মাদ আব্দুল হাই লাখনবী রাহিমাহুল্লাহ তার সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, صَاحِبُ أَبِيْ حَنِيْفَةَ وَصَاحِبُ كِتَابِ الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ ‘তিনি আবু হানীফার সহচর এবং আল-ফিক্বহুল আকবার গ্রন্থপ্রণেতা’।[13]
(৩) আল-আলিম ওয়াল মুতা‘আল্লিম: এ পুস্তকটিতে প্রশ্নোত্তর আকারে আক্বীদার বিভিন্ন দিক স্থান পেয়েছে। ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ তার ছাত্র আবু মুক্বাতিল হাফছ ইবনে সাল্ম সামারকান্দী রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদা বিষয়ক নানা প্রশ্নের জবাব এখানে দিয়েছেন। ইলম ও আমলের গুরুত্ব এবং আমল যে ইলমের অনুগামী প্রথমে সেদিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মূর্খতাসহ প্রচুর আমল করার চেয়ে জ্ঞানসহ অল্প আমল অধিক উপকারী- এদিকেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরপর তিনি ‘ইলমুল কালাম’ বা বুদ্ধি ও যুক্তির আলোকে আক্বীদা জানার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তারপর যেনাকারের ঈমান থাকে কি থাকে না, সে সম্পর্কে বিভিন্ন ফেরক্বার কিছু মতামত উল্লেখ করেছেন। এই বইয়ে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ শরী‘আত ও দ্বীনের মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন। দ্বীন হচ্ছে তাওহীদ। আর এ তাওহীদের দিকে দা‘ওয়াত দেয়ার জন্যই আল্লাহ তার সকল নবীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর ঈমানের ব্যাপারে তিনি তার মূলনীতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমলের সাথে কি ঈমানের কোন সম্পর্ক আছে? এর ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন।
ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর যে আক্বীদা সাব্যস্ত হয়েছে এবং যে আক্বীদার কথা তার অন্যান্য বই-পুস্তকে বিধৃত হয়েছে, সে আক্বীদার সাথে এই বইয়ের কিছু আক্বীদার অমিল রয়েছে। যেমন-
ক. এতে তিনি ‘ইলমুল কালাম’ বা বুদ্ধি ও যুক্তির আলোকে আক্বীদা জানার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
খ. আক্বীদার ব্যাপারগুলোতে তিনি ক্বিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন।
গ. এখানে তিনি ‘আল-ইরজা আল-হাক্বীক্বী’[14] বা প্রকৃত ইরজার কথা বলেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, مَنْ آمَنَ بِقَلْبِهِ وَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ عِنْدَ اللهِ ‘যে ব্যক্তি হৃদয় দিয়ে ঈমান আনলো, কিন্তু মুখ দিয়ে বললো না, সে আল্লাহ্র নিকট মুমিন’।[15]
এসব কিছু থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এ কিতাবটি ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর প্রণীত নয়; বরং এটি তার ছাত্র আবু মুক্বাতিল হাফছ ইবনে সাল্ম সামারকান্দী রাহিমাহুল্লাহ-এর প্রণীত। সেকারণে সুলায়মানী রাহিমাহুল্লাহ তার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, صَاحِبُ كِتَابِ الْعَالِمِ وَالْمُتَعَلِّمِ فِيْ عِدَادِ مَنْ يَّضَعُ الْحَدِيْثَ. ‘তিনি আল-আলিম ওয়াল মুতা‘আল্লিম গ্রন্থপ্রণেতা, তিনি হাদীছ জালকারীদের মধ্যে গণ্য’।[16] অর্থাৎ মুহাদ্দিছগণের নিকট তিনি মিথ্যুক ও হাদীছ জালকারী। তবে, কেউ কেউ বইটিকে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর বলে মন্তব্য করেছেন। যাহোক, এই বইটি সম্পর্কে আমাদের হুশিয়ার থাকতে হবে। এখানে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদার যতটুকু মিল পাওয়া যাবে, ততটুকু গ্রহণ করা যাবে। ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহসহ সালাফে ছালেহীনের আক্বীদা বিরোধী তথ্য এই বই থেকে নেয়া যাবে না।
