ইক্বামতের শব্দগুলো একবার করে বলতে হবে :
ইক্বামতের শব্দগুলো একবার করে বলা উত্তম। এর পক্ষে অনেক ছহীহ হাদীছ রয়েছে।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ أُمِرَ بِلاَلٌ أَنْ يَشْفَعَ الأَذَانَ وَأَنْ يُوتِرَ الإِقَامَةَ إِلَّا الْإِقَامَةَ .
আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বিলাল রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে আযানের শব্দ দুই দুইবার এবং ‘ক্বদ ক্বমাতিছ ছলাহ্’ ব্যতীত ইক্বামতের শব্দগুলো বিজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।[1] এই হাদীছ দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে ইক্বামত দেওয়ার আদেশ করেছেন। ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আযান ছিল দুইবার দুইবার করে, ইক্বামত একবার করে; তবে তিনি ‘ক্বদ ক্বমাতিছ ছলাহ্’ দুইবার বলতেন।[2]
দুইবার করে ইক্বামত দেওয়া যায় :
আবু মাহযূরা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দুইবার করে ইক্বামত শিখিয়েছেন।[3] এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, ইক্বামত দুইবার করে দেওয়া যায়।
ইক্বামত একবার করে বলা যাবে না মর্মে হাদীছ জাল :
‘যে ব্যক্তি একবার করে ইক্বামত দেয়, সে আমার উম্মত নয়’।[4]
ইক্বামতে ‘ক্বদ ক্বমাতিছ ছলাহ্’-এর জবাবে ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলা যাবে না :
‘ক্বদ ক্বমাতিছ ছলাহ্’-এর জবাবে যে দো‘আ পড়া হয়, তার প্রমাণে হাদীছটি যঈফ।[5] আবু উমামা অথবা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক ছাহাবী বর্ণনা করেন, বেলাল রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন ইক্বামতে ‘ক্বদ ক্বমাতিছ ছলাহ্’ বলেন, তখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলেন। হাদীছটি যঈফ।[6]
আযান ও ইক্বামতের দো‘আ একই হবে :
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান এবং ইক্বামত দু’টাকেই আযান বলেছেন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ.
আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যখানে ছালাত আছে। প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যখানে ছালাত আছে। অতঃপর তৃতীয়বার বললেন, এই ছালাত ঐ ব্যক্তির জন্য, যে পড়তে চায়’।[7] এই হাদীছে প্রমাণ হয় যে, যেহেতু আযান ও ইক্বামত দুইটার নামই আযান, সেহেতু আযান ও ইক্বামতের দো‘আ একই হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আছ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা মুআয্যিনের আযান শুনলে উত্তরে সে শব্দগুলোই পুনরাবৃত্তি করবে’।[8] এই হাদীছও প্রমাণ করে, আযান এবং ইক্বামতের দো‘আ একইরূপ হবে। আলবানী রাহিমাহুল্লাহ অনুরূপ কথা বলেন।[9]
ইক্বামতের শেষে ‘আল্লাহু আকবার’ একবার বলার কোন প্রমাণ নেই :
অনেকেই মনে করেন, ইক্বামত শেষে একবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে। অথচ একবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার কোন প্রমাণ নেই। এর জন্য হাদীছের কোন ব্যাখ্যা লাগে না। কারণ হাদীছে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইক্বামতের বাক্যগুলো এভাবে বলেন, [10]
اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ حَىَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَىَّ عَلَى الْفَلَاحِ قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ.
