কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

আল্লাহর সান্নিধ্যই মুমিনের শ্রেষ্ঠ সম্বল

post title will place here

[২৫ মুহাররম, ১৪৪৮ হি. মোতাবেক ১০ জুলাই, ২০২৬ পবিত্র হারামে মাক্কীর (কা‘বা) জুমআর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ ড. উসামাহ ইবনু আব্দুল্লাহ খাইয়াত হাফিযাহুল্লাহউক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন ড. আব্দুল্লাহ বিন খোরশেদ। খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]

প্রথমখুৎবা

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সান্নিধ্য দ্বারা তাঁর বান্দাদের পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন। আমি তাঁর পবিত্র সত্তার প্রশংসা করি, যার অফুরন্ত নেয়ামত আমি গণনা করে শেষ করতে পারি না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার অর্থে কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তাঁর অসংখ্য অনুগ্রহ ও নেয়ামতের যথার্থ প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তিনি আল্লাহর বার্তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, অর্পিত আমানত পূর্ণরূপে আদায় করেছেন এবং আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও সাধনা করেছেন। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি রহমত, শান্তি ও বরকত অবতীর্ণ করুন।

অতঃপর, হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহকে ভয় করে চলুন। প্রত্যেক পরহেজগার, আল্লাহভীরু ও বিনয়ী ব্যক্তির পথ অনুসরণ করুন; যে তার দুনিয়াকে আখেরাতের জন্য পুঁজি হিসেবে গ্রহণ করে, তার রব ও সর্বোত্তম অভিভাবকের সন্তুষ্টি কামনা করে এবং নিজের প্রবৃত্তি ও ব্যক্তিগত চাহিদার উপর তার রবের সন্তুষ্টিকেই অগ্রাধিকার দেয়।

হে মুসলিমগণ! জীবনে চলার পথে মানুষ নানা কোলাহল, দুনিয়ার মোহ, অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা, পরীক্ষা, বিপদ ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তখন সে অনুভব করে, তার এমন একজনের প্রয়োজন, যিনি তাকে সাহস দেবেন, শক্তি জোগাবেন, মনোবল দৃঢ় করবেন এবং বিপদের সময় সাহায্য করবেন। এমন একজনকে প্রয়োজন, যার উপর সে পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে এবং যার আশ্রয়ে সত্যিকারের শান্তি ও প্রশান্তি লাভ করতে পারে।

হে মুসলিমগণ! সাহায্যকারী ও সমর্থনদাতা যত বেশি মর্যাদাবান, শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত হন; মানুষের অন্তরে তত বেশি শান্তি, সাহস ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি হয়। আর মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী ও অভিভাবক হলেন মহান আল্লাহ। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যই মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্বল এবং জীবনের সর্বোত্তম পাথেয়। এই সান্নিধ্য তাকে দুনিয়ার কঠিন পথচলায় শক্তি জোগায় এবং আল্লাহ ও আখেরাতের পথে অবিচল থাকতে সাহস দেয়।

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি যে অনুগ্রহসমূহ দান করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হলো তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা বিজয় কামনা করে থাক, তাহলে তো তোমাদের নিকট বিজয় এসে গেছে। আর যদি তোমরা বিরত হও, তাহলে সেটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা পুনরায় কর, তাহলে আমিও পুনরায় করব এবং তোমাদের দল কখনও তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না যদিও তা অধিক হয়। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন’ (আল-আনফাল,/১৯)

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের প্রতি তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য দান করেন। আর সেই সান্নিধ্যের প্রভাব ও ফলাফল ছিল অতুলনীয়, যা যুগে যুগে মুমিনদের জন্য সাহস, আশা ও ঈমানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের উদ্দেশ্যে হিজরত করলেন, যাতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রাযিয়াল্লাহু আনহু। শত্রুরা তাদের অনুসরণ করতে করতে গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তখন এই দ্বীনী দাওয়াতের আলো নিভে যাওয়ার আশঙ্কায় আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, তাদের কেউ যদি নিজের পায়ের নিচের দিকে তাকায়, তবে আমাদের দেখে ফেলবে। তখন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ঐতিহাসিক বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, যার প্রতি সমগ্র পৃথিবী শ্রবণমগ্ন হয়েছিল এবং যার প্রভাবে মানুষের অন্তরসমূহ আলোড়িত হয়ে উঠেছিল। তিনি বললেন, ‘হে আবূ বকর! ওই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয় জন আল্লাহ?’[1]