(৪) আল-ওয়াছিয়্যাহ: এটি ছোট্ট একটি পুস্তিকা, যাতে দ্বীনের মৌলিক কিছু বিষয় ঈমান, তাক্বদীর, কুরআন ইত্যাদি স্থান পেয়েছে। কুরআন সৃষ্ট নয় বরং আল্লাহ্র কালাম- এ কথাটিও এখানে স্পষ্টরূপে তুলে ধরা হয়েছে।
যারা বইটিকে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর বই বলে উল্লেখ করেছেন: ১- আল-বায়াযী (মৃত্যু: ১০৯৮হি.)[17], ২- মুরতাযা আয-যাবীদী (মৃত্যু: ১২০৫হি.)[18] প্রমুখ।
(৫) রিসালাতুল ইমাম আবী হানীফা ইলা উছমান আল-বাত্তী বা উছমান আল-বাত্তীকে লেখা ইমাম আবু হানীফার পত্র: এটি একটি ছোট্ট পত্র, যা ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ বাছরার বিচারক উছমান আল-বাত্তী রাহিমাহুল্লাহ বরাবর লিখেছিলেন। ঘটনা হচ্ছে, উছমান আল-বাত্তী রাহিমাহুল্লাহ-এর এ খবরে খুব কষ্ট হয়েছিল যে, ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ মুরজিআদের অভিমত পোষণ করেন। ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর ব্যাপারে তার কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি তাকে একটি পত্র লিখেন, যার প্রত্যুত্তরে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ এ পত্রখানা লিখেন। তিনি যে মুরজিআ আক্বীদা পোষণ করেন না, এতে সে বিষয়টি তিনি তাকে অবহিত করেন।
যে সমস্ত আলেম-উলামা বইটিকে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর বই বলে উল্লেখ করেছেন: ১- ইবনুন নাদীম (মৃত্যু: ৪৩৮হি.)[19], ২- আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাযদাবী (মৃত্যু: ৪৮২হি.)[20], ৩- আবুল মুযাফফর আল-ইসফিরাঈনী (মৃত্যু: ৪৭১হি.)[21], ৪- আল-বায়াযী (মৃত্যু: ১০৯৮হি.)[22], ৫- মুরতাযা আয-যাবীদী (মৃত্যু: ১২০৫হি.)[23], ৬- ঈসমাঈল আল-বাগদাদী (মৃত্যু: ১২০৫হি.)[24], ৭- হাজী খলীফা (মৃত্যু: ১০৬৭হি.)[25] প্রমুখ।
সম্মানিত পাঠক! এই বইগুলো মুহাদ্দিছগণের গৃহীত মূলনীতি ও কষ্টিপাথরে যাচাই করলে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর বলে সাব্যস্ত হয় না। কারণ বইগুলোর সনদ থাকলেও সেগুলো ত্রুটিমুক্ত নয়। তাছাড়া মুরতাযা যাবীদী, আবুল খায়ের হানাফীর মত কিছু জগদ্বিখ্যাত আলেম ছাফ বলে দিয়েছেন যে, এগুলো ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর সরাসরি প্রণীত বই নয়। বরং এগুলো তার বক্তব্য, যা তার ছাত্ররা সংকলন করেছেন, যেমনটি প্রাচ্য চিন্তাচেতনাপুষ্ট বর্তমান যুগের কতিপয় গবেষক বলেছেন। আরো একটা বিষয় হচ্ছে, ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর কতিপয় বিদ‘আতী অনুসারী পরবর্তীতে এগুলোতে কমবেশী করে ফেলেছে, এগুলোতে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করেছে; বরং তাদের কেউ কেউ মাযহাবকে সহযোগিতার নামে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর হাদীছও বানিয়েছে।