উক্ত হাদীছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে, ইক্বামতের শেষে ‘আল্লাহু আকবার’ দুইবার হবে।
যতবার জামা‘আত হবে, ততবার ইক্বামত দিতে হবে :
একদা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ছালাত দিনে আদায় করেছিলেন, তখন তিনি আযান ও ইক্বামত দিয়েছিলেন।[11] খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চারটি ছালাত থেকে বিরত রেখেছিল। তিনি ছালাতগুলো পরস্পর ইক্বামত দিয়ে আদায় করেছিলেন।[12] এক মসজিদে এক ওয়াক্তে একাধিকবার জামা‘আত হতে পারে। প্রতিবারই ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে।
পুরুষ-নারী সকলকেই ছালাতে ইক্বামত দিতে হবে :
নারীদেরকে ফরয ছালাতে ইক্বামত দিতে হবে না, এ ফৎওয়া সঠিক নয়। কারণ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর জন্য পৃথক কোন বিধান দেননি। সবার জন্য একই নির্দেশ। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা ছালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখেছ’।[13] তবে মহিলা ইমাম কাতারের মাঝে দাঁড়াবে।[14] মহিলারা ইমামের ভুল হলে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের পিঠের উপর থাবা মেরে ভুল অবগত করাবে।[15] আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা নিজে আযান দিতেন এবং ইক্বামত দিতেন। মহিলাদের ইমামতি করতেন। তিনি তাদের মাঝে দাঁড়াতেন।[16]
মহিলারা ইমামতি করতে পারে না মর্মে হাদীছগুলো জাল ও যঈফ :
আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মহিলাদের কোন আযান ইক্বামত নেই। তাদের জুম‘আ নেই। তাদের জুম‘আর দিনের গোসল নেই’।[17] এমর্মে সমস্ত হাদীছই জাল ও যঈফ।[18]
জায়নামাযে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমার আগে আর কোন দো‘আ নেই :
ওযূ শেষে ওযূর দো‘আ পড়ে তাকবীরে তাহরীমা বলে ছালাত আরম্ভ করতে হবে। তারপর ছানা পড়তে হবে। ওযূ শেষে দো‘আ পড়ার পর তাকবীরে তাহরীমা বলা পর্যন্ত আর কোন দো‘আ নেই। অতএব জায়নামাযে দাঁড়িয়ে ‘ইন্নী ওয়াজ্জাহতু...’ মর্মে দো‘আটি পড়া বিদ‘আত, যা পরিহার করা যরূরী। অন্যথা কোন ইবাদত কবুল হবে না। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিদ‘আতকে আশ্রয় দেয়, তার ফরয-নফল কোন ইবাদত কবুল করা হবে না’।[19]
সরবে নিয়্যত পড়া বিদ‘আত :
নিয়্যত শব্দের অর্থ অন্তরের পরিকল্পনা। ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ ‘নিশ্চয় মানুষের আমল নিয়্যতের উপর নির্ভর করে’।[20] এই হাদীছে নিয়্যতের নামে মুখে কোন শব্দ উচ্চারণ করতে হবে এমন কোন প্রমাণ নেই। ছাহাবা-তাবেঈন অত্র হাদীছের প্রতি আমল করেছেন। কিন্তু তাঁরা মুখে কোন শব্দ উচ্চারণ করেছেন তার কোন প্রমাণ নেই। এমনকি কোন ফিক্বহ গ্রন্থেও মুখে নিয়্যত পড়তে হবে এমন কথা পাওয়া যায় না। অতএব সকলের জানা উচিত যে, নিয়্যত পড়ার জিনিস নয়, বরং অন্তরের জিনিস। যাকে বলা হয়, অন্তরের পরিকল্পনা। কাজেই মুখে নিয়্যত পড়া পরিহার করতে হবে। নাহলে কোন ইবাদত কবুল হবে না।[21]
ছালাতের সময় নেকীর আশায় পাগড়ী বাঁধা বিদ‘আত :
ছালাতের সময় নেকীর আশায় পাগড়ী বাঁধা যাবে না। কারণ পাগড়ীর ফযীলতে যত হাদীছ আছে, সবই জাল। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে কিছু হাদীছ উল্লেখ করা হল:
জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘পাগড়ী পরে দুই রাক‘আত ছালাত পড়া পাগড়ী বিহীন সত্তর রাক‘আত ছালাত পড়ার চেয়েও উত্তম’।[22] আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পাগড়ী পরে ছালাত আদায় করা দশ হাযার নেকীর সমপরিমাণ’।[23] ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পাগড়ী পরে এক ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা পাগড়ী বিহীন পঁচিশ ওয়াক্ত ছালাত আদায়ের সমান। পাগড়ী পরে এক জুম‘আ ছালাত আদায় করা পাগড়ী বিহীন সত্তর জুম‘আ ছালাত আদায়ের সমান। নিশ্চয় ফেরেশতাগণ জুম‘আর দিন পাগড়ী পরে উপস্থিত হন এবং সূর্য ডুবা পর্যন্ত তাদের জন্য দো‘আ করেন’।[24]
আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্র এমন কিছু ফেরেশতা আছেন, যারা জুম‘আর দিনে মসজিদের দরজায় নিযুক্ত থাকেন। তারা সাদা পাগড়ী পরিধানকারী ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা করেন’।[25] আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এবং ফেরেশতাগণ জুম‘আর দিনে পাগড়ী পরিহিত ব্যক্তিদের উপর রহমত বর্ষণ করেন’।[26] তালহা ইবনে ইয়াযীদ ইবনে রুকানা রাযিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা হতে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মত ততদিন ফিৎরাতের উপর থাকবে, যতদিন তারা টুপির উপর পাগড়ী পরবে’।[27] রুকানা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুসলিম ও মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে, টুপির উপর পাগড়ী পরিধান করা। ক্বিয়ামতের দিন পাগড়ীর প্রত্যেক প্যাঁচ তার মাথার উপর আলো হয়ে ঘুরবে’।[28] আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় মহান আল্লাহ আমাকে বদর ও হুনাইনের যুদ্ধের দিন ঐ সমস্ত ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেছেন, যারা পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। নিশ্চয় এই পাগড়ী কুফর ও ঈমানের মাঝের প্রাচীর’।[29] আরো বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পাগড়ী পরিধান করবে, তার প্রত্যেক প্যাঁচে একটি করে নেকী হবে। যে প্যাঁচ কম করে দিবে, তার কমিয়ে দেয়া প্রত্যেক প্যাঁচে একটি করে পাপ হবে’।[30]
ছালাতের সময় টুপি পরতে হবে কি?
খালি মাথায় ছালাত আদায় করার চেয়ে টুপি মাথায় দিয়ে ছালাত পড়া ভাল। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টুপি মাথায় দিয়ে ছালাত আদায় করতেন তার কোন প্রমাণ নেই। তবে তিনি পাগড়ী পরতেন। ওযূর সময় পাগড়ীর উপর মাসাহ করতেন।[31] ছাহাবীগণ মাথায় টুপি পরতেন। হাসান বাছরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ছাহাবা-তাবেঈন টুপি এবং পাগড়ীর উপর সিজদা করতেন। আর তাদের হাত দু’টি থাকত জামার হাতের মধ্যে।[32] ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আবু ইসহাক্ব তার টুপি ছালাতের মধ্যে রেখে দিতেন এবং সময়ে তা উঠিয়ে নিতেন।[33] এতে বুঝা যায়, মাথায় টুপি দিয়ে ছালাত আদায় করা ভাল।
ছালাত সহ সর্বাবস্থায় লুঙ্গী, পায়জামা, প্যান্ট টাখনুর উপরে রাখতে হবে :
প্রায় মানুষ টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করে। শুধু ছালাতের সময় নয়; সবসময় টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা হারাম। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِى النَّارِ ‘টাখনুর নীচে কাপড় দ্বারা যে অংশ ঢেকে যাবে, তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’।[34]
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَا يَنْظُرُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا ‘আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন সেই লোকের প্রতি দয়ার দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহংকার করে কাপড় টাখনুর নীচে পরিধান করে’।[35]
عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ أَسْبَلَ إِزَارَهُ فِىْ صَلَاتِهِ خُيَلَاءَ فَلَيْسَ مِنَ اللهِ فِى حِلٍّ وَلَا حَرَامٍ.