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী ছিল এক উজ্জ্বল প্রমাণ, সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং অকাট্য দলীল- যা প্রমাণ করে যে, তিনি আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রশান্তি লাভ করেছিলেন, তাঁর উপর পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন এবং তাঁর সাহায্য ও বিজয় লাভের ব্যাপারে পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছিলেন। এমনকি মহান আল্লাহ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুরআনুল কারীমে এমন আয়াত নাযিল করেছেন, যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে এবং তা যুগে যুগে মানুষের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা এ চিরস্মরণীয় দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে ইরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন যখন কাফেররা তাকে বের করে দিল, সে ছিল দুজনের দ্বিতীয়জন। যখন তারা উভয়ে পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান করছিল, সে তার সঙ্গীকে বলল, তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন’ (আত-তাওবা,/৪০)

এরপর আল্লাহর তাআলার সান্নিধ্য লাভের প্রভাব প্রকাশ পেল এবং এর ফলাফলও স্পষ্ট হয়ে উঠল। মহান আল্লাহ আয়াতের পরের অংশে বলেন, ‘অতঃপর আল্লাহ তার উপর তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাকে এমন এক সৈন্যবাহিনী দ্বারা সাহায্য করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখনি এবং তিনি কাফেরদের বাণী অতি নিচু করে দিলেন। আর আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান’ (আত-তাওবা,/৪০)

হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ ঘটনায় জ্ঞানী ও বিবেকবান মানুষের জন্য রয়েছে মহান শিক্ষা ও উপদেশ। এটি প্রত্যেক মুমিনকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্ণ অনুসরণ, তাঁর উত্তম আদর্শ গ্রহণ এবং তাঁর সুন্নাহর উপর অবিচল থাকার আহ্বান জানায়। কারণ মুমিনের অন্তরে এ বিশ্বাস দৃঢ় থাকে যে, মহান আল্লাহ কখনও সত্যবাদী, বিনয়ী ও ঈমানদার বান্দাদের অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেন না। তিনি তাদের থেকে তাঁর সাহায্য ও অনুগ্রহ ফিরিয়ে নেন না; যদিও তাদের উপর একের পর এক বিপদ, পরীক্ষা ও সংকট নেমে আসে।

হে মুসলিমগণ! আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বা স্থানের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রত্যেক মুমিন তার ঈমানের পরিমাণ অনুযায়ী এ সান্নিধ্য লাভ করে। যার ঈমান যত শক্তিশালী হবে, সে তত বেশি আল্লাহর বিশেষ সাহায্য, হেফাযত ও সান্নিধ্য লাভ করবে। তাই আমাদের উচিত ঈমানকে আরও মযবূত করা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখা।

এ কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘যখন তারা উভয়ে পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান করছিল, সে তার সঙ্গীকে বলল, ‘তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন’ (আত-তাওবা,/৪০)

এ সম্পর্কে ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এ আয়াতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও যথার্থ ইঙ্গিত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি অন্তর ও কর্মের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আনীত দ্বীনের অনুসারী হবে, আল্লাহ তার সঙ্গেও থাকবেন; যদিও সে শারীরিকভাবে তাঁর সাহচর্য লাভ না করে।

আর যখন আল্লাহ কোনো বান্দার সঙ্গে থাকেন, তখন তার জন্য সব কষ্টকর বিষয় সহজ হয়ে যায় এবং সব ভয় নিরাপত্তায় পরিণত হয়। আল্লাহর সাহায্যে প্রতিটি কঠিন বিষয় সহজ হয়ে যায়, প্রতিটি দুঃসাধ্য কাজ সহজসাধ্য হয় এবং প্রতিটি দূরের বিষয় নিকটবর্তী হয়ে ওঠে। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমেই দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও দুঃখ দূর হয়ে যায়। কাজেই আল্লাহ বান্দার সঙ্গে থাকলে তার আর কোনো দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও শোক অবশিষ্ট থাকে না।