[26] সেকারণে এসব বইয়ের সব বক্তব্য যে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর, সেকথা ঠিক নয়। তবে, এসব বইয়ের বেশীর ভাগ বক্তব্য ঠিক আছে। ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদা প্রমাণে বিশেষ করে হাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর বর্ণনায় আল-ফিক্বহুল আকবার এবং আল-ওয়াছিয়্যাহ ও আর-রিসালাহ গ্রন্থত্রয়ের উপর অনেকাংশেই নির্ভর করা চলে; যদিও এগুলোতেও কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য আছে। কারণ বিশ্বজুড়ে এগুলোর ব্যাপক পরিচিতি আছে এবং ইবনু তাইমিয়াহ, ইবনুল ক্বাইয়িম, হাফেয যাহাবী, ইবনু কুদামার মত অনেক বিশ্লেষক আলেম-উলামা এগুলো থেকে উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদা প্রমাণে তার বিখ্যাত দুই শিষ্য মুহাম্মাদ ও আবু ইউসুফ এবং ইমাম ত্বহাবীর উপরও নির্ভর করা যায়। এছাড়া তার আক্বীদা প্রমাণে সালাফে ছালেহীন প্রণীত অন্যান্য আক্বীদার গ্রন্থতো রয়েছেই।
সুধী পাঠক! আপনারা একটি বিষয় নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে, ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর সরাসরি প্রণীত হোক বা তার বক্তব্যের সংকলন হোক, তার নামে যেসব বই-পুস্তক আছে, তার প্রায় সবগুলোই আক্বীদা বিষয়ক। শরী‘আতের শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা-মাসায়েল বিষয়ক ফিক্বহ নিয়ে তিনি একটি গ্রন্থও রচনা করেননি। তার কাছে আক্বীদা কত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, তা এখান থেকেই পরিস্কার বুঝা যায়। এদিকে ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ ফিক্বহ বিষয়ে ইজতিহাদ ও মতভেদের বৈধতা দিলেও আক্বীদায় ইজতিহাদ ও মতানৈক্য করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ তার সবচেয়ে প্রশস্ত আক্বীদার বইটির নাম দিয়েছেন, ‘আল-ফিক্বহুল আকবার’ অর্থাৎ ‘সবচেয়ে বড় ফিক্বহ’ বা ‘শ্রেষ্ঠ ফিক্বহ’। এর মানে আক্বীদার জ্ঞান হচ্ছে তার কাছে সবচেয়ে বড়, শ্রেষ্ঠ ও উচ্চতর জ্ঞান। আমাদের দুর্ভাগ্য একারণে যে, আমরা বেশীরভাগ হানাফী ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ ফিক্বহ’ তথা আক্বীদার জ্ঞান নিতে পারিনি। বরং আমরা ফিক্বহে হানাফী হয়েছি; কিন্তু আক্বীদায় হয়েছি মাতুরিদী বা আশ‘আরী আর তরীক্বায় হয়েছি চরমোনাই, কাদেরী, চিশতী, নক্বশাবন্দী বা আর কিছু ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন। আমাদের কি ফিক্বহ, আক্বীদা ও তরীক্বা সব বিষয়ে হানাফী হওয়া উচিৎ নয়?
(চলবে)
[1]. এই শিরোনামের বেশীর তথ্য ‘উছূলুদ্দীন ইনদাল ইমাম আবী হানীফা’ বইয়ের ১১৫ থেকে ১৪৩ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত।
[2]. আব্দুল ক্বাহের বাগদাদী, উছূলুদ্দীন, (মাত্ববা‘আতুদ দাওলাহ, ইস্তাম্বুল, ১ম প্রকাশ: ১৩৪৬ হি./১৯২৮ খৃ.), পৃঃ ৩০৮।
[3]. ইবনুন নাদীম, আল-ফিহরিস্ত, (দারুল মা‘রেফা, বৈরূত, ২য় প্রকাশ: ১৪১৭ হি./১৯৯৭ খৃ.), পৃঃ ২৫১।
[4]. আবুল মুযাফফর আল-ইসফিরাঈনী, আত-তাবছীর ফিদ-দ্বীন, (আলামুল কুতুব, লেবানন, ১ম প্রকাশ: ১৪০৩ হি./১৯৮৩ খৃ.), পৃঃ ১৮৪।
[5]. আলাউদ্দীন আল-হানাফী, কাশফুল আসরার শারহু উছূলিল বাযদাবী, (দারুল কিতাবিল ইসলামী, তা. বি.), ১/৭।
