কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

মাঠের উন্মাদনা আর ছালাতে উদাসীনতা: এক দ্বান্দ্বিক বাস্তবতা

post title will place here

ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমাদের মুসলিম হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আর তা হলো তাঁর ইবাদত করা। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি, যিনি মানবজাতিকে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার পথ প্রদর্শন করেছেন।

বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজের একটি বড় সংকট হলো অগ্রাধিকারের পরিবর্তন। অনেক মানুষ এমন বিষয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ ও আবেগ প্রকাশ করে, যা তাদের দুনিয়াবী আনন্দ দিলেও আখেরাতে কোনো উপকারে আসে না। ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা অন্যান্য খেলাধুলা কেবল চিত্তবিনোদন ও শরীর চর্চার উদ্দেশ্যে জায়েয হতে পারে। তবে যখন সেগুলো ফরয ছালাতে অবহেলার কারণ হয়, আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে, সময়ের অপচয় ঘটায় এবং অন্য মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা একজন মুমিনের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপ বা বড় কোনো ফুটবল ম্যাচের সময় আমরা প্রায়ই দেখি, রাত গভীর হওয়ার আগেই অনেক এলাকায় উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে যায়। ভুভুজেলার কর্কশ শব্দ, উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার, মোটরসাইকেলের বহর, আতশবাজি ও উল্লাসের কারণে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। একজন মুসলিমের চরিত্র কি এমন হওয়া উচিত?

রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়’।[1] অতএব, এমন আনন্দ-উল্লাস যা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়, তা ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?

আল্লাহ তাআলা বলেন,وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ‘আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি’ (আয-যারিয়াত, ৫১/৫৬)। এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত আল্লাহর ইবাদত। খেলাধুলা, ব্যবসা, শিক্ষা, বিনোদন—এসব জীবনের অংশ হতে পারে, কিন্তু জীবনের উদ্দেশ্য নয়।

আল্লাহর ভালোবাসা নাকি দুনিয়ার মোহ?

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, যদি তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, উপার্জিত সম্পদ, ব্যবসা এবং প্রিয় বাসস্থান আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে সংগ্রামের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ফয়সালা নিয়ে আসেন’ (আত-তাওবা, ৯/২৪)। এই আয়াতের শিক্ষা হলো, মুমিনের হৃদয়ে সর্বোচ্চ স্থান হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর।

আজ আমরা একটি ম্যাচের সময় ভুল করি না, কিন্তু অনেকেই ফজরের ছালাতের সময় ভুলে যাই। একটি খেলার জন্য রাত জাগতে কষ্ট হয় না, অথচ আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে কষ্ট হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরী।

ফজরের ছালাতের মর্যাদা:

ফজরের ছালাত এমন একটি ইবাদত, যার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুনাফেক্বদের কাছে সবচেয়ে ভারী ছালাত হলো এশা ও ফজরের ছালাত। যদি তারা এর ফযীলত জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এতে উপস্থিত হতো’।[2]

এই হাদীছে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ছালাতকে অবহেলা করার আচরণকে মুনাফেক্বদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রত্যেক নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ‘মুনাফেক্ব’ বলে রায় দেননি। তাই আমাদেরও উচিত আচরণের সমালোচনা করা, ব্যক্তির অন্তরের ঈমানের ফয়সালা না করা।

ছালাতে অবহেলার ভয়াবহতা:

আল্লাহ তাআলা বলেন,فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ‘তাদের পরে এমন এক প্রজন্ম এলো, যারা ছালাত নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। অতএব, তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে’ (মারইয়াম, ১৯/৫৯)। আল্লাহ আরও বলেন,فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ‘অতএব, দুর্ভোগ সেইসব ছালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের ছালাত সম্পর্কে উদাসীন’ (আল-মাঊন, ১০৭/৪-৫)

এই আয়াতগুলো আমাদের সতর্ক করে যে, ছালাতকে অবহেলা করা ঈমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ ছালাত শুধু একটি ইবাদত নয়; বরং এটি একজন বান্দার ঈমানের অন্যতম প্রধান নিদর্শন এবং আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্কের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। তাই ছালাতের প্রতি উদাসীনতা একজন মুমিনের জন্য গভীর আত্মসমালোচনার বিষয়।