ইবনে মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ছালাতের মধ্যে টাখনুর নীচে কাপড় পরে, সে ছালাতের মধ্যে আছে না হারামের মধ্যে আছে তাতে আল্লাহ্র কিছু যায় আসে না’।[36]
ছালাতের সময় জামার হাত ছেড়ে রাখতে হবে :
ছালাতের সময় মাথায় চুল বেঁধে বা গিরা দিয়ে রাখা যাবে না এবং জামার হাত ছেড়ে রাখতে হবে। ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ عَلَى الْجَبْهَةِ وَالْيَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَأَطْرَافِ الْقَدَمَيْنِ وَلَا نَكْفِتَ الثِّيَاب وَلَا الشّعْر.
‘আমাকে সাত হাড়ের উপর সিজদা করতে বলা হয়েছে, নাকসহ কপাল, দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের শেষ প্রান্তের উপর। আর মাথার চুল এবং কাপড় জড়িয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে’।[37] চুল এবং কাপড় জড়িয়ে না রাখার কারণ হচ্ছে, মানুষ যখন সিজদা করে, তখন মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মাথার চুল, জামা-কাপড় সবকিছুই সিজদা করে। (চলবে)
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৭৮; নাসাঈ, হা/৬২৭; মিশকাত, হা/৬৪১।
[2]. আবুদাঊদ, হা/৫১০; মিশকাত, হা/৬৪৩।
[3]. আবুদাঊদ, হা/৫০১।
[4]. তাযকিরাতুল মাওযূ‘আত, পৃঃ ৩৫।
[5]. আবুদাঊদ, হা/৫২৮; মিশকাত, হা/৬৭০; ইরওয়া, হা/২৪১।
[6]. আবুদাঊদ, হা/৫২৮; মিশকাত, হা/৬৭০।
[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৬২৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩৮; মিশকাত, হা/৬৬২।
[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৪; মিশকাত, হা/৬৫৭।
[9]. মিশকাত, হা/৬৭০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
[10]. আবুদাঊদ, হা/৪৯৯।
[11]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮০; মিশকাত, হা/৬৮৪।
[12]. ছহীহ বুখারী, ছহীহ মুসলিম, ফিকহুস সুন্নাহ, ১/১৪৩ পৃঃ।
[13]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১; মিশকাত, হা/৬৮৩।
[14]. বায়হাক্বী, ফিকহুস সুন্নাহ, ১/১৪৪ পৃঃ।
[15]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৪২১; মিশকাত, হা/৯৮৮।
[16]. বায়হাক্বী, ১/৪০৮ পৃঃ।
[17]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৮৭৯।
[18]. সিলসিলা যঈফাহ, ২৫/২৬৯ পৃঃ।
[19]. ছহীহ বুখারী, হা/৩১৭২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৭০; মিশকাত, হা/২৭২৮।
[20]. ছহীহ বুখারী, হা/১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯০৭; মিশকাত, হা/১।
[21]. ছহীহ বুখারী, হা/৩১৭২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৭০; মিশকাত, হা/২৭২৮।
[22]. হাদীছটি জাল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/৫৬৯৯।
[23]. হাদীছটি জাল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/৫৬৯৯।
[24]. হাদীছটি জাল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/১২৭।
[25]. হাদীছটি জাল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/৩৯৫।
[26]. হাদীছটি জাল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/১৫৯।
[27]. হাদীছটি জাল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/৬০৭২-এর আলোচানা দ্রষ্টব্য।
[28]. হাদীছটি বাতিল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/১২১৭।
[29]. হাদীছটি নিতান্তই যঈফ, সিলসিলা যঈফাহ, হা/৩০৫২-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
[30]. হাদীছটি জাল, সিলসিলা যঈফাহ, হা/২৩৪৭, ১৫৯৩।
[31]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৪; মিশকাত, হা/৫১৮।
[32]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৮৫, ২৩ নং অনুচ্ছেদ-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
[33]. ছহীহ বুখারী, হা/ ১১৯৮।
[34]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭; মিশকাত, হা/৪৩১৪।
[35]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৮; মিশকাত, হা/৪৩১১।
[36]. আবুদাঊদ, হা/৬৩৭।
[37]. ছহীহ বুখারী, হা/৮১২; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯০; মিশকাত, হা/৮৮৭।