[6]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, (বাদশাহ ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স, মদীনা, প্রকাশকাল: ১৪১৬ হি./১৯৯৫ খৃ.), ৫/৪৬।
[7]. ইবনুল ক্বাইয়িম, ইজতেমা‘উল জুয়ূশিল ইসলামিয়্যাহ, (মাত্বাবে‘উল ফারাযদাক্ব আত-তিজারিয়্যাহ, রিয়ায, ১ম প্রকাশ: ১৪০৮ হি./১৯৮৮ খৃ.), ২/১৩৮।
[8]. যাহাবী, কিতাবুল মুশতাবিহ ফী আসমাইর রিজাল, ১/১৩৭, ভায়া: উছূলুদ্দীন ইনদাল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১১৩।
[9]. ইবনু আবিল ইযয, শারহুল আক্বীদাতিত ত্বহাবিয়্যাহ, (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সঊদী আরব, ১ম প্রকাশ: ১৪১৮ হি.), পৃঃ ১৭।
[10]. হাজী খলীফা, কাশফুয যুনূন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনূন, (মাকতাবাতুল মুছান্না, বাগদাদ, প্রকাশকাল: ১৯৪১ খৃ.), ২/১২৮৭।
[11]. মাহমূদ শুকরি আল-আলূসী, গয়াতুল আমানী ফির-রদ্দি আলান-নাবহানী, (মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়ায, ১ম প্রকাশ: ১৪২২ হি./২০০১ খৃ.), ১/৫৭৫।
[12]. যাহাবী, আল-‘উলু লিল আলিয়্যিল গফফার, (মাকতাবাতু আযওয়াইস সালাফ, রিয়ায, ১ম প্রকাশ: ১৪১৬ হি./১৯৯৫ খৃ.), পৃঃ ১৩৪।
[13]. মুহাম্মাদ আব্দুল হাই লাখনবী, আল-ফায়াইদুল বাহিয়্যাহ ফী তারাজুমিল হানাফিয়্যাহ, (মাত্ববা‘আতু দারিস সা‘আদাহ, মিশর, ১ম প্রকাশ: ১৩২৪ হি.), পৃঃ ৬৮।
[14]. ইরজা (إِرْجَاءٌ) অর্থ বিলম্বিত করা। যারা আমলকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়, তাদেরকে ‘মুরজিআহ’ বলা হয়। এরা আবার পরস্পরে কয়েক শ্রেণীতে বিভক্ত। তবে তাদের সবাইকে ‘মুরজিআহ’ বলা যেতে পারে।
[15]. উছূলুদ্দীন ইনদাল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১২৪।
[16]. ইবনু হাজার আসক্বালানী, লিসানুল মীযান, (মুআসসাসাতুল আ‘লামী, বৈরূত, ১ম প্রকাশ: ১৩৯০ হি./১৯৭৫ খৃ.), ২/৩২৩।
[17]. ইশারাতুল মারাম ফী ইবার-তিল ইমাম, পৃঃ ২১, ভায়াঃ উছূলুদ্দীন ইনদানল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১৩৮।
[18]. ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাক্বীন, ২/১৩-১৪, ভায়াঃ উছূলুদ্দীন ইনদানল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১৩৮।
[19]. আল-ফিহরিস্ত, (দারুল মা‘রেফা, বৈরূত, ২য় প্রকাশ: ১৪১৭ হি./১৯৯৭ খৃ.), পৃঃ ২৫১।
[20]. কানযুল উছূল, ১/৮, ভায়াঃ উছূলুদ্দীন ইনদানল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১৩৪।
[21]. আত-তাবছীর ফিদ-দ্বীন, পৃঃ ১৮৪।
[22]. ইশারাতুল মারাম ফী ইবার-তিল ইমাম, পৃঃ ২১, ভায়াঃ উছূলুদ্দীন ইনদানল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১৩৮।
[23]. ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাক্বীন, ২/১৩-১৪, ভায়াঃ উছূলুদ্দীন ইনদানল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১৩৮।
[24]. হিদায়াতুল আরিফীন, ২/৪৯৫, ভায়াঃ উছূলুদ্দীন ইনদানল ইমাম আবী হানীফা, পৃঃ ১৩৫।
[25]. কাশফুয যুনূন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনূন, ১/৮৪২।
[26]. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-খুমাইয়িস, উছূলুদ-দ্বীন ‘ইনদাল ইমাম আবী হানীফা, পৃ: ৬৬।
