কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

বিভিন্ন ইসলামী দল ও জামা‘আতের সাথে যোগদান করার হুকুম (পর্ব-৫)

post title will place here

উত্তর[1]

অতএব বিভিন্ন দল, ফেরক্বা ও জামা‘আতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া সম্পর্কিত প্রশ্নটির উত্তর নিচের বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়:

দ্বীন ইসলামের অপরিহার্য জ্ঞান থেকে নিম্নবর্ণিত মূলনীতি সুনিশ্চিতভাবে জানা যায়:

  • জামা‘আত ছাড়া কোনো দ্বীন নেই।
  • ইমামত (নেতৃত্ব) ছাড়া কোনো জামা‘আত নেই।
  • আর শ্রবণ ও আনুগত্য ছাড়া কোনো ইমামত নেই।

আর এই তিনটি বিষয় একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং অবিচ্ছেদ্য। সুতরাং শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মুসলিম নেতৃত্বের অধীনে ইসলাম ও মুসলিম জামা‘আতের টিকে থাকা এবং তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ সাধন— এই ভিত্তি ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আর উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত হয়ে থাকে যে, তিনি বলেছেন,لَا إِسْلَامَ إِلَّا بِجَمَاعَةٍ، وَلَا جَمَاعَةَ إِلَّا بِإِمَارَةٍ، وَلَا إِمَارَةَ إِلَّا بِطَاعَةٍ ‘জামা‘আত ছাড়া কোনো ইসলাম নেই, ইমামত ছাড়া কোনো জামা‘আত নেই এবং আনুগত্য ছাড়া কোনো নেতৃত্ব নেই’—যা ইমাম দারেমী বর্ণনা করেছেন, এর সনদে ছফওয়ান ইবনে রুস্তম নামক একজন ‘মাজহূল’ (অজ্ঞাতপরিচয়) বর্ণনাকারী রয়েছেন।

সকল মুসলিম একটি অভিন্ন দেহ; আর ভ্রাতৃত্বের সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ প্রতিটি মানুষ সেই দেহেরই একে অপরের সাথে মিশে থাকা একেকটি অঙ্গ।

আর এই দেহের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে ইসলাম তথা কিতাব ও সুন্নাহ-এর ওপর এবং এটিই হলো একে পরিচালনার দ্বীনী নীতি।

আর এর পবিত্রতা রক্ষা করার এবং এর জামা‘আতের ঐক্য সুদৃঢ় রাখার নিশ্চয়তা বিধান করা হয় এর জন্য একজন নেতা নিযুক্ত করার মাধ্যমে, যা ‘আহলুল হাল ওয়াল আকদ’ বা শীর্ষস্থানীয় জ্ঞানী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ-এর বায়‘আত দ্বারা সম্পন্ন হয়, তাদের সংখ্যা যতই কম হোক-না কেনো। আর এটিই হলো সেই দেহের প্রশাসনিক নীতি।

সুতরাং উম্মাহর এই বর্ধিষ্ণু দেহটি গঠনের মূল ভিত্তি হলো ইসলাম; আর ইমামত বা নেতৃত্ব হলো দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক বিষয়ে সেই দেহটিকে পাহারা দেওয়ার বা রক্ষা করার একটি মাধ্যম মাত্র।

আর ইসলাম হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয়, যা কোনো প্রকার বিভক্তি বা বিভাজন গ্রহণ করে না। তাই নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর ছাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম এবং আমাদের এই যুগ পর্যন্ত যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, তারা পূর্ণাঙ্গ ইসলামের দিকেই আহ্বান করেন; এর কোনো একটি বিশেষ অংশের দিকে নয়।

আর যারা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করে এবং কিছু অংশ অস্বীকার করে, আল্লাহ তাআলা তাদের তীব্র নিন্দা ও ভর্ৎসনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ ‘তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান আনো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো?’ (আল-বাকারাহ, ২/৮৫)

ঠিক একইভাবে, যে ব্যক্তি সংযোজন বা বিয়োজনের মাধ্যমে ইসলামের কোনো নির্দিষ্ট অংশের দিকে আহ্বান করে এবং অন্যান্য অংশকে বাদ দেয়, তার ব্যাপারেও কঠোর নিন্দা ধ্বনিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَ اللَّهِ وَآيَاتِهِ يُؤْمِنُونَ ‘অতএব আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা আর কোন কথায় ঈমান আনবে?’ (আল-জাছিয়া, ৪৫/৬)

