কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

সূরা আল-ইনশিরাহর আলোকে সংকট-পরবর্তী মানুষ গঠনের দর্শন

post title will place here

মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন চারপাশের পৃথিবী ঠিক আগের মতো থাকলেও ভেতরের পৃথিবীটি হঠাৎ সংকীর্ণ হয়ে যায়। পরিচিত পথগুলো বন্ধ মনে হয়, সামান্য দায়িত্বও অসহনীয় বোঝায় পরিণত হয়, ভবিষ্যৎকে মনে হয় কুয়াশায় ঢাকা। তখন মানুষ শুধু সমস্যার সমাধান চায় না; সে এমন একটি আশ্বাস চায়, যা তার ভেঙে পড়া অন্তরকে আবার দাঁড়াতে শেখাবে। এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি চায়, যা কষ্টকে অস্বীকার না করেও তাকে কষ্টের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। সূরা আল-ইনশিরাহ সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই এক অপূর্ব কুরআনিক রূপরেখা।

মাত্র আট আয়াতের এই সূরাটি আকারে সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অর্থে অত্যন্ত বিস্তৃত। এখানে আছে হৃদয়ের প্রশস্ততা, ভারমুক্তি, মর্যাদার প্রকৃত উৎস, কষ্ট ও স্বস্তির গভীর সম্পর্ক, এক কাজের পর আরেক কাজে আত্মনিয়োগ করার প্রেরণা এবং সবশেষে একমাত্র আল্লাহর প্রতি আকাঙ্ক্ষা নিবদ্ধ করার শিক্ষা। সূরাটি কেবল বিপন্ন মানুষকে সান্ত্বনা দেয় না; বরং তাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে। এটি শুধু কষ্ট শেষ হয়ে যাওয়ার সুসংবাদ দেয় না; বরং শেখায়, কষ্টের মধ্যেই কীভাবে প্রশস্ত হৃদয়, দৃঢ় চরিত্র ও আল্লাহমুখী জীবন নির্মাণ করতে হয়।

এই কারণেই সূরা আল-ইনশিরাহকে শুধু দুঃখের সময় পাঠ করার একটি সূরা হিসেবে দেখলে এর শিক্ষা আংশিকভাবে উপলব্ধি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি সংকট-পরবর্তী মানুষ গঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন, যেখানে আল্লাহ প্রথমে অন্তরকে প্রস্তুত করেন, তারপর বোঝা হালকা করেন, এরপর কষ্টের প্রকৃতি বুঝিয়ে দেন এবং অবশেষে মানুষকে কর্ম ও ইবাদতের পথে এগিয়ে দেন।

হৃদয়ের বিস্তার: পরিবর্তনের সূচনা ভেতর থেকে

সূরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি কি আপনার জন্য আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?’ (আল-ইনশিরাহ, ৯৪/১)।

এটি প্রশ্নের আকারে উচ্চারিত হলেও মূলত আল্লাহর একটি অনুগ্রহের দৃঢ় স্মরণ। যেন বলা হচ্ছে, আপনার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার উপযোগী করে আমি কি আপনার অন্তরকে প্রশস্ত করিনি? আপনাকে কি ঈমান, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও সত্য বহনের শক্তি দেইনি?

আরবী ‘শারহুছ ছদর’ বা বক্ষ প্রশস্ত করার অর্থ শুধু সাময়িক মানসিক স্বস্তি নয়। এর মধ্যে সত্য গ্রহণের সক্ষমতা, কঠিন দায়িত্ব বহনের শক্তি, বিরোধিতার মুখে স্থিরতা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকার প্রশান্তি অন্তর্ভুক্ত। বাহ্যিক পৃথিবী প্রতিকূল হলেও অন্তর যখন আল্লাহর নূরে প্রশস্ত হয়, তখন মানুষ প্রতিকূলতায় বন্দি থাকে না।

জীবনের অনেক সমস্যা পরিস্থিতির আকারের কারণে অসহনীয় হয়ে ওঠে না; বরং আমাদের অন্তরের পরিসর সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে সেগুলো অসহনীয় মনে হয়। একই সমস্যায় একজন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে; অন্যজন ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও আল্লাহর উপর নির্ভরতার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যায়। পার্থক্যটি সবসময় সমস্যার মধ্যে নয়, অনেক সময় পার্থক্যটি হৃদয়ের ধারণক্ষমতার মধ্যে। আমরা প্রায় সবসময় প্রার্থনা করি, সমস্যাটা যেন ছোট হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর পদ্ধতি প্রায়ই ভিন্ন, তিনি সমস্যা ছোট করার আগে মানুষকেই বড় করে দেন। দুশ্চিন্তা একই থাকে, দায়িত্বের ভার একই থাকে; কিন্তু যে বুক আগে সেই ভারে ভেঙে পড়ত, আল্লাহর অনুগ্রহে তা এখন সেই বোঝা বহনের সামর্থ্য অর্জন করে। পাহাড় সবসময় ছোট হয় না, কখনও আরোহীকে তার বুকই প্রশস্ত করতে হয়।