উম্মাহর প্রতি দায়িত্ব:

আজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমরা যুদ্ধ, নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতির শিকার। একজন মুসলিম হিসেবে তাদের জন্য দু‘আ করা, তাদের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত হওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানী ও মানবিক দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিনরা পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতায় একটি দেহের ন্যায়। দেহের একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে পুরো দেহ জেগে থাকে’।[3]

এর অর্থ এই নয় যে, পৃথিবীর কোথাও মুসলিমরা কষ্টে আছে বলে সব বৈধ বিনোদন হারাম হয়ে যায়। বরং এ থেকে শিক্ষা হলো, একজন মুসলিম যেন নিজের আনন্দ-উৎসবের মাঝেও উম্মাহর প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে না ফেলেন এবং আল্লাহর হক্ব আদায়ে অবহেলা না করেন। একজন মুমিনের আনন্দ কখনোই তাকে আল্লাহর আনুগত্য, উম্মাহর প্রতি সহমর্মিতা ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।

সময় আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান আমানত:

মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার সময়। হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া একটি মুহূর্তও আর ফিরে আসে না। তাই ইসলাম সময়ের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَالْعَصْرِ - إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ - إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ‘শপথ সময়ের! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে’ (আল-আছর, ১০৩/১-৩)। ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, মানুষ যদি কেবল সূরা আল-আছর নিয়ে চিন্তা করত, তবে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।[4]

রাতের পর রাত একটি খেলার জন্য জেগে থাকা; অথচ কুরআন তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ বা ফজরের ছালাতের জন্য সময় না বের করতে পারা একজন মুমিনের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন বান্দার দুই নেয়ামত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে—তার জীবন কীভাবে কাটিয়েছে এবং তার যৌবন কোথায় ব্যয় করেছে’।[5]

অপচয় ও অযথা উল্লাস:

বর্তমানে অনেক সময় দেখা যায়, একটি খেলা উপলক্ষে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করা হয় পতাকা, আতশবাজি, শোভাযাত্রা কিংবা শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী সামগ্রীর পেছনে; অথচ পাশের দরিদ্র প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়ার সময় আমাদের হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন,إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’ (আল-ইসরা, ১৭/২৭)। ইসলাম আনন্দ করতে নিষেধ করেনি; কিন্তু অপচয়, অহংকার এবং মানুষের কষ্টের কারণ হওয়া নিষিদ্ধ করেছে।

প্রতিবেশীর হক্ব:

অনেক সময় গভীর রাতে চিৎকার, হর্ন, ভুভুজেলা বা আতশবাজির কারণে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও পরীক্ষার্থীরা কষ্ট পান। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়’।[6] অতএব, মুসলিমের আনন্দও হবে শালীন, পরিমিত এবং অন্যের জন্য কষ্টের কারণ হওয়া থেকে মুক্ত।

খেলাধুলা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:

ইসলাম বৈধ খেলাধুলাকে নিষিদ্ধ করেনি; বরং নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও স্ত্রীর দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, ছাহাবীদের তির নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা, ঘোড়দৌড় ও শরীরচর্চায় উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু যখন কোনো বিনোদন ফরয ছালাত নষ্ট করে, আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে, অশ্লীলতা ও গালাগালির জন্ম দেয়, সময় ও অর্থের অপচয় ঘটায়, মানুষের কষ্টের কারণ হয়; তখন সেটি আর প্রশংসনীয় থাকে না। আল্লাহ বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন আল্লাহর স্মরণ থেকে তোমাদের গাফেল না করে’ (আল-মুনাফিকূন, ৬৩/৯)

যদি সম্পদ ও সন্তান মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করতে পারে, তবে অন্যান্য দুনিয়াবী ব্যস্ততাও তা করতে পারে।

মুসলিম যুবকদের প্রতি আহ্বান:

যৌবন হলো শক্তি, উদ্যম ও কর্মক্ষমতার সময়। এই সময়ে মানুষ যে অভ্যাস গড়ে তোলে, তা-ই অনেক ক্ষেত্রে সারাজীবন তার চরিত্র ও জীবনযাত্রার অংশ হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সাত শ্রেণির মানুষ ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে। তাদের একজন হলো সেই যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বেড়ে উঠেছে’।[7]

এখন প্রশ্ন হলো আমাদের যৌবন কি আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যে ব্যয় হচ্ছে, নাকি ক্ষণস্থায়ী বিনোদন ও দুনিয়াবী ব্যস্ততায়?