আর নবুঅতের আদর্শ ও পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত মুসলিমদের জামা‘আত কোনো প্রকার খণ্ডন বা বিভাজন মেনে নেয় না। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করার পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে তাঁর ছাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম ও যারা উত্তমরূপে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাদের সকলের দাওয়াত ছিল তাওহীদের পতাকা বহনকারী মুসলিমদের একটি মূল জামা‘আত গঠনের জন্য; মুসলিমদের মধ্য থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট উপদল বা খণ্ডিত জামা‘আত গঠনের জন্য নয়।

আর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তারাই হলেন- মুসলিম, তারাই হলেন- সাহায্যপ্রাপ্ত দল (আত-তয়িফাতুল মানছূরাহ), তারাই হলেন- নাজাতপ্রাপ্ত দল (আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ) এবং তারাই হলেন- সালাফে ছালেহীন। আর তারাই হলেন দ্বীন পালনে এবং এর দিকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর ছাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন, সেই একই আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ। আর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বা আলাদা হয়ে যাওয়া থেকে নিষেধ করেছেন; ঠিক যেভাবে তিনি তাঁদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। আর এ ব্যাপারে কিতাব ও সুন্নাহর অসংখ্য দলীল বিদ্যমান রয়েছে।

মুসলিমদের জামা‘আতের আদর্শ হলো- নবুঅতের মানহাজ তথা কিতাব ও সুন্নাহ-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেন,لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ‘অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, তাদের পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতঃপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল’ (আলে ইমরান, ৩/১৬৪)

এখানে ইসলাম কিতাব ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য সব ধরনের বিশেষ অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা বিলুপ্ত করেছে। তাই পরিচর্যা, সাহায্য-সহযোগিতা এবং ওয়ালা ও বারা তথা আল্লাহর ওয়াস্তে বন্ধুত্ব ও সম্পর্কচ্ছেদ-এসব ক্ষেত্র থেকে এ দুটি ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রকে ইসলাম ছুড়ে ফেলেছে। আর এ দুটির চূড়ান্ত ফলাফল তথা তাক্বওয়া-কেই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আল্লাহ তাআলা যথার্থই বলেছেন,إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাক্বওয়াবান’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১৩)

অতএব, মুসলিম জামা‘আতের তাক্বওয়ার পরিমাণ নির্ধারিত হয় মহিমান্বিত অহীদ্বয় তথা কুরআন ও সুন্নাহ-এর ওপর তাদের অনুসরণের অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে। আর এই দুই অহী-ই হলো ‘ওয়ালা ও বারা’ (ভালোবাসা ও সম্পর্কচ্ছেদ)-এর প্রকৃত মানদণ্ড। সুতরাং এই দুই অহীর যতটা অংশ অনুসৃত হবে, সেই অনুপাতেই ওয়ালা বা ভালোবাসা নির্ধারিত হবে; আর যতটুকু বিচ্যুতি বা ঘাটতি ঘটবে, সেই অনুপাতেই বারা বা সম্পর্কচ্ছেদ ও বিমুখতা প্রযোজ্য হবে।

আর এই নীতি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে সুবিন্যস্ত ও যথার্থ হতে পারে, যারা সরল পথ (ছিরাতে মুস্তাক্বীম) ও সুদৃঢ় আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন—অর্থাৎ নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর ছাহাবীগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুম যে নীতির ওপর ছিলেন, সেই নীতির ওপর যারা রয়েছেন। আর তাঁরাই হলেন- মুসলিম জামা‘আত।

এটিই হলো মুসলিম জামা‘আতের প্রকৃত মর্মার্থ, তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহ তথা নবুঅতের আদর্শের ভিত্তিতে পরস্পরের ভাই ভাই, যাঁদেরকে একজন ক্ষমতা ও শক্তিসম্পন্ন শাসক ঐক্যবদ্ধ করে রাখেন। আর এগুলোই হলো মুসলিমদের পারস্পরিক ঐক্যের এবং তাঁদের জামা‘আতের সুদৃঢ় বন্ধনের সাধারণ যোগসূত্র। আর এতে যতটুকু ত্রুটি ঘটবে, ঠিক সেই পরিমাণেই মতবিরোধ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

সুতরাং যদি মুসলিমদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কিংবা কোনো দল তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে যায়, তবে তা-ই হবে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং তাঁদের জামা‘আতের মাঝে ভাঙন তৈরি। প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, এটিই নবুঅতের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমগ্র ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।