সংকীর্ণ হৃদয় সামান্য সমালোচনাকেও অপমান হিসেবে দেখে, ছোট ব্যর্থতাকে জীবনের চূড়ান্ত পরাজয় মনে করে এবং অন্যের সাফল্যকে নিজের জন্য হুমকি হিসেবে গ্রহণ করে। সেখানে প্রশস্ত হৃদয় সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, ব্যর্থতার পর আবার শুরু করতে পারে এবং অন্যের কল্যাণে আনন্দিত হতে পারে। প্রশস্ত হৃদয় মানে ব্যথাহীন হৃদয় নয়; বরং ব্যথার মধ্যেও সত্য, ন্যায় ও সৌন্দর্য ধারণ করতে সক্ষম হৃদয়।

আমরা সাধারণত চাই, আগে পরিস্থিতি বদলাক, তারপর আমাদের মন ভালো হবে। সূরা আল-ইনশিরাহর সূচনা যেন এই ক্রমটিকে উল্টে দেয়। আল্লাহ প্রথমে বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার কথা বলেননি, প্রথমে বলেছেন বক্ষ প্রশস্ত করার কথা। কারণ অন্তর প্রস্তুত না হলে সুযোগও মানুষকে স্থিরতা দিতে পারে না। কিন্তু অন্তর প্রশস্ত হলে সীমিত সুযোগের মধ্যেও মানুষ কল্যাণের পথ আবিষ্কার করতে পারে।

নেতৃত্বের জন্যও এই প্রশস্ততা অপরিহার্য। যে ব্যক্তি মানুষের ভুল সহ্য করতে পারে না, ভিন্নমত শুনতে পারে না, সামান্য বিরোধিতায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে—সে পদে অধিষ্ঠিত হলেও প্রকৃত নেতা হতে পারে না। নেতৃত্ব শুধু সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নয়; মানুষের দুর্বলতা ধারণ করা, ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং ব্যক্তিগত কষ্টের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর কল্যাণ দেখতে পারার নামও নেতৃত্ব।

একইভাবে পারিবারিক জীবন, শিক্ষা, সামাজিক কাজ ও দ্বীনী দাওয়াত—সব ক্ষেত্রেই প্রশস্ত হৃদয় প্রয়োজন। জ্ঞান মানুষকে তথ্য দেয়, কিন্তু প্রশস্ত হৃদয় সেই জ্ঞানকে প্রজ্ঞায় পরিণত করে। ঈমান মানুষকে সত্যের সন্ধান দেয়, আর প্রশস্ত হৃদয় তাকে সত্যের পথে ধৈর্যশীল রাখে।

অতএব, জীবনের সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম প্রশ্নটি সব সময় ‘আমার পরিস্থিতি কখন বদলাবে?’ হওয়া উচিত নয়। কখনো প্রশ্নটি হওয়া দরকার, ‘এই পরিস্থিতি বহন করার জন্য আমার অন্তর কীভাবে আরও প্রশস্ত হতে পারে?’ আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক, কুরআনের সাহচর্য, অর্থপূর্ণ দু‘আ, সৎ মানুষের সান্নিধ্য, আত্মসমালোচনা এবং ক্ষমাশীলতা—এসবই হৃদয়ের পরিসর বাড়ায়।

বোঝার ভারে পিঠ যদি ভেঙে পড়ে

পরবর্তী দুই আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি আপনার থেকে নামিয়ে দিয়েছি আপনার বোঝা, যা আপনার পিঠকে ভারাক্রান্ত করেছিল’ (আল-ইনশিরাহ, ৯৪/২-৩)।

মানুষের সব বোঝা চোখে দেখা যায় না। কেউ ভারী কোনো বস্তু বহন করলে আমরা তার কষ্ট বুঝতে পারি; কিন্তু যে ব্যক্তি অপরাধবোধ, ব্যর্থতার স্মৃতি, ভবিষ্যতের ভয়, সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা দায়িত্বের চাপ বহন করছে, তার ভার অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়।