অতএব, হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহর সেই বিশেষ সান্নিধ্য লাভের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন, যা তিনি তাঁর তাক্বওয়াবান, অনুগত ও নেককার বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। যারা তাঁকে ভয় করে, তাঁর নির্দেশ মেনে চলে, তাঁর সন্তুষ্টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়, একনিষ্ঠভাবে তাঁর দ্বীন পালন করে এবং সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করে; তাদের সঙ্গেই আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্য থাকে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন, যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ণ’ (আন-নাহল,১৬/১২৮)

أقولُ قولي هذا، وأستغفرُ اللَّهَ العظيمَ الجليلَ لي ولكم.

দ্বিতীয়খুৎবা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুমিনদের সাহায্যকারী ও সমর্থনদাতা। আমি তাঁরই প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের সাহায্য করেন, তাদের শক্তি দান করেন এবং তাদের বিজয় দান করেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা, রাসূল ও মুত্তাক্বীদের ইমাম এবং ক্বিয়ামতের দিন উজ্জ্বল অঙ্গবিশিষ্ট (ক্বিয়ামতের দিন ওযূর চিহ্নে দীপ্তিমান) উম্মতের নেতা।

হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর সকল ছাহাবী এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাদের উত্তম অনুসারীদের প্রতি আপনার অশেষ রহমত, শান্তি ও বরকত অবতীর্ণ করুন।

অতঃপর, হে আল্লাহর বান্দাগণ! নিশ্চয় মহান আল্লাহর বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সঙ্গে আছেন’ (আল-আনফাল, ৮/১৯)। এই আয়াত সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সঙ্গে আছেন’-এর অর্থ শুধু এই নয় যে, তিনি তাদের অবস্থা, আমল ও নিয়্যত সম্পর্কে অবগত; বরং এর অর্থ আরও হলো তিনি তাদের সাহায্য করেন, হেফাযত করেন এবং শক্তি জোগান। তাই যখন কোনো মুমিন অনুভব করে যে, আল্লাহ তার সঙ্গে আছেন; তখন সে বিশ্বাস করে যে, সে এমন এক শক্তির সঙ্গে যুক্ত, যা কখনও পরাজিত হয় না এবং এমন এক সাহায্য দ্বারা সমর্থিত, যা কখনো নিঃশেষ হয় না। ফলে সে নিজের নফসের বিরুদ্ধে, জীবনের কষ্ট-ক্লেশের বিরুদ্ধে এবং নিজের প্রবৃত্তি ও শত্রুদের মোকাবিলায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

অতএব, হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহকে ভয় করুন। মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এই বিশেষ অনুভূতি সর্বদা হৃদয়ে জাগ্রত রাখার চেষ্টা করুন। কেননা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এই মহান অনুগ্রহ ছাড়া আপনাদের কোনো গত্যন্তর নেই এবং এটি ব্যতীত আপনাদের জীবন সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিতও হতে পারবে না। কাজেই আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের দাবিগুলো পূরণ করুন এবং এর উপায়-উপকরণসমূহ গ্রহণ করুন। ফলে আপনাদের সকল বিষয় সুশৃঙ্খল ও সঠিক হবে এবং আপনাদের জীবন হবে সুখী ও সমৃদ্ধ। আর আপনারা সফলকাম ও সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

[এরপর সম্মানিত খত্বীব হাফিযাহুল্লাহ কুরআন ও ছহীহ হাদীছ থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ, ক্ষমা প্রার্থনা এবং কল্যাণ কামনায় রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ, অর্থবহ ও হৃদয়স্পর্শী দু‘আ তুলে ধরেন।]

পরিশেষে হে আল্লাহর বান্দাগণ! মনে রাখবেন, আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্যই মুমিনের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি, নিরাপত্তা ও সফলতার উৎস। তাই আসুন, আমরা তাক্বওয়া অবলম্বন করি, ঈমানকে দৃঢ় করি, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করি এবং সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করি। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকে, আল্লাহ তাকে কখনও নিরাশ করেন না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য, সাহায্য ও রহমত লাভের তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

 

 [1]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৫৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৮১।

Magazine