আর এটি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেওয়া সেই অছিয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত, যাতে তিনি সমস্ত উপদল বর্জন করার এবং মুসলিমদের মূল জামা‘আতের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ এই ব্যক্তি মুসলিমদের জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া উপদলের সাথে কোনো নাম অথবা প্রতীকের মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে। আর মূল জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই দলটি ইসলাম এবং মুসলিম জামা‘আতের কতটা কাছাকাছি বা কতটা দূরে অবস্থান করছে, তা নির্ভর করে তাদের কাছে ইসলামের কোন মৌলিক নীতি টিকে রয়েছে এবং কতগুলো শাখা-প্রশাখাগত বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে, তার পরিমাণের ওপর।

আর ইসলামের বিধানসমূহের কাঠামোগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া মানে হলো- এর কোনো একটি ধমনি কেটে রক্তক্ষরণ ঘটানো; যার ফলে শরীর থেকে যতটুকু রক্ত ঝরে যাবে, শরীর ঠিক সেই পরিমাণেই দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়বে।

আর যখন সৎকাজে শ্রবণ ও আনুগত্যের নীতিতে বিঘ্ন ঘটে, তখন সমগ্র দেহে এবং এর কাঠামোতে জঘন্য বিপর্যয় ও ভাঙন দেখা দেয়; আর ঠিক তখনই শাসক বা শাসন কর্তৃপক্ষের দুর্বলতার কারণে জামা‘আতের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়।

অতএব, ওয়ালা-বারা (আল্লাহর ওয়াস্তে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা), দাওয়াত-জিহাদ, ওয়ায ও দিকনির্দেশনা, নছীহত-উপদেশ এবং কথা-কাজে আমল করে যাওয়া— এই সবকিছু ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ কেবল নবুঅতের আদর্শের রূপরেখা অনুযায়ীই পরিচালিত হবে; অন্য কিছুর ভিত্তিতে নয়।

সুতরাং ‘ইসলাম’ নাম ছাড়া অন্য কোনো নামের ভিত্তিতে বন্ধুত্বের চুক্তি বা সম্পর্ক স্থাপন করা জায়েয নেই, কিংবা ইসলামের রূপরেখা ছাড়া অন্য কোনো রূপরেখার ভিত্তিতে—তাতে কোনো কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করে—বন্ধুত্বের বন্ধন তৈরি করা বৈধ নয়, অথবা অন্য কোনো জামা‘আতের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোনো একটি দলের বিশেষ নামের ছায়াতলে এসে অন্য মুসলিমদের বাদ দিয়ে কেবল কিছু মুসলিমের সাথে পক্ষপাতমূলক বন্ধুত্ব করাও জায়েয নয়; বরং এটি হতে হবে নবুঅতের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত জামা‘আতের অর্থাৎ মুসলিমদের মূল জামা‘আতের সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে।

অতএব,

  • যদি কোনো ইসলামী দল বা সংগঠন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নবাবিষ্কৃত স্লোগান বা প্রতীকের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার ভিত্তিতেই ওয়ালা ও বারা (বন্ধুত্ব ও শত্রুতা) নির্ধারিত হয়
  • যদি তা এমনভাবে গঠিত হয় যে, আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তার কিছু অংশ তারা মেনে চলে আর কিছু অংশ বর্জন করে
  • যদি তা এমন হয় যে, যারা কেবল তাদের দলে বা সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা ছাড়া অন্য কারো সাথে বন্ধুত্ব করে না
  • যদি তা এমন কোনো দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অধিবাসীরা ইতোমধ্যেই সেই নবুঅতের আদর্শের ওপর রয়েছেন, যার ওপর সালাফে ছালেহীন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত অতিবাহিত করেছেন; অথচ এই নতুন দলটি কোনো মৌলিক কিংবা আংশিক বিষয়ে কোনো নাম বা প্রতীকের মাধ্যমে তাদের বিরোধিতা করে

তবে এই সমস্ত চুক্তি সম্পূর্ণরূপে হারাম ও অবৈধ। কারণ এর মধ্যে রয়েছে সীমালঙ্ঘন এবং ইসলামের বিভিন্ন দিক-বিভাগের ক্ষতি সাধন। আরও রয়েছে, দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া, মূল তথা মুসলিমদের জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, তাঁদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া, তাঁদের সংহতি বিনষ্ট করা এবং তাঁদের ঐক্য ভেঙে দেওয়া।

(ইনশা-আল্লাহ! চলবে)

মূল: ড. বাকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবূ যায়েদ

পরিমার্জন: সা‘দ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হুছায়্যিন

অনুবাদ: আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী*

বিএ (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এমএ এবং এমফিল, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

 

[1]. সম্মানিত পাঠক! মূল প্রশ্নটি ছিল: দাওয়াতী কাজে সক্রিয় সমসাময়িক দল ও সংগঠনগুলোতে যোগদানের শারঈ বিধান কী?

Magazine