কেউ হয়তো বাইরে থেকে সফল, কিন্তু ভেতরে ক্রমাগত নিজেকে ব্যর্থ মনে করছে। কেউ সবার সামনে হাসছে, অথচ অতীতের একটি ঘটনা প্রতিদিন তাকে ভেতর থেকে ক্ষতবিক্ষত করছে। কেউ পরিবারের প্রত্যাশা, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন—সব একসঙ্গে বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আবার কেউ নিজের ভুলের জন্য এমনভাবে অনুতপ্ত যে, আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে যাওয়ার সাহসও হারিয়ে ফেলেছে।

সূরা আল-ইনশিরাহ এসব অদৃশ্য ভারকে অস্বীকার করে না; বরং বোঝা যে পিঠকে ভারাক্রান্ত করতে পারে, কুরআন সেই বাস্তবতাকেই ভাষা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো বোঝা অনুভব করা ঈমানহীনতার প্রমাণ নয়। ক্লান্ত হওয়া, দুশ্চিন্তা অনুভব করা বা কোনো দায়িত্বের চাপে ভারাক্রান্ত হওয়া মানুষের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার অংশ। নবী-রাসূলগণের জীবনেও দায়িত্ব, তীব্র বিরোধিতা ও মানুষের হেদায়াতের চিন্তার এক গভীর ভার ছিল।

তবে সূরাটি মানুষকে বোঝার পরিচয়েই আটকে রাখে না। আল্লাহ বলেন, তিনি বোঝা নামিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ভারমুক্তির চূড়ান্ত উৎস আল্লাহ। তিনি কখনও পরিস্থিতি সহজ করে দেন, কখনও অন্তরে নতুন উপলব্ধি সৃষ্টি করেন, কখনও তওবার দরজা খুলে দেন, আবার কখনও বোঝাটি বহনের এমন শক্তি দেন যে, আগের অসম্ভব কাজটিই সম্ভব হয়ে ওঠে।

আমাদের বড় একটি ভুল হলো সব বোঝা একা বহন করার চেষ্টা করা। আমরা মনে করি, সাহায্য চাইলে দুর্বল প্রমাণিত হব। আমরা ভাবি, কাঁদলে, দু‘আ করলে, বিশ্বস্ত কারও কাছে নিজের কষ্ট খুলে বললে কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ নিলে আমাদের মর্যাদা কমে যাবে। অথচ প্রকৃত শক্তি নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার মধ্যেও প্রকাশ পায়।

আল্লাহর সাহায্যের উপর নির্ভর করার অর্থ মানবিক উপায় পরিত্যাগ করা নয়। বরং বৈধ উপায় গ্রহণ করেও অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আরোগ্য, মুক্তি ও প্রশান্তি শেষ পর্যন্ত কেবলই আল্লাহর দান। শারীরিক অসুস্থতায় চিকিৎসা গ্রহণ যেমন তাওয়াক্কুলের বিরোধী নয়, তেমনি গভীর মানসিক সংকটে বিশ্বস্ত আলেম, অভিজ্ঞ পরামর্শদাতা বা যোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য-পেশাজীবীর সাহায্য নেওয়াও ঈমানের দুর্বলতা নয়।

অতীতের অপরাধবোধও মানুষের একটি বড় বোঝা। অনুশোচনা মানুষকে তওবার দিকে নিয়ে গেলে তা কল্যাণকর; কিন্তু তা যদি মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে দেয়, তাহলে সেটি সংশোধনের শক্তি কেড়ে নেয়। ইসলামের শিক্ষা হলো ভুল স্বীকার করো, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দাও, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তারপর সংশোধিত জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে যাও। তওবা অতীতকে অস্বীকার করে না, বরং অতীতের বন্দিত্ব থেকে মানুষকে মুক্ত করে।

তাই সূরা আল-ইনশিরাহ শেখায়, বোঝার অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে, কিন্তু বোঝাকেই নিজের পরিচয় বানানো যাবে না। মানুষ তার ক্ষত নয়, তার ব্যর্থতা নয়, তার অপরাধবোধও নয়। আল্লাহ চাইলে যে বোঝা আজ পিঠ ভেঙে দিচ্ছে, সেটিই আগামী দিনে প্রজ্ঞা, সহমর্মিতা ও নতুন জীবনের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মর্যাদার নতুন সংজ্ঞা: মানুষের স্বীকৃতি নয়, আল্লাহর স্মরণ

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি আপনার জন্য আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি’ (আল-ইনশিরাহ, ৯৪/৪)।

রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ছিল বিরোধিতা, অপবাদ ও প্রত্যাখ্যানের পরীক্ষায় ভরপুর। মক্কার প্রভাবশালী লোকেরা তাঁর দাওয়াতকে প্রতিহত করেছে, তাঁর অনুসারীদের নির্যাতন করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে। কিন্তু মানুষের বিরোধিতা তাঁর মর্যাদাকে কমাতে পারেনি। আল্লাহ তাঁর স্মরণকে এমনভাবে সমুন্নত করেছেন যে, পৃথিবীর সর্বত্র আযান, ইকামত, শাহাদত, ছালাত ও দরূদে আল্লাহর নামের সঙ্গে তাঁর নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

এই আয়াত হলো আধুনিক মানুষের জন্য মর্যাদার সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আহ্বান।

বর্তমান যুগে মানুষের মূল্য যেন ক্রমে দৃশ্যমান সংখ্যায় পরিণত হচ্ছে—কতজন অনুসরণ করে, কত মানুষ প্রশংসা করে, কতবার লেখা বা ছবি দেখা হয়েছে, সমাজে কতটা পরিচিতি আছে। মানুষ শুধু ভালো হতে চায় না, ভালো হিসেবে নিজেকে দেখাতেও চায়। কাজের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা তার প্রচার কখনও কখনও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয়। মানুষ চায় তার শ্রম মূল্যায়িত হোক, তার ভালোবাসার প্রতিদান আসুক এবং তার অবদান স্বীকৃত হোক। কিন্তু এই আকাঙ্ক্ষা যখন আত্মমূল্যের একমাত্র ভিত্তিতে পরিণত হয়, তখন মানুষ অন্যের প্রতিক্রিয়ায় বন্দি হয়ে পড়ে। প্রশংসা তাকে অতিরিক্ত উঁচুতে তোলে, আর সমালোচনা তাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। অন্যের সাফল্য তার মধ্যে ঈর্ষা সৃষ্টি করে, আর নিজের অদৃশ্য কাজ তার কাছে মূল্যহীন মনে হয়।

সূরা আল-ইনশিরাহ জানায়, প্রকৃত মর্যাদার উৎস আল্লাহ। মানুষ কাউকে অগ্রাহ্য করলেও আল্লাহ তার সম্মান জানেন। পৃথিবীর কোনো সংবাদপত্রে যার নাম প্রকাশিত হয় না, আল্লাহর কাছে তার গোপন সৎকর্ম অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে। আবার মানুষের প্রশংসায় যে ব্যক্তি আলোচিত, আল্লাহর কাছে তার কাজ মূল্যহীনও হতে পারে; যদি তা অহংকার, প্রতারণা বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়।

এর অর্থ এই নয় যে, সামাজিক সুনাম অপ্রয়োজনীয় অথবা ভালো কাজ প্রচার করা সব সময় ভুল। বরং প্রশ্ন হলো, আমাদের হৃদয়ের নির্ভরতার কেন্দ্র কোথায়? আমরা কি মানুষের প্রশংসাকে কাজের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলছি, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে মানুষের স্বীকৃতিকে একটি পার্শ্বফল হিসেবে দেখছি?

আল্লাহ যাকে সমুন্নত করেন, মানুষের বিরোধিতা তার প্রকৃত মূল্য কমাতে পারে না। এই শিক্ষা অন্যায় অপবাদ ও অবমূল্যায়নের মুখে মানুষকে স্থিরতা দেয়। প্রত্যেক অপবাদের উত্তর দেওয়া জরুরী নয়, প্রত্যেক সমালোচককে সন্তুষ্ট করাও সম্ভব নয়। চরিত্র, সত্যনিষ্ঠা ও ধারাবাহিক কল্যাণকর কাজ অনেক সময় তাৎক্ষণিক আত্মপক্ষ সমর্থনের চেয়ে শক্তিশালী উত্তর হয়ে ওঠে।

সুতরাং মর্যাদা খোঁজার আগে মানুষের উচিত মর্যাদার যোগ্যতা অর্জন করা সততা, আমানতদারিতা, জ্ঞান, সেবা ও ইখলাছের মাধ্যমে। নাম উঁচু হবে কি-না, সেটি আল্লাহর সিদ্ধান্ত; কিন্তু কাজকে বিশুদ্ধ রাখা মানুষের দায়িত্ব।

(ইনশা-আল্লাহ! আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

ফারেগ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, বানারাস, ভারত; বিএ (অনার্স), কিং আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়, জেদ্দা, সঊদী আরব।

Magazine