আত্মসমালোচনার সময়:

আজ আমরা একটি দলের পরাজয়ে কাঁদি; কিন্তু নিজের গুনাহের জন্য কতবার অশ্রু ঝরিয়েছি? একজন খেলোয়াড়ের গোলে আমরা আনন্দে লাফিয়ে উঠি; কিন্তু কুরআনের একটি আয়াত শুনে আমাদের হৃদয় কতবার কেঁপে উঠেছে? একটি ম্যাচ দেখার জন্য আমরা বন্ধুদের ডাকি; কিন্তু ফজরের জামাআতে অংশ নেওয়ার জন্য কতজন বন্ধুকে ডেকেছি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের প্রত্যেককেই নিজের কাছে দিতে হবে।

ক্বিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব হবে ছালাতের। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন বান্দার সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো ছালাত। যদি তা ঠিক থাকে, তবে তার সব আমল সফল হবে; আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।[8]

তাই একজন মুসলিমের প্রথম চিন্তা হওয়া উচিত আমার ছালাত ঠিক আছে কি-না।

দাওয়াতের ভাষা কেমন হবে?

কোনো মুসলিম ভাইকে সংশোধনের সময় আমাদের ভাষা হতে হবে কোমল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ‘আপনি আপনার রবের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে’ (আন-নাহল, ১৬/১২৫)। তাই কাউকে অবমাননা বা গালমন্দ নয়; বরং ভালোবাসা, দলীল এবং উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করাই নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা।

পরিশেষে বলা যায়, একদিন এই পৃথিবীর সব বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে। সব তারকা একদিন অবসর নেবেন। কোটি মানুষের উল্লাসও একদিন নীরব হয়ে যাবে। কিন্তু কবরের অন্ধকারে, হাশরের ময়দানে এবং আল্লাহর দরবারে আমাদের সঙ্গে থাকবে না কোনো খেলোয়াড়, কোনো দল কিংবা কোনো ট্রফি। সেখানে আমাদের সঙ্গে থাকবে শুধু ঈমান, ছালাত, কুরআন এবং নেক আমল।

আসুন! আমরা খেলাধুলাকে খেলাধুলার জায়গায় রাখি; জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে না ফেলি। আমরা এমন মুসলিম হই, যারা বৈধ আনন্দ উপভোগ করে; কিন্তু কখনো আল্লাহর হক্ব আদায়ে অবহেলা করে না। ফজরের আযান আমাদের কাছে যেন যেকোনো খেলার শেষ বাঁশির চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়। আর আমাদের হৃদয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসা যেন একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যই হয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ছালাতের হেফাযতকারী বানান, সময়ের সঠিক ব্যবহার করার তাওফীক্ব দান করেন, উম্মাহর দুঃখ-কষ্ট অনুভব করার তাওফীক্ব দান করেন এবং আমাদের অন্তরকে সর্বদা তাঁর স্মরণে সজীব রাখেন- আমীন!

 

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

চিকিৎসক, কলামিষ্ট ও গবেষক; প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।

 

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০১৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৭।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫১।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০১১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৬।

[4]. তাফসীরুল ইমাম শাফেঈ, ৩/১৪৬১; মাজমূউল ফাতাওয়া, ২৮/১৫২; তাফসীর ইবন কাছীর, ১/২০৩

[5]. তিরমিযী, হা/২৪১৭।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০১৬।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৩১।

[8]. তিরমিযী, হা/৪১৩; নাসাঈ, হা/৪৬৫।

Magazine